📘 দল সংগঠন বায়াত সম্পর্কে আলেমদের অভিমত 📄 আলী ইবনে হাসান ইবনে আব্দুল হামীদ আল-হালাবী আল-আছারী (রহঃ)

📄 আলী ইবনে হাসান ইবনে আব্দুল হামীদ আল-হালাবী আল-আছারী (রহঃ)


শায়খ আলী আল-হালাবী বায়'আত সম্পর্কে লিখতে গিয়ে বায়'আত সম্পর্কে অনেকগুলি সংশয় এবং সেগুলোর জবাব দিয়েছেন। নীচে আমাদের বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত পঞ্চম সংশয়টির বঙ্গানুবাদ করা হলঃ

পঞ্চম সংশয়ঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'তিন জন সফরে বের হলে তারা তাদের একজনকে আমীর হিসাবে নিযুক্ত করবে'। উক্ত হাদীছে সফর অবস্থায় আমীর নিযুক্ত করার অপরিহার্যতা প্রমাণিত হয়েছে। সফর অবস্থায় যদি এই বিধান বলবৎ থাকে, তাহলে আল্লাহর পথে দা'ওয়াতী ক্ষেত্রে মুক্বীম অবস্থায় আমীর নিযুক্ত করে শপথ ও বায়'আত গ্রহণ ওয়াজিব হওয়া অধিকতর যুক্তিসঙ্গত নয় কি?

জবাবঃ
১. সফর অবস্থায় আমীর নিযুক্তের ক্ষেত্রে স্পষ্ট দলীল (نص) এসেছে। কিন্তু মুক্বীম অবস্থায় আমীর নিযুক্তের ক্ষেত্রে কোনো দলীল নেই। আর এখানে 'কারণ' (علة) এক না হওয়ায় সফর অবস্থার উপর মুক্বীম অবস্থার ক্বিয়াস গ্রহণযোগ্য নয়। তাছাড়া ক্বিয়াস করা মুজতাহিদ আলেমগণের জন্যই শোভা পায়, অন্য কারো জন্য নয়।
২. সফরে নিযুক্ত আমীরের 'ইমারত' সফর শেষ হওয়ার সাথে সাথে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু মুক্বীম অবস্থা এর সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। কেননা সেখানে সর্বদা পূর্ণ আনুগত্য বজায় রাখতে হয়।
৩. সফরে আমীর নিযুক্তকরণে উপকার ছাড়া বিন্দুমাত্র ক্ষতির আশংকা নেই। কিন্তু মুক্বীম অবস্থায় আমীর নিযুক্ত করলে তা মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও ফাসাদ সৃষ্টি করে। সুতরাং উভয় অবস্থার মধ্যে কোনো তুলনাই চলে না।
৪. যদি কিছু মানুষ মদ পানকারী ও যেনাকারী উপর শরী'আতের 'হদ্দ' কার্যকর করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলে কি সেটি গ্রহণযোগ্য হবে? কখনই না। কারণ, শুধুমাত্র রাষ্ট্রের শাসক শরী'আতের 'হদ্দ' কার্যকর করতে পারেন। অতএব, এখানে যেমন রাষ্ট্রের শাসকের উপর অন্য কাউকে ক্বিয়াস করা অগ্রহণযোগ্য, তেমনিভাবে সফর অবস্থায় আমীর নিযুক্তের উপর মুক্বীম অবস্থায় আমীর নিযুক্তের বিষয়টি ক্বিয়াস করাও অগ্রহণযোগ্য।
৫. সফর অবস্থায় নিযুক্ত আমীরের আনুগত্য সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; বরং সফরের সঠিক ব্যবস্থাপনা সহ সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এখানে পূর্ণাঙ্গ আনুগত্য প্রযোজ্য নয়।
৬. মুক্বীম অবস্থার বায়'আতকে যদি শপথ ও অঙ্গীকার বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে বলব, এমনকি এসব শপথ ও অঙ্গীকারও আমাদের সালাফে ছালেহীনের মূলনীতি নয়। বরং তাঁদের অবস্থান ছিল এর সম্পূর্ণ উল্টো। হাফেয আবু নু'আইম তাঁর 'হিলয়াতুল আউলিয়া' গ্রন্থে (২/২০৪) মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে ছহীহ সনদে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমরা যায়েদ ইবনে ছওহানের নিকট আসলে তিনি আব্দুল্লাহকে ডেকে বলতেন, তাদেরকে সম্মান কর এবং তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার কর। কারণ, দু'টি বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য হাছিল করা যায়: ১. তার শাস্তির ভয় ২. জান্নাত লাভের প্রত্যাশা। অতঃপর অন্য একদিন তাঁর নিকট এসে দেখলাম তারা একটি কাগজে বেশ কিছু কথা লিখেছে।

কথাগুলি এভাবে সাজানো ছিলঃ 'মহান আল্লাহ আমাদের প্রভু, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নবী, কুরআন আমাদের আদর্শ। যে আমাদের সাথে থাকবে, সে আমাদেরই একজন এবং আমরা তাকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করব। পক্ষান্তরে যে আমাদের বিরোধিতা করবে, আমরা তার সাথে শত্রুতা পোষণ করব। আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকব, আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকব'। কাগজটি উপস্থিত প্রত্যেক ব্যক্তিকে দিয়ে জিজ্ঞেস করা হচ্ছিল, 'তুমি কি এর প্রতি সম্মতি প্রদান করছ'?....অতঃপর কাগজটি আমার নিকট পৌঁছলে আমাকে একই কথা জিজ্ঞেস করা হলো। আমি বললাম, না, আমি সম্মতি প্রদান করছি না। তখন যায়েদ ইবনে ছওহান বললেন, এ বালককে আরো অবকাশ দাও, হয়তো সে তার সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসবে। তারপর তিনি আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি তোমার সপক্ষে যুক্তি পেশ কর। আমি বললাম, মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে আমার কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছেন, আমি সে অঙ্গীকার ব্যতীত অন্য কারো কাছে কস্মিনকালেও নতুন কোনো অঙ্গীকার করব না। আমি একথা বলার পর সকলেই তাদের অবস্থান থেকে ফিরে আসলেন, কেউই আর কাগজে লেখা কথাগুলির প্রতি অঙ্গীকারে সম্মত হলেন না। তারা আনুমানিক ৩০ জন ছিলেন।

বর্ণনাটি উল্লেখ করার পর শায়খ আলী আল-আছারী বলেন, লক্ষ্য করুন, হক গ্রহণ এবং হকের কাছে আত্মসমর্পণের ক্ষেত্রে তাঁদের কি চমৎকার ভূমিকা এবং অবস্থান। দেখুন, যে বিষয়টি পবিত্র কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয় এবং যেটি উম্মতের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করে সেটি বাহ্যিক দৃষ্টিতে হক মনে হলেও তাঁরা কি সহজে সেটিকে বর্জন করতেন।

তিনি বিভিন্ন সংগঠন এবং তাতে যোগদান প্রসঙ্গে বলেন, আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, এসব সংগঠন, আন্দোলন এবং দল 'জামা'আতুল মুসলিমীনের' অন্তর্ভুক্ত; তবে সেগুলো 'জামা'আতুল মুসলিমীন' নয়। তেমনিভাবে যিনি কোনো ইসলামী সংগঠন বা আন্দোলনে যোগ দিবেন না, তিনি জামা'আত থেকে বিচ্ছিন্ন বিবেচিত হবেন না এবং তার মৃত্যু জাহেলী মৃত্যু গণ্য করা হবে না।

টিকাঃ
(47) শায়খ আলী ইবনে হাসান ১৩৮০ হিজরীতে জর্দানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শায়খ আলবানীর খুব ঘনিষ্ঠ ছাত্র ছিলেন। আলবানী, ইবনে বায, মুক্ববিল আল-ওয়াদেঈ, বকর আবু যায়েদ, আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ প্রমুখ বিদ্বানগণ তাঁর প্রশংসা করেছেন। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছেঃ ১. আদ-দা'ওয়াহ ইলাল্লাহ বায়নাত্-তাজাম্মুইল হিযবী ওয়াত- তা'আউন আশ-শারঈ ২. রু'ইয়া ওয়াক্কে'ইয়াহ ফিল-মানাহিজ্ আদ- দা'বিইয়াহ।
(48) আলী ইবনে হাসান, (আল বায়'আহ বায়নাস্-সুন্নাতি ওয়াল-বিদ'আহ ইনদাল জামা'আতিল ইসলামিইয়াহ, আল-মাকতাবাহ আল-ইসলামিইয়াহ, জর্ডান, প্রথম প্রিন্ট: ১৪০৬হিঃ), পৃষ্ঠাঃ ৩৮-৪০।
(49) আলী ইবনে হাসানঃ আদ-দা'ওয়াহ ইলাল্লাহ বায়নাত-তাজাম্মু' আল-হিযবী ওয়াত-তা'আউন আশ-শার'ঈ, পৃষ্ঠাঃ ৯৩।

📘 দল সংগঠন বায়াত সম্পর্কে আলেমদের অভিমত 📄 ছালেহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-লুহায়দান (রহঃ)

📄 ছালেহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-লুহায়দান (রহঃ)


প্রশ্নঃ বর্তমান যুগে অনেক ইসলামী সংগঠন রয়েছে। এসব সংগঠনের ক্ষেত্রে মুসলিম যুবকদের ভুমিকা কি হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?

উত্তরঃ ইসলামের প্রথম বালা-মুছীবতই ছিল মুসলিমদের মধ্যে বিভক্তি ও দলাদলি সৃষ্টির। কেননা সকল মুসলিম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরবর্তী দুই খলীফার যুগে এক জামা'আতেরই অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। কিন্তু উছমান রাদিয়াল্লাহু 'আনহু-এর আমলে কিছু সংখ্যক লোক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা ও অন্যায় দূরীকরণের খোঁড়া অজুহাত দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মাঠে নামে। আর এটিই ছিল ইসলামের প্রথম গোলযোগ, যার ফলে মুসলিমদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হয় এবং ফিৎনা সৃষ্টিকারী দা'ঈদের পথ উন্মুক্ত হয়।

সকল মুসলিমকে ঐক্যবদ্ধভাবে হাতে হাত মিলিয়ে এক দল হয়ে থাকতে হবে। কোনো মুসলিমের জন্য কোনো দল, জামা'আত বা সংগঠনে যোগ দেওয়া শোভনীয় নয়। এটিই হচ্ছে আল্লাহ নির্দেশিত এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদর্শিত সরল সঠিক পথ। এ সোজা পথ ছেড়ে এখানে সেখানে যোগ দেওয়ার অর্থই হলো নিজেকে এমন পথে পরিচালিত করা, যার শেষ গন্তব্য ধ্বংস বৈ কিছুই নয়। সেজন্য যুব সমাজের প্রতি আমার নছীহত হলো, তারা শর'ঈ জ্ঞান অর্জন করবে এবং কোনো কিছু বুঝতে সমস্যা হলে যোগ্য ও অভিজ্ঞ উলামায়ে কেরামকে জিজ্ঞেস করবে।

টিকাঃ
(50) শায়খ ছালেহ আল-লুহায়দান একজন খ্যাতনামা আলেম। ১৩৫০ হিজরীতে কাছীমের বুকায়রিয়াহ শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৩৭৯ হিজরীতে রিয়াদে শারী'আহ বিভাগে অনার্স শেষ করেন। এক সময় সউদী আরবের সাবেক প্রধান মুফতী মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীমের সেক্রেটারী হিসাবে কাজ করতেন। ১৩৮৩ হিজরীতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডেপুটি হিসাবে নিয়োগ পান। পররর্তীতে ১৩৮৪ হিজরীতে প্রধান বিচারপতি নির্বাচিত হন। এমনিভাবে বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পদগুলি অলংকৃত করতে থাকেন। ১৩৯১ হিজরীতে সউদী আরবের খ্যাতনামা আলেমগণের নিয়ে গঠিত সংস্থা 'হায়আতু কিবারিল উলামা' প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই তিনি এর সদস্য। রেডিও, টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান সহ দা'ওয়াতী কাজে তাঁর ব্যাপক অংশগ্রহণ রয়েছে। তিনি মসজিদে হারামে পাঠদান করতেন।
(51) 'ফাতাওয়াল উলামা ফিল জামা'আত' ক্যাসেট থেকে সংগৃহীত, মিনহাজুস-সুন্নাহ রেকর্ডিং সেন্টার, রিয়াদ।

📘 দল সংগঠন বায়াত সম্পর্কে আলেমদের অভিমত 📄 রবী ইবনে হাদী আল-মাদখালী

📄 রবী ইবনে হাদী আল-মাদখালী


প্রশ্নঃ কেউ কেউ মনে করেন, সংগঠন ছাড়া সালাফী দা'ওয়াত প্রসার লাভ সম্ভব নয়। আবার কেউ কেউ এ মতের বিরোধিতা করেন। এ বিষয়ে আপনার মতামত জানিয়ে বাধিত করবেন?

উত্তরঃ সালাফে ছালেহীনের অনুসরণের মধ্যেই নিহিত রয়েছে সার্বিক কল্যাণ। পক্ষান্তরে পরবর্তীদের সৃষ্ট বিদ'আত অনুসরণের মধ্যে রয়েছে সার্বিক অকল্যাণ। সালাফে ছালেহীন দ্বীন প্রচার করেছেন এবং সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যকে সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ব জয় করেছেন। তারা নিজেদের জান-মাল উৎসর্গ করে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে জিহাদ করেছেন এবং বিজয় লাভ করেছেন; কোনো সংগঠনের মাধ্যমে নয়। পরবর্তীতে তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণকারী আলেমগণ মসজিদে মসজিদে দারস প্রদানের মাধ্যমে শর'ঈ জ্ঞানের পতাকা উত্তোলন করেছেন। এভাবে আলেম-উলামার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অনেক ছাত্র তৈরি হয়েছে, যারা পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ নির্দেশিত একক পথের উপর পরিচালিত হয়েছেন।

ফলে তাঁদের প্রচেষ্টার ফলাফল এসব সংগঠনের চেয়ে অনেক গুণ ভাল প্রমাণিত হয়েছে; যেখানে আলেম- উলামা তৈরিতো দূরের কথা এসব সংগঠন একজন মানসম্পন্ন ছাত্রও তৈরি করতে পারেনি। আমরা এখানে শায়খ মুক্ববিলকে দৃষ্টান্ত হিসাবে উপস্থাপন করতে পারি, যিনি এসমস্ত সংগঠন ও কর্মপদ্ধতিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফলে তিনি ছাত্রদেরকে শর'ঈ জ্ঞান শিক্ষা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।

এসব প্রতিষ্ঠানে তিনি ছাত্রদেরকে উপযুক্ত শিক্ষা দিয়েছেন এবং এক ঝাঁক আলেম তৈরী করতে পেরেছেন, যারা নিজ নিজ দেশে ফিরে দা'ওয়াতী কাজ করেছেন এবং পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের উপরে একটি সুন্দর প্রজন্ম তৈরী করতে সক্ষম হয়েছেন।

পক্ষান্তরে সারা দুনিয়ায় ছড়ানো-ছিটানো প্রচলিত এসব সংগঠন আমাদেরকে কি উপহার দিয়েছে? কয়জন আলেম তৈরি করতে পেরেছে? কিছুই করতে পারেনি। অথচ এই দুর্বল ও নিঃস্ব মানুষটি ইখলাছ এবং আন্তরিক প্রচেষ্টা দ্বারা এমন কিছু করতে সক্ষম হয়েছেন, যার ১০০ ভাগের এক ভাগও তারা করতে পারেনি।

তারা পেরেছে শুধু দলাদলি ও বিভক্তি সৃষ্টি করতে। নিজ সংগঠনের কর্মীদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন এবং অন্যদের সাথে শত্রুতা পোষণের মাধ্যমে কিছু কিছু দেশের সালাফীদেরকে টুকরো টুকরো করে ভাগ করতে পেরেছে। ইসলামকে বিপদগ্রস্ত করেছে, সালাফী পরিচয় দিয়ে সালাফী মূলনীতির বারোটা বাজিয়েছে এবং সালাফীদেরকে ছিন্ন ভিন্ন করে ফেলেছে। শুধু তাই নয়, চাঁদা উঠিয়ে মুসলিমদের পকেট খালি করে তারা সুদান, সোমালিয়া, ইরিত্রিয়া, পাকিস্তান, ভারত, আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সালাফীদের উপর আক্রমণ করছে এবং বিভিন্ন উপায়ে সালাফী মূলনীতিকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে।

মূলতঃ তারা শুধু ভালোভাবে আক্রমণ করতে পারে। কিন্তু সালাফে ছালেহীনের আদর্শের উপর কাউকে গড়ে তুলতে পারে না। এক্ষেত্রে তারা চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। সুতরাং আমি আলেমদের উদ্দেশ্যে বলব, যাকে আল্লাহ দ্বীনের জ্ঞান দান করেছেন, সে কোনো মসজিদে সৎ ও দ্বীনি জ্ঞানার্জনে আগ্রহী ছাত্রদেরকে শিক্ষাদান করুন। আমি মনে করি, আপনারা যদি দশজন আলেম তৈরি করতে পারেন, তাহলে তা হাযার হাযার সংগঠন এবং তাদের তৈরি হাযার হাযার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের থেকে বহুগুণে ভাল।

টিকাঃ
(52) বিশিষ্ট আলেম ও মুহাদ্ধিছ রবী ইবনে হাদী আল-মাদখালী ১৩৫১ হিজরীতে সউদী আরবের ছামেতা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। নিজ শহরে এবং মদীনা মুনাওয়ারায় পড়াশুনা করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য শিক্ষকগণের মধ্যে ইবনে বায, আলবানী, আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ, মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ- শানক্বীতী প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে ১. মানহাজুল আম্বিয়া ফিদ-দা'ওয়াহ ইলাল্লাহ, ২. মাকানাতু আহলিল হাদীছ, ৩. মাতা'ইনু সাইয়্যেদ কুতুব ফী আছহাবি রাসূলিল্লাহ a ৪. জামা'আহ ওয়াহেদাহ লা জামা'আ-ত ওয়া ছিরাত ওয়াহেদ লা আশারা-ত প্রসিদ্ধ।
(53) 'সালাফিইয়াতুনা আক্বওয়া মিন সালাফিইয়াতিল আলবানী সংশয়ের জবাব' ক্যাসেট থেকে সংগৃহীত, আছালাহ রেকর্ডিং সেন্টার, জেদ্দা।

📘 দল সংগঠন বায়াত সম্পর্কে আলেমদের অভিমত 📄 মুহাম্মাদ আমান ইবনে আলী আল-জামী (রহঃ)

📄 মুহাম্মাদ আমান ইবনে আলী আল-জামী (রহঃ)


বর্তমানে বিভিন্ন সংগঠন ও দলে যোগদান সম্পর্কে বেশী বেশী প্রশ্ন হতে দেখা যায়। অবশ্য আমাদের যুবসমাজ যখন এ সমস্ত সংগঠনগুলির পক্ষে বিপক্ষে অবস্থানের ক্ষেত্রে গোলকধাঁধায় পড়বে, তখন তাদের এ বিষয়ে জানতে চাওয়ার অধিকার আছে।

কারণ, এসব সংগঠন ও দলাদলি নবাবিষ্কৃত এবং বিদ'আত। মূলতঃ বিভিন্ন জামা'আত না থেকে একটিমাত্র জামা'আত থাকবে। সেজন্য আমাদের সালাফে ছালেহীনের সময়ে এতোসব জামা'আত ছিল না। বরং তাঁরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রেখে যাওয়া একমাত্র জামা'আতের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'আমি তোমাদেরকে স্বচ্ছ ও পরিষ্কার পথের উপর রেখে যাচ্ছি। যে ব্যক্তি এ পথ থেকে বিচ্যুত হবে, সে ধ্বংস হবে'।

স্বচ্ছ ও সরল এপথ কোনো দ্বীনের জ্ঞানপিপাসুর অজানা নয়। তবে যারা ইসলাম ধর্ম নিয়ে গবেষণা করে না, সালাফে ছালেহীনের ইতিহাস জানে না এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনীত দ্বীনের মর্মার্থ উপলদ্ধি করে না, শুধুমাত্র তাদের নিকটই এপথ অস্পষ্ট। যে ব্যক্তির ইসলাম সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা আছে, প্রচলিত সংগঠনগুলি যে নবাবিষ্কৃত, সে ব্যাপারে তার বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকার কথা নয়। তবে যার জ্ঞানের স্বল্পতা রয়েছে, যে নিজের প্রবৃত্তির কাছে হার মেনেছে এবং বিহরাগত কোনো কিছু দ্বারা প্রভাবিত হয়ে যার বিবেক-বুদ্ধি পরিবর্তন হয়েছে, শুধুমাত্র সে এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করতে পারে।

টিকাঃ
(54) শায়খ মুহাম্মাদ আমান ১৩৪৯ হিজরীতে ইথিওপিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রী এবং কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পি.এইচ.ডি. ডিগ্রী অর্জন করেন। শায়খ ইবনে বায তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলীর মধ্যে রয়েছেঃ ১. আযওয়া আলা ত্বরীক্বিদ্-দা'ওয়াহ ইলাল ইসলাম ২. আল-মুহাযারাহ আদ-দিফা'ইয়াহ আনিস-সুন্নাতিল মুহাম্মাদিইয়াহ ৩. হাক্বীক্বাতুদ-দেমুক্বরাতিইয়াহ ওয়া আন্নাহা লায়সা মিনাল ইসলাম।
(55) 'আন্-নূহু বিতারকিল জামা'আত' ক্যাসেট থেকে সংগৃহীত, আল-ইবানাহ আস-সাইয়াহ রেকর্ডিং সেন্টার।

ফন্ট সাইজ
15px
17px