📘 ধৈর্য হারাবেন না > 📄 ধৈর্য-ই জান্নাতের সুগম পথ

📄 ধৈর্য-ই জান্নাতের সুগম পথ


এই ক্ষণস্থায়ী মুসাফিরখানায় যদি কোনো ব্যক্তির বন্ধুর প্রাণপাখি উড়ে যায় না ফেরার দেশে, আর সে তার বন্ধুর বিরহে ধৈর্যধারণ করে ও সওয়াবের কামনা করে তাহলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত নির্ধারণ করে রাখেন।
প্রিয় সাহাবি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, মুহাম্মাদ বলেছেন, আল্লাহ ইরশাদ করেন-
ما لعبدي المؤمن عندي جزاء، إذا قبضت صفيه من أهل الدنيا ثم احتسبه، إلا الجنة.
“আমি যখন আমার কোনো বন্ধুকে দুনিয়ার জমিন থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসি, তার বিরহ-বেদনার উপর (যদি কোনো বান্দা) ধৈর্যধারণ করে সওয়াবের আশায়; তাহলে প্রতিদান হিসেবে সে আমার সেই মুমিন বান্দাকে জান্নাত দেওয়া হয়।”২৪
নবি এক মহিলাকে দুঃখের ওপর ধৈর্যধারণের কারণে জান্নাতের সু-সংবাদ দিয়েছেন।
আতা ইবনু আবি রাবাহ থেকে বর্ণিত-তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস একবার আমাকে বলেন-'হে আতা! আমি তোমাকে জান্নাতি নারি দেখাবো না?' আমি বললাম-'জ্বী, হ্যাঁ।' তখন তিনি বলতে লাগলেন-এই কালো মহিলা একদা নবি করিম -এর দরবারে এসে বললেন-"হে আল্লাহর রাসুল! আমি মৃগী রোগে আক্রান্ত; কখনো এই রোগে আক্রান্ত হলে আমার সতর খুলে যায়। দয়া করে আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, যাতে আমার এ রোগ ভাল হয়ে যায়।" উত্তরে নবি বলেন-
'তুমি যদি চাও ধৈর্যধারণ করে এর বিনিময়ে জান্নাত লাভ করতে পার। আর যদি তোমার সুস্থতার জন্য দোয়া করতে বলো, তাও পারবো।' তখন উত্তরে মহিলা বললো-হে রাসুল! আমি ধৈর্যধারণ করবো। কিন্তু সাথে এ আবেদন করছি যে, এ রোগে আক্রান্ত হলে আমার সতর খুলে যায়, আপনি আমার জন্য দো'আ করবেন যেন সতর খুলে না যায়। তখন রাসুল তার জন্য দোয়া করলেন। ২৫
আল্লাহ মুমিনদেরকে সম্বোধন করে বলেছেন, জান্নাতে প্রবেশের পূর্বে তোমার উপর হাজারো কষ্ট নিপতিত হবে, সুতরাং তাতে তোমার ধৈর্যধারণ করতে হবে। তাহলেই তুমি পাবে জান্নাতের সুখ, পাবে আখেরাতের হাজারো নিয়ামত। পবিত্র কুরআনুল কারিমে আল্লাহ ইরশাদ করেন-
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرُ اللَّهِ قَرِيبٌ.
“তোমাদের কি এ ধারণা যে, তোমরা জান্নাতে যাবে অথচ তোমাদের উপর (সেসব দুর্দশা) আপতিত হবে না, যা তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর আপতিত হয়েছে। তাদের উপর এসেছে বিপদ ও কষ্ট। তখন তারা এমনিভাবে শিহরিত হয়েছে যাতে নবি ও তার প্রতি যারা ঈমান এনেছিলো তাদের পর্যন্ত এ কথা বলতে হয়েছে যে-কখন আসবে আল্লাহর সাহায্য? তোমরা শোনে নাও, নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী।”২৬
আলি ইবনু হুসাইন বলেন, কিয়ামতের দিন ধৈর্যশীলদেরকে (হাশরের ময়দানে) দাঁড়ানোর জন্য ডাকা হবে, অতঃপর কিছু লোকদেরকে বলা হবে-“তোমরা সমবেত হও”। তারপর তাদেরকে বলা হবে-হে অমুকেরা! তোমরা জান্নাতের সুখময় উদ্যানের দিকে চলে যাও, চলার পথে ফেরেশতাকুলের সাথে সাক্ষাত হলে তারা বলবে আমরা 'আহলে সবর' বা ধৈর্যশীল বান্দা। ফেরেশতারা জিজ্ঞেস করবে, তোমরা কিসের উপর ধৈর্যধারণ করেছো? তারা বলবে, আমরা আনুগত্যের উপর ধৈর্যধারণ করেছি, গুনাহ না করার উপর ধৈর্যধারণ করেছি। তখন ফেরেস্তারা বলবে, যাও! জান্নাতে প্রবেশ করো। কতই উত্তম প্রতিদান তোমাদের জন্য। (সুবহানাল্লাহ) ২৭
আনাস ইবনু মালিক বলেন, রাসুল বলেছেন-
حفت الجنة بالمكاره، وحفت النار بالشهوات.

টিকাঃ
২৪ সহিহ বুখারি: ৬৪২৪।
২৫ সহিহ বুখারি ৫৬৫২, সহিহ মুসলিম: ২৮২৩।
২৬ সুরা বাকারা: ২১৪।
২৭ হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৩/১৩৯-১৪০।

📘 ধৈর্য হারাবেন না > 📄 জান্নাতে ধৈর্যশীলদের জন্য ফেরেশতাদের সালাম উপহার

📄 জান্নাতে ধৈর্যশীলদের জন্য ফেরেশতাদের সালাম উপহার


ধৈর্যশীলদেরকে জান্নাতে ফেরেশতারা সালাম দিবে। সারিবদ্ধ হয়ে ধৈর্যশীলদের অভিবাদন জানাবে। সালামকারীদের থেকে কেবল সৌন্দর্যই ঠিকরে পড়বে। চারদিকে শুধু মেশকের মৌ মৌ সুঘ্রাণ। মিষ্টি হেসে তারা ধৈর্যশীলদের সালাম নিবেদন করবে। মহান রব পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ করেন-
سَلَامُ عَلَيْكُم بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ.
“ফেরেশতারা বলবে, তোমাদের সবরের কারণে তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আর তোমার এ পরিণাম-গৃহ কতই না চমৎকার।”২৯

টিকাঃ
২৮ সহিহ মুসলিম: ২৮২৩।
২৯ সুরা রাদ: ২৪।

📘 ধৈর্য হারাবেন না > 📄 ধৈর্যশীলদের জন্য প্রশংসার বাড়ি

📄 ধৈর্যশীলদের জন্য প্রশংসার বাড়ি


যখন কোনো ব্যক্তির সন্তান হারিয়ে সে বিরহ-বেদনা সহ্য করে ধৈর্যধারণ করবে, আল্লাহ প্রতিদান হিসেবে তার জন্য জান্নাতে একটি বাড়ি নির্মাণ করে দিবেন, যার নাম হলো "বায়তুল হামদ" বা প্রশংসার বাড়ি। প্রিয়জনকে হারিয়ে যদি আমরা অশুভ কোনো আচরণ না করে ধৈর্যধারণ করি, তাহলে আল্লাহ-র নির্দেশে জান্নাতের সেই সুখময় উদ্যানে আমাদের জন্য বাড়ি নির্মাণ করা হবে।
আবু মুসা আশআরি বলেন, রাসুল বলেন- إذا مات ولد العبد قال الله لملائكته: قبضتم ولد عبدي، فيقولون: نعم، فيقول: قبضتم ثمرة فؤاده، فيقولون: نعم، فيقول: ماذا قال عبدي؟ فيقولون: حمدك واسترجع، فيقول الله: ابنوا لعبدي بيتا في الجنة، وسموه بيت الحمد.
"যখন কারো সন্তান মৃত্যুবরণ করে, তখন আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে বলেন-তোমরা আমার এক বান্দার সন্তানকে নিয়ে এসেছো? তখন তারা উত্তরে বলে—'জ্বী।' আল্লাহ আবার জিজ্ঞেস করেন-'তোমরা কি তার অন্তরের প্রশান্তি নিয়ে এসেছো?' ফেরেশতারাও উত্তরে বলে—'জ্বী।' তখন আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন-'আমার বান্দা কি বললো?' তারা বলে-'সে বান্দা আপনার প্রশংসা করেছে এবং (ইন্নালিল্লাহি ও ইন্না ইলাইহি রাজিউন) দুআ পাঠ করেছে। তখন আল্লাহ বলেন-'যাও, তোমরা আমার সে বান্দার জন্য জান্নাতে একটি বাড়ি নির্মাণ করো এবং সেই বাড়ির নাম রেখে দাও 'বায়তুল হামদ'।'"

📘 ধৈর্য হারাবেন না > 📄 ধৈর্যশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট হবে না

📄 ধৈর্যশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট হবে না


দয়াময় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের আমলকে বিনষ্ট করবেন না, বরং আরো দ্বিগুণ করে দিবেন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন-
إِنَّهُ مَن يَتَّقِ وَيَصْبِرْ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَ. "নিশ্চয়ই যে তাকওয়া অবলম্বন করে এবং সবর করে আল্লাহ তাদের প্রতিদান বিনষ্ট করে দিবেন না।”৩১

টিকাঃ
৩১ সুরা ইউসুফ: ৯০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00