📘 ধৈর্য হারাবেন না > 📄 ধৈর্যের সংজ্ঞা

📄 ধৈর্যের সংজ্ঞা


নিজেকে নফসের পক্ষপাতী করা থেকে বিরত রাখা ও প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে দূরে থাকা। এভাবেও বলা যায় যে, প্রিয়তম প্রভুর চাহিদানুযায়ী নিজের মন বা হৃদয়কে আটকে রাখা ও আল্লাহ-র নিষেধাজ্ঞাগুলোকে মেনে তার উপর নিজেকে বন্দি রাখা। আর যে ব্যক্তি কষ্টের উপর ধৈর্যধারণ করে তাকে 'সাবের' বা ধৈর্যধারণকারী বলা হয়। কেননা সে নিজেকে হতাশা ও পেরেশানি থেকে দূরে রেখেছে। তাই তো রমজান মাসকে 'ধৈর্যের মাস' বলা হয়। কেননা মুসলিমরা রমজান মাসে নিজেদেরকে খাবার-দাবার ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত রাখে।

📘 ধৈর্য হারাবেন না > 📄 ধৈর্যের স্তর

📄 ধৈর্যের স্তর


ধৈর্য কেবল এক স্তরে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এর অনেক স্তর রয়েছে যা একটা অন্যটা থেকে উত্তম। আল্লাহ-র আনুগত্যের উপর নিজেকে অটল রাখতে ধৈর্যধারণ করা, গুনাহ থেকে নিজেকে বিরত রাখা ধৈর্যের তুলনায় বেশি মর্যাদাবান। কারণ আল্লাহ-র ওয়াজিব বিধান পালন করা তার কাছে গুনাহ থেকে বিরত থাকার চেয়েও উত্তম। আর গুনাহ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার ধৈর্যটা বিপদাপদের সময় ধৈর্যধারণ অপেক্ষা উঁচু স্তরের। কেননা ওয়াজিব বিধান পালন করা ও গুনাহ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা হলো মানুষের ইচ্ছাধীন। আর কারো পক্ষ থেকে কোনো কিছুর উপর বাধ্য করার কারণে তাতে ধৈর্যধারণ করা-এটা ইচ্ছাধীন নয়। সুতরাং আল্লাহ-র আনুগত্য করার জন্য ধৈর্যধারণ এবং গুনাহ থেকে মুক্ত থাকার জন্য ধৈর্যধারণ করা কোনো বালা-মুসিবতের উপর ধৈর্যধারণ করা থেকে উঁচু স্তরের।
ইমাম ইবনুল কায়্যিম বলেন, আমি ইমাম ইবনু তাইমিয়া -কে বলতে শুনেছি-
জুলেখার প্রেমের প্রস্তাবের মোকাবিলায় ইউসুফ-এর ধৈর্যধারণ করা, তার ভাইদের হাতে কূপে নিক্ষিপ্ত হওয়া, পরবর্তীতে মিশরের বাজারে বিক্রি হয়ে যাওয়া ও মা-বাবার থেকে পৃথক হওয়ার দুর্দশার উপর ধৈর্যধারণ করার তুলনায় উত্তম।
কেননা ইউসুফ-এর সাথে তার ভাইদের যে আচরণ ছিলো তাতে ধৈর্যধারণ ছিলো অনিচ্ছাধীন। সেখানে ধৈর্য ছাড়া আর কোনো উপায়ও ছিলো না। কিন্তু জুলেখার মিথ্যা প্রেমে হাবুডুবু না খেয়ে নিজেকে সংযত রাখা ছিল ইচ্ছাধীন ও মনের সাথে যুদ্ধের নামান্তর।
কেননা ইউসুফ তখন যুবক ছিলেন, আর জুলেখাও ছিলো সুন্দরী, রূপবতী। জুলেখা যখন ইউসুফ-কে তার ভরা যৌবনে হাবুডুবু খেতে ডেকেছিলো; তখন সেখানে কেউ ছিলো না। দরজা-জানালা সবগুলো ছিলো বন্ধ, তখন ইউসুফ-এর যৌবন আরো দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার কথা। আর এখানে কোনো লজ্জারও বিষয় ছিলো না। কারণ লজ্জা হয় সেসব ক্ষেত্রে- যেখানে পরস্পর অপরিচিত হয়ে থাকে; কিন্তু তারা উভয়ে পূর্ব-পরিচিত ছিলো। দুজন দুজনকে অনেক আগে থেকেই চিনতেন। আবার আশে-পাশে কোনো দারোয়ানও ছিলো না। শুধু তাই নয়; জুলেখা ইউসুফ-কে যিনার আহবানে সাড়া দেওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রলোভন ও হুমকি-ধমকিও দিয়েছিলো।
ইউসুফ একমাত্র আল্লাহ-কে ভয় করে নিজের যৌবনের লাগামকে টেনে ধরেছেন। আবেগের বশে তিনি মিথ্যা প্রেমের সাগরে হাবুডুবু খাননি। এত বড় বিষয়ের উপর তার ধৈর্যধারণ করা কেবল ইচ্ছার কারণেই সম্ভব হয়েছিলো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00