📘 দ্বীনী কাজের বিনিময় বা মজুরী > 📄 তাফসীর ইবনু কাসীর

📄 তাফসীর ইবনু কাসীর


হাফফায ইবনু কাসীর আয়াতি সম্পর্কে লিখেছেন: وَقَوْلُهُ تَعَالَى: وَلَا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلًا يَقُولُ: لَا تَعْتَاضُوا عَنِ الْإِيمَانِ بِآيَاتِي وَتَصْدِيقِ رَسُولِي بِالدُّنْيَا وَشَهَوَاهَا، فَإِنَّهَا قَلِيلَةٌ فَانِيَةٌ، كَمَا قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زَيْدِ بْنِ جَابِرٍ عَنْ هَارُونَ بْنِ يَزِيدَ قَالَ: سُئِلَ الْحَسَنُ، يَعْنِي الْبَصْرِيَّ عَنْ قَوْلِهِ تَعَالَى، ثَمَنًا قَلِيلًا قَالَ: الثَّمَنُ الْقَلِيلُ الدُّنْيَا بِحَذَافِرِهَا. قَالَ ابْنُ لَهِيعَةَ: حَدَّثَنِي عَطَاءُ بْنُ دِينَارٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى وَلَا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلًا إِنْ آيَاتِهِ كِتَابُهُ الَّذِي أُنْزِلَهُ إِلَيْهِمْ، وَإِنَّ الثَّمَنَ الْقَلِيلَ الدُّنْيَا وَشَهَوَاتُهَا.
“আল্লাহ্‌ তা'আলার বাণী: وَلَا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلًا বলা হয়েছে- দুনিয়া ও এর প্রতি লালসার কারণে তোমরা আমার আয়াতের প্রতি ঈমান ও আমার রসূলের প্রতি সত্যায়ন থেকে বিরত থেকো না। কেননা দুনিয়া তো ক্ষণস্থায়ী ও নশ্বরশীল। যেভাবে আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক رَحِمَهُ اللهُ ইবনু যায়েদ ইবনু জাবিরের বরাতে হারুন ইবনু ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেন যে, হাসান বসরী رَحِمَهُ اللهُ-কে قَلِيلًا ثَمَنًا বা ‘নগণ্য মূল্য’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল, তিনি বললেন: الدُّنْيَا الْمَالُ الْقَلِيلُ الثَّمَنُ ‘দুনিয়া ও তার ক্ষণস্থায়ী বস্তুসমূহই হল قَلِيلًا ثَمَنًا বা নগণ্য মূল্য।’ ইবনু লাহিইয়াহ (হাদাসানি দ্বারা) বর্ণনা করেন, আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন আতা ইবনু দিনার, তিনি সাঈদ বিন জুবায়র আয়াতটি সম্পর্কে বলেন: ... এখানে ‘আয়াত’ হল – তাদের প্রতি নাযিলকৃত কিতাব (তাওরাত, ইঞ্জিল) আর ‘নগণ্য মূল্য’ হল – দুনিয়া ও এর প্রতি লালসা।
وَقَالَ السُّدِّيُّ: وَلَا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلًا يَقُولُ: لَا تَأْخُذُوا طَعْمًا قَلِيلًا، وَلَا تَكْتُمُوا اسْمَ اللهِ، فَذَلِكَ الطَّمَعُ هُوَ الثَّمَنُ. وَقَالَ أَبُو جَعْفَرٍ عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ أَنَسٍ عَنِ أَبِي الْعَالِيَةِ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى وَلَا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلًا يَقُولُ: لَا تَأْخُذُوا عَلَيْهِ أَجْرًا، قَالَ: وَهُوَ مَكْتُوبٌ عِنْدَهُمْ فِي الْكِتَابِ الْأَوَّلِ: يَا ابْنَ آدَمَ عُلِّمْتَ عِلْمًا غَيْرْتَ عِلْمًا، وَقِيلَ: تَفَاضَلُوا عَنِ الْبَيَانِ وَالْإِيضَاحِ وَنَشْرِ الْعِلْمِ النَّافِعِ بِالْكِتْمَانِ وَاللَّبْسِ لِتَسْتَمِرُوا عَلَى رِئَاسَتِكُمْ فِي الدُّنْيَا الْقَلِيلَةِ الْحَقِيرَةِ الزَّائِلَةِ عَنْ قَرِيبٍ.
সুদ্দী رَحِمَهُ اللهُ আয়াতটি সম্পর্কে বলেন: ... ‘তোমরা তুচ্ছ লোভের মোহে পড়ো না, আল্লাহ্‌র নাম গোপন করো না, তেমনি দুনিয়ার প্রতি লালসাই قَلِيلًا ثَمَنًا বা নগণ্য মূল্য।’ আবূ জা’ফার বর্ণনা করেন রাবী’ বিন আনাস থেকে তিনি আবূ আলিয়াহ رَحِمَهُ اللهُ থেকে, তিনি আয়াতটি সম্পর্কে বলেন: ... এর বিনিময়ে মজুরি গ্রহণ করো না। বর্ণনাকারী বলেন: তাদের আদি গ্রন্থেও বলা হয়েছে, ‘হে বনী আদম! বিনামূল্যে শিক্ষা করো এবং বিনামূল্যে শিখাও।’ কেউ কেউ বলেন: আয়াতাংশটির দাবি হল, বয়ান, দারস, কিংবা মানব কল্যাণমূলক ইলমের বিনিময় গ্রহণ অবৈধ। তেমনি নগণ্য ও অস্থায়ী পার্থিব সুযোগ-সুবিধা ও নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব হাসিলের জন্য ইলম গোপন করাও অবৈধ।
وَفِي سُنَنِ أَبِي دَاوُدَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ؓ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَنْ تَعَلَّمَ عِلْمًا مِمَّا يُبْتَغَى بِهِ وَجْهُ اللَّهِ لَا يَتَعَلَّمُهُ إِلَّا لِيُصِيبَ بِهِ عَرَضًا مِنَ الدُّنْيَا لَمْ يَرِحْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» فَأَمَّا تَعْلِيمُ الْعِلْمِ بِأَجْرَةٍ، فَإِنْ كَانَ قَدْ تَعَيَّنَ عَلَيْهِ فَلَا يَجُوزُ أَنْ يَأْخُذَ عَلَيْهِ أَجْرَةً، وَيَجُوزُ أَنْ يَتَنَاوَلَ مِنْ بَيْتِ الْمَالِ مَا يَقُومُ بِهِ حَالُهُ وَعِيَالُهُ بِأَجْرَةٍ، فَإِنْ لَمْ يَحْصُلْ لَهُ مِنْهُ شَيْءٌ وَقَطِعَةَ التَّعْلِيمِ عَنِ التَّكَسُّبِ، فَهُوَ كَمَا لَمْ يَتَعَيَّنْ عَلَيْهِ، وَإِذَا لَمْ يَتَعَيَّnْ عَلَيْهِ فَلَهُ يَجُوزُ أَنْ يَأْخُذَ عَلَيْهِ أَجْرَةً عِنْدَ مَالِكِ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَجُمْهُورِ الْعُلَمَاءِ كَمَا فِي صَحِيحِ الْبُخَارِيِّ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ فِي قِصَّةِ اللَّدِيغِ «إِنَّ أَحَقَّ مَا أَخَذْتُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا كِتَابُ اللَّهِ» وَقَوْلُهُ فِي قِصَّةِ الْمَخْطُوبَةِ «زَوَّجْتُكَهَا بِمَا مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ»
“সুনানে আবু দাউদ (হা/৩৬৬৮) আবূ হুরায়ারা ؓ থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: ‘যে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ভিন্ন অন্য কোনো পার্থিব স্বার্থে শিক্ষা দান করে, সে কিয়ামতের দিন জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না।’ বিনিময় নিয়ে শিক্ষাদানের প্রশ্ন এটি ঠিক যে, বিনিময় নির্ধারণপূর্বক শিক্ষা দান অবৈধ। তবে হ্যাঁ, বাইতুল মাল থেকে যদি শিক্ষাদানে সার্বক্ষণিক প্রয়োজনের খাতিরে কাউকে তার প্রয়োজনীয় ভাতা প্রদানপূর্বক নিয়োগিত করা হয়, তা বৈধ হবে। যেহেতু সেটা প্রত্যেক শিক্ষকের প্রয়োজনভিত্তিক ভাতা। তাই এটি নির্ধারিত ভাতাকল্পে গণ্য নয়। ইমাম মালিক, ইমাম শাফেঈ, ইমাম আহমাদ ও জুমহূর (অধিকাংশ) আলেমের মত এটাই। যেমন (এই পক্ষের দলীলগুলো হল), সহীহ বুখারীতে আবূ সাঈদ খুদরী ؓ-এর লাদিগ বা দংশন সম্পর্কিত হাদীসে রসূলুল্লাহ ﷺ-এর উক্তি ছিল: ‘তোমরা যেসব মাধ্যমে মজুরি নাও তার মধ্যে কুরআনের হক সবচেয়ে বেশি।’ তেমনি ‘মাখতূবাহ’ বা ‘বিয়ের মোহর নির্ধারণ সম্পর্কিত হাদীসে নবী ﷺ-এর উক্তি: ‘তোমার সাথে তার বিয়ে দিলাম যেটুকু কুরআন তোমার কাছে আছে তার বিনিময়ে।’”
فَأَمَّا حَدِيثُ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، أَنَّهُ عَلَّمَ رَجُلاً مِنْ أَهْلِ الصُّفَّةِ شَيْئًا مِنَ الْقُرْآنِ فَأَهْدَى لَهُ قَوْسًا فَسَأَلَ عَنْهُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ «إِنْ أَحْبَبْتَ أَنْ تُطَوَّقَ بِقَوْسٍ مِنْ نَارٍ فَاقْبَلْهُ» فَتَرَكَهُ، رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ. وَرُوِيَ مِثْلُهُ عَنْ أَبِي ابْنِ كَعْبٍ مَرْفُوعًا، فَإِنْ صَحَّ إِسْنَادُهُ فَهُوَ مَحْمُولٌ عِنْدَ كَثِيرٍ مِنَ الْعُلَمَاءِ مِنْهُمْ: أَبُو عُمَرَ بْنُ عَبْدِ الْبِرِّ، عَلَى أَنَّهُ لَمَّا عَلَّمَهُ لَمْ يَجُزْ بَعْدَ هَذَا أَنْ يَتَقَاضَى عَنْ ثَوَابِ اللَّهِ بِذَلِكَ الْقَوْسِ، فَأَمَّا إِذَا كَانَ مِنْ أَوَّلِ الْأَمْرِ عَلَى التَّعْلِيمِ بِالْأُجْرَةِ فَإِنَّهُ يَصِحُّ كَمَا فِي حَدِيثِ اللَّبِيغِ وَحَدِيثِ سَهْلٍ فِي الْمَخْطُوبَةِ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
"পক্ষান্তরে উবাদাহ ইবনু সামিতের হাদীসে দেখা যায়, তিনি আহলে সুফফার একজনকে কিছু কুরআন শিক্ষাদানের হাদীয়াস্বরূপ একটি তীর গ্রহণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি ﷺ বলেন: 'যদি তুমি আগুনের তীর গলায় জড়িত হওয়া পছন্দ কর, তা হলে এটা গ্রহণ কর।' সঙ্গে সঙ্গে তিনি তা বর্জন করেন। এটি আবূ দাউদের (৩৪১৬ নং) হাদীস। অনুরূপ উবায় ইবনু কা'ব ﷺ অনুরূপ একটি মারফূ' হাদীসও বর্ণিত হয়েছে (ইবনু মাজাহ ২১/২১৮৫)। "যদি এর সনদ সহীহ হয়, সেক্ষেত্রে আবূ উমার বিন আব্দুল বারসাহ অনেক আলেম এর ভিন্নরূপ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। যদি কেউ আল্লাহর ওয়াস্তে দান করে, তবে সওয়াবই তার কাম্য হবে। নগণ্য পার্থিব স্বার্থের বিনিময়ে অমূল্য সওয়াব নষ্ট করা তার জন্য জায়েয হবে না। পক্ষান্তরে যদি কেউ শুরুতেই মজুরির বিনিময়ে শিক্ষাদান করে, তা হলে সেটা সহীহ। যেভাবে (আবু সাঈদ খুদরী ﷺ-এর) দংশনের হাদীস ও সাহাল (বিন সা'দ সায়িদী) ﷺ-এর বিয়ের মোহরানার হাদীস রয়েছে।। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।" ২০২

টিকাঃ
২০২. তাফসীর ইবনু কাসীর, সুরা বাক্বারাহ ৮১ নং আয়াতের তাফসীর দ্রঃ।

📘 দ্বীনী কাজের বিনিময় বা মজুরী > 📄 তাফসীর রূহুল মা‘আনী

📄 তাফসীর রূহুল মা‘আনী


সাইয়েদ মাহমূদ আলুসি ﷺ আয়াতটির তাফসীর লিখেছেন: وَرُوِيَ فِي ذَلِكَ أَيْضًا أَحَادِيثُ لَا تَصِحُ وَقَدْ صَحَّ أَنَّهُم قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَأخَذُ عَلَى التعليم أَجْرًا فَقَالَ: إِنَّ خَيْرَ مَا أَخَذْتُم عَلَيْهِ أَجْرًا كِتَابُ اللَّهِ وَقَدْ تَظَافَرَتْ أَقْوَالُ العُلَمَاءِ عَلَى جَوَازِ ذَلِكَ وَإِنْ نُقِلَ عَنْ بَعْضِهِم الْكَرَاهَةَ وَلَا دَلِيلَ فِي الْآيَةِ عَلَى مَا ادَّعَاهُ هَذَا الذَّاهِبُ كَمَا لَا يَخْفَى وَالْمَسْأَلَةُ مُبَيِّنَةٌ فِي الْفُرُوعِ
"আর ('তালিমুল কুরআন নাজায়িযের পক্ষে) যে হাদীসগুলো বর্ণনা করা হয় সেগুলো সহীহ নয়। আর সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ আমরা তা'লিমুল কুরআনের মজুরি নিতে পারি কি? তখন রসূলুল্লাহ বললেন: উত্তম মজুরি সেটাই যা কিতাবুল্লাহর বিনিময়ে অর্জিত হয়। আর আলেমদের অসংখ্য উক্তি এর জায়েযের সমর্থনে রয়েছে। যদিও-বা কারও পক্ষ থেকে এর অপছন্দ হওয়া বর্ণিত থাকে, কিন্তু আলোচ্য আয়াতে এর কোনো দলীল নেই। যা আলেমদের নিকট গোপন নয়। আর এ মাসআলার শাখাগত দিকও সুস্পষ্ট।"

টিকাঃ
২০৫. তাফসীর রুহুল মা'আনী – সূরা বাক্বারার ৪১ নং আয়াতের তাফসীর।

📘 দ্বীনী কাজের বিনিময় বা মজুরী > 📄 তাফসীর মাযহারী

📄 তাফসীর মাযহারী


ক্বাযী সানাউল্লাহ পানিপথী হানাফী সূরা বাক্বারার ৪১ আয়াতের তাফসীর লিখেছেন:
وَلَا تَشْتَرُوا بِايَاتِى ثَمَنًا قَلِيْلًا (এবং আমার আয়াতের বিনিময় গ্রহণ করো না): অর্থাৎ আমার কুরআনের আয়াতসমূহের উপর ঈমান আনার পরিবর্তে দুনিয়ার কোনো সম্পদ গ্রহণ করো না। কিংবা এর অর্থ হচ্ছে: তাওরাতে উল্লেখিত মুহাম্মাদ -এর প্রশংসামূলক আয়াতসমূহের পরিবর্তে তোমরা পার্থিব তুচ্ছ ধন-সম্পদ গ্রহণ করো না। ثَمَنًا قَلِيْلًا (সামান্য-মূল্য): অর্থাৎ দুনিয়ার সম্পদ। কেননা, দুনিয়ার সম্পদ যত বেশিই হোক না কেনো, আখিরাতের স্থায়ী নিআমতের তুলনায় তা অতি অল্প অতি সামান্য। এ আয়াত নাযিল হওয়ার কারণ: ইয়াহুদি উলামা ও তাদের নেতৃবৃন্দ অশিক্ষিত জন-সাধারণ থেকে অনেক আয়-উপार्জন করত। তারা জনগণের উপর বাৎসরিক ট্যাক্স নির্ধারণ করে রেখেছিল। সব রকমের সম্পদ-শস্য, গবাদি পশু, নগদ অর্থ তারা তাদের থেকে আদায় করত। ইসলামের প্রচার-প্রসার হলে তারা এই মর্মে ভীত হয়ে পড়ল যে, আমরা যদি মুহাম্মাদ -এর প্রশংসা বর্ণনা করি এবং তাঁর আনুগত্য করি, তা হলে এইসব আয়-উপार्জন আমাদের হাত ছাড়া হয়ে যাবে। তাই তারা দুনিয়াকে আখিরাতের উপর প্রাধান্য দিলো এবং দ্বীন পরিত্যাগ করল। তাওরাতে বর্ণিত তাঁর [মুহাম্মাদ ] প্রশংসা বদলে ফেলল এবং তাঁর নাম মুছে ফেললো। এ সম্পর্কে এ আয়াত নাযিল হয়।
فَاذْكُرُوْنِيْ وَلَا يَزِيْدُوْنَ (তোমরা শুধু আমাকেই ভয় করো) : অর্থাৎ ঈমান আনো এবং দুনিয়ার পরিবর্তে আখিরাতকে অবলম্বন করো। পূর্ববর্তী (৪০ নং) আয়াতে যেয়েতু সাধারণ বনী ইসরাঈলদের সম্বোধন ছিল, তাই فَارْهَبُوْنِ বলা হয়েছে। কেননা, رهبت বলা হয় সেই ভয়কে, যা তাকওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে হয়ে থাকে। যেন رهبت হচ্ছে তাকওয়ার ভূমিকা। আর এই (৪২ নং) আয়াতে সম্বোধন করা হয়েছে তাদের আলিমদেরকে। তাই فَاذْكُرُوْنِ বলা হয়েছে। কেননা, তাকওয়া (تقوى) রাহবাত (رهبت) -এর পরে হয়ে থাকে এবং শেষ অবস্থা প্রকাশ পায়। ২০৪

টিকাঃ
২০৪. তাফসির মাযহারী সূরা বাকারাহ ৪১ নং আয়াতের তাফসির।

📘 দ্বীনী কাজের বিনিময় বা মজুরী > 📄 তাফসীর তাইসীরুল কুরআন

📄 তাফসীর তাইসীরুল কুরআন


শাইখ আব্দুর রহমান কিলানী رحمة الله সূরা আলে-ইমরানের ১৮৭ নং আয়াতের তাফসীর লিখেছেন:
আন আহদে নেওয়া গিয়েছিলো যে, তোমরা তাওরাত পর সখতি সে আমল করিসো গে। এতে কিছুও ছুপাবে না। কিন্তু ইহুদ নে ইয়েহ কিয়া কি ইস কে বেশুমার আহকাম কি খেলাফবরযী কি জান কি তফসিল পহলে গুজর চুকি হ্যায়। ইস কি বহত সি আয়াত কো ছুপাতে রহে। মুতা'আল্লিক্ব আয়াত, জিন মে আপ কি বিশারত দিয়ে গেয়ী থি বরং সে মুতা'আল্লিক্ব আয়াত কো। ফির ইনহোন নে তাহরীফ লফযীও কি অউর মা'নভীও ভী, যাকে دوسروں کا مال ہڑونے کی خاطر لَيْسَ عَلَيْنَا فِي الْأُمِّيِّينَ سَبِيْلٌ -আল ইমরান: 02:45 کا معاملہ গড়া হয়েছিলো অউর ফির ইহুদ সে সুদ ভী উসুল কর লিয়ে অউর কিসি ভী না-জায়েজ তরীকে সে ইন কা মাল হড়প করনে মে কোনো কবাহত নহীঁ সমঝে থে। বাতাও তো ইয়ে দির পহলে বোরতে থে।
“তাদের (ইয়াহুদিদের) থেকে এই ওয়াদা নেয়া হয়েছিলো যে, তারা তাওরাতের উপর দৃঢ়ভাবে আমল করবে। সেগুলো ব্যাপকভাবে প্রকাশ ও প্রচার করবে। এগুলোর মধ্যে থেকে কোনো কিছুই গোপন করবে না। কিন্তু ইয়াহুদিরা অসংখ্য বিধানে বিরোধিতা করে – যার বর্ণনা পূর্বে দেয়া হয়েছে। তারা অনেক আয়াত গোপন করে। যেমন- যে সমস্ত আয়াতে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুসংবাদ ছিল। কিংবা রজম সম্পর্কিত আয়াত। তাদের এ বিকৃতি শাব্দিক ও অর্থগত উভয় প্রকারেরই ছিল। যারা অন্যদের মাল হরণের ক্ষেত্রে বলত: لَيْسَ عَلَيْنَا فِي الْأُمِّيِّينَ سَبِيلٌ [এই অশিক্ষিতদের (অ-ইহুদিদের) অধিকার হরণে আমাদের কোনো পাপ নেই।' (সুরা আলে ইমরান: ৭৯ আয়াত) নীতি অবলম্বন করত। তেমনি অ-ইহুদিদের থেকে সুদও গ্রহণ করত। এভাবে অন্যান্য নাজায়েয পদ্ধতিতে তাদের থেকে মাল হরণ করাকে খারাপ মনে করত না। কিংবা ভুল ফাতওয়া দিয়ে পয়সা গ্রহণ করত।"]২০৫

টিকাঃ
২০৫. তাইসীরুল কুরআন ১/১০৭ পৃ:।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00