📘 দ্বীনী কাজের বিনিময় বা মজুরী > 📄 হাদীসটির আরও তাহক্বীক্ব

📄 হাদীসটির আরও তাহক্বীক্ব


মুহাদ্দিসুল আসর (বর্তমান যামানার মুহাদ্দিস) হাফেয যুবায়ের আলী যায়ী, এই পুস্তিকাটি পাঠের পর আমাকে একটি ইলমি ও বিশ্লেষণভিত্তিক চিঠি লিখেছেন। তাতে তিনি লিখেছেন:
“মুসনাদে আবী ইয়া’লা (৩/৮৮ পৃ: হা/১৮৬৮) এবং শরহে মা’আনিল আছার লিদ-তাহাবী (৩/১৮)-এ ইযাইয়াহ ইবন আবী কাসীরের رحمه الله যায়দ বিন সাল্লাম থেকে শোনা সুস্পষ্টভাবে রয়েছে।” তিনি আরও লিখেছেন: “এই তাহকীক থেকে জানা গেল, ইযাইয়াহ ইবন আবী কাসীর رحمه الله -এর যায়দ বিন সাল্লামের শোনার স্পষ্টতা রয়েছে। সুতরাং এ তাহকীকের ভিত্তিতে হাদীসটি সহীহ।”
তা ছাড়া ইযাইয়াহ ইবন আবী কাসীর এই বর্ণনাটির ক্ষেত্রে একক নন। বরং মু’আফিয়া বিন সাল্লাম এক্ষেত্রে তাঁর মুতাবা’আতও রয়েছে। যেভাবে হাফেয যুবায়ের আলী যায়ী লিখেছেন। আর মু’আফিয়া বিন সাল্লাম সিকাহ। তাঁর বর্ণনাটি ইবনু আবী আসিমের কিতাব ‘আল-আহাদ ওয়াল মাসানি’ (৪/১০৫, ১০৬ হা/২১৬৬) ও ‘তারিখে দামেষ্ক লিইবন আসাকির’ (৩৮/২৯৬)-এ রয়েছে। এটা হাফেয যুবায়ের আলী যায়ীদের তাহকীকী সিদ্ধান্ত। আল্লাহ তাআলা এই তাহকীকের জন্য তাঁকে জাযা খায়ের দান করুন, আমিন।

📘 দ্বীনী কাজের বিনিময় বা মজুরী > 📄 আব্দুর রহমান বিন শিবলি –এর হাদীসটির সহীহ মর্ম

📄 আব্দুর রহমান বিন শিবলি –এর হাদীসটির সহীহ মর্ম


হাদীসটি সহীহ হওয়া সত্ত্বেও এর দাবী সেটা নয় যা সাধারণভাবে বর্ণনা করা হয়ে থাকে। বরং হাদীসটির বাক্য: ﻳَﺎ ﺃَﻓْﺮِﺅُﻭﺍ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺄْﻛُﻠُﻮﺍ ﺑِﻪِ “কুরআন পাঠ কর, কিন্তু তা দ্বারা খেও না” – অপরাপর হাদীসের আলোকে এর দাবী হল, কুরআন পাঠ করে কারও কাছে কিছু চেও না। যেভাবে ‘ইমরান বিন হুসাইন رضي الله عنه একবার এক ওয়ায়েযকে (বক্তাকে) দেখলেন, সে কুরআন পড়ছে আর মানুষের নিকট কিছু চাইছে। তিনি দুঃখে ‘ইন্না লিল্লাহি…’ পড়লেন। অতঃপর বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে বলতে শুনেছি: مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ فَلْيَسْأَلِ اللَّهَ بِهِ فَإِنَّهُ سَيَجِيءُ أَقْوَامٌ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ يَسْأَلُونَ بِهِ النَّاسَ
“যে কুরআন পড়ে সে যেন তার বিনিময় আল্লাহর কাছে চায়। শীঘ্রই এমন লোকেরা আসবে, যারা কুরআন পড়ে এর বিনিময় মানুষের কাছে চাইবে।”³⁹⁹
এই হাদীসটি থেকে প্রমাণিত হল, কুরআন পাঠ করে লোকদের কাছে চাওয়া ও ভিক্ষা করা জায়েয নয়। ... হাদীসটির উদ্দেশ্য কখনই এটা নয় যে, সহীহ হাদীসে বর্ণিত ঝাড়-ফুঁক, কুরআন তা‘লিম প্রভৃতির মজুরি গ্রহণ করা যাবে না। এই বিষয়গুলো সহীহ বর্ণনার দ্বারা প্রমাণিত। ...
[সংযোজন: কুরআনের বিনিময় সম্পর্কিত সহীহ হাদীসগুলোর বর্ণনাকারী ও বাস্তব প্রয়োগ নাবী ﷺ-এর যুগেই সুস্পষ্ট ও সংখ্যাগরিষ্ঠ। তা ছাড়া কেবল কুরআন তিলাওয়াত করার বিষয়টি ব্যক্তিগত আমল। ঝাড়-ফুঁক বা কুরআন দিয়ে চিকিৎসা, বিচারকের কাজ, স্থায়ীভাবে কুরআন শিক্ষাদান প্রভৃতির বিনিময় প্রমাণিত। পক্ষান্তরে কেবল কুরআন তিলাওয়াতের আমলটি দুনিয়াতে বিনিময় যোগ্য নয়। –অনুবাদক]
... অপর একটি বর্ণনাতে اِقْرَأُوا الْقُرْآنَ “কুরআন পাঠ কর, কিন্তু তা দ্বারা খেও না”-এর পরিবর্তে تَعَلَّمُوا الْقُرْآنَ “কুরআন শিক্ষা কর...” এসেছে।⁴⁰⁰
এর সনদটি ইয়াহইয়া বিন আবী কাসীরের তাদলিসের কারণে যঈফ। (উক্ত শব্দে তার বর্ণনা তাদলিসের ত্রুটিযুক্ত হয়নি) সুতরাং হাদীসটি উপস্থাপন করা সংগত না।
আলেমদের উসূল বা নীতিগত নিয়ম হল, যখন বর্ণনাগুলোর মধ্যে এভাবে কোনো বিরোধ দেখা যায়, সেক্ষেত্রে সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয়। যদি সমন্বয় করা সম্ভব না হয়, তবে একটি হাদীসকে নাসিখ ও অপর হাদীসকে মানসূখ সাব্যস্ত করা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে ‘আম উসূল হল, দ্বীনী কাজের মজুরি জায়েয। আর যে বর্ণনাগুলোতে নিষেধ বর্ণিত হয়েছে তার দাবি হবে, কুরআন তিলাওয়াত করে চাওয়া যাবে না, ভিক্ষা করা যাবে না। তা ছাড়া নিষেধের হাদীসগুলো পূর্বের এবং দ্বীনী কাজের বিনিময়ের বৈধতার হাদীসগুলো পরবর্তী সময়ের।¹⁸⁸ এর মধ্যে সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস -এর হাদীসও রয়েছে। এ মর্মে ব্যাপক অর্থবোধক বাক্যের হাদীসটি হল:
إِنَّ أَحَقَّ مَا أَخَذْتُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا كِتَابُ اللَّهِ
“নিশ্চয় তোমরা যে ক্ষেত্রে মজুরি নাও সেক্ষেত্রে কুরআনই বেশি হক (উপযুক্ত)।”¹⁸⁹
সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস ও আবূ সাঈদ খুদরী উভয়েই একই ঘটনা বর্ণনা করেছেন। আর আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস সাহাবীদের মধ্যে কম বয়স্ক ছিলেন। তিনি জায়েযের হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ থেকে সুস্পষ্ট হয়, নিষেধের আলোচ্য হাদীসটি মানসূখ (রহিত)। কেননা শেষোক্ত দু’জন সাহাবীর বর্ণনা নাসিখ (রহিতকারী)।¹⁹⁰

টিকাঃ
৩৯৯. দ্রষ্টব্য: সুনানে তিরমিযী ২/২৮৭, মুসনাদে আহমাদ ৪/৪০২, ৪৩০, ৪৩৮, সিলসিলাহ সহীহাহ ১/৪৫১ হা/২৫৭। আহমাদ, তিরমিযী, মিশকাত [এমনা] ৫/২১১২ নং। শাইখ যুবায়েরের আলী ঝাড়-ফুঁক হাদীসটিতে তাদলিসের জন্য যঈফ বলে বলেছেন। [তাহক্বীক্ব মিশকাত হা/২১১৬] যে হাদীসটি শায়া হিসাবে এই হাদীসটি আনা হয়েছে উভয়ের দাবি ও দাওয়াই একই। শাইখ যুবায়ের আলী ﷺ-এর কাছে যে হাদীসটি সহীহ, যা কিছু পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে।
৪০০. মুসনাদে আহমাদ ৬/৭৭ (মাজমাউয যাহেদ ২/১৮৬৬)।
১৮৮. এই নীতিমালার ওপর একটি উদাহরণ দেওয়া হয়েছে ‘শিক্ষাকারীর মজুরিসম্পর্কিত হাদীসের বিরোধ নিরসন’ সম্পর্কিত আলোচনাতে। কেননা, কুরআন দ্বারা ইসলামি রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিনিময় সম্পর্কে রসূলুল্লাহ ও সাহাবীদের থেকে তুলনামূলক বেশি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। যা সনদ ও মতনের দিক থেকেও শক্তিশালী। সেগুলো বাস্তবায়নের স্বপক্ষে কুরআনের আয়াতও (২:২৭৯, ৬:১০) রয়েছে। কাজেই সেগুলোর ব্যবহারিক আমল বা প্রাকটিস নবী -এর যামানা থেকে শুরু করে খুলাফায়ে রাশেদীন, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন এবং মুহাদ্দিসগণের যামানা ও কিতাবে সমর্থন রয়েছে। সেগুলোই কার্যকরী। আল্লাহ সব বুঝার তাওফিক দিন। -অনুবাদক
১৮৯. সহীহ বুখারী ২/৫২৭, মিশকাতও (এমদাদিয়া) ৬/২৫৫৫ নং, তাহক্বীক্ব মিশকাত ২/২৪৯৫।
১৯০. বিস্তারিত: নাসবুর রায়াহ ৪/১০৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00