📄 পাপের প্রকারভেদ
৩২. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন, পাপ চার প্রকারে বিভক্ত। তার মধ্যে দুই প্রকার পাপ মার্জনীয় এবং দুই প্রকার অমার্জনীয়।
মার্জনীয় পাপ: ১) কেউ যদি ভুলবশত গোনাহ করে ফেলে, তা হলে আল্লাহ তাআলা নিজ অনুগ্রহে ওই ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُمْ بِهِ “আর তোমরা যা ভুলে করবে সে বিষয়ে তোমাদের কোনো অপরাধ নেই।”[৩৪]
২) কোনো ব্যক্তি পাপ কাজ করল। এরপর পাপের ভয়াবহতা জেনে ওই ব্যক্তি তাওবা করল এবং কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা করল। আল্লাহ তাআলা এই ধরনের পাপীকে উত্তম প্রতিদান দিয়ে থাকেন। তিনি কুরআন মাজীদে বলেন,
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَن يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ أُولَبِكَ جَزَاؤُهُم مَّغْفِرَةٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَجَنَّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ
“যারা কোন পাপ কাজ করে ফেললে কিংবা নিজেদের প্রতি যুলম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং আল্লাহ ব্যতীত গুনাহসমূহের ক্ষমাকারী কেই বা আছে এবং তারা জেনে শুনে নিজেদের (পাপ) কাজের পুনরাবৃত্তি করে না। এরাই তারা যাদের জন্য রয়েছে তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে ক্ষমা এবং এমন এক জান্নাত যার নিম্নে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত, তারা তার স্থায়ী অধিবাসী এবং সৎকর্মশীলদের পুরস্কার কতই না উত্তম!”[৩৫]
অমার্জনীয় পাপ দুই প্রকার: ১) যে ব্যক্তি পাপের ভয়াবহতা জেনেও অবিরত পাপ করতে থাকে এবং আল্লাহর নিকট তাওবা করে না। আর তাওবা না করা পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা বান্দার তাওবা কবুল করেন না। এবং পাপী ব্যক্তি যদি পাপের মার্জনা না চায়, তবে আল্লাহ তাআলা তা মাফ করেন না।
২) এমন ব্যক্তি-যার সামনে তার পাপাচারকে সুশোভিত করা হয়েছে। ফলে সে তার মন্দ কাজকেও সুন্দররূপে দেখতে পায়। উম্মাহর অধিকাংশ লোক এই কারণে ধ্বংস হয়।
টিকাঃ
[৩৪] সূরা আহযাব: ০৫।
[৩৫] সূরা আল ইমরান: ১৩৫-১৩৬।
📄 পাপের কুৎসিৎ রূপ
৪৭. ইবরাহীম ইবনু আদহাম বলেন, যদি তুমি তাওবার আয়নায় অপলক তাকিয়ে থাকো, তা হলে তোমার পাপের কুৎসিত রূপ দেখতে পাবে।[৪৩]
টিকাঃ
[৪৩] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৮/২৬।
📄 সবচেয়ে মারাত্মক রোগ
৫০. হাসান ইবনু সাঈদ বলেন, যুহাইর বাবিকে বলতে শুনেছি, তিনি জনৈক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করছিলেন, তুমি এতদিন কেমন ছিলে? তিনি বললেন, সুস্থ। যুহাইর বললেন, তুমি যদি পাপ থেকে নিরাপদ থাকো, তা হলে তুমি সুস্থ ছিলে। পাপের চেয়ে মারাত্মক কোনো রোগ নেই।[৪৫]
টিকাঃ
[৪৫] গ্রহণযোগ্য সনদ।
📄 বান্দার চেহারায় পাপের ছাপ
৫৪. খাত্তাব আবীদ বলেন, বান্দা যদি নির্জনেও পাপ করে, যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউই অবগত নয়, তবুও তার বন্ধু-বান্ধবের নিকট এলে তার চেহারায় ওই পাপের ছাপ প্রকাশ পায়।[৫০]
টিকাঃ
[৫৩] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া: ১০/১৪৪।