📘 ধৈর্য হারাবেন না > 📄 ধৈর্যধারণের আরো ক্ষেত্র

📄 ধৈর্যধারণের আরো ক্ষেত্র


আর সন্তান-সন্ততি ও সম্পদের দিকে একেবারেই নিমজ্জিত না হওয়া। আল্লাহ ইরশাদ করেন-
وَلَا تَمُدَّنَّ عَيْنَيْكَ إِلَى مَا مَتَّعْنَا بِهِ أَزْوَاجًا مِّنْهُمْ زَهْرَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا لِنَفْتِنَهُمْ فِيهِ وَرِزْقُ رَبِّكَ خَيْرٌ وَأَبْقَى.
"আমি এদের বিভিন্ন প্রকার লোকদেরকে পরীক্ষা করার জন্য পার্থিব জীবনের সৌন্দর্যস্বরূপ ভোগ-বিলাসের যে সব উপকরণ দিয়েছি, আপনি সেই সব বস্তুর প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করবেন না। আপনার পালনকর্তার দেয়া রিজিক উৎকৃষ্ট ও অধিক স্থায়ী।”৬১
দুনিয়ার সম্পদ তোমাকে পরীক্ষার জন্য দেওয়া হয়েছে এজন্য যে, আসলেই কি তুমি এগুলোকে নিয়ামত মনে করো কিনা? নাকি অধৈর্য হয়ে সম্পদের প্রাচুর্যতার মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে মালিককে ভুলে যাও! আর পৃথিবিতে হাজারো কারুনের দল আছে, যারা অনেক সম্পদ অর্জন করেও তাতে ক্ষ্যান্ত থাকে না বরং আরো চাই, আরো চাই করে। আল্লাহ ইরশাদ করেন-
فَخَرَجَ عَلَى قَوْمِهِ فِي زِينَتِهِ قَالَ الَّذِينَ يُرِيدُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا يَا لَيْتَ لَنَا مِثْلَ مَا أُوتِيَ قَارُونُ إِنَّهُ لَذُو حَظٍّ عَظِيمٍ.
"অতঃপর কারুন জাঁকজমক সহকারে তার সম্প্রদায়ের সামনে বের হলো। যারা পার্থিব জীবন কামনা করতো তারা বলতে লাগলো, হায়! কারুন যা প্রাপ্ত হয়েছে আমাদেরকে যদি তা দেয়া হতো।"৬২
আর অনেক সাহাবায়ে কেরাম আছেন, যারা অর্জিত সম্পদকে আল্লাহ -র রাস্তায় ব্যয় করেন। পবিত্র কুরআনুল কারিমে তাদের কথা আল্লাহ ইরশাদ করেন-
أَيَحْسَبُونَ أَنَّمَا نُمِدُّهُم بِهِ مِن مَّالٍ وَبَنِينَ. نُسَارِعُ لَهُمْ فِي الْخَيْرَاتِ بَل لَّا يَشْعُرُونَ.
"তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে যাচ্ছি। তাতে করে তাদেরকে দ্রুত মঙ্গলের দিকে নিয়ে যাচ্ছি। বরং তারা বোঝে না।"৬৩

টিকাঃ
৬১ সুরা ত্বোহা: ১৩১।
৬২ সুরা আল কাসাস: ৭৯।
৬৩ সুরা আল মুমিনুন: ৫৫-৫৬।

📘 ধৈর্য হারাবেন না > 📄 রবের কাছে দুআর উপর ধৈর্যধারণ

📄 রবের কাছে দুআর উপর ধৈর্যধারণ


আজকাল মানুষেরা দুআর উপর ধৈর্যধারণ করতে অধৈর্য হয়ে পড়ছে। অথচ দুআর উপর ধৈর্যধারণ করা হলো ধৈর্যের বিশেষ ক্ষেত্র। তাই তো দ্বীন থেকে তারা ধীরে-ধীরে সরে যাচ্ছে, আর এ দূরত্বটা তাকে অনেক বড় গুনাহ ও পাপ করতে বাঁধা দেয় না।
হযরত নূহ প্রায় সাড়ে নয়শত বছর দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেছে, তবুও সে মালিকের দরবারে শুধু দুআ করতেন ও ধৈর্যধারণ করতেন। তিনি অধৈর্য হয়ে দোয়া করাকে ছেড়ে দেননি। পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
قَالَ رَبِّ إِنِّي دَعَوْتُ قَوْمِي لَيْلًا وَنَهَارًا فَلَمْ يَزِدْهُمْ دُعَائِي إِلَّا فِرَارًا.
"সে বলল-হে আমার পালনকর্তা! আমি আমার সম্প্রদায়কে দিবা-রাত্রি দাওয়াত দিয়েছি, কিন্তু আমার দাওয়াত তাদের পলায়নই বৃদ্ধি করেছে।"৬৪
দু'আর ক্ষেত্রে কষ্ট কেবল দেহে নয় বরং মনেও ধৈর্যধারণ করবে অর্থাৎ মনে কোনো আক্ষেপ করবে না। আর শত্রুর পক্ষ থেকে যত বদদোয়া আসুক না কেন তাতেও কোনো পরোয়া করবে না। তখনও মুমিন বান্দা ধৈর্য হারাবেন না। আল্লাহ্ ইরশাদ করেন-
لَتُبْلَوُنَّ فِي أَمْوَالِكُمْ وَأَنفُসِكُمْ وَلَتَسْمَعُنَّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلِكُمْ وَمِنَ الَّذِينَ أَشْرَكُوا أَذًى كَثِيرًا وَإِن تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ ذُلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ.
"অবশ্যই ধন-সম্পদ ও জনসম্পদে তোমাদের পরীক্ষা করা হবে। আর তোমরা আহলে কিতাব কাফিরদের কাছ থেকে অনেক বড় অশোভন উক্তি শুনবে। যদি তোমরা ধৈর্যধারণ করো এবং পরহেযগারী অবলম্বন করো, তবে তা তোমাদের একান্ত সৎ সাহসের ব্যাপার।"৬৫
পবিত্র কুরআনুল কারিমে আরো ইরশাদ হয়েছে-
وَاصْبِرْ عَلَىٰ مَا يَقُولُونَ وَاهْجُرْهُمْ هَجْرًا جَمِيلًا.
"কাফেররা যা বলে সেগুলোর উপর আপনি ধৈর্যধারণ করুন এবং সুন্দরভাবে তাদেরকে পরিহার করে চলুন।”৬৬
وَلَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِّن قَبْلِكَ فَصَبَرُوا عَلَىٰ مَا كُذِّبُوا وَأُوذُوا حَتَّىٰ أَتَاهُمْ نَصْرُنَا.
“আপনার পূর্ববর্তী অনেক নবিকে মিথ্যা বলা হয়েছে। আমার সাহায্য আসা পর্যন্ত তারা এতে ধৈর্যধারণ করেছেন।”৬৭
আল্লাহ -র পক্ষ থেকে শান্তি আসা পর্যন্ত দুআকে চালু রাখবেন, দুআকে বন্ধ করে দিবেন না এবং তার সাহায্য-সহযোগিতা আসার প্রহর গুণেই ধৈর্যধারণ করবেন। আল্লাহ ইরশাদ করেন-
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّىٰ يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَىٰ نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرُ اللَّهِ قَرِيبٌ.
"তোমাদের কি এ ধারণা যে, তোমরা জান্নাতে যাবে অথচ তোমরা সে লোকদের অবস্থা অতিক্রম করোনি-যারা পূর্বে অতীত হয়েছে। তাদের উপর এসেছে বিপদ ও কষ্ট। তখন তারা এমনিভাবে শিহরিত হয়েছে যাতে নবি ও তার প্রতি যারা ঈমান এনেছিলো তাদের পর্যন্ত এ কথা বলতে হয়েছে যে, কখন আসবে আল্লাহর সাহায্য? তোমরা শোনে নাও-আল্লাহর সাহায্যই নিকটবর্তী।"৬৮
হৃদয়ে এ বিশ্বাস স্থাপন করতেই হবে যে আল্লাহ-র পক্ষ থেকে সাহায্য আসবেই। আল্লাহ ইরশাদ করেন-
حَتَّى إِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ قَدْ كُذِبُوا جَاءَهُمْ نَصْرُنَا فَنُجِّيَ مَن نَّشَاءُ وَلَا يُرَدُّ بَأْسُنَا عَنِ الْقَوْمِ الْمُجْرِمِينَ.
"যখন পয়গম্বরগণ নিরাশ হয়ে যেতেন, এমনকি এরূপ ধারণা করতেন যে, তাদের অনুমান বুঝি মিথ্যায় পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছিলো; তখন তাদের কাছে আমার সাহায্য পৌঁছে। অতঃপর আমি যাদের চেয়েছি উদ্ধার করেছি। আমার শাস্তি অপরাধী সম্প্রদায় থেকে প্রতিহত হয় না।”৬৯
যে মুমিন বান্দা সত্যের উপর থাকবে ও সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করবে। তখন তার কষ্ট সহ্য করতে হবেই। আর এ কষ্ট-ক্লেশের ঔষধ একমাত্র ধৈর্যধারণ। অধৈর্য না হয়ে আল্লাহ-র কাছে সাহায্য কামনা ও তার দরবারের দিকে ফিরে যাওয়া।

টিকাঃ
৬৪ সুরা নূহ: ৫-৬।
৬৫ সুরা আলে ইমরান: ১৮৬।
৬৬ সুরা মুযযাম্মিল: ১০।
৬৭ সুরা আল আনআম: ৩৪।
৬৮ সুরা বাকারা: ২১৪।
৬৯ সুরা ইউসুফ: ১১০।

📘 ধৈর্য হারাবেন না > 📄 কষ্টের সময় ধৈর্যধারণ করা

📄 কষ্টের সময় ধৈর্যধারণ করা


যখন বান্দার উপর হাজারো কষ্ট নিপতিত হয়, তখন সে কষ্টকে মাথা পেতে নিবে। এতে সে অধৈর্য হবে না। শত্রুদের সামনে দাঁড়ালেও ধৈর্যধারণ করতে হবে। প্রভুর পক্ষ থেকে সাহায্য আসার জন্য ধৈর্যধারণ করা শর্ত। তবেই প্রভু থেকে সাহায্য আসবে। শত্রুদের মুখোমুখি হওয়ার সময় যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা অনেক বড় কবিরা গুনাহ। পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا.
“তোমরা যখন কোনো শত্রুদের সাথে সাক্ষাত করো তখন স্থির থাকো।"৭০
অর্থাৎ শত্রুদের পক্ষ থেকে যখন তুমুল যুদ্ধ শুরু হবে তখন পলায়ন করো না বরং ধৈর্যধারণ করা। আল্লাহ ইরশাদ করেন-
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَعْلَمِ اللَّهُ الَّذِينَ جَاهَدُوا مِنكُمْ وَيَعْلَمَ الصَّابِرِينَ.
"তোমাদের কি ধারণা, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ আল্লাহ এখনও দেখেননি কারা জিহাদ করেছে এবং কারা ধৈর্যশীল।"৭১
আল্লাহ ইরশাদ করেন-
وَمَا مُحَمَّدُ إِلَّا رَسُولُ قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِهِ الرُّسُلُ أَفَإِن مَّاتَ أَوْ قُتِلَ انقَلَبْتُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ وَمَن يَنقَلِبْ عَلَى عَقِبَيْهِ فَلَن يَضُرَّ اللَّهَ شَيْئًا وَسَيَجْزِي اللَّهُ الشَّاكِرِينَ.
“আর মুহাম্মাদ একজন রাসুল ছাড়া আর বৈ কিছু না। তার পূর্বেও অনেক রাসুল অতিবাহিত হয়ে গেছেন। তিনি যদি মৃত্যুবরণ করেন বা নিহত হন তাহলে কি পশ্চাদপসরণ করবে? বস্তুত কেউ যদি পশ্চাদপসরণ করে, তবে আল্লাহর কিছুই ক্ষতি-বৃদ্ধি হবে না। আর যারা কৃতজ্ঞ, আল্লাহ তাদের সওয়াব দান করবেন।"৭২
পূর্ববর্তী মুমিনরাও কষ্টের উপর স্থীর ছিলো, তালুতের সাথে অনেক মুমিন ছিলো যাদের হাজারো কষ্ট থাকা সত্ত্বেও তালুতের সাথে ধৈর্যধারণ করেছেন। তারা কষ্টের কারণে কোথাও ভেগে যাওয়ার কল্পনাও করেননি। কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাদের ইস্পাত লোহার মতো ধৈর্যধারণের কথা বর্ণনা করেন, পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
فَلَمَّا فَصَلَ طَالُوتُ بِالْجُنُودِ قَالَ إِنَّ اللَّهَ مُبْتَلِيكُم بِنَهَرٍ فَمَن شَرِبَ مِنْهُ فَلَيْسَ مِنِّي وَمَن لَّمْ يَطْعَمْهُ فَإِنَّهُ مِنِّي إِلَّا مَنِ اغْتَرَفَ غُرْفَةً بِيَدِهِ فَشَرِبُوا مِنْهُ إِلَّا قَلِيلًا مِّنْهُمْ فَلَمَّا جَاوَزَهُ هُوَ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ قَالُوا لَا طَاقَةَ لَنَا الْيَوْمَ بِجَالُوتَ وَجُنُودِهِ قَالَ الَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُم مُّلَاقُو اللَّهِ كم مِّن فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِيرَةٌ بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ.
"অতঃপর তালুত যখন সৈন্য-সামন্ত নিয়ে বের হলো, তখন বললো-নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে পরীক্ষা করবেন একটি নদীর মাধ্যমে। সুতরাং যে লোক সেই নদীর পানি পান করবে, সে আমার দলের অর্ন্তভুক্ত নয়। আর যে লোক স্বাদ গ্রহণ করবে না, নিশ্চয় সে আমার দলের লোক। কিন্তু যে লোক আঁজলা ভরে সামান্য পান করবে তার দোষ অবশ্য তেমন গুরুতর হবে না। তারপর তালুতের কথা অমান্য করে সবাই পানি পান করলো- সামান্য কয়েকজন ছাড়া। পরে তালুত যখন নদী পার হলো তখন তার সাথে ছিলো মাত্র কয়েকজন ঈমানদার। এরপরে ঐ সামান্য লোকেরা বলতে লাগলো, আজকের দিনে জালুত ও তার সেনাবাহিনিদের সাথে যুদ্ধ করার শক্তি আমাদের নেই। কিন্তু যাদের ধারণা ছিলো যে-আল্লাহর সামনে আমাদের একদিন দাঁড়াতে হবে, তারা বারবার বলতে লাগলো, সামান্য দলই বিরাট দলের উপর আল্লাহর হুকুমেই জয়ী হয়েছেন। আর যারা ধৈর্যশীল, আল্লাহ তাদের সাথে রয়েছেন।" ৭৩
তালুতের বাহিনির কিছু লোক অধৈর্য হয়ে অনুমতি পাওয়ার পূর্বেই পানি পান করে ভেগে গিয়েছিলো, আর কিছু লোক ইস্পাত লোহার মতো শক্ত ও স্থির ছিলো এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। তাদের ধৈর্য ও ত্যাগের কারণেই আল্লাহ তাদেরকে বিজয়ের মুকুট পরিধান করিয়েছিলেন।

টিকাঃ
৭০ সুরা আল আনফাল: ৪৫।
৭১ সুরা আলে ইমরান: ১৪২।
৭২ সুরা আলে ইমরান: ১৪৪।
৭৩ সুরা বাকারা: ২৪৯।

📘 ধৈর্য হারাবেন না > 📄 তলিবে ইলম জীবনে ধৈর্যধারণ করা

📄 তলিবে ইলম জীবনে ধৈর্যধারণ করা


তালিবে ইলম জীবনে ধৈর্যধারণ করা হলো ধৈর্যের বড় ক্ষেত্র। ইলমে দ্বীন অর্জন করতে হলে বুকে থাকতে হবে ধৈর্যের পাহাড়, হতে হবে ইস্পাত লোহার মতো দৃঢ় ও শক্ত। অসীম দুঃখ-বেদনাকে বুকে লালন করেই হতে হবে অনেক বড়। ছুঁতে হবে ইলমের হিমালয়। পৌঁছতে হবে কাঙ্ক্ষিত মানযিলে। যদি বুকে এমন স্বপ্ন লালন না করা যায়, তাহলে ইলমের ভুবনে কখনোই পৌছা যাবে না, ফোটা যাবে না ইলমে নববির ফুটন্ত ফুল হয়ে। খিজির মুসা-কে ইলম শিক্ষা করতে হলে ধৈর্যধারণের বিষয়ে পূর্বে থেকেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন। পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
قَالَ إِنَّكَ لَن تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا. وَكَيْفَ تَصْبِرُ عَلَى مَا لَمْ تُحِطْ بِهِ خُبْرًا.
“তিনি (খিজির) বললেন, আপনি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্যধারণ করে থাকতে পারবেন না। তাছাড়া যে বিষয় আপনার আওতাধীন নয়, তা দেখে আপনি কিভাবে ধৈর্যধারণ করবেন?” ৭৪
উত্তরে মুসা বললেন, জ্বী আমি ধৈর্যধারণ করতে পারব। আমি হাজারো কষ্ট বুকে লালন করে আপনার থেকে ইলম শিখব। আমি একটুও অধৈর্য হবো না। আপনি আমাকে ইলম শিক্ষা দিন। পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
قَالَ سَتَجِدُنِي إِن شَاءَ اللَّهُ صَابِرًا وَلَا أَعْصِي لَكَ أَمْرًا.
"অতঃপর সে (মুসা) বললো, আল্লাহ চাহেন তো আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার কোনো আদেশ অমান্য করবো না।"৭৫
এ প্রকার ধৈর্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে মুফতি হওয়ার পূর্বে ফতোয়া না দেওয়ার উপর ধৈর্যধারণ করা। আর শিক্ষকেরও ধৈর্যধারণ করতে হবে ছাত্রকে সবক ইত্যাদি বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে।

টিকাঃ
৭৪ সুরা কাহাফ: ৬৭-৬৮।
৭৫ সুরা কাহাফ: ৬৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00