📄 হায়াত শেষ হতে থাকে
৮৮. হুসাইন ইবনু আবদুর রহমান আবৃত্তি করেন, দিন-দিন মানুষের ব্যস্ততা বৃদ্ধি পায় অথচ হায়াতের পুঁজি নিঃশেষ হতে থাকে। সে ইতোমধ্যে বেজে-ওঠা মৃত্যুঘণ্টার ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। সে আল্লাহর নিকট তাওবা করার সংকল্প করে না এবং পাথেয় সংগ্রহ করে না। আল্লাহ এমন সম্প্রদায়কে ভর্ৎসনা করেন, যাদের লক্ষ্য হলো- দুনিয়ার খড়কুটোর মতো ধ্বংসপ্রাপ্ত ও নিঃশেষিত হওয়া।
📄 তোমার ফায়সালা আমাকে ঘিরে রেখেছে
৯০. সুফইয়ান ইবনু উয়াইনা বলেন, আমি একবার বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করছিলাম; আমার পাশে ছিল একজন বেদুইন। সে নীরব ছিল। তার তাওয়াফ সমাপ্ত হলে সে মাকামে (ইবরাহীমের) নিকটে গিয়ে দুই রাকআত সালাত আদায় করল। অতঃপর সে বায়তুল্লাহ'র সামনে দাঁড়িয়ে বলল, হে আমার ইলাহ! আমর চেয়ে অধিক গাফিল কেউ নেই। আপনি আমাকে দুর্বল করে সৃষ্টি করেছেন। আমাকে ক্ষমা করার ক্ষেত্রে আপনার চেয়ে অধিক ক্ষমতাবান কেউ নেই। আমি কোনো কাজ শুরু করার আগেই, সে বিষয়ে আপনি অবগত থাকেন। আপনার ফায়সালা তো আমাকে ঘিরে রেখেছে। আপনার অনুমতি পেয়েই আমি আপনার আনুগত্য করতে পেরেছি। সমস্ত অনুগ্রহ আপনারই। আমি আপনার অবাধ্যতা করেছি, তাও আপনার জ্ঞাতসারে। (আমার অপরাধের) প্রমাণ আপনার কাছে রয়েছে।
আমার বিপক্ষে আপনার অকাট্য দলিল, আমার অন্যায়ের অযৌক্তিকতা, আপনার প্রতি আমার মুখাপেক্ষিতা ও আমার প্রতি আপনার অমুখাপেক্ষিতা—(এ চারের দোহায় দিয়ে আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি।) আপনি ছাড়া কোনো ক্ষমাকারী নেই।
সুফইয়ান বলেন, আমি তাঁর কথা শুনে এত খুশি হলাম যে, ইতঃপূর্বে কখনও এত খুশি হয়েছি কি না, জানি না।[৭৯]
টিকাঃ
[৭৯] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৭/৩০৪
📄 সূর্যের তাপ কিয়ামাতের কথা মনে করিয়ে দেয়
১১৯. ইয়াকুব ইবনু মুহাম্মাদ বলেন, বসরার জনৈক ব্যক্তি ইহরাম করলে ছায়ায় বিশ্রাম নিতেন না। একবার তিনি ইহরামরত অবস্থায় ছিলেন। সূর্যের তাপ তাকে দগ্ধ করছিল। তাকে ছায়ায় আসার অনুরোধ করলে তিনি আবৃত্তি করলেন :
আমার ত্যাগ-তিতিক্ষার সবটুকু শুধু তাঁরই তরে উদ্দেশ্য-যেন সেই কিয়ামাতে একটু ছায়া মিলে যেদিন বলবে সবাই হায়! হায়! যদি ফিরতে পারতাম পুনরায় কাটাতাম সে জীবন দুনিয়া-বিমুখ কামনা করতাম না মোটেও পার্থিব কোনো সুখ। হায় আফসোস! যদি সেথায় আমার সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়! হায় দুর্ভাগ্য! যদি সেদিন নিষ্ফল হয়ে যাই!
📄 প্রতিটা কাজের তথ্য সংরক্ষিত
১২৬. ... [১০০] আমার নিকট আবৃত্তি করেন:
হে অমনোযোগী! সর্তক হও। তোমার ছোটো বড়ো প্রতিটা কাজের তথ্য সংরক্ষিত। প্রতিদিন চিৎকার করে করে তোমায় সতর্ক করা হয়। অথচ উদাসীনতা তোমাকে পরিণতি ভুলিয়ে রেখেছে।
তুমি মৃত্যুর প্রস্তুতি গ্রহণ করো; সময় ঘনিয়ে এসেছে। তোমার ভাই ও নিকটাত্মীয়রা নিজ মৃত্যুর মাধ্যমে তোমায় সতর্ক করছে। অথচ তুমি ধোঁকাগ্রস্ত হয়ে আমোদপ্রমোদে আছ, যেন কোনো পাপই করোনি। কত পাপ তুমি দু-চোখে দেখে দেখে করেছ, এবং সে পাপে তোমার চোখ জুড়িয়েছ।
তুমি সতর্ক থাকো, যেন পাপের সময় তোমাকে কেউ না দেখে, অথচ সর্বদ্রষ্টা তোমাকে সেখানেও দেখছেন। তুমি কত বিরাট বিরাট অন্যায়ের চেষ্টা করেছ! কিন্তু আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ তোমাকে নিবৃত্ত করেছে। কত (নিকৃষ্ট) স্থানে তুমি গিয়েছ, যদি সেখানে মারা যেতে তা হলে আত্মীয়-স্বজনের মাঝে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে। সেখানে তুমি মন্দ এবং অপছন্দনীয় সবকিছু থেকে নিরাপদ থেকেছ। নিয়ামাতে-আচ্ছাদিত-অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করেছ। আল্লাহর কত নিয়ামাতে পরিবেষ্টিত হয়ে সকাল-সন্ধ্যা কাটিয়েছ; অথচ সেগুল কত বড়ো নিয়ামাত, চিনতে পারোনি।
টিকাঃ
[১০০] মূল হস্তলিখিত কপি থেকে নামটি মুছে গেছে।