📄 তাওবা করো
১০৩. মালিক ইবনু দীনার বলেন, আমি হিকমাহ'র আলোচনায় পড়েছি। আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি আল্লাহ রাজাধিরাজ, সকল রাজা-বাদশাহর অন্তর আমার হাতে। যে আমার আনুগত্য করবে, আমি তার ওপর রহমত বর্ষণ করব। আর যে আমার অবাধ্য হবে, আমি তার ওপর শাস্তি নাযিল করব। সুতরাং শাসকদের (অত্যাচারের) কারণে তোমরা নিজেদের গালিগালাজ না করে আমার নিকট তাওবা করো। আমি শাসকদেরকে তোমাদের প্রতি নমনীয় করে দেব।[৮৭]
টিকাঃ
[৮৭] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া: ২/৩৭৭-৩৭৮, সনদ সহীহ।
📄 মৃত্যুর আগেই তাওবা করো
১২৯. জনৈক প্রাজ্ঞ কবি বলেন, হে ভাই! তাওবা করো তুমি মৃত্যুর পূর্বেই কালের চক্রে নিজেকে নিরাপদ ভেবো না। তুমি আমার আহ্বান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না। অপরাধের ভয়াবহতায় তোমার প্রতি সহানুভূতিবশতই আমার এই আহ্বান। বিপদ-আপদ তোমায় সতর্ক করেছে, তারা তোমায় ডেকে ডেকে তাদের আপতিত-হওয়ার-সময় সম্পর্কে বলেছে। তুমি তো বধির, তাই হয়তো শুনতে পাওনি। তোমার বন্ধুরা কেউ মারা গেলে তুমি বিলাপ করো; অথচ একই পথের পথিক হওয়া সত্ত্বেও নিজের ব্যাপারে কান্নাকাটি করো না।
📄 তাওবা মুমিনের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনে
১৩২. শাহর ইবনু হাওশাব বলেন, একদিন ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর সঙ্গী- সাথিদের (হাওয়ারিদের) নিয়ে বসেছিলেন। এমতাবস্থায় একটি পাখি এল। পাখিটির পাখাদ্বয় ছিল মণিমুক্তা এবং ইয়াকুত-পাথর-দ্বারা-সুশোভিত। (দেখে মনে হচ্ছিল) যেন সকল পাখির মাঝে এটা সবচেয়ে সুন্দর পাখি। পাখিটি আস্তে আস্তে তাদের সামনে এগোতে থাকল। ঈসা আলাইহিস সালাম বললেন, তোমরা ওকে আতঙ্কিত কোরো না; এটা তোমাদের নিকট নিদর্শনস্বরূপ প্রেরিত হয়েছে। এরপর পাখিটি তার খোলস খুলে ফেলল। লাল টাকমাথা প্রকাশ পেল, ফলে তাকে পাখিদের মাঝে সবচেয়ে অসুন্দর লাগছিল। এরপর পাখিটি একটি কর্দমাক্ত পুকুরে সাঁতার কাটতে লাগল। অতঃপর তা কালো আকৃতিতে বেরিয়ে এল।
এরপর সে পানির প্রবাহে গোসল করে এসে খোলস পরিধান করল। এতে পুনরায় তার সৌন্দর্য ফিরে এল।
ঈসা আলাইহিস সালাম বললেন, এটি তোমাদের নিকটে মুমিন বান্দার উপমাস্বরূপ প্রেরিত হয়েছে। মুমিন যখন পাপ-পঙ্কিলতায় কলুষিত হয়ে পড়ে, তখন তার রূপ সৌন্দর্য খুলে পড়ে যায়। এরপর যখন আল্লাহর নিকট তাওবা করে তখন তার সৌন্দর্য ফিরে আসে।[১০৩]
টিকাঃ
[১০৩] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৬/৬০, সনদ দইফ।
📄 গোপনে তাওবা
১৪০. মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ বলেন, ওই ব্যক্তি আল্লাহ-অভিমুখী, যে কিনা গোপনে পাপ করে এবং গোপনেই তাওবা করে। [১১০]
টিকাঃ
[১১০] ইবনু জারীর তাবারি, জামিউল বায়ান: ২৭/১০৭, সনদ দইফ।