📄 আযানের বিনিময় সম্পর্কিত একটি যঈফ বর্ণনা
عَنْ يَحْيَى الْبَكَّاءِ، قَالَ: كُنْتُ آخِذًا بِيَدِ ابْنِ عُمَرَ، وَهُوَ يَطُوْفُ بِالْكَعْبَةِ، فَلَقِيَهُ رَجُلٌ مِنْ مُؤَذِّنِي الْكَعْبَةِ، فَقَالَ: إِنِّيْ لَأُحِبُّكَ فِي اللهِ، فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: «وَإِنِّي لَأُبْغِضُكَ فِي اللَّهِ، إِنَّكَ تُحَسِّنُ صَوْتَكَ لِأَخْذِ الدَّرَاهِمِ»
“ইয়াহইয়া বাক্কা বলেন: আমি ইবনু উমার (রা) হাত ধরেছিলাম। তিনি কা'বা তাওয়াফ করছিলেন। তখন কা’বার এক মুয়াযযিনের সাথে তাঁর সাক্ষাত্ হলো। তিনি (মুয়াযযিন) তাঁকে বললেন: আমি আপনাকে আল্লাহর খাতিরে মুহাব্বাত করি। ইবনু উমার (রা) বললেন: আমি তো আল্লাহর খাতিরে তোমাকে ঘৃণা করি। কেননা তোমরা দিরহামের খাতিরে নিজেদের আওয়াযকে সুন্দর কর।”¹³⁶
উল্লেখ্য যে, ইমাম আবূ নাসীমের বর্ণনানুযায়ী ইয়াহইয়া বাক্কা বলেছেন যে, তিনি সাঈদ বিন জুবায়েরের হাত ধরেছিলেন। জিহার্ফ্ব মতনে ইযতিরাব বা স্ববিরোধিতা আছে, যা হাদীসটির অন্যতম একটি ত্রুটি। [-অনুবাদক]
এখানে ইয়াহইয়া বাক্কা যঈফ রাবী।¹³⁷
টিকাঃ
১৩৬. আস-সলাত লিইবনি নাসীম – باب اخذ الأجرة على الأذان ৭১: ১৫২ (মাকতাবাতুল ওরাইন আসারিয়ায, মাদীনা মুনাওয়ারা ১৪১৮), মুসনাদ ইবনু আবী শায়বাহ ২/২৩৭ (শামেলা হা/২৫৭২)。
১৩৭. আল-কাশিফ লিযযাহাবী ২/৩৭৬, তাহযীবুত তাহযীব ৫: ৪৬৭。
📄 কুরআন লিখে/ছাপিয়ে প্রকাশ করা ও তার ক্রয়-বিক্রয় [সংযোজন শেষ]
আধুনিককালে কুরআনের কপি লিখে (ছাপিয়ে) প্রকাশ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রেও মজুরি গ্রহণ করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে প্রকাশকের মাধ্যমে তা সর্বসাধারণের জন্য বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই মজুরি ও ক্রয়-বিক্রয়ের পক্ষে পূর্বে বর্ণিত সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত “কুরআন সর্বোত্তম বিনিময়ের” হাদীসকে দলীল হিসেবে পেশ করা হয়।
প্রসিদ্ধ ফকীহ ও মুহাদ্দিস হাফেয আবূ সুলায়মান হাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ খাত্তাবী (৩১৬-৩৮৮ হি:) বলেন:
وفي الحديث دليل على جواز بيع المصاحف وأخذ الأجرة على كتبها، وفيه إباحة الرقية بذكر الله في أسمائه، وفيه إباحة أجر الطبيب والمعالج وذلك أن القراءة والنفث فعل من الأفعال المباحة، وقد أباح له أخذ الأجرة عليها فكذلك ما يفعله الطبيب من قول ووصف وعلاج فعل لا فرق بينهما.
“এই (ঝাড়-ফুঁকের বিনিময়ে বকরি গ্রহণের) হাদীসে এই দলীল রয়েছে যে, মাসহাফ (কুরআন) ক্রয়-বিক্রয় এবং এর কপি করার মজুরি জায়েয। এ থেকে এটাও প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ্ ﷺর বরকতময় নাম পাঠ করে ঝাড়-ফুঁক করাও বৈধ। তা ছাড়া ডাক্তার ও হেকিমের মজুরিও মুবাহ্। তেমনি কিরাত, ঝাড়-ফুঁক ও দম করা মুবাহ্ এবং নবী ﷺ এই কাজের ভিত্তিতে মজুরিকে বৈধ করেছেন। তেমনি ডাক্তার কথা এবং প্রেসক্রিপশন বা ব্যবস্থাপত্রের মাধ্যমে যে চিকিৎসার দেন সেটাও একটি কাজ। এই দুই কাজের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।” ¹⁵⁸ --- [ইয়াহইয়া নুপুরী থেকে সংযোজন শেষ হল। - অনুবাদক]
টিকাঃ
¹⁵⁸. মাআলিমুস সুনান ৩/১০১ পৃ: ১