📄 আবু মুহাম্মাদ আমীনুল্লাহ পেশোয়ারী
মুহতারাম শায়খকে বিভিন্ন ইসলামী জামা'আত, দল ও সংগঠন প্রতিষ্ঠা এবং সেগুলোতে যোগদান প্রসঙ্গে বারংবার প্রশ্ন করা হলে তিনি বিস্তারিত যে জবাব প্রদান করেন, তার কিছু অংশ নীচে তুলে ধরা হলঃ
তিনি হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বর্ণিত ফেতনা সম্পর্কিত হাদীছটি উল্লেখ করার পর বলেন, 'অতএব, একজন মুসলিমের উচিৎ, তার প্রভুর ইবাদত করা এবং সাধ্যানুযায়ী এই ইবাদতের দিকে মানুষকে দা'ওয়াত দেওয়া। কোনো সংগঠন বা দলে যোগ দেওয়া এবং কোনো দলের রুকন হওয়া তার জন্য সমীচীন নয়। তাকে যে মহান উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে, সেদিকে মনোনিবেশ করা উচিৎ। আজ অনেক মানুষকে বলতে শুনি, এখন আমরা কি করতে পারি? আমি বলব, তোমাকে কেবল আল্লাহ্ ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। অতএব, তুমি সেকাজেই ব্রত থাক'।
তিনি দলাদলি সৃষ্টির অনেকগুলি ক্ষতি উল্লেখ করেছেন, তন্মধ্যে কয়েকটি নীচে উল্লেখ করা হলোঃ
১. দলাদলি কুরআন-হাদীছ বিরোধী। এসব দলাদলি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর ছাহাবায়ে কেরামের সোনালী যুগে ছিল না; বরং সেগুলো পরবর্তীতে সৃষ্ট বিদ'আত। সুতরাং তাঁরা যা করেছেন, আমাদেরকে তাই করতে হবে এবং তাঁরা যা বর্জন করেছেন, আমাদেরকে তা বর্জন করতে হবে।
২. দলাদলি বান্দার ইখলাছে বিরূপ প্রভাব ফেলে। দলের একজন সদস্য সর্বদা নিজ দলের জয় কামনা করে; এক্ষেত্রে সে কিতাব ও সুন্নাহ্ বিরোধিতারও তোয়াক্কা করে না।
৩. দলের প্রতি অন্ধভক্তি ও গোঁড়ামী অন্যান্য মুসলিমকে হেয় প্রতিপন্ন করতে শেখায়। সেজন্য দেখা যায়, দলের একজন অন্ধভক্ত তার দলের না হওয়ার কারণে বড় বড় আলেমের প্রচেষ্টাকে ছোট করে দেখে।
৪. ধর্মীয় বিষয়াবলীর গুরুত্বের চাইতে তার কাছে দলীয় বিষয়াবলীর গুরুত্ব বড় হয়ে দাঁড়ায়। ফলে সে দলীয় সভা-সমাবেশ, সম্মেলন ইত্যাদিতে উপস্থিত হলেও জামা'আতে ছালাত, ইলম অর্জন, সুন্নাতের অনুসরণ ইত্যাদি ধর্মীয় বিষয়ে গুরুত্ব দেয় না।
৫. দলাদলি করতে যেয়ে একজন দলপ্রধান বানিয়ে তাকে কেন্দ্র করে কারো সাথে মিত্রতা বা শত্রুতা গড়ে তোলা হয় এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মহব্বত দাবী করা হলেও আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে তাঁকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। এই একটি ক্ষতিই এসব দলাদলি থেকে দূরে থাকার জন্য যথেষ্ট।
৬. দলাদলি অন্যায়ভাবে কারো নিন্দা-বদনাম আবার কারো সুনাম করতে শেখায়। সেজন্য একজন নিকৃষ্ট মানুষও যদি দলে যোগ দেয়, তাহলে তার প্রশংসার শেষ থাকে না। পক্ষান্তরে মর্যাদাবান কোনো মানুষও যদি দল ত্যাগ করে, তাহলে তিনি হয়ে নিকৃষ্ট মানুষ।
৭. দলের সাথে সম্পৃক্ত না হওয়ার কারণে পরহেযগার ভালো আলেমের বক্তব্য পর্যন্ত শোনা হয় না। এমনকি দলীয় মাদরাসা-মসজিদে তাঁকে আল্লাহর পথে দা'ওয়াত দেওয়ারও অনুমতি দেওয়া হয় না।
৮. নির্দিষ্ট কোনো দলে সীমাবদ্ধ থাকলে সময় ও অর্থের অপচয় হয় এবং পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ ও উম্মতের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হয়।
৯. সংগঠনের ব্যানারে দা'ওয়াত দিলে দা'ওয়াতের ফলাফল হয় খুব সংকীর্ণ। কেননা সংগঠনের সমর্থক ছাড়া আর কেউ এই দা'ওয়াতে সাড়া দেয় না। পক্ষান্তরে বিদ'আতী এসব বন্দীত্ব থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে দা'ওয়াত দিলে যে কেউ তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকে।
১০. দলাদলির মাধ্যমে অনেক সময় শর'ঈ দলীলের অপব্যাখ্যা করা হয়। কারণ আগে দলের মূলনীতি ও কর্মপদ্ধতি তৈরী করা হয়, তারপর এর পক্ষে শরী'আতের এমন কিছু দলীল তালাশ করা হয়, যেগুলি তাদের পক্ষ সমর্থন করে না। ফলে তারা সেগুলো অপব্যাখ্যার আশ্রয় নেয়।
১১. দলাদলি ঈমানী মহান ভ্রাতৃত্বের পরিবর্তে নির্দিষ্ট পরিমণ্ডলে সংকীর্ণ ভ্রাতৃত্বের জন্ম দেয়।
টিকাঃ
(66) আল্লামা আমীনুল্লাহ পেশোয়ারী আফগানিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কুরআন এবং হাদীছ শাস্ত্রে প্রথিতযশা এক পুরুষ। আরবী, উর্দু এবং পশতু ভাষায় তিনি অনেকগুলি গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন। তাঁর গ্রন্থাবলীর মধ্যে ১. তাক্বলীদ কে আন্ধেরু সে নাজাত, ২. আফিঊন আওর উসকী তিজারাত কী হুরমাত, ৩. আত-তাহক্বীকুস-ছরীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাছাবীহ, ৪. আল- ফাওয়ায়েদ, ৫. আসমা ওয়া ছিফাত উল্লেখযোগ্য। শায়খের ফৎওয়ার বই 'ফাতাওয়াদ্-দীনিল খালেছ' এ পর্যন্ত ১০ খণ্ড ছাপা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য মতে, এটি ৫০ খণ্ড পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
(67) আমীনুল্লাহ পেশোয়ারী, ফাতাওয়াদ্-দীনিল খালেছ (মাদরাসা তা'লীমিল কুরআন ওয়াস-সুন্নাহ, পেশোয়ার, প্রথম প্রকাশঃ ১৪২৩ হি:), ৬/৪৮-৪৯।
(68) দেখুনঃ আমীনুল্লাহ পেশোয়ারী, ফাতাওয়াদ্-দীনিল খালেছ (মাদরাসা তা'লীমিল কুরআন ওয়াস-সুন্নাহ, পেশোয়ার, প্রথম প্রকাশঃ ১৪২৩ হি:), ৬/৫৯-৬৩।
📄 আহমাদ ইবনে ইয়াহ্ইয়া আন-নাজমী (রহঃ)
মুক্বীম অবস্থায় আমীর মনোনয়ন করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাদীছে যে আমীর নিযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, তা সফরের সাথে নির্দিষ্ট। মুক্বীম অবস্থায় রাষ্ট্রের মুসলিম শাসকই সবার জন্য যথেষ্ট। অন্য কোনো আমীর নিযুক্ত করা বৈধ নয়। কারণ, সেক্ষেত্রে দ্বন্দ্ব ও ফাসাদ সৃষ্টি হবে। অতএব, যে ব্যক্তি বলবে, মুসলিম শাসক ছাড়া মুক্বীম অবস্থায় অন্য কোনো আমীর নিযুক্ত করা শরী'আত সম্মত, তাকে তার পক্ষে দলীল পেশ করতে হবে। আর একথা সত্য যে, সে কস্মিনকালেও তার পক্ষের দলীল পাবে না।
অন্যত্র তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আমীর নিযুক্তের অনুমতির বিষয়টি সফরের সাথে নির্দিষ্ট। যে ব্যক্তি বলবে, সফরে আমীর নিযুক্ত করা বৈধ হলে মুক্বীম অবস্থায় আমীর নিযুক্ত করাও বৈধ, সে মূর্খ; সে শরী'আতের কিছুই জানে না। তার উচিৎ, মূর্খতা বাইরে প্রকাশ না করে লুকানোর চেষ্টা করা।
বায়'আত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বায়'আত হচ্ছে মুসলিম শাসকের অধিকার। সুতরাং শাসক ছাড়া অন্য কেউ কারো নিকট থেকে বায়'আত গ্রহণ করল, সে দ্বীনের মধ্যে নিন্দিত বিদ'আত সৃষ্টি করল। আমরা যদি হক্কানী আলেমগণের জীবনীর দিকে দৃষ্টিপাত করি, তাহলে সহজেই বুঝতে পারব, তাঁরা দা'ওয়াতী কাজ করতে গিয়ে কারো কাছ থেকে আনুগত্যের বায়'আত গ্রহণ করেন নি।
শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব হিজরী ১২ শতাব্দীতে নাজদে দা'ওয়াতী কাজ করেছেন। কিন্তু কারো কাছ থেকে আনুগত্যের বায়'আত গ্রহণ করেন নি। তেমনিভাবে শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-ক্বার'আবী সউদী আরবের দক্ষিণাঞ্চলে দা'ওয়াতী কাজ করেছেন। তিনিও কারো থেকে বায়'আত নেন নি। আমরা যদি আরেকটু পূর্বে ফিরে যায়, তাহলে লক্ষ্য করব, শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াও কারো কাছ থেকে বায়'আত গ্রহণ করেন নি।
অথচ মহান আল্লাহ তাঁদের সকলের দা'ওয়াতে বরকত দান করেছেন। প্রকৃতপক্ষে তাঁরাই সালাফী দা'ওয়াতের ধারক ও বাহক। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বিদ'আতীরা বিদ'আত প্রচার করা থেকে বিরত হয় নি।
প্রশ্নঃ যে সব দা'ঈ দা'ওয়াতের পদ্ধতিতে ভুল করেন, কিছু কিছু ছাত্র তাদের সমালোচনা করেন। তাদের এ সমালোচনা কি গীবতের অন্তর্ভুক্ত হবে?
উত্তরঃ মহান আল্লাহ তাঁর নবীগণকে দা'ওয়াতী ক্ষেত্রে যে পথ নির্দেশ দিয়েছেন, সকল দা'ঈর উচিৎ, সে পথে পরিচালিত হওয়া। মহান আল্লাহ বলেন,
﴿وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ فَمِنْهُم مَّনْ هَدَى اللَّهُ وَمِنْهُم مَّনْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلَالَةُ فَসִيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ ﴾ [النحل: ٣٦]
'অবশ্যই আমরা প্রত্যেক উম্মতের নিকটেই রাসূল প্রেরণ করেছি এই নির্দেশনা দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগূত থেকে বেঁচে থাক। অতঃপর তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে আল্লাহ হেদায়েত করেছেন এবং কিছু সংখ্যকের জন্য পথভ্রষ্টতা অবধারিত হয়ে গেছে। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ, মিথ্যারোপকারীদের কিরূপ পরিণতি হয়েছে' (আন-নাহল ৩৬)।
মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবীকেও দা'ওয়াতের পথ ও পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন,
﴿ قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُوا إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ ﴾ [يوسف: ১০৮]
'হে নবী! আপনি বলে দিন, ইহাই আমার পথ। আমি ও আমার অনুসারীগণ আল্লাহর দিকে ডাকি জাগ্রত জ্ঞান সহকারে। আর আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই' (ইউসুফ ১০৮)।
অতএব, কেউ যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর পদ্ধতি বাদ দিয়ে দা'ওয়াতী ময়দানে অন্য কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করে, তাহলে উলামায়ে কেরামের উচিৎ, তার ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে সঠিক পদ্ধতি বলে দেওয়া। আর যে ব্যক্তি সঠিক পদ্ধতি জানার পরও ভুল ধরিয়ে দিবে না, সে গুনাহগার হবে। তবে কেউ ভুল ধরিয়ে দেওয়ার এ দায়িত্ব পালন করলে অন্য সবাই দায়মুক্ত হয়ে যাবে, অন্যদের আর গোনাহ হবে না। কিন্তু ভুল ধরিয়ে দিতে গিয়ে যদি কেউ অন্যদের সহযোগিতার প্রয়োজন মনে করে, তাহলে সকলের উচিত, তাকে সহযোগিতা করা। কেউ যদি মনে করে, যারা দা'ওয়াতের পথ ও পদ্ধতির ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পদ্ধতির বিরোধী কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করছে, তাদের ব্যপারে কথা বলতে যাওয়া উচিৎ নয়, তবে সে চরম ভুল করবে। এর মাধ্যমে সে আসলে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ, হক প্রচার এবং নেকী ও আল্লাহ ভীতির কাজে পরস্পর সহযোগিতা করাকে অকেজো করতে চায়। সে যদি অন্তর থেকে এটি নাও চায়, তবুও যারা চায়, সে তাদের প্রতারণার শিকার হয়েছে। অতএব, তার উচিৎ, হকের পথে ফিরে আসা।
টিকাঃ
(69) বিখ্যাত মুহাদ্দিছ এবং ফক্বীহ আহমাদ আন-নাজমী ১৩৪৬ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি খ্যাতিমান আলেমগণের নিকট থেকে শিক্ষাগ্রহণ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য শিক্ষকবৃন্দের মধ্যে রয়েছেনঃ সউদী আরবের সাবেক প্রধান মুফতী শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম, আব্দুল্লাহ আল-ক্বারআবী, হাফেয ইবনে আহমাদ আল-হাকামী প্রমুখ। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছাত্রবৃন্দের মধ্যে রয়েছেনঃ শায়খ রবী আল-মাদখালী, আলী ইবনে নাছের আল-ফাক্বীহী প্রমুখ। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলীর মধ্যে ১. তা'সীসুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম ২. ফাতহুর-রব্বিল ওয়াদুদ ফিল ফাতাওয়া ওয়ার-রুদূদ ৩. তানযীহুশ-শারী'আহ আন ইবাহাতিল আগানী আল-খালী'আহ উল্লেখযোগ্য।
(70) আহমাদ আন-নাজমী, আল-মাওরেদুল আযবুয-যালাল ফীমা উনতুক্বিদা আলা বা'যিল মানাহিজিদ-দা'বিইয়াহ মিনাল আক্বাইদি ওয়াল আ'মাল, পৃ: ২০৫।
(71) আহমাদ আন-নাজমী, আল-ফাতাওয়া আল-জালিইয়াহ আনিল মানাহিজ আদ-দা'বিইয়াহ, (ফুরকান লাইব্রেরী, আজমান, দ্বিতীয় প্রকাশ: ১৪২১ হি:), পৃষ্ঠাঃ ৪৪-৫১।
(72) আল-মাওরেদুল আযবুষ-যালাল ফীমা উনতুক্বিদা আলা বা'যিল মানাহিজিদ- দা'বিইয়াহ মিনাল আক্কক্বাইদি ওয়াল আ'মাল, পৃ: ২০৫।
(73) আল-ফাতাওয়া আল-জালিইয়াহ আনিল মানাহিজ আদ-দা'বিইয়াহ, পৃ: ১২।