📄 ধৈর্যশীলদেরকে দ্বিগুণ সওয়াব দান করা হবে
পবিত্র কুরআনুল কারিমে আল্লাহ ইরশাদ করেন-
أُولَئِكَ يُؤْتَوْنَ أَجْرَهُم مَّرَّتَيْنِ بِمَا صَبَرُوا. "তারা দুইবার পুরস্কৃত হবে সবরের কারণে।”৩৩ ধৈর্যধারণকারীরা দয়াময় প্রভুর থেকে সওয়াব পাবে গণনাহীন। ধৈর্যধারণের সওয়াব অন্যান্য প্রতিদান থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, কেননা অন্যান্য কর্মের প্রতিদান হিসেবে আল্লাহ যা দান করেন, ধৈর্যধারণের বেলায় এর চেয়ে দিগুণ দান করেন। আল্লাহ আরো ইরশাদ করেন-
إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُم بِغَيْرِ حِسَابٍ.
“ধৈর্যশীলদের প্রতিদান দেওয়া হবে হিসাব ছাড়া।”৩৪
সুলাইমান ইবনু কাসেম বলেন-
প্রত্যেক সওয়াবের প্রতিদান সম্পর্কে জানা যায়, কিন্তু ধৈর্যটা এর ব্যতিক্রম। কেননা সবরের বেলায় আল্লাহ প্রতিদান দেন সীমাহীন।৩৫
আওযাঈ বলেন, ধৈর্যশীলদের এত বেশী সওয়াব দান করা হয় যে, যা মাপা বা ওজন করাও সম্ভব না। ধৈর্যশীলদেরকে আল্লাহ সওয়াবের সাগরে ডুবিয়ে দেন।৩৬
টিকাঃ
৩৩ সুরা কাসাস ৫৪।
৩৪ সুরা যুমার: ১০।
৩৫ যাম্মুল হাওয়া: ৬০।
৩৬ তাফসিরে ইবনু কাসির: ৪/৬৩।
📄 দ্বীনের নেতৃত্ব অর্জন
আল্লাহ ধৈর্যশীলদের দ্বীনের নেতা হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। আল্লাহ ইরশাদ করেন-
وَجَعَلْنَا مِنْهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا لَمَّا صَبَرُوا وَكَانُوا بِآيَاتِنَا يُوقِنُونَ.
"তারা ধৈর্যধারণ করতো বিধায় আমি তাদের মধ্যে থেকে নেতা মনোনীত করেছিলাম-যারা আমার আদেশে পথপ্রদর্শন করতো। তারা আমার আয়াত সমূহে দৃঢ় বিশ্বাসী ছিলো।"৩৭
ইবনু তাইমিয়্যা বলেন, ধৈর্য ও ইয়াকিনের মাধ্যমে দ্বীনের সর্দার হওয়া যায়।৩৮
টিকাঃ
৩৭ সুরা সাজদাহ: ২৪।
৩৮ মাজমুআতুল ফাতাওয়া: ৩/৩৫৮।
📄 আল্লাহ -র বন্ধুত্ব অর্জন
ধৈর্যশীলদের ফলাফল হলো-তারা আল্লাহ -র সাথী হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। আল্লাহ ইরশাদ করেন-
إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ. "নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।”৩৯
টিকাঃ
৩৯ সুরা বাকারা: ১৫৩।
📄 সাহায্যের প্রতিশ্রুতি
ধৈর্যশীলদের আল্লাহ অসংখ্য সাহায্য করবেন, তাই তো আল্লাহ ধৈর্যধারণের মাধ্যমে তার থেকে সাহায্য কামনা করতে আদেশ করেছেন।
وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ. "তোমরা নামাজ ও ধৈর্যের মাধ্যমে সাহায্য কামনা কর।”৪০
সুতরাং যে তার উপর নিপতিত কষ্টের উপর ধৈর্যধারণ করবে না, তার জন্য প্রিয়তম প্রভুর থেকে সাহায্যও আসবে না।
আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তুমি যা অপছন্দ করো তাতে ধৈর্যধারণের বেলায় তোমার জন্য কল্যাণ নিহিত আছে। আর জেনে রাখো, রবের সাহায্য কেবল ধৈর্যধারণকারীদের সাথেই। ৪১
ইমানের পাখি সুহাবায়ে কেরাম যুদ্ধের ময়দানে ধৈর্যধারণ করার কারণে আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করেছেন। পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
بَلَى إِن تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا وَيَأْتُوكُم مِّن فَوْرِهِمْ هُذَا يُمْدِدْكُمْ رَبُّكُم بِخَمْسَةِ آلَافٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُسَوِّمِينَ.
"অবশ্য তোমরা যদি ধৈর্যধারণ করো এবং বিরত থাকো আর কাফেররা যদি তোমাদের উপর চড়াও হয় তাহলে তোমাদের পালনকর্তা চিহ্নিত পাঁচ হাজার ফেরেশতা তোমাদের সাহায্যে পাঠাতে পারেন। ৪২
বনি ইসরাইলকে ফেরআউনের বিরুদ্ধে বিজয়ী করেছেন একমাত্র ধৈর্যের কারণে। আল্লাহ্ ইরশাদ করেন-
وَأَوْرَثْنَا الْقَوْمَ الَّذِينَ كَانُوا يُسْتَضْعَفُونَ مَشَارِقَ الْأَرْضِ وَمَغَارِبَهَا الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا وَتَمَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ الْحُسْنَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ بِمَا صَبَرُوا وَدَمَّرْنَا مَا كَانَ يَصْنَعُ فِرْعَوْنُ وَقَوْمُهُ وَمَا كَانُوا يَعْرِشُونَ.
“আর যাদেরকে দুর্বল মনে করা হতো তাদেরকে আমি এ ভূ-খন্ডের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের উত্তরাধিকারী বানিয়েছি, যেখানে আমার বরকত সন্নিहित রয়েছে। আর বনি ইসরাইলের উপর পরিপূর্ণ হয়ে গেছে তোমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত কল্যাণ। একমাত্র তাদের ধৈর্যধারণের কারণে। আর ধ্বংস করে দিয়েছি সে সব কিছু-যা তৈরী করেছিলো ফেরআউন ও তার সম্প্রদায় এবং ধ্বংস করে দিয়েছি যা কিছু তারা সুউচ্চ নির্মাণ করেছে।” ৪৩
ইমাম শাফেঈ বলেন, ধৈর্য হলো স্থিরতা আর এর ফলাফল হলো বিজয়। ৪৪
টিকাঃ
৪০ সুরা বাকারা: ৪৫।
৪১ মুসনাদু আহমাদ: ২৮০০।
৪২ সুরা আলে ইমরান: ১২৫।
৪৩ সুরা আল আ'রাফ: ১৩৭।
৪৪ তারিখে দিমাশক: ৫১/৪০৮।