📘 দ্বীনী কাজের বিনিময় বা মজুরী > 📄 তাফসীর মাযহারী

📄 তাফসীর মাযহারী


ক্বাযী সানাউল্লাহ পানিপথী হানাফী সূরা বাক্বারার ৪১ আয়াতের তাফসীর লিখেছেন:
وَلَا تَشْتَرُوا بِايَاتِى ثَمَنًا قَلِيْلًا (এবং আমার আয়াতের বিনিময় গ্রহণ করো না): অর্থাৎ আমার কুরআনের আয়াতসমূহের উপর ঈমান আনার পরিবর্তে দুনিয়ার কোনো সম্পদ গ্রহণ করো না। কিংবা এর অর্থ হচ্ছে: তাওরাতে উল্লেখিত মুহাম্মাদ -এর প্রশংসামূলক আয়াতসমূহের পরিবর্তে তোমরা পার্থিব তুচ্ছ ধন-সম্পদ গ্রহণ করো না। ثَمَنًا قَلِيْلًا (সামান্য-মূল্য): অর্থাৎ দুনিয়ার সম্পদ। কেননা, দুনিয়ার সম্পদ যত বেশিই হোক না কেনো, আখিরাতের স্থায়ী নিআমতের তুলনায় তা অতি অল্প অতি সামান্য। এ আয়াত নাযিল হওয়ার কারণ: ইয়াহুদি উলামা ও তাদের নেতৃবৃন্দ অশিক্ষিত জন-সাধারণ থেকে অনেক আয়-উপार्জন করত। তারা জনগণের উপর বাৎসরিক ট্যাক্স নির্ধারণ করে রেখেছিল। সব রকমের সম্পদ-শস্য, গবাদি পশু, নগদ অর্থ তারা তাদের থেকে আদায় করত। ইসলামের প্রচার-প্রসার হলে তারা এই মর্মে ভীত হয়ে পড়ল যে, আমরা যদি মুহাম্মাদ -এর প্রশংসা বর্ণনা করি এবং তাঁর আনুগত্য করি, তা হলে এইসব আয়-উপार्জন আমাদের হাত ছাড়া হয়ে যাবে। তাই তারা দুনিয়াকে আখিরাতের উপর প্রাধান্য দিলো এবং দ্বীন পরিত্যাগ করল। তাওরাতে বর্ণিত তাঁর [মুহাম্মাদ ] প্রশংসা বদলে ফেলল এবং তাঁর নাম মুছে ফেললো। এ সম্পর্কে এ আয়াত নাযিল হয়।
فَاذْكُرُوْنِيْ وَلَا يَزِيْدُوْنَ (তোমরা শুধু আমাকেই ভয় করো) : অর্থাৎ ঈমান আনো এবং দুনিয়ার পরিবর্তে আখিরাতকে অবলম্বন করো। পূর্ববর্তী (৪০ নং) আয়াতে যেয়েতু সাধারণ বনী ইসরাঈলদের সম্বোধন ছিল, তাই فَارْهَبُوْنِ বলা হয়েছে। কেননা, رهبت বলা হয় সেই ভয়কে, যা তাকওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে হয়ে থাকে। যেন رهبت হচ্ছে তাকওয়ার ভূমিকা। আর এই (৪২ নং) আয়াতে সম্বোধন করা হয়েছে তাদের আলিমদেরকে। তাই فَاذْكُرُوْنِ বলা হয়েছে। কেননা, তাকওয়া (تقوى) রাহবাত (رهبت) -এর পরে হয়ে থাকে এবং শেষ অবস্থা প্রকাশ পায়। ২০৪

টিকাঃ
২০৪. তাফসির মাযহারী সূরা বাকারাহ ৪১ নং আয়াতের তাফসির।

📘 দ্বীনী কাজের বিনিময় বা মজুরী > 📄 তাফসীর তাইসীরুল কুরআন

📄 তাফসীর তাইসীরুল কুরআন


শাইখ আব্দুর রহমান কিলানী رحمة الله সূরা আলে-ইমরানের ১৮৭ নং আয়াতের তাফসীর লিখেছেন:
আন আহদে নেওয়া গিয়েছিলো যে, তোমরা তাওরাত পর সখতি সে আমল করিসো গে। এতে কিছুও ছুপাবে না। কিন্তু ইহুদ নে ইয়েহ কিয়া কি ইস কে বেশুমার আহকাম কি খেলাফবরযী কি জান কি তফসিল পহলে গুজর চুকি হ্যায়। ইস কি বহত সি আয়াত কো ছুপাতে রহে। মুতা'আল্লিক্ব আয়াত, জিন মে আপ কি বিশারত দিয়ে গেয়ী থি বরং সে মুতা'আল্লিক্ব আয়াত কো। ফির ইনহোন নে তাহরীফ লফযীও কি অউর মা'নভীও ভী, যাকে دوسروں کا مال ہڑونے کی خاطر لَيْسَ عَلَيْنَا فِي الْأُمِّيِّينَ سَبِيْلٌ -আল ইমরান: 02:45 کا معاملہ গড়া হয়েছিলো অউর ফির ইহুদ সে সুদ ভী উসুল কর লিয়ে অউর কিসি ভী না-জায়েজ তরীকে সে ইন কা মাল হড়প করনে মে কোনো কবাহত নহীঁ সমঝে থে। বাতাও তো ইয়ে দির পহলে বোরতে থে।
“তাদের (ইয়াহুদিদের) থেকে এই ওয়াদা নেয়া হয়েছিলো যে, তারা তাওরাতের উপর দৃঢ়ভাবে আমল করবে। সেগুলো ব্যাপকভাবে প্রকাশ ও প্রচার করবে। এগুলোর মধ্যে থেকে কোনো কিছুই গোপন করবে না। কিন্তু ইয়াহুদিরা অসংখ্য বিধানে বিরোধিতা করে – যার বর্ণনা পূর্বে দেয়া হয়েছে। তারা অনেক আয়াত গোপন করে। যেমন- যে সমস্ত আয়াতে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুসংবাদ ছিল। কিংবা রজম সম্পর্কিত আয়াত। তাদের এ বিকৃতি শাব্দিক ও অর্থগত উভয় প্রকারেরই ছিল। যারা অন্যদের মাল হরণের ক্ষেত্রে বলত: لَيْسَ عَلَيْنَا فِي الْأُمِّيِّينَ سَبِيلٌ [এই অশিক্ষিতদের (অ-ইহুদিদের) অধিকার হরণে আমাদের কোনো পাপ নেই।' (সুরা আলে ইমরান: ৭৯ আয়াত) নীতি অবলম্বন করত। তেমনি অ-ইহুদিদের থেকে সুদও গ্রহণ করত। এভাবে অন্যান্য নাজায়েয পদ্ধতিতে তাদের থেকে মাল হরণ করাকে খারাপ মনে করত না। কিংবা ভুল ফাতওয়া দিয়ে পয়সা গ্রহণ করত।"]২০৫

টিকাঃ
২০৫. তাইসীরুল কুরআন ১/১০৭ পৃ:।

📘 দ্বীনী কাজের বিনিময় বা মজুরী > 📄 তাফসীর আহসানুল বায়ান

📄 তাফসীর আহসানুল বায়ান


মুহতারাম হাফেয সালাহুদ্দিন ইউসুফ সুরা বাকারাহ'র ৪১ নং আয়াতের তাফসির লিখেছেন:
تَهْوِيْئَةَ قِيمَتِ پُرْ فَرْوِخْتْ نَهِ كَرْدُوْ. كَايَهْ مَطْلَبْ نَهِيْسْ كِهْ زيادَهْ مُعاوِضَهْ مُلْ جَائِي تُوَاحَكَامَ اِلٰهِى كا سُوْدا كَرْ لُوْ. بَلْكَهْ مَطْلَبْ يِهْ هَي كِهْ اَحْكَامَ اِلٰهَى كے مُقَابِلِهْ ميں دُنْياوِى مَفَادَات كُواَهَمِيَّتْ نَهْ دُوْ. اَحْكَام اِلٰهَى تَوَاتِهْ يَقِينْ هَي كِه سَارِى دُنْيا كا مَالْ وَ مَتَاعْ بَهِي اِنْ كے مُقَابِلِهْ ميں تُچھْ اَوْر قَلِيلْ هَے. آيَتْ ميں اَصْل خَاطِب اَگْرِ چِهْ بَنِي اِسْرَائِيْلْ هَيں, لِكِنْ يِهْ حُكْمْ قِيَامَتْ تَكْ آَنَے وَالوں كے لِئَے ہَے, جُو بَهِي اِبْطَالِ حَقْ يَا اِثْبَاتِ بَاطِلْ يَا كِتْمَانِ عِلْم كَا اِرْتِكَابْ اَوْ اِحْقَاقِ حَقْ سَے مَحْضْ طَلَبِ دُنْيَا كے لِئَے كَرْ رَكْهے گَاوَا اِسْ وَعِيْد مَيں شَامِلْ هُوْگَا. (رُوحُ الْقَدِيرْ)
“আমার আয়াত) নগণ্য মূল্যে বিক্রয় করো না: এর অর্থ এটা নয় যে, বেশি মূল্য পাওয়া গেলে আহকামে ইলাহি বিক্রি করা যাবে। বরং এর উদ্দেশ্য হলো, আহকামে ইলাহির বিনিময়ে দুনিয়াবী ফায়দাকে গুরুত্ব দিও না। আহকামে ইলাহির মোকাবিলায় দুনিয়ার সমস্ত বড্ডসামগ্রী অতি তুচ্ছ ও নগণ্য। যদিও আয়াতটিতে বনী-ইসরাঈলকে সম্বোধন করা হয়েছে, কিন্তু এই হুকুম কিয়ামত পর্যন্ত আগত লোকদের জন্য। যারাই হুকুকে বাতিল করে, কিংবা বাতিলকে প্রতিষ্ঠা করে, বা ইলম গোপন করে এবং কেবলই দুনিয়া অর্জনের জন্য প্রকৃত হুকুম থেকে দূরে থাকে, তারাও এই ধমকির অন্তর্ভুক্ত। (ফাতহুল ক্বাদীর)"২০৬
অন্যত্র সুরা বাকারাহ'র ৭৯ নং আয়াতের তাফসির লিখেছেন:
يہود کے علماء کی جسارت اور خوف الٰہی سے بے نیازی کی وضاحت ہے کہ اپنے ہاتھوں سے مسئلے گڑھتے ہیں اور یہ بانگ دہل یہ باور کراتے ہیں کہ یہ اللہ کی طرف سے ہیں۔ حدیث کی رو سے ویل جہنم کی ایک وادی بھی ہے جس کی گہرائی اتنی ہے کہ ایک کافر کو اس کی تہ تک گرنے میں چالیس سال لگیں گے۔ (احمد، ترمذی، ابن حبان والحاکم، بحوالہ فتح القدیر) بعض علماء نے اس آیت سے قرآن مجید کی فروخت کو ناجائز قرار دیا ہے لیکن یہ استدلال صحیح نہیں آیت کا مصداق صرف وہی لوگ ہیں جو دنیا کمانے کے لئے کلام الٰہی میں تحریف کرتے اور لوگوں کو مذہب کے نام پر دھوکہ دیتے ہیں۔
“এখানে ইয়াহুদি আলেমদের উদ্ধততা ও আল্লাহর ভীতিবিহীনতা বিলুপ্ত হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। তারা নিজেরাই মনগড়া মাসআলা তৈরি করত এবং জোর গলায় দাবি করত যে, এটা আল্লাহর তরফ থেকে নাযিলকৃত। হাদীস মোতাবেক, وَيْل (ওয়াইল) জাহান্নামের একটি অংশ (উপত্যকা)। যা এতটি গভীর যে, এর শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে কোনো কাফিরের চল্লিশ বছর সময় লাগবে। (আহমাদ, তিরমিযী, ইবনু হিব্বান, হাকেম সূত্রে: ফাতহুল কাদীর) অনেক আলেম উক্ত আয়াত দ্বারা কুরআন মাজীদ ক্রয়-বিক্রয় নাজায়েয বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এটা সহীহ নয়। কেননা আয়াতের সম্পর্ক মূলত তাদের সাথে যারা দুনিয়াবী স্বার্থ-সিদ্ধির জন্য আল্লাহর কালামের তাহরীফ করে এবং লোকদেরকে বিভিন্ন মাযহাবের নামে ধোঁকা দেয়।।”২০৭
উপরের আয়াতগুলোর তাফসীর থেকে সুস্পষ্ট হয়, যেসব উলামায়ে সূ’ আল্লাহর কিতাবের বিষয়ে তথ্য গোপন করে এবং লোকদেরকে কৃত্রিম মাসআলা বর্ণনা করে মাল উপার্জন করে- তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। তারা যেন আল্লাহ ভীত-কে ভয় করে এবং আল্লাহর আয়াতের বিকৃতির দ্বারা তুচ্ছ দুনিয়াবী মাল কামাই না করে। কিন্তু যদি লোকদেরকে কুরআন ও হাদীসের তা‘লিম দেওয়া হয় এবং সহীহ মাসআলা বর্ণনা করা হয়। এক্ষেত্রে ঐ মেহনতের মজুরি নেওয়া হল তা নিশ্চিতভাবে জায়িয। কেননা নাবী ﷺ বলেছেন:
إِنَّ أَحَقَّ مَا أَخَذْتُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا كِتَابُ اللَّهِ.
“নিশ্চয় তোমরা যে ক্ষেত্রে মজুরি নাও সেক্ষেত্রে কুরআনই বেশি হক (উপযুক্ত)।” ২০৮
অনুরূপভাবে নাবী ﷺ একজন সাহাবী  যিনি পাগলের ওপর ঝাড়-ফুঁক করে মজুরি নিতেন তাকে বলেছিলেন: ﴿كُلْ فَلَعَمْرِي لَمَنْ أَكَلَ بِرُقْيَةٍ بَاطِلٍ لَقَدْ أَكَلْتَ بِرُقْيَةٍ حَقٍّ﴾. “খাও! আমার জীবনের শপথ, কিছু লোক তো বাতিল মন্ত্র দ্বারা উপার্জন করে থাকে। আর তুমি উপার্জন করেছ সত্য মন্ত্র দ্বারা।” ২০৯
বিরোধীপক্ষ আলোচ্য আয়াতগুলোর ক্ষেত্রে তাহরিফ বা বিকৃতির আশ্রয় নিয়েছেন। কিতাবুল্লাহর তাহরিফ করাটা ইয়াহুদিদের আমল। আর এমন একটা সময় আসবে যখন মুসলিমরা প্রতি পদে-পদে ইয়াহুদিদের পথে চলবে। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, সাহাবী আবূ সাঈদ খুদরী  বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: ﴿لَتَتَّبِعُنَّ سَنَنَ مَنْ قَبْلَكُمْ شِبْرًا بِشِبْرٍ وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ حَتَّى لَوْ دَخَلُوا جُحْرَ ضَبٍّ لَتَبِعْتُمُوهُمْ﴾ . قِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى؟ قَالَ: «فَمَنْ». “তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতিগুলো এক এক বিঘত ও এক এক হাত পরিমাণে অনুসরণ করে চলবে। এমনকি তারা যদি ওই সাপের গর্তেও ঢুকে থাকে তাহলে তোমরাও সে ব্যাপারে তাদের অনুসরণ করবে। জিজ্ঞাসা করা হল: ইয়া রাসূলাল্লাহ! তারা কি ইয়াহুদি ও নাসারা? তিনি ﷺ বললেন: তবে আর কারা?” ২১০
এ পর্যায়ে বিরোধীপক্ষের (উসমানী ফিরকার) কাছে জিজ্ঞাসা, তারা কুরআন ও হাদীসের বিকৃতি করে কাদের পথে চলছে?

টিকাঃ
২০৬. তাফসীর আহসানুল বায়ান, সুরা বাক্বারাহ ৪১ নং আয়াতের তাফসীর।
২০৭. তাফসীর আহসানুল বায়ান, সূরা বাক্বারাহ ৭৮ নং আয়াতের তাফসীর।
২০৮. সহীহ বুখারী হা/৫৭০৭, মিশকাত (হামাদিয়া) ৬/২৫৫৫ নং, তাহক্বীক্ব মিশকাত হা/২১৯৫。
২০৯. আবূ দাউদ হা/৩৪০৯, আহমাদ ৫/২৩০-৩১ পৃ: হা/২২৬৯৯-৭০, মিশকাত (হামাদিয়া) ৬/২৫৬ নং। শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (তাখ. আবূ দাউদ হা/৩৪০৯, সহীহাহ হা/২০২৭), শাইখ যুবায়ের আলী যায়ী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন (তাখ. উর্দূ মিশকাত হা/২৬৬৬)。
২১০. সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, মিশকাত (হামাদিয়া) ৬/৩১২৬ নং, তাহক্বীক্ব মিশকাত হা/৫০৬১。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00