📘 দল সংগঠন বায়াত সম্পর্কে আলেমদের অভিমত 📄 মুক্ববিল ইবনে হাদী আল-ওয়াদেই (রহঃ)

📄 মুক্ববিল ইবনে হাদী আল-ওয়াদেই (রহঃ)


প্রশ্ন: দিনে দিনে বিভিন্ন দল ও সংগঠনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যারা কর্ম পদ্ধতি, দা'ওয়াতী মূলনীতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে পরস্পরে ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শে বিশ্বাসী। আর হাদীছ থেকে প্রমাণিত হয় যে, হক জামা'আত হবে একটিই। এক্ষণে প্রশ্ন হচ্ছে, এসব দল ও সংগঠনের হুকুম কি?

উত্তর: এসব দল ও সংগঠনের ব্যাপারে শরীআতের হুকুম হচ্ছে, এগুলি হারাম এবং বিদ'আত। সেজন্য এগুলি থেকে দূরে থেকে কিতাব ও সুন্নাহর দিকে দা'ওয়াত দেওয়া একজন মুসলিমের কর্তব্য। তবে কেউ যেন কিছুতেই ধারণা না করে যে, আমরা কোনো মুসলিমকে ইসলামের জন্য একাকী কাজ করতে বলছি; বরং আমরা একজন মুসলিমকে আরব-অনারব, সাদা-কালো সকল মুসলিমের সাথে কাজ করতে বলছি। কারণ দলবদ্ধভাবে কাজ করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ﴾ [المائدة: ২]

'সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। কিন্তু পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না' (আল- মায়েদাহ ২)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পারস্পরিক ভালবাসা, দয়ার্দ্রতা এবং সহানুভূতিশীলতার ক্ষেত্রে গোটা মুমিন সম্প্রদায় একটি দেহের মত। দেহের একটি অঙ্গ ব্যথিত হলে তার জন্য পুরো দেহ ব্যথা অনুভব করে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, 'আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা'আহ' যদি তাদের দা'ওয়াতী দায়িত্ব যথারীতি পালন করে, তাহলে এতসব দলাদলি পানিতে লবণ গলে যাওয়ার মত গলে যাবে। কেননা এসব দলাদলি ধোঁকার উপর প্রতিষ্ঠিত।

প্রশ্ন: দা'ওয়াতের মহান উদ্দেশ্যে মুক্বীম অবস্থায় কাউকে ‘আমীর’ বানানোর ব্যাপারে আপনার মতামত কি?

উত্তর: মুক্বীম অবস্থায় মুসলিম খলীফা বা তাঁর নিযুক্ত আমীর ও গভর্ণর ছাড়া অন্য কাউকে আমীর বানানো প্রমাণিত নয়। কিন্তু বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি নিয়ে খেলা শুরু হয়ে গেছে; ফলে তিন জনের একটি গ্রুপ থাকলে তাদেরও একজন ‘আমীরুল মুমিনীন’ সেজে বসে থাকছে। নিঃসন্দেহে এটি বিদ'আত, যা মুসলিম ঐক্যকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে।

প্রশ্ন: বর্তমান যুব সমাজে ব্যাপক আলোচনা হতে দেখা যাচ্ছে, তারা বলছে, কেউ কেউ বায়'আতকে বৈধ মনে করে, আবার কেউ কেউ বৈধ মনে করে না। এক্ষণে প্রশ্ন হচ্চে, বায়'আত কি? বায়'আতের শর্ত কি? আমাদের কি কারো হাতে বায়'আত গ্রহণ যরূরী?

উত্তর: কুরাইশ বংশের কোনো ব্যক্তিকে 'আহলুল হাল্ ওয়াল আক্বদ' নির্বাচন করলে অথবা তিনি নিজে খলীফা হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে তার হাতে বায়'আত করা ওয়াজিব। কুরাইশ বংশের বাইরে যদি কেউ খলীফা হয়ে জনগণের কাছ থেকে বায়'আত তলব করে, তাহলে তার হাতেও বায়'আত করতে হবে। তবে যেসব দল ও সংগঠন মুসলিমদেরকে বিভক্ত করেছে, তাদের ঐক্য ও শক্তি বিনষ্ট করেছে, তাদের বায়'আত গ্রহণতো দূরের কথা, বরং তাদের এই দলাদলির বিরোধিতা করতে হবে। আমরা আগেই বলেছি, মুসলিমদেরকে দলে দলে বিভক্ত করে ফেলা বর্তমান সময়ের একটি নিকৃষ্ট বিদ'আত। সেকারণে তাদের বায়'আতও বিদ'আত।

যদি কেউ প্রশ্ন করে, নিম্নোক্ত আয়াতে মহান আল্লাহ বায়'আতের প্রশংসা করেছেন:

﴿إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللَّهَ يَدُ اللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ ﴾ [الفتح: ১০]

'যারা আপনার কাছে বায়'আত করে, তারা তো আল্লাহর কাছেই বায়'আত করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপর' (আল-ফাতহ ১০), তাহলে আপনারা কিভাবে বায়'আতকে বিদ'আত বলছেন?

জবাবে বলব, উক্ত আয়াতে উল্লেখিত বায়'আত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং কুরাইশ বংশের খলীফার জন্য নির্দিষ্ট। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'যে ব্যক্তি তার কাঁধে বায়'আত না থাকা অবস্থায় মারা যাবে, তার মৃত্যু হবে জাহেলী মৃত্যু'। উক্ত হাদীছে উল্লেখিত বায়'আতও কুরাইশ বংশের খলীফা বা ক্ষমতায় চলে আসা অন্য যে কোনো খলীফার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কারণ অন্য বংশের কেউ ক্ষমতায় চলে আসলে যদি তার বায়'আত গ্রহণ না করা হয়, তাহলে মুসলিমদের রক্তের হেফাযত সম্ভব হবে না। অতএব, যে ব্যক্তি মানুষকে এসব বায়'আতের দা'ওয়াত দেয়, তার বিরোধিতা করতে হবে; যে বায়'আত থেকে নিজেকে মুক্ত রাখে, তার বিরোধিতা নয়।

যদি কেউ বলে, নিম্নোক্ত হাদীছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়'আতের কথা বলেছেন, 'যখন তিন জন সফরে বের হবে, তখন তারা তাদের একজনকে আমীর বানাবে'। জবাব হচ্ছে, এই বায়'আত সফর অবস্থার সাথে নির্দিষ্ট। ...সেকারণে বিভিন্ন জামা'আতের আমীরদের বায়'আত বর্তমান যুগের একটি অন্যতম বিদ'আত। প্রখ্যাত তাবেঈ সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবকে যখন প্রহার করা হয়েছিল, বিখ্যাত ছাহাবী আনাস ইবনে মালেককে যখন হাজ্জাজ অপমান করতে চেয়েছিল, ইমাম মালেককে যখন প্রহার করা হয়েছিল, ইমাম শাফেঈকে যখন লোহার বেড়ী পরিয়ে হাযির করা হয়েছিল, ইমাম বুখারীকে যখন নিশাপুর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, তখন বায়'আত কোথায় ছিল? এভাবে আমাদের মুসলিম উম্মাহ্র স্বনামধন্য বহু আলেমে দ্বীনকে প্রহার করা হয়েছিল, তাদেরকে জেল-যুলম ভোগ করতে হয়েছিল এবং তাদেরকে নানাভাবে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এতসত্ত্বেও তারা মানুষকে বায়'আতের দা'ওয়াত দেননি। অতএব, এসব বায়'আত বর্তমান যুগের বিদ'আত ছাড়া আর কিছুই নয়।

টিকাঃ
(৩৬) শায়খ মুক্ববিল ইয়েমেনের দাম্মাজ নগরীর ওয়াদেআহ এলাকায় ১৩৫০ হিজরীর পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইয়েমেন, নাজদ, মক্কা ও মদীনায় শিক্ষা অর্জন করেন। তিনি ইয়েমেনের প্রখ্যাত মুহাদ্দিছগণের অন্যতম।
(৩৭) মুক্ববিল ইবনে হাদী আল-ওয়াদেঈ, কন্ট্রল মু'আনেদ ওয়া যারুল হাক্বেদিল হাসেদ, পৃ: ৩৫৫-৩৮৪ (দারুল হাদীছ, দাম্মাজ, প্রথম প্রিন্ট: ১৪১৩/১৯৯৩)।
(৩৮) প্রাগুক্ত, পৃ: ৫২৯-৫৩২।
(৩৯) মুক্ববিল ইবনে হাদী আল-ওয়াদেঈ, ফাযায়েহ ওয়া নাছায়েহ্, পৃ: ৬৭-৬৯ (দারুল হারামাইন, কায়রো, প্রথম প্রিন্ট: ১৪১৯/১৯৯৯)।

📘 দল সংগঠন বায়াত সম্পর্কে আলেমদের অভিমত 📄 আদনান ইবনে মুহাম্মাদ আল-আরঊর

📄 আদনান ইবনে মুহাম্মাদ আল-আরঊর


বৈধ ঐক্যবদ্ধতা এবং নিষিদ্ধ দলাদলির মধ্যে পার্থক্য: যেহেতু পারস্পরিক সহযোগিতা শরী'আতে বৈধ; বরং ওয়াজিব। আর পারস্পরিক এই সহযোগিতার জন্য কখনো কখনো দলবদ্ধ হওয়ার এবং দলবদ্ধ লোকগুলিকে পরিচালনার প্রয়োজন পড়ে, সেহেতু এই বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যে তালগোল পাকিয়ে গেছে। ফলে তারা বৈধ ঐক্যবদ্ধতা এবং নিষিদ্ধ দলাদলিকে একাকার করে ফেলেছে। তারা নিষিদ্ধ দলাদলির বৈধতা প্রমাণ করতে গিয়ে বৈধ ঐক্যবদ্ধতার পক্ষের দলীলগুলিকে পেশ করেছে। যেমন: মহান আল্লাহ বলেন,

﴿ وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنفِرُوا كَافَّةً فَلَوْلَا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ ﴾ [التوبة: ১২২]

'তাদের প্রত্যেকটি বড় দল হতে এক একটি ছোট দল দ্বীনের জ্ঞান অর্জনের জন্য এবং ফিরে এসে নিজ কওমকে ভীতি প্রদর্শনের জন্য কেন বের হলো না, যাতে তারা (আল্লাহর আযাব থেকে) বেঁচে থাকতে পারে' (আত-তাওবাহ ১২২)। তিনি অন্যত্র বলেন,

﴿ وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ ﴾ [ال عمران: ১০৪]

'আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিৎ, যারা কল্যাণের পথে মানুষকে আহ্বান করবে এবং সৎকাজের আদেশ করবে ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে' (আলে ইমরান ১০৪)।

বস্তুত এসব দলীল কস্মিনকালেও দলাদলি বৈধ করে না; বরং সৎকাজ ও কল্যাণের ব্যাপারে দলবদ্ধ হয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি প্রমাণ করে। মনে রাখতে হবে, নতুন নতুন দল ও সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা, যেগুলির রয়েছে বিশেষ নিয়ম-শৃংখলা, বিশেষ সভা-সম্মেলন এবং নিজস্ব নানান সব সিদ্ধান্ত আর তাদের ও অন্য মুসলিমদের মধ্যে রয়েছে প্রতিবন্ধকতার নানা দেওয়াল; সেগুলোর মধ্যে এবং সৎকাজের ব্যাপারে সংঘবদ্ধ হয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্যে রয়েছে ঢের তফাৎ। কারণ বৈধ ঐক্যবদ্ধতা বিশেষ কোনো নিয়ম-শৃংখলার মাধ্যমে অন্যান্য মুসলিম থেকে আলাদা হয়ে যায় না এবং 'জামা'আতুল মুসলিমীন' ও তাদের মধ্যে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকে না। নীচে বৈধ ঐক্যবদ্ধতা এবং নিষিদ্ধ দলাদলির মধ্যে কতিপয় পার্থক্য তুলে ধরা হলোঃ

প্রথম পার্থক্য: বৈধ ঐক্যবদ্ধতার পক্ষের লোকজনের মৌলিক বিষয় হচ্ছে দলীল, যে কোনো বিষয়ে সবকিছুর উপর দলীলটাই তাদের কাছে প্রাধান্য পায়। পক্ষান্তরে, নিষিদ্ধ দলাদলির ক্ষেত্রে দল বা দলপ্রধানের অন্ধভক্তিই মূল বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এসব দলের লোকজনদের নিকট শর'ঈ দলীল এবং দল ও দলপ্রধানের নির্দেশনা একাকার হয়ে যায়। সেজন্য দলীয় নির্দেশনা বিনষ্ট এবং দলপ্রধানের গোঁমর ফাঁস হওয়ার ভয়ে তারা অনেক ক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহ্ বক্তব্য এবং সালাফে ছালেহীনের মূলনীতি প্রত্যাখ্যান করে চলে।

দ্বিতীয় পার্থক্য: বৈধ ঐক্যবদ্ধতা শরী'আতের মূলনীতির নিরীখে গোটা মুমিন সম্প্রদায়ের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলে। এই ঐক্যবদ্ধতা মুমিনদের মাঝে কোনো প্রকার বিভক্তি ও বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করে না। পক্ষান্তরে, অন্যান্য মুমিনদের বাদ দিয়ে দলাদলির লোকদের নিজেদের মধ্যে এক বিশেষ সম্প্রীতি গড়ে উঠে। শুধু তাই নয়; বরং তারা দলাদলিকেই আন্তরিকতা সৃষ্টি এবং শত্রুতা পোষণের মানদণ্ড হিসাবে গ্রহণ করে। সেজন্য তাদের নিকটে মুমিনরা পরস্পরে মিত্র না হয়ে দলের লোকজন হয় পরস্পরের মিত্র।

তৃতীয় পার্থক্য: বৈধ ঐক্যবদ্ধতার কারণে তাদের মধ্যে এবং অন্যান্য মুসলিমদের মধ্যে কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতার দেওয়াল রচিত হয় না; বরং এই ঐক্যবদ্ধতার মহান উদ্দেশ্যই হচ্ছে সুবিন্যস্তভাবে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি নিশ্চিত করা। পক্ষান্তরে, নিষিদ্ধ দলাদলির ক্ষেত্রে দলের লোকজনদের মধ্যে এবং অন্যান্য মুসলিমদের মধ্যে রচিত হয় পার্থক্যের দেওয়াল ও সীমারেখা। সেজন্য তাদের সাথে কাজ করতে চাইলে অনুমতি ছাড়া সম্ভব হয় না। আবার তাদের দল থেকে বের হয়ে আসতে চাইলেও অনুমতি নিতে হয়, অন্যথায় বহিষ্কৃত হয়ে চলে আসতে হয়।

চতুর্থ পার্থক্য: বৈধ ঐক্যবদ্ধতা নির্দিষ্ট যরূরী কোনো প্রয়োজনের তাকীদে হয়ে থাকে। যেমন: মাদরাসা প্রতিষ্ঠা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, মসজিদ নির্মাণ, কূপ খনন, মুসলিমদের বিশেষ তত্ত্বাবধান ইত্যাদি। পক্ষান্তরে, নিষিদ্ধ দলাদলির ক্ষেত্রে প্রত্যেকে নিজের দলকে পূর্ণাঙ্গ ইসলাম মনে করে। সে আরো মনে করে, তার দল স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং মুখাপেক্ষীহীন।

পঞ্চম পার্থক্য: মুসলিমদের বিশেষ কোনো প্রয়োজন পূরণের জন্য পারস্পরিক সহযোগিতাস্বরূপ বৈধ ঐক্যবদ্ধতা হয়ে থাকে। সেজন্য এই ঐক্যবদ্ধ লোকগুলি পরস্পর পরস্পরের সহযোগী হয়ে থাকে। তারা একে অন্যকে সাহায্য করে এবং একে অন্যের দ্বারা শক্তি সঞ্চার করে; ঠিক যেমনটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'মুমিনরা নির্মিত ভবনের মত, যার একাংশ অন্য অংশের সাথে শক্তভাবে গাঁথা'। পক্ষান্তরে দলাদলির লোকেরা পরস্পর সহযোগী না হয়ে বিবদমান হয়, সহানুভূতিশীল না হয়ে হানাহানিতে মত্ত থাকে। 'এসব দল যেন পরস্পর সতীনের মত'।

ষষ্ঠ পার্থক্য: বৈধ ঐক্যবদ্ধতার লোকগুলি অন্যদের বাদ দিয়ে তাদের নিজেদের বিশেষ কোনো বৈশিষ্ট্য আছে বলে মনে করে না; বরং তারা মুসলিম উম্মাহ্রই অংশ এবং মুসলিম উম্মাহ্র খেদমতেই নিয়োজিত। পক্ষান্তরে, দলীয় লোকেরা অন্যদের বাদ দিয়ে শুধু নিজেদেরকে উম্মত মনে করে। কোনো কোন দলের লোকেরা নিজেদেরকে মুসলিম উম্মাহ মনে না করে মুসলিমদের একটি জামা'আত মনে করলেও তারা নিজেদেরকে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ভাবে। তবে যেসব দলের লোকেরা নিজেদেরকে মুসলিম উম্মাহ মনে করে, তারা স্পষ্ট পথভ্রষ্ট এবং তাদের এহেন বিশ্বাস ভয়ানক বিপদই বটে।

সপ্তম পার্থক্য: সর্বদা বৈধ ঐক্যবদ্ধতার লোকজনদের প্রত্যাবর্তনস্থল হয় কুরআন-সুন্নাহ, সালাফে ছালেহীনের সরল পথ হয় তাদের পথ এবং শরী'আতের বিজ্ঞ আলেমগণ যেখানকারই হোক না কেন তাঁরাই হন তাদের নেতা। পক্ষান্তরে, নিষিদ্ধ দলাদলির লোকদের ক্ষেত্রে দলাদলিই হয় তাদের প্রত্যাবর্তন স্থল এবং দলের নেতারাই হয় তাদের নেতা।

মোদ্দাকথা: বৈধ ঐক্যবদ্ধতা মুসলিমদের পারস্পরিক সহযোগিতা, সহানুভূতি এবং একতা বৃদ্ধি করে। ফলে তারা মুসলিম উম্মাহ্র খেদমতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়। কিন্তু নিষিদ্ধ দলাদলি মুসলিম উম্মাহ্র মধ্যে বিভক্তি, অন্ধভক্তি, হানাহানি, দুর্বলতা এবং ব্যর্থতা বৃদ্ধি করে। কারণ তারা মুসলিমদের কাতারে বিভিন্ন দলের জন্ম দেয়। প্রত্যেকটি দল নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ জ্ঞান করে, নিজের যা আছে, তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে এবং অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন করে।

তিনি শপথ, চুক্তি ও অঙ্গীকার সম্পর্কে বলেন, ...রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইসলামে নতুন কোনো চুক্তি নেই। জাহেলী যুগের ভাল চুক্তিগুলিকে ইসলাম আরো সুদৃঢ় করেছে (ছহীহ মুসলিম, হা/২৫২৯)। উক্ত হাদীছে নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর নির্দিষ্ট কতিপয় শর্তের উপরে অন্যদেরকে বাদ দিয়ে সংঘবদ্ধ হওয়াকে চুক্তি (হিল্ল্ফ) বলা হয়েছে। এসব চুক্তি বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে চুক্তিতে অংশগ্রহণকারীদের কল্যাণ বয়ে আনে। জাহেলী যুগে দেখা যেত, কিছু লোক অন্যদেরকে বাদ দিয়ে নিজেরা একত্রিত হত এবং অত্যাচারিত ও অসহায়কে সাহায্যের জন্য শপথ ও চুক্তি করত। যেমন: হিলফুল ফুযূল। কিন্তু পরবর্তীতে ইসলাম এসব চুক্তি হারাম করে।

কেউ প্রশ্ন করতে পারে, ভালকাজের একটি চুক্তিকে ইসলাম কিভাবে হারাম করতে পারে?! এর জবাব হাদীছের দ্বিতীয়াংশে বলে দেওয়া হয়েছে, 'জাহেলী যুগের ভাল চুক্তিগুলিকে ইসলাম আরো সুদৃঢ় করেছে'। অর্থাৎ জাহেলী যুগে যেসব ভাল চুক্তি ছিল, ইসলাম সেগুলোর চেয়েও উত্তম জিনিস নিয়ে এসেছে। তা হচ্ছে, গোটা মুসলিম উম্মাহ যেহেতু ইসলামী ভ্রাতৃত্বের মহান চুক্তির সদস্য, সেহেতু সেখানে ডানে-বামে, গোপনে বা প্রকাশ্যে আর কোনো চুক্তির আদৌ কোনো প্রয়োজন নেই। কেননা অন্যান্য সব চুক্তি মুসলিম উম্মাহকে ছিন্ন ভিন্ন করে ফেলে এবং তাদের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষের আগুন প্রজ্জ্বলিত করে। দ্বিতীয়তঃ যেহেতু মুমিন সম্প্রদায় সবাই ইসলামের রশি ধরে কল্যাণের পথে একটিমাত্র চুক্তিতে একটিমাত্র উম্মতে পরিণত হয়েছে, সেহেতু এখানে অন্য কোনো চুক্তির প্রয়োজন আছে কি?! অতএব, যে ব্যক্তি অন্যান্য চুক্তির আহ্বান জানাবে -যদিও তা কল্যাণের উপর হয়, সে মুসিলম উম্মাহকে বিভক্ত করে ফেলবে। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿ وَإِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاتَّقُونِ * فَتَقَطَّعُوا أَمْرَهُم بَيْنَهُمْ زُبُراً كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ ﴾ [المؤمنون: ৫২, ৫৩]

'তারা সকলেই তোমাদের ধর্মের; একই ধর্মে তো বিশ্বাসী সবাই এবং আমিই তোমাদের পালনকর্তা। অতএব, তোমরা আমাকেই ভয় কর। অতঃপর মানুষ তাদের বিষয়কে বহুধা বিভক্ত করে দিয়েছে। প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে আনন্দিত হচ্ছে'। (আল- মুমিনূন ৫২-৫৩)

টিকাঃ
(৪০) শায়খ আদনান সিরিয়ার হামা নগরীতে ১৩৬৮ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। সিরিয়ার বড় বড় আলেমগণের মধ্যে তাঁর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
(৪১) নিম্নোক্ত লিঙ্ক থেকে ১০/১২/২০১২ তারিখ সকাল ১১:১৬ টায় সংগৃহীত: http://majles.alukah.net/showthread.php?50510
(৪২) নিম্নোক্ত লিঙ্ক থেকে ১০/১২/২০১২ তারিখ সকাল ১১:১৬ টায় সংগৃহীত: http://majles.alukah.net/showthread.php?50510

📘 দল সংগঠন বায়াত সম্পর্কে আলেমদের অভিমত 📄 আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আল-গুদায়য়ান (রহঃ)

📄 আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আল-গুদায়য়ান (রহঃ)


এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, ইতিপূর্বে এ দেশে (সউদী আরব) সংগঠন নামে কোনো কিছুই ছিল না। কিন্তু বিভিন্ন দেশ থেকে যখন বিভিন্ন পেশার মানুষ আসা শুরু হলো, তখন তারা নিজ নিজ দেশে বিদ্যমান সংগঠনগুলি এখানে প্রতিষ্ঠা করল। জামা'আতে ইসলামী, তাবলীগ জামা'আতসহ অসংখ্য সংগঠন রয়েছে, যারা মানুষদের নিজ সংগঠনে যোগদানের আশা করে। অন্যদিকে, তারা লোকদের অন্য সংগঠনে যোগদানকে হারাম গণ্য করে। শুধু তাই নয়, প্রত্যেকেই নিজ সংগঠনকে হক মনে করে এবং অন্য সংগঠনকে বিভ্রান্ত বলে ধারণা করে। এক্ষণে প্রশ্ন হলো, হক কয়টি? উত্তরে বলব, হক একটি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের বিভক্তি প্রসঙ্গে বলেন, 'আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। একটি দল ব্যতীত সকলেই জাহান্নামে যাবে'। ছাহাবীগণ উক্ত নাজাতপ্রাপ্ত দল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাদের পরিচয় দিয়ে বলেন, 'যারা আমি ও আমার ছাহাবীরা আজ যে পথে আছি, সে পথে পরিচালিত হবে'।

প্রত্যেকটি সংগঠন স্বতন্ত্রভাবে কর্মপদ্ধতি ও গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করে এবং প্রত্যেকটি সংগঠনের একজন করে দলপ্রধান নিযুক্ত হয় আর দলপ্রধান তার কর্মীদের কাছ থেকে বায়'আত গ্রহণ করেন। শুধু তাই নয়, সংগঠনের কর্মীরা কেবলমাত্র নিজেদের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। এভাবে প্রত্যেকটি দল প্রতিপক্ষের সাথে শত্রুতা পোষণ করে চলে। এক্ষণে, এ দলাদলিকে আমরা কি দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত বলব? কখনই না, এটি দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। কারণ, দ্বীন একটি, হক একটি এবং আমরা একই নবীর উম্মত। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿ كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ ﴾ [آল ইমরান: ১১০]

'তোমরাই সর্বোত্তম উম্মত' (আলে ইমরান ১১০)। উক্ত আয়াতে তিনি বলেননি যে, তোমরা বিভক্ত জাতি; বরং বলেছেন, সর্বোত্তম জাতি। মূলতঃ এ সংগঠনগুলি এদেশে এসে এখানকার পরিবেশ নষ্ট করেছে। তারা বিশেষভাবে যুবকদেরকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেছে। যারা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত, তাদেরকে তারা টার্গেট করে না; বরং মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা তাদের প্রধান টার্গেট। ইদানীং মহিলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতেও জামা'আতে ইসলামী ও তাবলীগ জামা'আতের লোকেরা তাদের দা'ওয়াতী কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রশ্ন হল, এমন প্রেক্ষাপটে একজন মুসলিম কি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেখানো পথ অনুসরণ করবে নাকি মিসরী ও ভারতীয় ব্যক্তিদ্বয়ের সাথে থাকবে? আমি বলব, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেখানো পথ অনুসরণ কর, পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছকে আঁকড়ে ধর এবং কোনো মাসআলায় জটিলতা দেখা দিলে আলেমদেরকে জিজ্ঞেস কর।

টিকাঃ
(৪৩) শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুর রাযযাক আল গুদায়্যান ১৩৪৫ হিজরীতে যুলফী শহরে জন্মগ্রহণ করেন। সউদী আরবের উচ্চ উলামা পরিষদ এবং সরকারী ফৎওয়া বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হন।
(৪৪) 'ফাতাওয়াল উলামা ফিল জামা'আত' ক্যাসেট থেকে সংগৃহীত, মিনহাজুস সুন্নাহ রেকর্ডিং সেন্টার, রিয়াদ।

📘 দল সংগঠন বায়াত সম্পর্কে আলেমদের অভিমত 📄 মুহাম্মাদ ছালেহ আল-মুনাজ্জিদ

📄 মুহাম্মাদ ছালেহ আল-মুনাজ্জিদ


প্রশ্ন: প্রচলিত বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের কোনো একটিতে যোগ দেওয়া কি একজন মুসলিমের উপর আবশ্যকীয়?

উত্তর: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির প্রতিটি কথা ও কাজের অনুসরণ করা আবশ্যকীয় নয়। বরং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্য সকলের কথা গ্রহণীয় ও বর্জনীয়। ইমাম মালেক (রহঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ক্ববরের দিকে ইশারা করে বলেন, 'এ ক্ববরের অধিবাসী ব্যতীত পৃথিবীর সকল ব্যক্তির কথা গ্রহণীয় ও বর্জনীয়'। অর্থাৎ শুধুমাত্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিটি কথাই গ্রহণীয়। আর নির্দিষ্ট কোনো দল বা সংগঠনে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে আমি বলব, মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল উম্মতকে জামা'আতবদ্ধভাবে জীবন যাপন করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'জামা'আতের সাথে আল্লাহর হাত থাকে' (তিরমিযী, হা/ ২১৬৭, শায়খ আলবানী হাদীছটিকে 'ছহীহ' বলেছেন)। তিনি আরো বলেন, 'তোমাদের উপর জামা'আতবদ্ধ থাকা ফরয করা হল। কেননা নেকড়ে বাঘ একাকী দূরে অবস্থানকারী ছাগলকে খেয়ে ফেলে' (নাসাঈ, হা/৮৪৭, শায়খ আলবানী হাদীছটিকে 'হাসান' বলেছেন)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, 'শয়তান একক ব্যক্তির সঙ্গে থাকে এবং সে দু'জন থেকে দূরে থাকে' (তিরমিযী, হা/২১৬৫, শায়খ আলবানী হাদীছটিকে 'ছহীহ' বলেছেন)। এছাড়া এ প্রসঙ্গে অনেক হাদীছ বর্ণিত হয়েছে।

সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ, আল্লাহর পথে দা'ওয়াত, শার'ঈ জ্ঞানার্জন, হক ও ধৈর্য্যের উপদেশ ইত্যাদির মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্যের ক্ষেত্রে প্রতিটি মুসলিম ব্যক্তির একে অপরকে সহযোগিতা করা নিঃসন্দেহে শরীআ'তসম্মত কাজ। আর একতাবদ্ধভাবে এসব কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে মানুষ নিজেকে শয়তানের কবল থেকে রক্ষা করতে পারে, যা উপরোল্লেখিত হাদীছসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয়। সংঘবদ্ধভাবে এসব কাজ সম্পাদ মহান আল্লাহ্ নিম্নোক্ত বাণীর আওতায়ও পড়ে:

﴿ وَالْعَصْرِ * إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ * إِلَّا الَّذِينَ ءَامَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ ﴾ [العصر: ১, ৩]

'সময়ের কসম! নিশ্চয়ই মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তবে তারা ব্যতীত, যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে এবং পরস্পরকে হক ও ধৈর্য্যের উপদেশ দিয়েছে' (আল-আছর)।

তবে কোনো দল বা সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততা বলতে যদি তার প্রতি অন্ধভক্তি ও গোঁড়ামি বুঝায়, অর্থাৎ সে যে সংগঠন করে, সেটিই একমাত্র হকের উপর আছে, পক্ষান্তরে অন্যগুলি ভ্রান্তির মধ্যে আছে বলে মনে করে এবং শুধুমাত্র নিজ সংগঠনের কর্মীদের সাথে আন্তরিকতা বজায় রেখে চলে, আর অন্যদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে, তাহলে এটি একদিকে যেমন মহা অন্যায় এবং যুলম। অন্যদিকে তেমনি এগুলি দ্বারা উম্মতের মধ্যে বিভক্তি এবং দুর্বলতা সৃষ্টি ব্যতীত আর কিছুই হয় না। সেজন্য প্রতিটি মুমিন ব্যক্তির উচিৎ, সকল মুমিন ভাইয়ের সাথে বন্ধুত্ব ও আন্তরিকতা বজায় রেখে চলা। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿ إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ ءَامَنُوا ﴾ [المائدة: ৫৫]

'তোমাদের বন্ধুতো আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনগণ' (আল-মায়েদাহ ৫৫)। তিনি আরো বলেন,

﴿ إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوةٌ ﴾ [الحجرات: ১০]

'মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই' (আল-হুজুরাত ১০)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই'।

অতএব, আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের মূলনীতির সাথে ঐক্যমত পোষণকারী দল, জামা'আত বা সংগঠনগুলির কোনো একটির মধ্যে হক সীমাবদ্ধ বলে মনে করা যাবে না। আল্লাহর পথে দা'ওয়াতের ক্ষেত্রে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার প্রয়োজন। প্রত্যেকটি মুমিন অন্যান্য মুমিনের সাথে বন্ধুত্ব ও আন্তরিকতা বজায় রেখে চলবে। নিকটের হোক বা দূরের হোক সৎকাজে একে অপরকে সহযোগিতা করবে এবং অন্যায় কাজে সহযোগিতা থেকে বিরত থাকবে।

টিকাঃ
(৪৫) শায়খ মুহাম্মাদ ছালেহ আল-মুনাজ্জিদ ১৩৮০ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। সউদী আরবের খোবার শহরে অবস্থিত ওমর ইবনে আব্দুল আযীয জুম'আ মসজিদের ইমাম এবং খত্নীব।
(৪৬) শায়খের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটের নিম্নোক্ত লিঙ্ক থেকে ১০/১২/২০১২ ইং তারিখে লিখাটি সংগ্রহ করা হয়েছে: http://islamqa.info/ar/ref/12491

ফন্ট সাইজ
15px
17px