📄 কষ্টের সময় ধৈর্যধারণ করা
যখন বান্দার উপর হাজারো কষ্ট নিপতিত হয়, তখন সে কষ্টকে মাথা পেতে নিবে। এতে সে অধৈর্য হবে না। শত্রুদের সামনে দাঁড়ালেও ধৈর্যধারণ করতে হবে। প্রভুর পক্ষ থেকে সাহায্য আসার জন্য ধৈর্যধারণ করা শর্ত। তবেই প্রভু থেকে সাহায্য আসবে। শত্রুদের মুখোমুখি হওয়ার সময় যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা অনেক বড় কবিরা গুনাহ। পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا.
“তোমরা যখন কোনো শত্রুদের সাথে সাক্ষাত করো তখন স্থির থাকো।"৭০
অর্থাৎ শত্রুদের পক্ষ থেকে যখন তুমুল যুদ্ধ শুরু হবে তখন পলায়ন করো না বরং ধৈর্যধারণ করা। আল্লাহ ইরশাদ করেন-
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَعْلَمِ اللَّهُ الَّذِينَ جَاهَدُوا مِنكُمْ وَيَعْلَمَ الصَّابِرِينَ.
"তোমাদের কি ধারণা, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ আল্লাহ এখনও দেখেননি কারা জিহাদ করেছে এবং কারা ধৈর্যশীল।"৭১
আল্লাহ ইরশাদ করেন-
وَمَا مُحَمَّدُ إِلَّا رَسُولُ قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِهِ الرُّسُلُ أَفَإِن مَّاتَ أَوْ قُتِلَ انقَلَبْتُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ وَمَن يَنقَلِبْ عَلَى عَقِبَيْهِ فَلَن يَضُرَّ اللَّهَ شَيْئًا وَسَيَجْزِي اللَّهُ الشَّاكِرِينَ.
“আর মুহাম্মাদ একজন রাসুল ছাড়া আর বৈ কিছু না। তার পূর্বেও অনেক রাসুল অতিবাহিত হয়ে গেছেন। তিনি যদি মৃত্যুবরণ করেন বা নিহত হন তাহলে কি পশ্চাদপসরণ করবে? বস্তুত কেউ যদি পশ্চাদপসরণ করে, তবে আল্লাহর কিছুই ক্ষতি-বৃদ্ধি হবে না। আর যারা কৃতজ্ঞ, আল্লাহ তাদের সওয়াব দান করবেন।"৭২
পূর্ববর্তী মুমিনরাও কষ্টের উপর স্থীর ছিলো, তালুতের সাথে অনেক মুমিন ছিলো যাদের হাজারো কষ্ট থাকা সত্ত্বেও তালুতের সাথে ধৈর্যধারণ করেছেন। তারা কষ্টের কারণে কোথাও ভেগে যাওয়ার কল্পনাও করেননি। কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাদের ইস্পাত লোহার মতো ধৈর্যধারণের কথা বর্ণনা করেন, পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
فَلَمَّا فَصَلَ طَالُوتُ بِالْجُنُودِ قَالَ إِنَّ اللَّهَ مُبْتَلِيكُم بِنَهَرٍ فَمَن شَرِبَ مِنْهُ فَلَيْسَ مِنِّي وَمَن لَّمْ يَطْعَمْهُ فَإِنَّهُ مِنِّي إِلَّا مَنِ اغْتَرَفَ غُرْفَةً بِيَدِهِ فَشَرِبُوا مِنْهُ إِلَّا قَلِيلًا مِّنْهُمْ فَلَمَّا جَاوَزَهُ هُوَ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ قَالُوا لَا طَاقَةَ لَنَا الْيَوْمَ بِجَالُوتَ وَجُنُودِهِ قَالَ الَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُم مُّلَاقُو اللَّهِ كم مِّن فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِيرَةٌ بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ.
"অতঃপর তালুত যখন সৈন্য-সামন্ত নিয়ে বের হলো, তখন বললো-নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে পরীক্ষা করবেন একটি নদীর মাধ্যমে। সুতরাং যে লোক সেই নদীর পানি পান করবে, সে আমার দলের অর্ন্তভুক্ত নয়। আর যে লোক স্বাদ গ্রহণ করবে না, নিশ্চয় সে আমার দলের লোক। কিন্তু যে লোক আঁজলা ভরে সামান্য পান করবে তার দোষ অবশ্য তেমন গুরুতর হবে না। তারপর তালুতের কথা অমান্য করে সবাই পানি পান করলো- সামান্য কয়েকজন ছাড়া। পরে তালুত যখন নদী পার হলো তখন তার সাথে ছিলো মাত্র কয়েকজন ঈমানদার। এরপরে ঐ সামান্য লোকেরা বলতে লাগলো, আজকের দিনে জালুত ও তার সেনাবাহিনিদের সাথে যুদ্ধ করার শক্তি আমাদের নেই। কিন্তু যাদের ধারণা ছিলো যে-আল্লাহর সামনে আমাদের একদিন দাঁড়াতে হবে, তারা বারবার বলতে লাগলো, সামান্য দলই বিরাট দলের উপর আল্লাহর হুকুমেই জয়ী হয়েছেন। আর যারা ধৈর্যশীল, আল্লাহ তাদের সাথে রয়েছেন।" ৭৩
তালুতের বাহিনির কিছু লোক অধৈর্য হয়ে অনুমতি পাওয়ার পূর্বেই পানি পান করে ভেগে গিয়েছিলো, আর কিছু লোক ইস্পাত লোহার মতো শক্ত ও স্থির ছিলো এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। তাদের ধৈর্য ও ত্যাগের কারণেই আল্লাহ তাদেরকে বিজয়ের মুকুট পরিধান করিয়েছিলেন।
টিকাঃ
৭০ সুরা আল আনফাল: ৪৫।
৭১ সুরা আলে ইমরান: ১৪২।
৭২ সুরা আলে ইমরান: ১৪৪।
৭৩ সুরা বাকারা: ২৪৯।
📄 তলিবে ইলম জীবনে ধৈর্যধারণ করা
তালিবে ইলম জীবনে ধৈর্যধারণ করা হলো ধৈর্যের বড় ক্ষেত্র। ইলমে দ্বীন অর্জন করতে হলে বুকে থাকতে হবে ধৈর্যের পাহাড়, হতে হবে ইস্পাত লোহার মতো দৃঢ় ও শক্ত। অসীম দুঃখ-বেদনাকে বুকে লালন করেই হতে হবে অনেক বড়। ছুঁতে হবে ইলমের হিমালয়। পৌঁছতে হবে কাঙ্ক্ষিত মানযিলে। যদি বুকে এমন স্বপ্ন লালন না করা যায়, তাহলে ইলমের ভুবনে কখনোই পৌছা যাবে না, ফোটা যাবে না ইলমে নববির ফুটন্ত ফুল হয়ে। খিজির মুসা-কে ইলম শিক্ষা করতে হলে ধৈর্যধারণের বিষয়ে পূর্বে থেকেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন। পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
قَالَ إِنَّكَ لَن تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا. وَكَيْفَ تَصْبِرُ عَلَى مَا لَمْ تُحِطْ بِهِ خُبْرًا.
“তিনি (খিজির) বললেন, আপনি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্যধারণ করে থাকতে পারবেন না। তাছাড়া যে বিষয় আপনার আওতাধীন নয়, তা দেখে আপনি কিভাবে ধৈর্যধারণ করবেন?” ৭৪
উত্তরে মুসা বললেন, জ্বী আমি ধৈর্যধারণ করতে পারব। আমি হাজারো কষ্ট বুকে লালন করে আপনার থেকে ইলম শিখব। আমি একটুও অধৈর্য হবো না। আপনি আমাকে ইলম শিক্ষা দিন। পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
قَالَ سَتَجِدُنِي إِن شَاءَ اللَّهُ صَابِرًا وَلَا أَعْصِي لَكَ أَمْرًا.
"অতঃপর সে (মুসা) বললো, আল্লাহ চাহেন তো আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার কোনো আদেশ অমান্য করবো না।"৭৫
এ প্রকার ধৈর্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে মুফতি হওয়ার পূর্বে ফতোয়া না দেওয়ার উপর ধৈর্যধারণ করা। আর শিক্ষকেরও ধৈর্যধারণ করতে হবে ছাত্রকে সবক ইত্যাদি বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে।
টিকাঃ
৭৪ সুরা কাহাফ: ৬৭-৬৮।
৭৫ সুরা কাহাফ: ৬৯।