📄 তাওবা আল্লাহর শাস্তি থেকে নিরাপদ রাখবে
৫. ইবরাহীম ইবনু আবী আবলাহ বলেন, আমি উমার ইবনু আবদিল আযীয রহিমাহুল্লাহ-এর নিকট গিয়েছিলাম। তখন তিনি মাসজিদে ছিলেন। আমি তাকে কিছু উপদেশ দিতে লাগলাম, আর তিনি শুনছিলেন। (একপর্যায়ে) তিনি বললেন, হে ইবরাহীম! আমার নিকট পৌঁছেছে যে, মূসা আলাইহিস সালাম বলেছিলেন, হে আমার রব, কীসে আমাকে তোমার শান্তি থেকে রক্ষা করবে? তোমার সন্তুষ্টি পর্যন্ত পৌঁছে দেবে এবং তোমার ক্রোধ থেকে মুক্তি দেবে? তিনি বললেন, মুখে ইসতিগফার বা ক্ষমাপ্রার্থনা, অন্তর থেকে অনুতপ্ত হওয়া এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা (পাপ কাজ) পরিহার করা।।৬
টিকাঃ
[৬] হাফেজ ইসপাহানি, হিলয়াতুল আওলিয়া: ৫/২৫০, সনদ দইফ।
📄 অনুতপ্ত হওয়া
৬. আলি ইবনু আবী তালিব রদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি চাই—গুনাহের প্রতি অনুশোচনার মাধ্যমে বান্দা (আল্লাহর কাছে) তাওবা করুক।[৭]
টিকাঃ
[৭] তাহযীব: ১০/২১৭, সনদ মুরসাল।
📄 তাওবাকারীর সাওয়াব
২৭. আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কেউ সৎআমলের সংকল্প করলে তার আমলনামায় ওই কাজ সম্পাদনের সাওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়। আর যদি সে তা সম্পাদন করে, তা হলে দশ থেকে সাত শগুণ বরং এর চেয়েও অনেক অনেকগুণ বেশি সাওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়। কেউ যদি কোনো খারাপ কাজ করার সংকল্প করে তা বাস্তবায়ন না করে, তা হলে তার আমলনামায় (পাপের বিপরীতে) সাওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়।
আর যদি সংকল্পকৃত মন্দকাজ বাস্তবায়ন করে, তা হলে কেবল একটি পাপ লিপিবদ্ধ করা হয়; অথবা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তা ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (কিন্তু) ইবাদাত বর্জন করে যে ব্যক্তি অনবরত পাপ কাজ করে যাবে, সে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে।[২৯]
টিকাঃ
[২৯] বুখারি, আস-সহীহ: ৬৪১১; মুসলিম, আস-সহীহ: ১৩১।
📄 আল্লাহর নিকট তাওবাকারীর মর্যাদা
৪৪. বকর ইবনু আবদিল্লাহ মুযানি বর্ণনা করেন, জনৈক কসাই তার প্রতিবেশী এক যুবতীকে খুব ভালোবাসত। একদিন মেয়েটিকে তার পরিবার কোনো এক প্রয়োজনে পাশের গ্রামে পাঠাল। ওই কসাই পিছু পিছু গিয়ে মেয়েটিকে ব্যভিচারের প্রলোভন দিতে থাকল। যুবতী বলল, না। আপনি আমাকে যতটুকু ভালোবাসেন, আমি আপনাকে তার চেয়ে বেশি ভালোবাসি। কিন্তু আমি আল্লাহকে ভয় করি। কসাই বলল, তুমি আল্লাহকে ভয় করো, অথচ আমি তাকে ভয় করি না! এই বলে সে ফিরে এসে তাওবা করল।
এরপর তার তৃষ্ণায় গলা ফেটে যাওয়ার উপক্রম হলো। যেন সে এখনই মারা যাবে। হঠাৎ তার মনে হলো, সে বানী ইসরাঈলের কোনো এক নবির পাশে রয়েছে। নবি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কী হয়েছে? সে বলল, আমি তৃষ্ণার্ত। নবি তাকে বললেন, এসো আমরা গ্রামে পৌঁছার জন্য আল্লাহর নিকট মেঘের ছায়া লাভের উদ্দেশ্যে দুআ করি। সে বলল, দুআ করার মতো আমার কোনো আমল নেই। নবি বললেন, আমি দুআ করছি। তুমি আমার সাথে আমীন বলো।
নবি দুআ করলেন এবং সে আমীন-আমীন বলল। তারা গ্রামে পৌঁছা পর্যন্ত এক-টুকরো মেঘ তাদের ছায়া দিল।
এরপর যখন কসাই তার বাড়ির দিকে পথ ধরল, মেঘ টুকরোও তার দিকে ফিরে গেল।
নবি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি দাবি করলে যে, তোমার কোনো আমল নেই। আমি দুআ করলাম, তুমি আমীন-আমীন বললে। (ফলে) আমরা মেঘমালার ছায়া লাভ করলাম। এরপর মেঘখণ্ড তোমাকে অনুসরণ করল! সুতরাং অবশ্যই তোমার আমল আছে, সে সম্পর্কে বলো। কসাই তার তাওবা সম্পর্কে বলল। নবি বললেন, তাওবাকারী আল্লাহর নিকট এমন (প্রিয়) অবস্থানে থাকে, যে স্থানে আর কেউ উপনীত হতে পারে না।[৪৩]
টিকাঃ
[৪৩] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া: ২/২৩০।