📄 আল্লাহর নিকট তাওবাকারীর মর্যাদা
৪৪. বকর ইবনু আবদিল্লাহ মুযানি বর্ণনা করেন, জনৈক কসাই তার প্রতিবেশী এক যুবতীকে খুব ভালোবাসত। একদিন মেয়েটিকে তার পরিবার কোনো এক প্রয়োজনে পাশের গ্রামে পাঠাল। ওই কসাই পিছু পিছু গিয়ে মেয়েটিকে ব্যভিচারের প্রলোভন দিতে থাকল। যুবতী বলল, না। আপনি আমাকে যতটুকু ভালোবাসেন, আমি আপনাকে তার চেয়ে বেশি ভালোবাসি। কিন্তু আমি আল্লাহকে ভয় করি। কসাই বলল, তুমি আল্লাহকে ভয় করো, অথচ আমি তাকে ভয় করি না! এই বলে সে ফিরে এসে তাওবা করল।
এরপর তার তৃষ্ণায় গলা ফেটে যাওয়ার উপক্রম হলো। যেন সে এখনই মারা যাবে। হঠাৎ তার মনে হলো, সে বানী ইসরাঈলের কোনো এক নবির পাশে রয়েছে। নবি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কী হয়েছে? সে বলল, আমি তৃষ্ণার্ত। নবি তাকে বললেন, এসো আমরা গ্রামে পৌঁছার জন্য আল্লাহর নিকট মেঘের ছায়া লাভের উদ্দেশ্যে দুআ করি। সে বলল, দুআ করার মতো আমার কোনো আমল নেই। নবি বললেন, আমি দুআ করছি। তুমি আমার সাথে আমীন বলো।
নবি দুআ করলেন এবং সে আমীন-আমীন বলল। তারা গ্রামে পৌঁছা পর্যন্ত এক-টুকরো মেঘ তাদের ছায়া দিল।
এরপর যখন কসাই তার বাড়ির দিকে পথ ধরল, মেঘ টুকরোও তার দিকে ফিরে গেল।
নবি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি দাবি করলে যে, তোমার কোনো আমল নেই। আমি দুআ করলাম, তুমি আমীন-আমীন বললে। (ফলে) আমরা মেঘমালার ছায়া লাভ করলাম। এরপর মেঘখণ্ড তোমাকে অনুসরণ করল! সুতরাং অবশ্যই তোমার আমল আছে, সে সম্পর্কে বলো। কসাই তার তাওবা সম্পর্কে বলল। নবি বললেন, তাওবাকারী আল্লাহর নিকট এমন (প্রিয়) অবস্থানে থাকে, যে স্থানে আর কেউ উপনীত হতে পারে না।[৪৩]
টিকাঃ
[৪৩] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া: ২/২৩০।
📄 গুনাহ থেকে ফিরে আসা
৪৯. আবূ রাফি থেকে বর্ণিত, কোনো বান্দা অবিরাম (আল্লাহর) অবাধ্য হতে থাকলে তার অন্তরে মোহর মেরে দেওয়া হয় এবং গাফিলদের তালিকায় তার নাম লিপিবদ্ধ করা হয়। আল্লাহর কৌশল থেকে নিজেকে নিরাপদ মনে করার দৃষ্টান্ত হলো, গুনাহে অটল থেকে আল্লাহর ক্ষমা প্রত্যাশা করা।[৪৪]
টিকাঃ
[৪৪] সনদ দইফ।
📄 কর্মের মাধ্যমে তাওবা
৫৭. আলি ইবনু হুসাইন বলেন, প্রকৃত তাওবা হলো, আমলের মাধ্যমে তাওবা করা এবং তাওবাকৃত বিষয় থেকে ফিরে আসা। (শুধু) মুখে মুখে তাওবা করার নাম তাওবা নয়।[৫৬]
টিকাঃ
[৫৬] সনদ দইফ।
📄 তাওবা করো
১০৩. মালিক ইবনু দীনার বলেন, আমি হিকমাহ'র আলোচনায় পড়েছি। আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি আল্লাহ রাজাধিরাজ, সকল রাজা-বাদশাহর অন্তর আমার হাতে। যে আমার আনুগত্য করবে, আমি তার ওপর রহমত বর্ষণ করব। আর যে আমার অবাধ্য হবে, আমি তার ওপর শাস্তি নাযিল করব। সুতরাং শাসকদের (অত্যাচারের) কারণে তোমরা নিজেদের গালিগালাজ না করে আমার নিকট তাওবা করো। আমি শাসকদেরকে তোমাদের প্রতি নমনীয় করে দেব।[৮৭]
টিকাঃ
[৮৭] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া: ২/৩৭৭-৩৭৮, সনদ সহীহ।