📄 তলিবে ইলম জীবনে ধৈর্যধারণ করা
তালিবে ইলম জীবনে ধৈর্যধারণ করা হলো ধৈর্যের বড় ক্ষেত্র। ইলমে দ্বীন অর্জন করতে হলে বুকে থাকতে হবে ধৈর্যের পাহাড়, হতে হবে ইস্পাত লোহার মতো দৃঢ় ও শক্ত। অসীম দুঃখ-বেদনাকে বুকে লালন করেই হতে হবে অনেক বড়। ছুঁতে হবে ইলমের হিমালয়। পৌঁছতে হবে কাঙ্ক্ষিত মানযিলে। যদি বুকে এমন স্বপ্ন লালন না করা যায়, তাহলে ইলমের ভুবনে কখনোই পৌছা যাবে না, ফোটা যাবে না ইলমে নববির ফুটন্ত ফুল হয়ে। খিজির মুসা-কে ইলম শিক্ষা করতে হলে ধৈর্যধারণের বিষয়ে পূর্বে থেকেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন। পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
قَالَ إِنَّكَ لَن تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا. وَكَيْفَ تَصْبِرُ عَلَى مَا لَمْ تُحِطْ بِهِ خُبْرًا.
“তিনি (খিজির) বললেন, আপনি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্যধারণ করে থাকতে পারবেন না। তাছাড়া যে বিষয় আপনার আওতাধীন নয়, তা দেখে আপনি কিভাবে ধৈর্যধারণ করবেন?” ৭৪
উত্তরে মুসা বললেন, জ্বী আমি ধৈর্যধারণ করতে পারব। আমি হাজারো কষ্ট বুকে লালন করে আপনার থেকে ইলম শিখব। আমি একটুও অধৈর্য হবো না। আপনি আমাকে ইলম শিক্ষা দিন। পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
قَالَ سَتَجِدُنِي إِن شَاءَ اللَّهُ صَابِرًا وَلَا أَعْصِي لَكَ أَمْرًا.
"অতঃপর সে (মুসা) বললো, আল্লাহ চাহেন তো আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার কোনো আদেশ অমান্য করবো না।"৭৫
এ প্রকার ধৈর্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে মুফতি হওয়ার পূর্বে ফতোয়া না দেওয়ার উপর ধৈর্যধারণ করা। আর শিক্ষকেরও ধৈর্যধারণ করতে হবে ছাত্রকে সবক ইত্যাদি বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে।
টিকাঃ
৭৪ সুরা কাহাফ: ৬৭-৬৮।
৭৫ সুরা কাহাফ: ৬৯।