📄 তাওবা মুমিনের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনে
১৩২. শাহর ইবনু হাওশাব বলেন, একদিন ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর সঙ্গী- সাথিদের (হাওয়ারিদের) নিয়ে বসেছিলেন। এমতাবস্থায় একটি পাখি এল। পাখিটির পাখাদ্বয় ছিল মণিমুক্তা এবং ইয়াকুত-পাথর-দ্বারা-সুশোভিত। (দেখে মনে হচ্ছিল) যেন সকল পাখির মাঝে এটা সবচেয়ে সুন্দর পাখি। পাখিটি আস্তে আস্তে তাদের সামনে এগোতে থাকল। ঈসা আলাইহিস সালাম বললেন, তোমরা ওকে আতঙ্কিত কোরো না; এটা তোমাদের নিকট নিদর্শনস্বরূপ প্রেরিত হয়েছে। এরপর পাখিটি তার খোলস খুলে ফেলল। লাল টাকমাথা প্রকাশ পেল, ফলে তাকে পাখিদের মাঝে সবচেয়ে অসুন্দর লাগছিল। এরপর পাখিটি একটি কর্দমাক্ত পুকুরে সাঁতার কাটতে লাগল। অতঃপর তা কালো আকৃতিতে বেরিয়ে এল।
এরপর সে পানির প্রবাহে গোসল করে এসে খোলস পরিধান করল। এতে পুনরায় তার সৌন্দর্য ফিরে এল।
ঈসা আলাইহিস সালাম বললেন, এটি তোমাদের নিকটে মুমিন বান্দার উপমাস্বরূপ প্রেরিত হয়েছে। মুমিন যখন পাপ-পঙ্কিলতায় কলুষিত হয়ে পড়ে, তখন তার রূপ সৌন্দর্য খুলে পড়ে যায়। এরপর যখন আল্লাহর নিকট তাওবা করে তখন তার সৌন্দর্য ফিরে আসে।[১০৩]
টিকাঃ
[১০৩] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৬/৬০, সনদ দইফ।
📄 গোপনে তাওবা
১৪০. মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ বলেন, ওই ব্যক্তি আল্লাহ-অভিমুখী, যে কিনা গোপনে পাপ করে এবং গোপনেই তাওবা করে। [১১০]
টিকাঃ
[১১০] ইবনু জারীর তাবারি, জামিউল বায়ান: ২৭/১০৭, সনদ দইফ।
📄 তারা তাওবা অন্বেষণ করেছিল
১৪৫. মুহাম্মাদ ইবনু কা'ব কুনাযি রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমরা শাম এবং হিজাযের একদল আলিমের কাছে সমবেত হলাম। অতঃপর আবদুল মালিক-এর সাথে কথা বললাম। আমরা তাকে বললাম, আমরা চাচ্ছি, আপনি উমার ইবনু আবদিল আযীযকে নিম্নোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন এবং আমরা শ্রবণ করব-
وَأَنَّى لَهُمُ التَّنَاوُشُ مِنْ مَكَانٍ بَعِيدٍ “কিন্তু এতদূর থেকে তারা কীভাবে (ঈমানের) নাগাল পাবে?”[১১৫] বর্ণনাকারী বলেন, তিনি উমার ইবনু আবদিল আযীযকে জিজ্ঞাসা করলেন, উমার ইবনু আবদিল আযীয বললেন, তুমি উগ্র। সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ? তা হলো তাওবা। যখন তারা আর তাওবা করতে সক্ষম নয় তখন তারা তাওবা অন্বেষণ করেছিল। [১১৬]
টিকাঃ
[১১৫] সূরা সাবা: ৫২।
[১১৬] সনদ দইফ।
📄 তাওবা কবুলের শেষ সময়
১৫০. আবদুর রহমান ইবনু বাইলামানি বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চারজন সাহাবি একত্র হলেন। তাদের মধ্যে একজন বললেন, আমি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, বান্দার মৃত্যুর একদিন পূর্ব পর্যন্ত আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন।
দ্বিতীয় জন তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছেন?
তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি তাকে বলতে শুনেছি, বান্দার মৃত্যুর অর্ধদিবস পূর্ব পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা তার তাওবা কবুল করেন।
তৃতীয় জন বললেন, আমি এটি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি, বান্দার মৃত্যুর একবেলা পূর্ব পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা তার তাওবা কবুল করেন।
চতুর্থজন জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি এ কথা রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট থেকে শুনেছেন?
তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, বান্দার মৃত্যুর গড়গড়ধ্বনি শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা তার তাওবা কবুল করেন।[১২৩]
টিকাঃ
[১২৩] আহমাদ, আল-মুসনাদ : ৫/৩৬২; হায়সামি, মাজমাউয যাওয়াইদ : ১০/১৯৭।