📘 দল সংগঠন বায়াত সম্পর্কে আলেমদের অভিমত 📄 মুহাম্মাদ আমান ইবনে আলী আল-জামী (রহঃ)

📄 মুহাম্মাদ আমান ইবনে আলী আল-জামী (রহঃ)


বর্তমানে বিভিন্ন সংগঠন ও দলে যোগদান সম্পর্কে বেশী বেশী প্রশ্ন হতে দেখা যায়। অবশ্য আমাদের যুবসমাজ যখন এ সমস্ত সংগঠনগুলির পক্ষে বিপক্ষে অবস্থানের ক্ষেত্রে গোলকধাঁধায় পড়বে, তখন তাদের এ বিষয়ে জানতে চাওয়ার অধিকার আছে।

কারণ, এসব সংগঠন ও দলাদলি নবাবিষ্কৃত এবং বিদ'আত। মূলতঃ বিভিন্ন জামা'আত না থেকে একটিমাত্র জামা'আত থাকবে। সেজন্য আমাদের সালাফে ছালেহীনের সময়ে এতোসব জামা'আত ছিল না। বরং তাঁরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রেখে যাওয়া একমাত্র জামা'আতের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'আমি তোমাদেরকে স্বচ্ছ ও পরিষ্কার পথের উপর রেখে যাচ্ছি। যে ব্যক্তি এ পথ থেকে বিচ্যুত হবে, সে ধ্বংস হবে'।

স্বচ্ছ ও সরল এপথ কোনো দ্বীনের জ্ঞানপিপাসুর অজানা নয়। তবে যারা ইসলাম ধর্ম নিয়ে গবেষণা করে না, সালাফে ছালেহীনের ইতিহাস জানে না এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনীত দ্বীনের মর্মার্থ উপলদ্ধি করে না, শুধুমাত্র তাদের নিকটই এপথ অস্পষ্ট। যে ব্যক্তির ইসলাম সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা আছে, প্রচলিত সংগঠনগুলি যে নবাবিষ্কৃত, সে ব্যাপারে তার বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকার কথা নয়। তবে যার জ্ঞানের স্বল্পতা রয়েছে, যে নিজের প্রবৃত্তির কাছে হার মেনেছে এবং বিহরাগত কোনো কিছু দ্বারা প্রভাবিত হয়ে যার বিবেক-বুদ্ধি পরিবর্তন হয়েছে, শুধুমাত্র সে এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করতে পারে।

টিকাঃ
(54) শায়খ মুহাম্মাদ আমান ১৩৪৯ হিজরীতে ইথিওপিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রী এবং কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পি.এইচ.ডি. ডিগ্রী অর্জন করেন। শায়খ ইবনে বায তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলীর মধ্যে রয়েছেঃ ১. আযওয়া আলা ত্বরীক্বিদ্-দা'ওয়াহ ইলাল ইসলাম ২. আল-মুহাযারাহ আদ-দিফা'ইয়াহ আনিস-সুন্নাতিল মুহাম্মাদিইয়াহ ৩. হাক্বীক্বাতুদ-দেমুক্বরাতিইয়াহ ওয়া আন্নাহা লায়সা মিনাল ইসলাম।
(55) 'আন্-নূহু বিতারকিল জামা'আত' ক্যাসেট থেকে সংগৃহীত, আল-ইবানাহ আস-সাইয়াহ রেকর্ডিং সেন্টার।

📘 দল সংগঠন বায়াত সম্পর্কে আলেমদের অভিমত 📄 উছমান মুহাম্মাদ আল-খামীস

📄 উছমান মুহাম্মাদ আল-খামীস


শায়খ উছমান আল-খামীসকে প্রচলিত ইসলামী সংগঠনগুলির কোনো একটির সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার হুকুম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, প্রচলিত ইসলামী সংগঠনগুলির কোনো একটির সাথে সম্পৃক্ত হওয়া অপরিহার্য নয়; বরং তোমার উপর কর্তব্য হলো, সালাফী আক্বীদা পোষণ করা এবং পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছকে সালাফে ছালেহীনের বুঝ অনুযায়ী আঁকড়ে ধরা। যদি তোমার কোনো মুসলিম ভাইকে এ পথ থেকে সরে যেতে দেখ, তাহলে তাকে ফিরে আসার নছীহত কর এবং তার জন্য দু'আ কর।

টিকাঃ
(56) শায়খ উছমান মুহাম্মাদ আল-খামীস কুয়েতী উলামায়ে কেরামের একজন। তিনি কাছীমের মুহাম্মাদ ইবনে সুউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য শিক্ষকগণের মধ্যে রয়েছেনঃ মুহাম্মাদ ইবনে ছালেহ আল-উছায়মীন, ইবরাহীম আল লাহেম প্রমুখ আলেমগণ। শী'আদের সাথে বাহাছ-মুনাযারায় তিনি ব্যাপক প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। তাঁর জিহ্বা খোলা তরবারীর ন্যায় তীক্ষ্ণ। দলীল ছাড়া তিনি কোন কথা বলেন না। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলীর মধ্যে রয়েছেঃ ১. মিনাল ক্বলবি ইলাল ক্বলব ২. মাতা ইয়াশরাক্কু নুরুকা আইউহাল মুনতাযির ৩. শুবুহাত ওয়া রুদূদ ৪. হিক্কবাতুন মিনাত তারীখ।
(57) শায়খের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটের (www.almanhaj.net) নিম্নোক্ত লিংক থেকে ১০/১২/২০১২ইং তারিখে লেখাটি সংগ্রহ করা হয়েছেঃ http://almanhaj.net/cms/index.php/fatwa/show//480

📘 দল সংগঠন বায়াত সম্পর্কে আলেমদের অভিমত 📄 ইবরাহীম ইবনে আমের আর-রুহায়লী

📄 ইবরাহীম ইবনে আমের আর-রুহায়লী


প্রশ্নঃ মুসলিম রাষ্ট্রগুলিতে অগণিত সংগঠন ও দলের অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়। এমনকি সেখানে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামা'আতের আক্বীদা পোষণকারীদের মধ্যেও বেশ কিছু সংগঠন রয়েছে। এরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ সংগঠন ও তার আমীর বা সভাপতির প্রতি অন্ধভক্তি ও গোঁড়ামী করে থাকে। প্রশ্ন হলো, এসমস্ত সংগঠনে যোগদানের হুকুম কি? এবং এসব দলাদলি থেকে বাঁচার উপায় কি?

উত্তরঃ কোনো সংগঠন, দল বা প্রতিষ্ঠানে যোগদান বা তার সাথে সংশ্লিষ্টতা ও সম্পৃক্ততা দুই প্রকারঃ

এক. সাধারণ সংশ্লিষ্টতা, যেমনঃ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যালয়, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কোনো একটি দেশের সাথে সংশ্লিষ্টতা। এই প্রকার সংশ্লিষ্টতা স্বাভাবিক এবং বৈধ। কারণ এর উপর ভিত্তি করে 'অলা ও বারা' (মিত্রতা ও শত্রুতা) কিংবা গোঁড়ামী সৃষ্টি হয় না। বরং মানুষের বিভিন্ন বিষয়কে সুশৃংখলিত করার জন্য এসব সংশ্লিষ্টতার প্রয়োজন রয়েছে। তেমনিভাবে কোনো দেশে যদি নিয়ম থাকে যে, কোনো সংস্থার অধীনে ছাড়া একাকী দা'ওয়াতী কাজ করা যাবে না, তাহলে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কোনো একটি সংস্থার অধীনে দা'ওয়াতী কাজে বাধা নেই। কিন্তু সতর্ক থাকতে হবে, এর উপর ভিত্তি করে যেন 'অলা ও বারা' না হয়। অর্থাৎ যে ব্যক্তি এ সংস্থার অধীনে থাকবে, তার সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করবে। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি এ সংস্থার বাইরে থাকবে, তার সাথে শত্রুতা পোষণ করবে। কারণ, প্রত্যেক দা'ঈকে এ সংস্থার সাথে সম্পৃক্ত হতে হবে এমনটি নয়। যে ব্যক্তি এর সাথে সম্পৃক্ত হতে চাইবে, সে সম্পৃক্ত হবে। পক্ষান্তরে, যে এর সাথে সম্পৃক্ত না হয়ে মসজিদে দারস দিতে চায়, সে তা পারবে, তাতে কোনো বাধা নেই।

দুই. ইসলামী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে এরূপ বলা যে, এটিই আহলুস-সুন্নাহ্র সংগঠন; সুতরাং যে এই সংগঠনে আসবে, সে সুন্নী। আর যে এখানে আসবে না, সে বিরোধী এবং বিদ'আতী। সংগঠনের অবস্থা এরূপ হলে তাতে যোগ দেওয়া হারাম। কোনো সংগঠনের উপর ভিত্তি করে যদি 'অলা ও বারা' প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে কারো জন্য তাতে যোগ দেওয়া আদৌ বৈধ নয়, ঐ সংগঠনের প্রধান যত বড় বিদ্বানই হোক না কেন।

আর অন্ধভক্তির ব্যাপারে বলব, অন্ধভক্তি শুধুমাত্র সংগঠনের সাথে নির্দিষ্ট নয়। কিছু মানুষ মনে করে, সংগঠন বন্ধ হয়ে গেলে অন্ধভক্তি বন্ধ হয়ে যাবে। এটি ভুল ধারণা। কারণ, সংগঠনের অন্ধভক্তি ও গোঁড়ামী ছাড়াও রয়েছে নির্দিষ্ট আলেমের বিষয়ে গোঁড়ামী, বইয়ের গোঁড়ামী, বংশের গোঁড়ামী ইত্যাদি। সুতরাং গোঁড়ামীর দোহায় দিয়ে কোনো বৈধ জিনিষকে নিষিদ্ধ করা যাবে না। যাহোক, সকল প্রকারের গোঁড়ামী দূরীকরণের চেষ্টা করতে হবে।

পরিশেষে বলব, সুশৃঙ্খলভাবে দা'ওয়াতী কাজ করার স্বার্থে কেবল কোনো সংস্থা প্রতিষ্ঠা করতে এবং তার সাথে সম্পৃক্ত হতে কোনো বাধা নেই।

টিকাঃ
(58) শায়খ ইবরাহীম আর-রুহায়লী ১৩৮৩ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আক্বীদা বিভাগের অধ্যাপক এবং মসজিদে নববীতে নিয়মিত দারস প্রদান করেন। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলীর মধ্যে রয়েছেঃ ১. মাওক্কিফু আহলিস-সুন্নাহ ওয়াল জামা'আহ মিন আহলিল আহওয়া ওয়াল বিদ'আহ ২. আত-তাকফীর ওয়া যওয়াবিতুহু। তিনি ত্রিশটিরও অধিক বইয়ের ভাষ্যকর। যেমনঃ ১. শারহুল আক্বীদাহ আল- ওয়াসেতিইয়াহ ২. শারহুল আরবা'ঈন আন-নাবাবিইয়াহ ইত্যাদি।
(59) হিজরী ২৯/০৪/১৪৩৩ তারিখে মসজিদে নববীতে দারস্ প্রদানের সময় জনৈক প্রশ্নকারীর প্রশ্নের জবাবে উপরোক্ত কথাগুলি বলেন।

📘 দল সংগঠন বায়াত সম্পর্কে আলেমদের অভিমত 📄 আবু মালেক আর-রেফায়ী আল-জুহানী

📄 আবু মালেক আর-রেফায়ী আল-জুহানী


প্রশ্নঃ দা'ওয়াতী ক্ষেত্রে ইমারত গঠনের ব্যাপারে আপনার মতামত কি?

উত্তরঃ দা'ওয়াতী ক্ষেত্রে ইমারত গঠন দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি। বরং সঠিক পদ্ধতি হলো, সুপরিচিত বিজ্ঞ আলেমগণ তাঁদের ছাত্রদের নিয়ে দা'ওয়াতী কাজ সম্পাদন করবেন। যেমনঃ ইবনে তাইমিয়াহ, ইবনুল ক্বাইয়িম, আলবানী, ইবনে বায, রবী আল- মাদখালী, আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ, মুক্ববিল আল-ওয়াদে'ঈ প্রমুখ আলেমগণ তাঁদের ছাত্রদেরকে যথারীতি দ্বীনী শিক্ষা দিয়েছেন এবং কেউ কেউ এখনও দিয়ে যাচ্ছেন। আর তাঁদের ছাত্রগণ সারা দুনিয়ায় দা'ওয়াত ছড়িয়ে দিয়েছেন। মূলতঃ এটিই হচ্ছে সালাফী দা'ওয়াত। আমি আবারও বলছি, ইমারত গঠন করে দা'ওয়াতী কাজ করা সুস্পষ্ট বিদ'আত।

টিকাঃ
(60) শায়খ আবু মালেক আল-জুহানী ১৩৯০ হিজরীতে ইয়ামবু শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইয়মবুর ওমর জামে মসজিদের ইমাম ও খত্বীব এবং সউদী ধর্ম মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিযুক্ত প্রসিদ্ধ দা'ঈ। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলীর মধ্যে ১. আস-সীরাহ আন-নাবাবিইয়াহ ২. আল-ক্বযা ওয়াল ক্বদার আলা যওয়ে মু'তাক্বাদে আহলিস-সুন্নাহ ওয়াল-আছার উল্লেখযোগ্য।
(61) শায়খের 'মা'আলিমুদ দা'ওয়াহ' ক্যাসেট থেকে সংগৃহীত।

ফন্ট সাইজ
15px
17px