📄 লেখক পরিচিতি
শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ। জন্ম ৭ই জুন ১৯৬০ সালে (৩০ ডিসেম্বর ১৩৮০ হিজরি)। জন্মের আগে তার মা-বাবা ছিলেন সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে। অভাব অনটনের মাঝেই চলছিল তাদের সংসার। কোন এক কারণে বেশি দিন থাকতে পারেনি আলেপ্পো শহরে। পাড়ি দিতে হয় সৌদি আরবে। সৌদি আরবেই তার জন্ম। ছোট্ট শিশু মুহাম্মাদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ। এই ছোট্ট শিশুই আজ 'দাঈ ইলাল্লাহ' হিসেবে আরব বিশ্বে পরিচিতি লাভ করে। মানুষকে আহবান করে সরল সঠিক পথে। এতেই গাত্রদাহ শুরু হয় তথাকথিত প্রগতিশীলদের মানসপটে। ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০১৭ ইং যাঁর ঠিকানা হয় বর্তমান সৌদি সরকারের বন্দিশালায়。
শিক্ষাজীবন
শিক্ষাজীবন শুরু হয় সৌদির রাজধানী রিয়াদে। প্রাথমিক, জুনিয়র এবং মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ হয় এখানেরই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। তারপর সৌদি আরবেরই 'দাহরান' শহরে অবস্থিত 'কিং ফাহাদ ইউনিভার্সিটি' থেকে 'ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ম্যানেজমেন্ট' বিষয়ে সম্মানের সাথে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ইসলামি ফিকহশাস্ত্র অধ্যয়ণ করেন শাইখ আব্দুল আজিজ আব্দুল্লাহ বিন বায, শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল উসাইমিন, শাইখ আব্দুল্লাহ আব্দুর রহমান আল জিবরিন-এর নিকট। তবে সবচেয়ে বেশি সময় কাটান শাইখ আব্দুর রহমান নাসির আল বাররাকের সংস্পর্শে। সমধুর কণ্ঠের কুরআন তিলাওয়াত শেখেন শাইখ সাঈদ আল আব্দুল্লাহ-এর মুখে। আরও যেসব শাইখদের নিকট জ্ঞানের ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন তাদের কয়েকজন হলেন— শাইখ সালেহ ফাওজান আল ফাওজান, শাইখ আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ আল গুনাইমান, শাইখ মুহাম্মাদ ওলিদ সিদি আল হাবিব আশ শানকিতি, শাইখ আব্দুল্লাহ মুহদিস আজ জামিল, শাইখ আব্দুর রহমান সালেহ আল মাহমুদ প্রমুখ। এ ছাড়াও প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ের জ্ঞান অর্জন করেন শাইখ আব্দুল আজিজ আব্দুল্লাহ বিন বায রহ. এর নিকট। তাঁরই সান্নিধ্যে থাকেন প্রায় দীর্ঘ পনের বছর। ইনিই হলেন তিনি— যিনি তাঁকে দ্বীনি শিক্ষা ও দাঈ ইলাল্লাহ-এর কাজে লেগে থাকার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। ইনিই হলেন তিনি— যিনি তাঁর জন্য দাম্মামের 'দাওয়াহ ও ইরশাদ' বিভাগে নিযুক্তির সুপারিশ করেন। ইনিই হলেন তিনি— যিনি ভাষণ দান ও খুতবা প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়ার সুযোগ দানের জন্যও সেখানকার কর্মকর্তাদের নিকট চিঠি লেখেন। এই শাইখ আব্দুল আজিজ আব্দুল্লাহ বিন বায রহ.-এর প্রচেষ্টাই তিনি বর্তমান আরব বিশ্বের সামনে আলোড়ন সৃষ্টিকারী একজন খতিব হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন।
বর্তমানে তিনি 'আল খুবার' শহরের 'মসজিদে ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ'-এ ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এবং বিভিন্ন সময়ে সর্বোচ্চ স্কলারদের সম্মুখেও ইসলামিক লেকচার পেশ করে থাকেন। শিক্ষার্থীদের ক্লাসও নেন। যেসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেন তন্মধ্যে রয়েছে তাফসির ইবনে কাসির, শরহে সহিহ বুখারি, ফতোয়ায়ে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা, শরহে সুনানে আত তিরমিযি, শরহে কিতাব আত তাওহিদ লিস শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব। 'আল কুরআনুল কারিম' চ্যানেলে শাইখ দুটি অনুষ্ঠান করেন। একটির নাম- 'বাইনান নবি ওয়া আসহা-বিহী-' আর দ্বিতীয়টির নাম 'খুতুবাত আলা তারিকিল ইসলাম'। এছাড়া তিনি বিভিন্ন বিষয়ে অন্যান্য টিভিতেও অনুষ্ঠান করে থাকেন। নন্দিত এই আরবি সাহিত্যিক শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ নন্দিত বক্তা হিসেবেও পরিচিত আরব বিশ্বের নিকট। তাঁর বক্তৃতার অনেক অডিও- ভিডিও ইন্টারনেটমাধ্যম গুগল, ফেসবুক, ইউটিউব, মোবাইল এ্যাপসহ সর্বত্রই পাওয়া যায়। যেগুলো শ্রবণে মুসলমানদের ইমান জাগ্রত হয় নব উদ্যমে। শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ প্রশ্নোত্তর ভিত্তিক ইসলামিক ওয়েবসাইট [Islamqa.info] চালু করেন ১৯৬৬ ইং সনে [উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, এটিই আরব বিশ্বের প্রথম ইসলাম বিষয়ক ওয়েবসাইট। তবে সৌদি সরকার ২০১০ সালে কয়েক বছরের জন্য এটির সম্প্রচার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখে। তবে এখন চলমান রয়েছে। এছাড়াও তিনি ইসলাম বিষয়ক ওয়েবসাইট প্ল্যাটফর্ম Islam Web Site-রও সিইও। যেখান থেকে আটটি ওয়েবসাইট পরিচালিত হয়। তিনি জাদ গ্রুপেরও সিইও। যে সংস্থাটি ইসলামিক শিক্ষা ও দাওয়াহ বিষয়ক মুঠোফোন ও টেলিফোন কন্টেন্ট তৈরি করে, টিভি অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচার এবং ইসলামিক বই প্রকাশনার কাজও করে থাকে। লেখনীর মাধ্যমেও শাইখ দাওয়াতের অনেক কাজ করে থাকেন। এত ব্যস্ততার মাঝেও বিভিন্ন বিষয়ের উপর বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। যেগুলোর প্রত্যেকটিই পাঠকপ্রিয়তায় বেষ্ট সেলার হিসেবে খ্যাত হয়েছে। বক্ষমান গ্রন্থটিও লেখকের অনন্য গ্রন্থের একটি। এই গ্রন্থটি পৃথিবির বিভিন্ন ভাষায় হয়েছে ভাষান্তর। তাই আমরাও রূপান্তর করলাম বাংলাভাষীদের জন্য বাংলায় 'ধৈর্য হারাবেন না' নামে।
📄 ধৈর্য কি আল্লাহ প্রদত্ত?
অনেক মানুষ আছে যারা দুঃখ-কষ্ট, মুসিবতে পতিত হওয়ার পর তাদেরকে যদি ধৈর্যধারণের নসিহত করা হয়, তখন তারা বলে—আল্লাহ তো আমাকে কষ্টের সময় ধৈর্যধারণ করার ক্ষমতা প্রদান করেননি, তাহলে আমি কিভাবে ধৈর্যধারণ করব? তারা মনে করে যে, ধৈর্য কেবল আল্লাহ প্রদত্ত! মানুষ তা অর্জন করতে পারে না। কিন্তু ঐসব বন্ধুদের কথাটা সঠিক মনে হয় না; যদি তাদের কথা সঠিক হতো তাহলে হাদিস ও নসের বক্তব্য বিপরীতমুখী হতো। কারণ অনেক শরয়ী দলিলের মাধ্যমে বুঝা যায় যে, ধৈর্য মানুষের সৃষ্টিগত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। মানুষ চেষ্টা করলে তা অর্জন করতে সক্ষম।
আবু সাঈদ খুদরি থেকে বর্ণিত, মুহাম্মাদ বলেন, যে ব্যক্তি বালা- মুসিবতের সময় ধৈর্যধারণ করতে ইচ্ছে করে; আল্লাহ তাকে ধৈর্যধারণ করার ক্ষমতা প্রদান করেন।
তবে একথা বাস্তব যে, ধৈর্যধারণকারীদের বিভিন্ন স্তর আছে, সবাই একই রকম ধৈর্যধারণ করতে পারে না। আসল কথা হলো-ধৈর্য হচ্ছে হৃদয়ের একটি অবস্থা, যা অর্জন করে নিতে হবে। শুধু বললেই হয় না বরং অন্তরের সাথে অনেক মুজাহাদা করতে হয়। চেষ্টা করে এ ধৈর্যধারণ হাসিল করতে হয়। সাথে-সাথে যেসব কাজ ধৈর্যধারণ করতে সাহায্য করে সেগুলোকেও অবলম্বন করা। তাহলেই ধৈর্যধারণ করা সহজ হবে।
টিকাঃ
৭৬ সহিহ বুখারি : ১৪৬৯।
📄 শেষ কথা
রাসুল আমাদেরকে ধৈর্যধারণ করার শিক্ষা দিয়েছেন যখন আমরা কষ্টে নিপতিত হই। আবি সালাবা খুশানী বলেন, রাসুল বলেন-
"তোমাদের সামনে সবরের দিন আসবে। সেই দিনগুলোতে ধৈর্যধারণ করা হলো জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ডের উপর পা রাখার মতো। সে সব ফিতনায় ধৈর্যধারণকারীর আমল তোমাদের পঞ্চাশজন ব্যক্তির আমলের সমান হবে।”১০৭ (যে ব্যক্তি ঐসব ফিতনায় ধৈর্যধারণ করবে, সে ফিতনাহীন ব্যক্তির দশগুণ সওয়াব পাবে)।
প্রিয় বন্ধু, রাসুল উপরোক্ত হাদিসে বলেছেন, তোমাদের মাঝে এমন দিন আসবে সেদিন কেবল ধৈর্যধারণকারীরা আল্লাহ-র কাছে প্রিয় হবে। আর যে ঐ দিনগুলিতে ধৈর্যধারণ করবে, তার নাম হবে “ধৈর্যধারণকারী”। সুতরাং তোমার জীবন নদীতে কষ্ট আসলে তুমি ধৈর্যধারণ করবে।
কবি আবৃত্তি করেছেন-
বুকে যত দুঃখ-কষ্ট আসুক করিও সবর, পাবে তুমি এর প্রতিদান হবে জান্নাতে ফসল। ১০৮
যুগে-যুগে যত মনীষী ধৈর্য সাধনা করে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে জাতি-সভ্যতার উপরে।
আমাদের পূর্ববর্তী বুযুর্গরা এ বিষয়ে অনেক গুরুত্ব দিতেন। আগত সকল প্রজন্মকে তারা বিপদের উপর ধৈর্যধারণ করার আদেশ করতেন। হুযাইফা বলেন, তোমরা ধৈর্যধারণ করবে, কেননা অচিরেই তোমাদের বিভিন্ন মুসিবতে পড়তে হবে। ১০৯
কবি আরো আবৃত্তি করেন-
প্রার্থনা করছি তোমার কাছে সবরে ফেলো না মোদের, তোমার সন্তুষ্টি করছি কামনা সেটাই চাওয়া মোদের।
ধৈর্যধারণের মাধ্যমে হেদায়েতের পতাকার নিচে দিয়ো মোদের ঠাঁই,
কতেক মানুষ মজবুত রয়েছে কেবল ধৈর্যধারণের ফলে। ১১০
পূর্বেকার বুযুর্গরা মৃত্যুর সময় তাদের সন্তানাদিকে ধৈর্যধারণের অসিয়ত করে যেতেন। লোকমান হাকিম তার সন্তানকে দ্বীনের পথে হাজারো বাঁধা আসলে তাতে ধৈর্যধারণের অসিয়ত করে গেছেন। পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
يَا بُنَيَّ أَقِمِ الصَّلَاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذُلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ.
“হে প্রিয় বৎস। সালাত কায়েম করো, সৎ কাজে আদেশ দাও, মন্দ কাজে নিষেধ করো এবং বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করো। নিশ্চয় এটা সাহসিকতার কাজ।” ১১১
আজকাল আমাদের অবস্থা খুবই কঠিন। শত্রুরা চারদিক থেকে ওঁৎ পেতে আছে। ঈমান ও তাকওয়া দুর্বল হয়ে পড়ছে। এখন শোনা যায় মাজলুমের কান্না। প্রকৃতিকে ভারী করে নির্যাতিত মায়ের করুণ আর্তনাদ। চারদিকে পাপ আর পাপ। মুনাফিকিতে ভরে গেছে পুরো পৃথিবি। এখন আমাদের ধৈর্যধারণ ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আমাদের ধৈর্যধারণ করতে হবে আল্লাহ-র আনুগত্যের ওপর। ধৈর্যধারণ করতে হবে সব পতিত কষ্টের ওপর।
প্রিয় বন্ধু! ধৈর্যের পথ অনেক বড়। আদম শত বছর কেঁদেছিলেন ধৈর্যধারণ করে। নূহ সাড়ে নয়শত বছর দাওয়াতের কাজে ধৈর্যধারণ করেছে। ইবরাহিম-কে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবুও তিনি ধৈর্যধারণ করেছেন। ইসমাইল-কে জবেহ করার জন্য মাটিতে শোয়ানো হয়েছে। যাকারিয়া-কে করাত দিয়ে টুকরো করা হয়েছে, তবুও তিনি ধৈর্যধারণ করেছেন। ইয়াহইয়া-কে হত্যার জন্য ঘেরাও করা হয়েছিলো। আইয়ুব-এর দেহে পোকা-মাকড় বাসা বেঁধেছে। দাউদ কেঁদে-কেঁদে ধৈর্যধারণ করেছেন। প্রিয়নবি-কে পাগল, জাদুকর, মিথ্যুক বলে অপবাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দান্দান মোবারক শহিদ করা হয়েছে। মাথাকে রক্তে রঞ্জিত করা হয়েছে। তবুও রাহমাতুল্লিল আলামিন ধৈর্যধারণ করেছেন। বীর বাহাদুর ওমর বিন খাত্তাব-কে অভিযুক্ত করে শহিদ করা হয়েছে। ইবনুল মুসায়্যিব, মালেক তাদেরকে হাজারো কষ্ট দেওয়া হয়েছে। তাদের ধৈর্যধারণ করা ছাড়া আর কোনো উপায়ন্তর ছিলো না।
একটু অন্যভাবে অনুবাদ করে যদি বলি-
ধৈর্য ধরে আদম কাঁদিলেন সাড়ে তিন'শ বছর,
তারপরে ক্ষমায় শুচি হলো আদমের অন্তর।
সাড়ে নয়'শ বছর ধরে দ্বীনের দাওয়াতে নূহ,
শত লাঞ্চনা-বঞ্চনায় বলেননি কভু উহ।
মাছের পেটে ইউনুস নবি চল্লিশটি দিন ধরে,
তাসবিহ-তাহলিল পড়েছিলেন এক আল্লাহর উপরে।
আইয়ুব নবির সর্ব গায়ে পোকার বসতি,
ধৈর্য ধরেছে শত বছর সেবায় রহিমা সতী।
করাতের আঘাতে দেখ দেহ হইলো দুই ভাগ,
প্রভু হতে যাকারিয়া পেয়েছিলেন ধৈর্যের ডাক।
সয়েছে মুসা ফেরাউন জাতির কত অত্যাচার,
ধৈর্যের ফলে নীল নদ জ্বলে রাস্তায় হলো পার।
তপ্ত আগুনে ইবরাহিম শিক্ত তা সকলে জানি,
কত ধৈর্য কত প্রেমের ফসল পুত্র কুরবানি।
প্রতিক্ষায় ইয়াকুব নবি দিলেন ধৈর্যের পরীক্ষা,
ধৈর্যের মাঝে ইউসুফ দিলেন ত্যাগেরই শিক্ষা।
কত ধৈর্য কত সহ্য কত মহানুভবতা হলে,
শত আঘাতে তাদের জন্য দোয়ায় হাত তুলে।
ধৈর্য ধরে সইলেন মুহাম্মাদ আঘাত অপমান,
ধৈর্যের ফলে বিশ্ব মাঝে আজকের মুসলমান।
বন্ধু একটু ভেবে দেখুন! ধৈর্যধারণ করা তোমার উপর অনেক কঠিন হবে, তবুও তোমাকে হাজারো কষ্টের ওপর ধৈর্যধারণ করতে হবে, অধৈর্য হলে হবে না। গুনাহ না করে তাতে ধৈর্যধারণ করা অনেক সহজ জাহান্নামের আগুনের ওপর ধৈর্যধারণ করা থেকে। আখেরাতের ময়দানে জাহান্নামের শিকলে বন্দী হওয়ার থেকে দুনিয়ার জমিনে আল্লাহ্-র আনুগত্যের উপর ধৈর্যধারণ করা অনেক সহজ। কতই না উত্তম ধৈর্যধারণের স্থান। আর কতই না উত্তম চরিত্র ধৈর্যধারণের চরিত্র। আসুন আমরা সবাই জীবনের প্রতিটি ক্ষণে-ক্ষণে হাজারো কষ্ট আসলেও তাতে ধৈর্যধারণ করে জান্নাতের পথ সুগম করি। সবশেষে রবের দরবারে হাত তুলে বলি-
হে প্রিয়তম প্রভু! আপনি আমাদের জন্য সবরের রাস্তা খুলে দিন।
হে প্রেমময় প্রভু! আপনি আমাদেরকে তাদের দলে অর্ন্তভুক্ত করে দিন, যারা কষ্টের অকূল দরিয়ায় পতিত হয়েও তাতে ধৈর্যধারণ করেছে।
হে আমাদের রব! আমাদের এমন ব্যক্তিদের কাতারে প্রবেশ করিয়ে দিন যারা সঠিক পথ পেয়েছে, যাদের জন্য সোজা রাস্তা সুস্পষ্ট রয়েছে।
ওগো আল্লাহ! আপনি আমাদের এমন ব্যক্তিদের কাতারে পথ প্রদর্শন করুন যারা প্রবৃত্তির অনুসরণ না করে ধৈর্যধারণ করেছে। ওয়াখিরী দাওয়ানা আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।
সমাপ্ত
টিকাঃ
১০৭ সুনানু আবু দাউদ: ৪৩৪১।
১০৮ নাশরুতি আত তারিফ : ৮৭১।
১০৯ শুআবুল ইমান : ৯৭২০। আস সুনানুল ওয়ারিদাহ ফিল ফিতান : ১৭১।
১১০ তাবয়িনুল কাযবিল মুফতারি : ২৯১।
১১১ সুরা লোকমান: ১৭।