📘 দরজা এখনো খোলা 📄 পাপাচার অন্তরকে মেরে ফেলে

📄 পাপাচার অন্তরকে মেরে ফেলে


৯. আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক রহিমাহুল্লাহ বলেন, পাপ কাজ অন্তরকে মেরে ফেলে এবং অবিরত পাপাচার লাঞ্ছনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্তরের চালিকাশক্তি হলো পাপ কাজ পরিহার করা। প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে চলাটাই তোমার আত্মার জন্য কল্যাণকর।[৮]

টিকাঃ
[৮] ইবনু আবদিল বার, বাহজাতুল মাজালিস: ৩/ ৩৩৪, সনদ হাসান।

📘 দরজা এখনো খোলা 📄 বান্দার অন্তরে সিল লাগিয়ে দেওয়া হয়

📄 বান্দার অন্তরে সিল লাগিয়ে দেওয়া হয়


২৩. আবদুল্লাহ ইবনু উমার রদিয়াল্লাহু আনহুমা নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, সিলমোহর আরশের খুঁটির সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। যদি কেউ শ্লীলতাহানি করে কিংবা আল্লাহর সাথে ধৃষ্টতা দেখায়, তা হলে আল্লাহ তাআলা সিলমোহরকে প্রেরণ করেন। সিলমোহর ওই ব্যক্তির অন্তরে সিল লাগিয়ে দেয়। এর ফলে সে কোনোকিছুই অনুধাবন করতে পারে না।[২৬]

টিকাঃ
[২৬] বায়হাকি, শু'আবুল ইমান: ৫/৪৪৪১।

📘 দরজা এখনো খোলা 📄 চারটি কবীরা গুনাহ

📄 চারটি কবীরা গুনাহ


৩১. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, সবচেয়ে বড়ো পাপ হলো: (ক) আল্লাহর সাথে শিরক করা (খ) আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া (গ) আল্লাহর কৌশল থেকে আশঙ্কামুক্ত হওয়া (ঘ) আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে হতাশ হওয়া। [৩০]

টিকাঃ
[৩৩] আবদুর রাযযাক, আল-মুসনাদ : ১৯৭০১; তাবারানি, আল-মুজামুল কাবীর : ৮৭৮৩; সনদ সহীহ।।

📘 দরজা এখনো খোলা 📄 পাপের প্রকারভেদ

📄 পাপের প্রকারভেদ


৩২. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন, পাপ চার প্রকারে বিভক্ত। তার মধ্যে দুই প্রকার পাপ মার্জনীয় এবং দুই প্রকার অমার্জনীয়।
মার্জনীয় পাপ: ১) কেউ যদি ভুলবশত গোনাহ করে ফেলে, তা হলে আল্লাহ তাআলা নিজ অনুগ্রহে ওই ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُمْ بِهِ “আর তোমরা যা ভুলে করবে সে বিষয়ে তোমাদের কোনো অপরাধ নেই।”[৩৪]
২) কোনো ব্যক্তি পাপ কাজ করল। এরপর পাপের ভয়াবহতা জেনে ওই ব্যক্তি তাওবা করল এবং কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা করল। আল্লাহ তাআলা এই ধরনের পাপীকে উত্তম প্রতিদান দিয়ে থাকেন। তিনি কুরআন মাজীদে বলেন,
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَن يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ أُولَبِكَ جَزَاؤُهُم مَّغْفِرَةٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَجَنَّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ
“যারা কোন পাপ কাজ করে ফেললে কিংবা নিজেদের প্রতি যুলম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং আল্লাহ ব্যতীত গুনাহসমূহের ক্ষমাকারী কেই বা আছে এবং তারা জেনে শুনে নিজেদের (পাপ) কাজের পুনরাবৃত্তি করে না। এরাই তারা যাদের জন্য রয়েছে তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে ক্ষমা এবং এমন এক জান্নাত যার নিম্নে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত, তারা তার স্থায়ী অধিবাসী এবং সৎকর্মশীলদের পুরস্কার কতই না উত্তম!”[৩৫]
অমার্জনীয় পাপ দুই প্রকার: ১) যে ব্যক্তি পাপের ভয়াবহতা জেনেও অবিরত পাপ করতে থাকে এবং আল্লাহর নিকট তাওবা করে না। আর তাওবা না করা পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা বান্দার তাওবা কবুল করেন না। এবং পাপী ব্যক্তি যদি পাপের মার্জনা না চায়, তবে আল্লাহ তাআলা তা মাফ করেন না।
২) এমন ব্যক্তি-যার সামনে তার পাপাচারকে সুশোভিত করা হয়েছে। ফলে সে তার মন্দ কাজকেও সুন্দররূপে দেখতে পায়। উম্মাহর অধিকাংশ লোক এই কারণে ধ্বংস হয়।

টিকাঃ
[৩৪] সূরা আহযাব: ০৫।
[৩৫] সূরা আল ইমরান: ১৩৫-১৩৬।

ফন্ট সাইজ
15px
17px