📄 আদনান ইবনে মুহাম্মাদ আল-আরঊর
বৈধ ঐক্যবদ্ধতা এবং নিষিদ্ধ দলাদলির মধ্যে পার্থক্য: যেহেতু পারস্পরিক সহযোগিতা শরী'আতে বৈধ; বরং ওয়াজিব। আর পারস্পরিক এই সহযোগিতার জন্য কখনো কখনো দলবদ্ধ হওয়ার এবং দলবদ্ধ লোকগুলিকে পরিচালনার প্রয়োজন পড়ে, সেহেতু এই বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যে তালগোল পাকিয়ে গেছে। ফলে তারা বৈধ ঐক্যবদ্ধতা এবং নিষিদ্ধ দলাদলিকে একাকার করে ফেলেছে। তারা নিষিদ্ধ দলাদলির বৈধতা প্রমাণ করতে গিয়ে বৈধ ঐক্যবদ্ধতার পক্ষের দলীলগুলিকে পেশ করেছে। যেমন: মহান আল্লাহ বলেন,
﴿ وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنفِرُوا كَافَّةً فَلَوْلَا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ ﴾ [التوبة: ১২২]
'তাদের প্রত্যেকটি বড় দল হতে এক একটি ছোট দল দ্বীনের জ্ঞান অর্জনের জন্য এবং ফিরে এসে নিজ কওমকে ভীতি প্রদর্শনের জন্য কেন বের হলো না, যাতে তারা (আল্লাহর আযাব থেকে) বেঁচে থাকতে পারে' (আত-তাওবাহ ১২২)। তিনি অন্যত্র বলেন,
﴿ وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ ﴾ [ال عمران: ১০৪]
'আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিৎ, যারা কল্যাণের পথে মানুষকে আহ্বান করবে এবং সৎকাজের আদেশ করবে ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে' (আলে ইমরান ১০৪)।
বস্তুত এসব দলীল কস্মিনকালেও দলাদলি বৈধ করে না; বরং সৎকাজ ও কল্যাণের ব্যাপারে দলবদ্ধ হয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি প্রমাণ করে। মনে রাখতে হবে, নতুন নতুন দল ও সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা, যেগুলির রয়েছে বিশেষ নিয়ম-শৃংখলা, বিশেষ সভা-সম্মেলন এবং নিজস্ব নানান সব সিদ্ধান্ত আর তাদের ও অন্য মুসলিমদের মধ্যে রয়েছে প্রতিবন্ধকতার নানা দেওয়াল; সেগুলোর মধ্যে এবং সৎকাজের ব্যাপারে সংঘবদ্ধ হয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্যে রয়েছে ঢের তফাৎ। কারণ বৈধ ঐক্যবদ্ধতা বিশেষ কোনো নিয়ম-শৃংখলার মাধ্যমে অন্যান্য মুসলিম থেকে আলাদা হয়ে যায় না এবং 'জামা'আতুল মুসলিমীন' ও তাদের মধ্যে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকে না। নীচে বৈধ ঐক্যবদ্ধতা এবং নিষিদ্ধ দলাদলির মধ্যে কতিপয় পার্থক্য তুলে ধরা হলোঃ
প্রথম পার্থক্য: বৈধ ঐক্যবদ্ধতার পক্ষের লোকজনের মৌলিক বিষয় হচ্ছে দলীল, যে কোনো বিষয়ে সবকিছুর উপর দলীলটাই তাদের কাছে প্রাধান্য পায়। পক্ষান্তরে, নিষিদ্ধ দলাদলির ক্ষেত্রে দল বা দলপ্রধানের অন্ধভক্তিই মূল বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এসব দলের লোকজনদের নিকট শর'ঈ দলীল এবং দল ও দলপ্রধানের নির্দেশনা একাকার হয়ে যায়। সেজন্য দলীয় নির্দেশনা বিনষ্ট এবং দলপ্রধানের গোঁমর ফাঁস হওয়ার ভয়ে তারা অনেক ক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহ্ বক্তব্য এবং সালাফে ছালেহীনের মূলনীতি প্রত্যাখ্যান করে চলে।
দ্বিতীয় পার্থক্য: বৈধ ঐক্যবদ্ধতা শরী'আতের মূলনীতির নিরীখে গোটা মুমিন সম্প্রদায়ের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলে। এই ঐক্যবদ্ধতা মুমিনদের মাঝে কোনো প্রকার বিভক্তি ও বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করে না। পক্ষান্তরে, অন্যান্য মুমিনদের বাদ দিয়ে দলাদলির লোকদের নিজেদের মধ্যে এক বিশেষ সম্প্রীতি গড়ে উঠে। শুধু তাই নয়; বরং তারা দলাদলিকেই আন্তরিকতা সৃষ্টি এবং শত্রুতা পোষণের মানদণ্ড হিসাবে গ্রহণ করে। সেজন্য তাদের নিকটে মুমিনরা পরস্পরে মিত্র না হয়ে দলের লোকজন হয় পরস্পরের মিত্র।
তৃতীয় পার্থক্য: বৈধ ঐক্যবদ্ধতার কারণে তাদের মধ্যে এবং অন্যান্য মুসলিমদের মধ্যে কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতার দেওয়াল রচিত হয় না; বরং এই ঐক্যবদ্ধতার মহান উদ্দেশ্যই হচ্ছে সুবিন্যস্তভাবে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি নিশ্চিত করা। পক্ষান্তরে, নিষিদ্ধ দলাদলির ক্ষেত্রে দলের লোকজনদের মধ্যে এবং অন্যান্য মুসলিমদের মধ্যে রচিত হয় পার্থক্যের দেওয়াল ও সীমারেখা। সেজন্য তাদের সাথে কাজ করতে চাইলে অনুমতি ছাড়া সম্ভব হয় না। আবার তাদের দল থেকে বের হয়ে আসতে চাইলেও অনুমতি নিতে হয়, অন্যথায় বহিষ্কৃত হয়ে চলে আসতে হয়।
চতুর্থ পার্থক্য: বৈধ ঐক্যবদ্ধতা নির্দিষ্ট যরূরী কোনো প্রয়োজনের তাকীদে হয়ে থাকে। যেমন: মাদরাসা প্রতিষ্ঠা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, মসজিদ নির্মাণ, কূপ খনন, মুসলিমদের বিশেষ তত্ত্বাবধান ইত্যাদি। পক্ষান্তরে, নিষিদ্ধ দলাদলির ক্ষেত্রে প্রত্যেকে নিজের দলকে পূর্ণাঙ্গ ইসলাম মনে করে। সে আরো মনে করে, তার দল স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং মুখাপেক্ষীহীন।
পঞ্চম পার্থক্য: মুসলিমদের বিশেষ কোনো প্রয়োজন পূরণের জন্য পারস্পরিক সহযোগিতাস্বরূপ বৈধ ঐক্যবদ্ধতা হয়ে থাকে। সেজন্য এই ঐক্যবদ্ধ লোকগুলি পরস্পর পরস্পরের সহযোগী হয়ে থাকে। তারা একে অন্যকে সাহায্য করে এবং একে অন্যের দ্বারা শক্তি সঞ্চার করে; ঠিক যেমনটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'মুমিনরা নির্মিত ভবনের মত, যার একাংশ অন্য অংশের সাথে শক্তভাবে গাঁথা'। পক্ষান্তরে দলাদলির লোকেরা পরস্পর সহযোগী না হয়ে বিবদমান হয়, সহানুভূতিশীল না হয়ে হানাহানিতে মত্ত থাকে। 'এসব দল যেন পরস্পর সতীনের মত'।
ষষ্ঠ পার্থক্য: বৈধ ঐক্যবদ্ধতার লোকগুলি অন্যদের বাদ দিয়ে তাদের নিজেদের বিশেষ কোনো বৈশিষ্ট্য আছে বলে মনে করে না; বরং তারা মুসলিম উম্মাহ্রই অংশ এবং মুসলিম উম্মাহ্র খেদমতেই নিয়োজিত। পক্ষান্তরে, দলীয় লোকেরা অন্যদের বাদ দিয়ে শুধু নিজেদেরকে উম্মত মনে করে। কোনো কোন দলের লোকেরা নিজেদেরকে মুসলিম উম্মাহ মনে না করে মুসলিমদের একটি জামা'আত মনে করলেও তারা নিজেদেরকে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ভাবে। তবে যেসব দলের লোকেরা নিজেদেরকে মুসলিম উম্মাহ মনে করে, তারা স্পষ্ট পথভ্রষ্ট এবং তাদের এহেন বিশ্বাস ভয়ানক বিপদই বটে।
সপ্তম পার্থক্য: সর্বদা বৈধ ঐক্যবদ্ধতার লোকজনদের প্রত্যাবর্তনস্থল হয় কুরআন-সুন্নাহ, সালাফে ছালেহীনের সরল পথ হয় তাদের পথ এবং শরী'আতের বিজ্ঞ আলেমগণ যেখানকারই হোক না কেন তাঁরাই হন তাদের নেতা। পক্ষান্তরে, নিষিদ্ধ দলাদলির লোকদের ক্ষেত্রে দলাদলিই হয় তাদের প্রত্যাবর্তন স্থল এবং দলের নেতারাই হয় তাদের নেতা।
মোদ্দাকথা: বৈধ ঐক্যবদ্ধতা মুসলিমদের পারস্পরিক সহযোগিতা, সহানুভূতি এবং একতা বৃদ্ধি করে। ফলে তারা মুসলিম উম্মাহ্র খেদমতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়। কিন্তু নিষিদ্ধ দলাদলি মুসলিম উম্মাহ্র মধ্যে বিভক্তি, অন্ধভক্তি, হানাহানি, দুর্বলতা এবং ব্যর্থতা বৃদ্ধি করে। কারণ তারা মুসলিমদের কাতারে বিভিন্ন দলের জন্ম দেয়। প্রত্যেকটি দল নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ জ্ঞান করে, নিজের যা আছে, তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে এবং অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন করে।
তিনি শপথ, চুক্তি ও অঙ্গীকার সম্পর্কে বলেন, ...রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইসলামে নতুন কোনো চুক্তি নেই। জাহেলী যুগের ভাল চুক্তিগুলিকে ইসলাম আরো সুদৃঢ় করেছে (ছহীহ মুসলিম, হা/২৫২৯)। উক্ত হাদীছে নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর নির্দিষ্ট কতিপয় শর্তের উপরে অন্যদেরকে বাদ দিয়ে সংঘবদ্ধ হওয়াকে চুক্তি (হিল্ল্ফ) বলা হয়েছে। এসব চুক্তি বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে চুক্তিতে অংশগ্রহণকারীদের কল্যাণ বয়ে আনে। জাহেলী যুগে দেখা যেত, কিছু লোক অন্যদেরকে বাদ দিয়ে নিজেরা একত্রিত হত এবং অত্যাচারিত ও অসহায়কে সাহায্যের জন্য শপথ ও চুক্তি করত। যেমন: হিলফুল ফুযূল। কিন্তু পরবর্তীতে ইসলাম এসব চুক্তি হারাম করে।
কেউ প্রশ্ন করতে পারে, ভালকাজের একটি চুক্তিকে ইসলাম কিভাবে হারাম করতে পারে?! এর জবাব হাদীছের দ্বিতীয়াংশে বলে দেওয়া হয়েছে, 'জাহেলী যুগের ভাল চুক্তিগুলিকে ইসলাম আরো সুদৃঢ় করেছে'। অর্থাৎ জাহেলী যুগে যেসব ভাল চুক্তি ছিল, ইসলাম সেগুলোর চেয়েও উত্তম জিনিস নিয়ে এসেছে। তা হচ্ছে, গোটা মুসলিম উম্মাহ যেহেতু ইসলামী ভ্রাতৃত্বের মহান চুক্তির সদস্য, সেহেতু সেখানে ডানে-বামে, গোপনে বা প্রকাশ্যে আর কোনো চুক্তির আদৌ কোনো প্রয়োজন নেই। কেননা অন্যান্য সব চুক্তি মুসলিম উম্মাহকে ছিন্ন ভিন্ন করে ফেলে এবং তাদের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষের আগুন প্রজ্জ্বলিত করে। দ্বিতীয়তঃ যেহেতু মুমিন সম্প্রদায় সবাই ইসলামের রশি ধরে কল্যাণের পথে একটিমাত্র চুক্তিতে একটিমাত্র উম্মতে পরিণত হয়েছে, সেহেতু এখানে অন্য কোনো চুক্তির প্রয়োজন আছে কি?! অতএব, যে ব্যক্তি অন্যান্য চুক্তির আহ্বান জানাবে -যদিও তা কল্যাণের উপর হয়, সে মুসিলম উম্মাহকে বিভক্ত করে ফেলবে। মহান আল্লাহ বলেন,
﴿ وَإِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاتَّقُونِ * فَتَقَطَّعُوا أَمْرَهُم بَيْنَهُمْ زُبُراً كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ ﴾ [المؤمنون: ৫২, ৫৩]
'তারা সকলেই তোমাদের ধর্মের; একই ধর্মে তো বিশ্বাসী সবাই এবং আমিই তোমাদের পালনকর্তা। অতএব, তোমরা আমাকেই ভয় কর। অতঃপর মানুষ তাদের বিষয়কে বহুধা বিভক্ত করে দিয়েছে। প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে আনন্দিত হচ্ছে'। (আল- মুমিনূন ৫২-৫৩)
টিকাঃ
(৪০) শায়খ আদনান সিরিয়ার হামা নগরীতে ১৩৬৮ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। সিরিয়ার বড় বড় আলেমগণের মধ্যে তাঁর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
(৪১) নিম্নোক্ত লিঙ্ক থেকে ১০/১২/২০১২ তারিখ সকাল ১১:১৬ টায় সংগৃহীত: http://majles.alukah.net/showthread.php?50510
(৪২) নিম্নোক্ত লিঙ্ক থেকে ১০/১২/২০১২ তারিখ সকাল ১১:১৬ টায় সংগৃহীত: http://majles.alukah.net/showthread.php?50510
📄 আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আল-গুদায়য়ান (রহঃ)
এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, ইতিপূর্বে এ দেশে (সউদী আরব) সংগঠন নামে কোনো কিছুই ছিল না। কিন্তু বিভিন্ন দেশ থেকে যখন বিভিন্ন পেশার মানুষ আসা শুরু হলো, তখন তারা নিজ নিজ দেশে বিদ্যমান সংগঠনগুলি এখানে প্রতিষ্ঠা করল। জামা'আতে ইসলামী, তাবলীগ জামা'আতসহ অসংখ্য সংগঠন রয়েছে, যারা মানুষদের নিজ সংগঠনে যোগদানের আশা করে। অন্যদিকে, তারা লোকদের অন্য সংগঠনে যোগদানকে হারাম গণ্য করে। শুধু তাই নয়, প্রত্যেকেই নিজ সংগঠনকে হক মনে করে এবং অন্য সংগঠনকে বিভ্রান্ত বলে ধারণা করে। এক্ষণে প্রশ্ন হলো, হক কয়টি? উত্তরে বলব, হক একটি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের বিভক্তি প্রসঙ্গে বলেন, 'আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। একটি দল ব্যতীত সকলেই জাহান্নামে যাবে'। ছাহাবীগণ উক্ত নাজাতপ্রাপ্ত দল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাদের পরিচয় দিয়ে বলেন, 'যারা আমি ও আমার ছাহাবীরা আজ যে পথে আছি, সে পথে পরিচালিত হবে'।
প্রত্যেকটি সংগঠন স্বতন্ত্রভাবে কর্মপদ্ধতি ও গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করে এবং প্রত্যেকটি সংগঠনের একজন করে দলপ্রধান নিযুক্ত হয় আর দলপ্রধান তার কর্মীদের কাছ থেকে বায়'আত গ্রহণ করেন। শুধু তাই নয়, সংগঠনের কর্মীরা কেবলমাত্র নিজেদের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। এভাবে প্রত্যেকটি দল প্রতিপক্ষের সাথে শত্রুতা পোষণ করে চলে। এক্ষণে, এ দলাদলিকে আমরা কি দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত বলব? কখনই না, এটি দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। কারণ, দ্বীন একটি, হক একটি এবং আমরা একই নবীর উম্মত। মহান আল্লাহ বলেন,
﴿ كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ ﴾ [آল ইমরান: ১১০]
'তোমরাই সর্বোত্তম উম্মত' (আলে ইমরান ১১০)। উক্ত আয়াতে তিনি বলেননি যে, তোমরা বিভক্ত জাতি; বরং বলেছেন, সর্বোত্তম জাতি। মূলতঃ এ সংগঠনগুলি এদেশে এসে এখানকার পরিবেশ নষ্ট করেছে। তারা বিশেষভাবে যুবকদেরকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেছে। যারা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত, তাদেরকে তারা টার্গেট করে না; বরং মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা তাদের প্রধান টার্গেট। ইদানীং মহিলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতেও জামা'আতে ইসলামী ও তাবলীগ জামা'আতের লোকেরা তাদের দা'ওয়াতী কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রশ্ন হল, এমন প্রেক্ষাপটে একজন মুসলিম কি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেখানো পথ অনুসরণ করবে নাকি মিসরী ও ভারতীয় ব্যক্তিদ্বয়ের সাথে থাকবে? আমি বলব, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেখানো পথ অনুসরণ কর, পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছকে আঁকড়ে ধর এবং কোনো মাসআলায় জটিলতা দেখা দিলে আলেমদেরকে জিজ্ঞেস কর।
টিকাঃ
(৪৩) শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুর রাযযাক আল গুদায়্যান ১৩৪৫ হিজরীতে যুলফী শহরে জন্মগ্রহণ করেন। সউদী আরবের উচ্চ উলামা পরিষদ এবং সরকারী ফৎওয়া বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হন।
(৪৪) 'ফাতাওয়াল উলামা ফিল জামা'আত' ক্যাসেট থেকে সংগৃহীত, মিনহাজুস সুন্নাহ রেকর্ডিং সেন্টার, রিয়াদ।
📄 মুহাম্মাদ ছালেহ আল-মুনাজ্জিদ
প্রশ্ন: প্রচলিত বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের কোনো একটিতে যোগ দেওয়া কি একজন মুসলিমের উপর আবশ্যকীয়?
উত্তর: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির প্রতিটি কথা ও কাজের অনুসরণ করা আবশ্যকীয় নয়। বরং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্য সকলের কথা গ্রহণীয় ও বর্জনীয়। ইমাম মালেক (রহঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ক্ববরের দিকে ইশারা করে বলেন, 'এ ক্ববরের অধিবাসী ব্যতীত পৃথিবীর সকল ব্যক্তির কথা গ্রহণীয় ও বর্জনীয়'। অর্থাৎ শুধুমাত্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিটি কথাই গ্রহণীয়। আর নির্দিষ্ট কোনো দল বা সংগঠনে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে আমি বলব, মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল উম্মতকে জামা'আতবদ্ধভাবে জীবন যাপন করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'জামা'আতের সাথে আল্লাহর হাত থাকে' (তিরমিযী, হা/ ২১৬৭, শায়খ আলবানী হাদীছটিকে 'ছহীহ' বলেছেন)। তিনি আরো বলেন, 'তোমাদের উপর জামা'আতবদ্ধ থাকা ফরয করা হল। কেননা নেকড়ে বাঘ একাকী দূরে অবস্থানকারী ছাগলকে খেয়ে ফেলে' (নাসাঈ, হা/৮৪৭, শায়খ আলবানী হাদীছটিকে 'হাসান' বলেছেন)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, 'শয়তান একক ব্যক্তির সঙ্গে থাকে এবং সে দু'জন থেকে দূরে থাকে' (তিরমিযী, হা/২১৬৫, শায়খ আলবানী হাদীছটিকে 'ছহীহ' বলেছেন)। এছাড়া এ প্রসঙ্গে অনেক হাদীছ বর্ণিত হয়েছে।
সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ, আল্লাহর পথে দা'ওয়াত, শার'ঈ জ্ঞানার্জন, হক ও ধৈর্য্যের উপদেশ ইত্যাদির মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্যের ক্ষেত্রে প্রতিটি মুসলিম ব্যক্তির একে অপরকে সহযোগিতা করা নিঃসন্দেহে শরীআ'তসম্মত কাজ। আর একতাবদ্ধভাবে এসব কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে মানুষ নিজেকে শয়তানের কবল থেকে রক্ষা করতে পারে, যা উপরোল্লেখিত হাদীছসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয়। সংঘবদ্ধভাবে এসব কাজ সম্পাদ মহান আল্লাহ্ নিম্নোক্ত বাণীর আওতায়ও পড়ে:
﴿ وَالْعَصْرِ * إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ * إِلَّا الَّذِينَ ءَامَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ ﴾ [العصر: ১, ৩]
'সময়ের কসম! নিশ্চয়ই মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তবে তারা ব্যতীত, যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে এবং পরস্পরকে হক ও ধৈর্য্যের উপদেশ দিয়েছে' (আল-আছর)।
তবে কোনো দল বা সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততা বলতে যদি তার প্রতি অন্ধভক্তি ও গোঁড়ামি বুঝায়, অর্থাৎ সে যে সংগঠন করে, সেটিই একমাত্র হকের উপর আছে, পক্ষান্তরে অন্যগুলি ভ্রান্তির মধ্যে আছে বলে মনে করে এবং শুধুমাত্র নিজ সংগঠনের কর্মীদের সাথে আন্তরিকতা বজায় রেখে চলে, আর অন্যদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে, তাহলে এটি একদিকে যেমন মহা অন্যায় এবং যুলম। অন্যদিকে তেমনি এগুলি দ্বারা উম্মতের মধ্যে বিভক্তি এবং দুর্বলতা সৃষ্টি ব্যতীত আর কিছুই হয় না। সেজন্য প্রতিটি মুমিন ব্যক্তির উচিৎ, সকল মুমিন ভাইয়ের সাথে বন্ধুত্ব ও আন্তরিকতা বজায় রেখে চলা। মহান আল্লাহ বলেন,
﴿ إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ ءَامَنُوا ﴾ [المائدة: ৫৫]
'তোমাদের বন্ধুতো আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনগণ' (আল-মায়েদাহ ৫৫)। তিনি আরো বলেন,
﴿ إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوةٌ ﴾ [الحجرات: ১০]
'মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই' (আল-হুজুরাত ১০)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই'।
অতএব, আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের মূলনীতির সাথে ঐক্যমত পোষণকারী দল, জামা'আত বা সংগঠনগুলির কোনো একটির মধ্যে হক সীমাবদ্ধ বলে মনে করা যাবে না। আল্লাহর পথে দা'ওয়াতের ক্ষেত্রে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার প্রয়োজন। প্রত্যেকটি মুমিন অন্যান্য মুমিনের সাথে বন্ধুত্ব ও আন্তরিকতা বজায় রেখে চলবে। নিকটের হোক বা দূরের হোক সৎকাজে একে অপরকে সহযোগিতা করবে এবং অন্যায় কাজে সহযোগিতা থেকে বিরত থাকবে।
টিকাঃ
(৪৫) শায়খ মুহাম্মাদ ছালেহ আল-মুনাজ্জিদ ১৩৮০ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। সউদী আরবের খোবার শহরে অবস্থিত ওমর ইবনে আব্দুল আযীয জুম'আ মসজিদের ইমাম এবং খত্নীব।
(৪৬) শায়খের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটের নিম্নোক্ত লিঙ্ক থেকে ১০/১২/২০১২ ইং তারিখে লিখাটি সংগ্রহ করা হয়েছে: http://islamqa.info/ar/ref/12491
📄 আলী ইবনে হাসান ইবনে আব্দুল হামীদ আল-হালাবী আল-আছারী (রহঃ)
শায়খ আলী আল-হালাবী বায়'আত সম্পর্কে লিখতে গিয়ে বায়'আত সম্পর্কে অনেকগুলি সংশয় এবং সেগুলোর জবাব দিয়েছেন। নীচে আমাদের বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত পঞ্চম সংশয়টির বঙ্গানুবাদ করা হলঃ
পঞ্চম সংশয়ঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'তিন জন সফরে বের হলে তারা তাদের একজনকে আমীর হিসাবে নিযুক্ত করবে'। উক্ত হাদীছে সফর অবস্থায় আমীর নিযুক্ত করার অপরিহার্যতা প্রমাণিত হয়েছে। সফর অবস্থায় যদি এই বিধান বলবৎ থাকে, তাহলে আল্লাহর পথে দা'ওয়াতী ক্ষেত্রে মুক্বীম অবস্থায় আমীর নিযুক্ত করে শপথ ও বায়'আত গ্রহণ ওয়াজিব হওয়া অধিকতর যুক্তিসঙ্গত নয় কি?
জবাবঃ
১. সফর অবস্থায় আমীর নিযুক্তের ক্ষেত্রে স্পষ্ট দলীল (نص) এসেছে। কিন্তু মুক্বীম অবস্থায় আমীর নিযুক্তের ক্ষেত্রে কোনো দলীল নেই। আর এখানে 'কারণ' (علة) এক না হওয়ায় সফর অবস্থার উপর মুক্বীম অবস্থার ক্বিয়াস গ্রহণযোগ্য নয়। তাছাড়া ক্বিয়াস করা মুজতাহিদ আলেমগণের জন্যই শোভা পায়, অন্য কারো জন্য নয়।
২. সফরে নিযুক্ত আমীরের 'ইমারত' সফর শেষ হওয়ার সাথে সাথে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু মুক্বীম অবস্থা এর সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। কেননা সেখানে সর্বদা পূর্ণ আনুগত্য বজায় রাখতে হয়।
৩. সফরে আমীর নিযুক্তকরণে উপকার ছাড়া বিন্দুমাত্র ক্ষতির আশংকা নেই। কিন্তু মুক্বীম অবস্থায় আমীর নিযুক্ত করলে তা মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও ফাসাদ সৃষ্টি করে। সুতরাং উভয় অবস্থার মধ্যে কোনো তুলনাই চলে না।
৪. যদি কিছু মানুষ মদ পানকারী ও যেনাকারী উপর শরী'আতের 'হদ্দ' কার্যকর করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলে কি সেটি গ্রহণযোগ্য হবে? কখনই না। কারণ, শুধুমাত্র রাষ্ট্রের শাসক শরী'আতের 'হদ্দ' কার্যকর করতে পারেন। অতএব, এখানে যেমন রাষ্ট্রের শাসকের উপর অন্য কাউকে ক্বিয়াস করা অগ্রহণযোগ্য, তেমনিভাবে সফর অবস্থায় আমীর নিযুক্তের উপর মুক্বীম অবস্থায় আমীর নিযুক্তের বিষয়টি ক্বিয়াস করাও অগ্রহণযোগ্য।
৫. সফর অবস্থায় নিযুক্ত আমীরের আনুগত্য সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; বরং সফরের সঠিক ব্যবস্থাপনা সহ সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এখানে পূর্ণাঙ্গ আনুগত্য প্রযোজ্য নয়।
৬. মুক্বীম অবস্থার বায়'আতকে যদি শপথ ও অঙ্গীকার বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে বলব, এমনকি এসব শপথ ও অঙ্গীকারও আমাদের সালাফে ছালেহীনের মূলনীতি নয়। বরং তাঁদের অবস্থান ছিল এর সম্পূর্ণ উল্টো। হাফেয আবু নু'আইম তাঁর 'হিলয়াতুল আউলিয়া' গ্রন্থে (২/২০৪) মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে ছহীহ সনদে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমরা যায়েদ ইবনে ছওহানের নিকট আসলে তিনি আব্দুল্লাহকে ডেকে বলতেন, তাদেরকে সম্মান কর এবং তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার কর। কারণ, দু'টি বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য হাছিল করা যায়: ১. তার শাস্তির ভয় ২. জান্নাত লাভের প্রত্যাশা। অতঃপর অন্য একদিন তাঁর নিকট এসে দেখলাম তারা একটি কাগজে বেশ কিছু কথা লিখেছে।
কথাগুলি এভাবে সাজানো ছিলঃ 'মহান আল্লাহ আমাদের প্রভু, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নবী, কুরআন আমাদের আদর্শ। যে আমাদের সাথে থাকবে, সে আমাদেরই একজন এবং আমরা তাকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করব। পক্ষান্তরে যে আমাদের বিরোধিতা করবে, আমরা তার সাথে শত্রুতা পোষণ করব। আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকব, আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকব'। কাগজটি উপস্থিত প্রত্যেক ব্যক্তিকে দিয়ে জিজ্ঞেস করা হচ্ছিল, 'তুমি কি এর প্রতি সম্মতি প্রদান করছ'?....অতঃপর কাগজটি আমার নিকট পৌঁছলে আমাকে একই কথা জিজ্ঞেস করা হলো। আমি বললাম, না, আমি সম্মতি প্রদান করছি না। তখন যায়েদ ইবনে ছওহান বললেন, এ বালককে আরো অবকাশ দাও, হয়তো সে তার সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসবে। তারপর তিনি আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি তোমার সপক্ষে যুক্তি পেশ কর। আমি বললাম, মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে আমার কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছেন, আমি সে অঙ্গীকার ব্যতীত অন্য কারো কাছে কস্মিনকালেও নতুন কোনো অঙ্গীকার করব না। আমি একথা বলার পর সকলেই তাদের অবস্থান থেকে ফিরে আসলেন, কেউই আর কাগজে লেখা কথাগুলির প্রতি অঙ্গীকারে সম্মত হলেন না। তারা আনুমানিক ৩০ জন ছিলেন।
বর্ণনাটি উল্লেখ করার পর শায়খ আলী আল-আছারী বলেন, লক্ষ্য করুন, হক গ্রহণ এবং হকের কাছে আত্মসমর্পণের ক্ষেত্রে তাঁদের কি চমৎকার ভূমিকা এবং অবস্থান। দেখুন, যে বিষয়টি পবিত্র কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয় এবং যেটি উম্মতের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করে সেটি বাহ্যিক দৃষ্টিতে হক মনে হলেও তাঁরা কি সহজে সেটিকে বর্জন করতেন।
তিনি বিভিন্ন সংগঠন এবং তাতে যোগদান প্রসঙ্গে বলেন, আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, এসব সংগঠন, আন্দোলন এবং দল 'জামা'আতুল মুসলিমীনের' অন্তর্ভুক্ত; তবে সেগুলো 'জামা'আতুল মুসলিমীন' নয়। তেমনিভাবে যিনি কোনো ইসলামী সংগঠন বা আন্দোলনে যোগ দিবেন না, তিনি জামা'আত থেকে বিচ্ছিন্ন বিবেচিত হবেন না এবং তার মৃত্যু জাহেলী মৃত্যু গণ্য করা হবে না।
টিকাঃ
(47) শায়খ আলী ইবনে হাসান ১৩৮০ হিজরীতে জর্দানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শায়খ আলবানীর খুব ঘনিষ্ঠ ছাত্র ছিলেন। আলবানী, ইবনে বায, মুক্ববিল আল-ওয়াদেঈ, বকর আবু যায়েদ, আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ প্রমুখ বিদ্বানগণ তাঁর প্রশংসা করেছেন। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছেঃ ১. আদ-দা'ওয়াহ ইলাল্লাহ বায়নাত্-তাজাম্মুইল হিযবী ওয়াত- তা'আউন আশ-শারঈ ২. রু'ইয়া ওয়াক্কে'ইয়াহ ফিল-মানাহিজ্ আদ- দা'বিইয়াহ।
(48) আলী ইবনে হাসান, (আল বায়'আহ বায়নাস্-সুন্নাতি ওয়াল-বিদ'আহ ইনদাল জামা'আতিল ইসলামিইয়াহ, আল-মাকতাবাহ আল-ইসলামিইয়াহ, জর্ডান, প্রথম প্রিন্ট: ১৪০৬হিঃ), পৃষ্ঠাঃ ৩৮-৪০।
(49) আলী ইবনে হাসানঃ আদ-দা'ওয়াহ ইলাল্লাহ বায়নাত-তাজাম্মু' আল-হিযবী ওয়াত-তা'আউন আশ-শার'ঈ, পৃষ্ঠাঃ ৯৩।