📄 প্রচুর প্রেম অর্জন
যারা বিপদে-আপদে আল্লাহ-র উপর ধৈর্যধারণ করে, আল্লাহ তাদের অনেক ভালোবাসেন। মুসিবতে অধৈর্য হবেন না। তাহলে প্রভুর ভালোবাসার মানুষ হতে পারবেন। আল্লাহ ইরশাদ করেন-
وَكَأَيِّن مِّن نَّبِي قَاتَلَ مَعَهُ رِبِّيُّونَ كَثِيرٌ فَمَا وَهَنُوا لِمَا أَصَابَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَمَا ضَعُفُوا وَمَا اسْتَكَانُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الصَّابِرِينَ.
“আর অনেক নবি ছিলেন যাদের সাথী-সঙ্গীরা তাদের অনুগত হয়ে জিহাদ করেছে আল্লাহর পথে। তাদের কিছু নষ্ট হয়েছে বটে তবুও তারা আল্লাহর রাহে হেরে যাননি, ক্লান্তও হননি এবং দমেও যাননি। আর যারা ধৈর্যধারণ করে, আল্লাহ তাদেরকে খুব ভালোবাসেন।"৮৭
টিকাঃ
৮৭ সুরা আলে ইমরান : ১৪৬।
📄 আল্লাহ -র প্রশংসা অর্জন
যারা মুসিবতে পতিত হয়ে হাজারো কষ্টকে বুকে ধারণ করে ধৈর্যধারণ করবে, আল্লাহ তাদের প্রশংসা করবেন। আল্লাহ তার প্রিয় বান্দা আইয়ুব-এর উত্তম প্রশংসা করেছেন, কেননা সে কষ্টের উপর ধৈর্যধারণ করেছিলেন। পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
"আমি তাকে পেলাম ধৈর্যধারণকারী। চমৎকার বান্দা সে; নিশ্চয়ই সে ছিলো প্রত্যাবর্তনশীল।"৮৮
টিকাঃ
৮৮ সুরা সোয়াদ : ৪৪।
📄 আলোর পথ অর্জন
মালেক আশআরি থেকে বর্ণিত-তিনি বলেন, রাসুল বলেন-
والصلاة نور، والصدقة برهان والصبر ضياء، والقرآن حجة لك أو عليك.
“সালাত হলো তোমাদের জন্য নূর, ধৈর্য তোমাদের জন্য আলোর পথ। আর কুরআন তোমার জন্য হুজ্জাত বা দলিল।”৮৯
টিকাঃ
৮৯ সহিহ মুসলিম : ২২৩।
📄 ধৈর্যধারণ করুন
নিম্মোক্ত আয়াতগুলোর বাস্তবতা ও উপকারিতা কেবল ধৈর্যশীলরাই অনুধাবন করতে পারে। আল্লাহ ইরশাদ করেন-
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مُوسَى بِآيَاتِنَا أَنْ أَخْرِجُ قَوْمَكَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَذَكِّرْهُم بِأَيَّامِ اللَّهِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِكُلِّ صَبَّارٍ شَكُورٍ.
"আমি মুসাকে নিদর্শনাবলীসহ প্রেরণ করেছিলাম-সে তার স্বজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে আনয়ন এবং তাদেরকে আল্লাহর দ্বীনসমূহ স্মরণ করিয়ে দিবেন। নিশ্চয়ই এতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল কৃতজ্ঞদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে।”৫০
পবিত্র কুরআনুল কারিমে অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে-
أَلَمْ تَرَ أَنَّ الْفُلْكَ تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِنِعْمَتِ اللَّهِ لِيُرِيَكُم مِّنْ آيَاتِهِ إِنَّ فِي ذُلِكَ لَآيَاتٍ لِكُلِّ صَبَّارٍ شَكُورٍ.
"তুমি কি দেখনা আল্লাহর অনুগ্রহে জাহাজ সমুদ্রে চলাচল করে, যাতে তিনি তোমাদেরকে নিদর্শনাবলী প্রদর্শন করান, নিশ্চয় প্রত্যেক ধৈর্যশীল কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য নিদর্শন রয়েছে।”৫১
ধৈর্যশীলদেরকে বুঝানোর জন্য 'সাবা' এর ঘটনা বর্ণনা করে আল্লাহ্ ইরশাদ করেন-
فَقَالُوا رَبَّنَا بَاعِدْ بَيْنَ أَسْفَارِنَا وَظَلَمُوا أَنفُسَهُمْ فَجَعَلْنَاهُمْ أَحَادِيثَ وَمَزَقْنَاهُمْ كُلَّ مُمَزَّقٍ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِكُلِّ صَبَّارٍ شكور.
"আমি তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিলাম। নিশ্চয় এতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল কৃতজ্ঞদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে।”৫২
আল্লাহ-র হাজারো অনুগ্রহে বান্দা নিমজ্জিত। যেমন আল্লাহ মানবকে নদীতে কত সুন্দর করে নৌকার মাধ্যমে পার করেন, এসব নিয়ামত কেবল ধৈর্যশীলরাই বেশী বুঝবে। তাই আল্লাহ ইরশাদ করেন-
وَمِنْ آيَاتِهِ الْجَوَارِ فِي الْبَحْرِ كَالْأَعْلَامِ إِن يَشَأْ يُسْكِنِ الرِّيحَ فَيَظْلَلْنَ رَوَاكِدَ عَلَى ظَهْرِهِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِكُلِّ صَبَّارٍ شَكُورٍ.
"সমুদ্রে ভাসমান পর্বতসম জাহাজসমূহ তার অন্যতম নিদর্শন। তিনি ইচ্ছা করলে বাতাসকে থামিয়ে দেন, তখন জাহাজসমূহ সমুদ্রপৃষ্ঠে নিশ্চল হয়ে পড়ে-যেন পাহাড়। নিশ্চয় এতে প্রত্যেক ধৈর্যধারণকারী কৃতজ্ঞের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে।”৫৩
উপরোক্ত আয়াতগুলোর মর্মাথ কেবল ধৈর্যশীলরাই বুঝবে ও অনুধাবন করবে। তাই আল্লাহ-র আয়াতের প্রতি খেয়াল রেখে জীবন চলার পথে হাজারো কষ্ট আসলে তাতে ধৈর্যধারণ করবেন।
টিকাঃ
৫০ সুরা ইবরাহিম: ৫।
৫১ সুরা লোকমান: ৩১।
৫২ সুরা সাবা: ১৯।
৫৩ সুরা আস শুরা: ৩২-৩৩।