📄 কিয়ামাত-দিবসে দাউদ আলাইহিস সালাম-এর অবস্থা
৩৮. উবাইদ ইবনু উমাইর বলেন, কিয়ামাতের দিন দাউদ আলাইহিস সালামও আশঙ্কামুক্ত থাকবেন না। তিনি বলতে থাকবেন, (হায়) আমার পাপ! আমার পাপ! তার বিষয়ে বলা হবে, তাঁকে নিকটবর্তী করো। তিনি আশঙ্কামুক্ত মনে করেন, এমন স্থান পর্যন্ত নিকটবর্তী হবেন। [৩৬]
টিকাঃ
[৩৬] সুমৃতি, আদ-দুররুল মানসুর : ৫/ ৩০৬, গ্রহণযোগ্য সনদে বর্ণিত ইসরাঈলি রিওয়ায়েত।
📄 কিয়ামাত-দিবসের প্রতিফল
৪১. হাযমের ভাই সুহাইল বলেন, ইবনু সিরীন রহিমাহুল্লাহ জনৈক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে হাজ্জাজকে গালিগালাজ করছে। ইবনু সিরীন তাকে বললেন, ওই লোক, চুপ করো। যদি তুমি আখিরাতকে গুরুত্ব দিতে, তা হলে কোনো এককালে- কৃত তোমার ছোটো পাপকেই হাজ্জাজের বড়ো পাপ অপেক্ষা মারাত্মক মনে করতে। জেনে রাখো, আল্লাহ ন্যায়পরায়ণ বিচারক। যারা হাজ্জাজের জুলুমের শিকার হয়েছে তাদের পক্ষ নিয়ে তিনি যদি হাজ্জাজকে পাকড়াও করেন; তা হলে যারা হাজ্জাজের ওপর জুলুম করছে, তাদেরকেও তিনি পাকড়াও করবেন। সুতরাং গালিগালাজ করে নিজেকে জালিমদের অন্তর্ভুক্ত কোরো না।[৪০]
টিকাঃ
[৪০] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া: ২/২৭১, সনদ দইফ।
📄 হায়াত শেষ হতে থাকে
৮৮. হুসাইন ইবনু আবদুর রহমান আবৃত্তি করেন, দিন-দিন মানুষের ব্যস্ততা বৃদ্ধি পায় অথচ হায়াতের পুঁজি নিঃশেষ হতে থাকে। সে ইতোমধ্যে বেজে-ওঠা মৃত্যুঘণ্টার ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। সে আল্লাহর নিকট তাওবা করার সংকল্প করে না এবং পাথেয় সংগ্রহ করে না। আল্লাহ এমন সম্প্রদায়কে ভর্ৎসনা করেন, যাদের লক্ষ্য হলো- দুনিয়ার খড়কুটোর মতো ধ্বংসপ্রাপ্ত ও নিঃশেষিত হওয়া।
📄 তোমার ফায়সালা আমাকে ঘিরে রেখেছে
৯০. সুফইয়ান ইবনু উয়াইনা বলেন, আমি একবার বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করছিলাম; আমার পাশে ছিল একজন বেদুইন। সে নীরব ছিল। তার তাওয়াফ সমাপ্ত হলে সে মাকামে (ইবরাহীমের) নিকটে গিয়ে দুই রাকআত সালাত আদায় করল। অতঃপর সে বায়তুল্লাহ'র সামনে দাঁড়িয়ে বলল, হে আমার ইলাহ! আমর চেয়ে অধিক গাফিল কেউ নেই। আপনি আমাকে দুর্বল করে সৃষ্টি করেছেন। আমাকে ক্ষমা করার ক্ষেত্রে আপনার চেয়ে অধিক ক্ষমতাবান কেউ নেই। আমি কোনো কাজ শুরু করার আগেই, সে বিষয়ে আপনি অবগত থাকেন। আপনার ফায়সালা তো আমাকে ঘিরে রেখেছে। আপনার অনুমতি পেয়েই আমি আপনার আনুগত্য করতে পেরেছি। সমস্ত অনুগ্রহ আপনারই। আমি আপনার অবাধ্যতা করেছি, তাও আপনার জ্ঞাতসারে। (আমার অপরাধের) প্রমাণ আপনার কাছে রয়েছে।
আমার বিপক্ষে আপনার অকাট্য দলিল, আমার অন্যায়ের অযৌক্তিকতা, আপনার প্রতি আমার মুখাপেক্ষিতা ও আমার প্রতি আপনার অমুখাপেক্ষিতা—(এ চারের দোহায় দিয়ে আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি।) আপনি ছাড়া কোনো ক্ষমাকারী নেই।
সুফইয়ান বলেন, আমি তাঁর কথা শুনে এত খুশি হলাম যে, ইতঃপূর্বে কখনও এত খুশি হয়েছি কি না, জানি না।[৭৯]
টিকাঃ
[৭৯] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৭/৩০৪