📄 চতুর্থ দলীল: যাকাত আদায়কারী (সূরা তাওবা ৬০ আয়াতের প্রথমাংশ)
আল্লাহ্ ﷺ বলেন:
إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا
“নিশ্চয় সাদাক্বাহ (যাকাত) ফক্বীর, মিসকীন ও তা আদায়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের জন্য...।” [সূরা তাওবাহ: ৬০ আয়াত]
আল্লাহ্ ﷺ যাকাত প্রাপ্তদেরকে আটটি ভাগে ভাগ করেছেন। এর মধ্যে তৃতীয় ভাগটি যাকাত আদায়ে নিযুক্ত ব্যক্তি বা 'আমিলদের' জন্য নির্ধারিত। তাদের যাকাত আদায়ের কাজের জন্য বেতন বা মজুরি দেয়া হয়। যাকাত একটি ফরয (মালী) ইবাদাত, যা আদায়কারীদের জন্য আয়াতটিতেই মজুরি দেয়ার হুকুম দেয়া হয়েছে। এ থেকে প্রমাণিত হল, ফরয ইবাদাতের ক্ষেত্রে মজুরি গ্রহণ করা বৈধ। ... [সংযোজন: মূলত এই ধরনের ইবাদাতের সাথে মানুষের হক্ব জড়িত, যা কেবল হুকুমগত ইবাদাতই নয় বরং সামাজিক দায়-দায়িত্বের সাথেও সম্পৃক্ত। এখানে আল্লাহর হকের সাথে সাথে বান্দার হক্বও জড়িত। ফলে এখানে দুনিয়াবী বা বস্তগত পরিশ্রম বা লেনদেনের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে। আর এ কারণেই এটা দীনি দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তার মজুরি বৈধ। পক্ষান্তরে সালাতের সাথে কোনো দুনিয়াবী লেনদেনের সম্পর্ক নেই। এ কারণে সালাতের কোনো মজুরি হয় না। কিন্তু ইমাম যখন সামাজিক বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের সাথে জড়িত হন এবং সালাতেরও ইমামতি করেন- তখন খলিফা, ক্বাযী প্রভৃতির ন্যায় এ দায়িত্বের কারণে বেতন বা মজুরি পাবেন। সমাজের ইমাম হওয়ার সালাত পড়ানোটা তার অপর একটি স্বতন্ত্র দায়িত্ব। কিন্তু সেক্ষেত্রে তিনি কেবল সালাতের ইমামই নন, বরং সমাজেরও ইমাম/প্রধান হিসেবে মেনে নেয়াটাও শর্ত। তার নির্দেশেই মুসলিমরা মসজিদভিত্তিক জীবন-যাপন ও আনুগত্য করতে বাধ্য। – অনুবাদক]
হাফেয সালাহুদ্দীন ইউসুফ লিখেছেন: “অর্থ: রাষ্ট্রের ঐ দায়িত্বশীল, যে যাকাত ও সাদাকা আদায়, বন্টন ও হিসাব-কিতাব রাখে।” ১০০৯ এ সম্পর্কে হাদীসে যে ব্যাখ্যা এসেছে তা নিম্নরূপ:
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَنَنِي السَّائِبُ بْنُ يَزِيدَ ابْنُ أُخْتِ نَمِرٍ أَنَّ عُوَيْقِبَ بْنَ عَبْدِ الْعُزَّى أَخْبَرَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ السَّعْدِيِّ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ قَدِمَ عَلَى عُمَرَ فِي خِلافَتِهِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ أَلَمْ أُحَدَّثْ أَنَّكَ تَلِي مِنْ أَعْمَالِ النَّاسِ أَعْمَالا فَإِذَا أُعْطِيتَ الْعِمَالَةَ كَرِهْتَهَا فَقُلْتُ بَلَى فَقَالَ عُمَرُ فَمَا تُرِيدُ إِلَى ذَلِكَ قُلْتُ إِنَّ لِي أَفْرَاسًا وَأَعْبُدًا وَأَنَا بِخَيْرٍ وَأُرِيدُ أَنْ تَكُونَ عِمَالَتِي صَدَقَةً عَلَى الْمُسْلِمِينَ قَالَ عُمَرُ لا تَفْعَلْ فَإِنِّي كُنْتُ أَرَدْتُ الَّذِي أَرَدْتَ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُعْطِينِي الْعَطَاءَ فَأَقُولُ أَفْقِرُ إِلَيْهِ مِنِّي حَتَّى أَعْطَانِي مَرَّةً مَالا فَقُلْتُ أَفْقِرُ إِلَيْهِ مِنِّي فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ خُذْهُ فَتَمَوَّلْهُ وَتَصَدَّقْ بِهِ فَمَا جَاءَكَ مِنَ هَذَا الْمَالِ وَأَنْتَ غَيْرُ مُشْرِفٍ وَلا سَائِلٍ فَخُذْهُ وَإِلا فَلا تُتْبِعْهُ نَفْسَكَ وَعَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ حَدَّثَنِي سَالِمٌ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُعْطِينِي الْعَطَاءَ فَأَقُولُ أَفْقِرُ إِلَيْهِ مِنِّي حَتَّى أَعْطَانِي مَرَّةً مَالا فَقُلْتُ أَفْقِرُهُ مِنْ هُوَ أَفْقَرُ إِلَيْهِ مِنِّي فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ خُذْهُ فَتَمَوَّلْهُ وَتَصَدَّقْ بِهِ فَمَا جَاءَكَ مِنْ هَذَا الْمَالِ وَأَنْتَ غَيْرُ مُشْرِفٍ وَلا سَائِلٍ فَخُذْهُ وَإِلا فَلا تُتْبِعْهُ نَفْسَكَ
“...আব্দুল্লাহ বিন সা'দী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, উমার (রাঃ)-এর খিলাফতকালে তিনি একবার তাঁর কাছে আসলেন। তখন উমার (রাঃ) তাঁকে বললেন: আমাকে কি এ সম্পর্কে জানানো হয়নি যে, তুমি জনগণের অনেক দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়ে থাক। কিন্তু যখন তোমাকে এর পারিশ্রমিক দেয়া হয়, তখন তুমি সেটা নেয়া অপছন্দ কর? আমি বললাম: হ্যাঁ। উমার (রাঃ) বললেন: কী কারণে তুমি এরূপ কর? আমি বললাম: আমার অনেক ঘোড়া ও গোলাম আছে এবং আমি ভাল অবস্থায় আছি। কাজেই আমি চাই যে, আমার পারিশ্রমিক সাধারণ মুসলিমদের জন্য সাদাকাহ হিসেবে গণ্য হোক। উমার (রাঃ) বললেন: এরকম করো না। কেননা, আমিও তোমার মতো এরকম ইচ্ছা পোষণ করতাম। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন আমাকে কিছু দিতেন, তখন আমি বলতাম, আমার চেয়ে যার প্রয়োজন বেশি তাকে দিন। একবার তিনি তিনি আমাকে কিছু মাল দিলেন। আমি বললাম: এই মাল আমার চেয়ে যার বেশি প্রয়োজন তাকে দিন। তখন নাবী (সাঃ) বললেন: এটা নিয়ে মালদার হও এবং তা বৃদ্ধি করে সাদাকাহ করো। তা না হলে এর পিছনে নিজেকে নিয়োজিত করো না।”১০১০
وَعَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، قَالَ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُولُ: كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُعْطِينِي الْعَطَاءَ، فَأَقُولُ أَعْطِهِ أَفْقَرَ إِلَيْهِ مِنِّي، حَتَّى أَعْطَانِي مَرَّةً مَالاً، فَقُلْتُ: أَعْطِهِ مَنْ هُوَ أَفْقَرُ إِلَيْهِ مِنِّي، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ: «خُذْهُ، فَتَمَوَّلْهُ، وَتَصَدَّقْ بِهِ، فَمَا جَاءَكَ مِنْ هَذَا الْمَالِ وَأَنْتَ غَيْرُ مُشْرِفٍ وَلَا سَائِلٍ فَخُذْهُ، وَمَا لَا فَلَا تُتْبِعْهُ نَفْسَكَ»
‘‘ইমাম যুহরি (রহ.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমাকে সালিম বিন আবদুল্লাহ বর্ণনা করেন, আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রা.)-কে বলতে শুনেছি: নবী (সা.) যখন আমাকে কিছু দান করতেন, তখন আমি বলতাম, আমার চেয়ে যার অধিক প্রয়োজন তাকে দিন। এভাবে একবার আমাকে কিছু মাল দিলেন। আমি বললাম, আমার চেয়ে যার আরও অধিক প্রয়োজন তাকে দিন। তিনি (সা.) বললেন: এটা নিয়ে নাও এবং বৃদ্ধি করে তা থেকে সাদাকাহ্ কর। আর এ রকম মালের যা-কিছু তোমার কাছে এমন অবস্থায় আসে যে, তুমি তার আশা কর না এবং প্রার্থীও নও তা হলে তা গ্রহণ কর। তবে যা এভাবে আসবে না নিজেকে তার অনুসারী বানাবে না।’’¹¹¹
সহীহ বুখারীর উর্দু অনুবাদক শাইখ দাউদ রায় লিখেছেন: ‘‘সুবহানাল্লাহ! নবী (সা.) এমন কথা বললেন যা উমার (রা.)-এর চিন্তাতেও আসেনি। অর্থাৎ যদি উমার (রা.) অর্থ না নিয়ে ফেরত দিতেন- সেটা অতটা ফায়দা দেতো না যতটা ফায়দা হতো তা গ্রহণ করে সাদাকাহ্ করাতে। কেননা এর ফলে সে সাদাকাহ্র সওয়াবও পাচ্ছে। মুহাক্কিক্বগণ বলেন, অনেক সময় এ ধরনের মাল গ্রহণ না করার ক্ষেত্রে নফসে অহংকার সৃষ্টি হয়। এমনটি হলে (অহংকার ত্যাগ করার জন্য) মাল গ্রহণ করা উচিত। অতঃপর সে তা দান করবে- এটা মাল গ্রহণ না করার থেকে উত্তম। আজকের সময় দ্বীনী খেদমাতদাতাদের জন্য এটা করাই উত্তম। ...’’¹¹²
হাদীস দুটি থেকে সুস্পষ্ট হল, দ্বীনী কাজের যে বিনিময় পাওয়া যায় তার উপর সন্তুষ্ট থাকা উচিৎ। বেশি আবেদন ও সুপারিশ করা ঠিক না। কেননা মুমিনের জন্য দুনিয়া মুসাফিরখানা। আর সফরের সময় মুসাফির ঠাণ্ডা-গরম (বড়ো-বৃষ্টি) সব ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। এ কারণে দ্বীনের তালেবে ইলম হিসেবে এবং দুনিয়াতে ইসলামের শির উচ্চ করার স্বার্থে- সে সর্বদা আখিরাতকে প্রাধান্য দিবে। দুনিয়াতে জাঁকজমক ও আরাম আয়েশ কাফেরদের জন্য। পক্ষান্তরে মুমিনের প্রকৃত ঠিকানা হল আখিরাত। ...
টিকাঃ
১০০৯. তাফসীর আহসানুল বায়ান পৃ: ২৬৯।
১০১০. সহীহ বুখারী – কিতাবুল আহকাম وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا (অনুচ্ছেদ: প্রশাসন ও প্রশাসনিক কাজে নিযুক্তদের ভাতা) ২/৭৬৮।
১১১. সহীহ বুখারী – কিতাবুল আহকাম হা/৭১৬৪।
১১২. সহীহ বুখারী (উর্দু) ৮/৩১০ (লাহোর: মাকতাবাহ কুদ্দুসিয়্যাহ)।
📄 পঞ্চম দলীল: ফি-সাবিলিল্লাহ (সূরা তাওবা ৬০ আয়াতের শেষাংশ)
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ
“নিশ্চয় সাদাকাহ (যাকাত) ফকির, মিসকীন ও তা আদায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত, যাদের অন্তর (ইসলামের দিকে) আকর্ষণ করা প্রয়োজন, দাসমুক্তিতে, ঋণী ব্যক্তি, ফি-সাবিলিল্লাহ (আল্লাহর পথে) ও মুসাফিরের জন্য।”³¹⁰
হাফেয সালাহুদ্দীন ইউসুফ লিখেছেন: “ফি-সাবিলিল্লাহ- বলতে জিহাদ, অর্থাৎ- যুদ্ধের অস্ত্র ও উপকরণ এবং মুজাহিদিনের জন্য (সে ধনী হওয়া সত্ত্বেও) যাকাত দেয়া জায়েয। হাদীস অনুযায়ী হজ্ব ও উমরাহও ‘ফি-সাবিলিল্লাহ’র অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপ কিছু আলেমের নিকট দা’ওয়াতও তাবলিগও ‘ফি-সাবিলিল্লাহ’র অন্তর্ভুক্ত। কেননা এরও উদ্দেশ্য হল, জিহাদের ন্যায় আল্লাহর কালিমাহ (বাণী) প্রতিষ্ঠিত করা।”³¹¹
আব্দুর রহমান কিলানী رحمه الله ‘ফি-সাবিলিল্লাহ’র ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন: “এমন প্রত্যেকটি কাজ, যা দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয় এবং যা দ্বীনী কাজের ক্ষেত্র ও পথ প্রসারিত করে। অধিকাংশ সালাফদের উক্তি মোতাবেক এ খাতের সর্বোত্তম হল, জিহাদ ফি-সাবিলিল্লাহর জন্য খরচ করা। আর কিতাব ফি-সাবিলিল্লাহ এর সর্বোচ্চ স্তর। অন্যান্যরা বলেছেন, দ্বীনী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা ও তার ব্যয় বহনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এ ছাড়া এ খাতের ব্যয় ঐসব ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যেখানে মৌখিক বা লিখিত দ্বীনী খেদমতের দায়িত্ব পালন করা হয়। তেমনি ইসলামের সেবা ও প্রতিরক্ষামূলক কাজের ক্ষেত্রে এ খাতের অর্থ ব্যয় করা জায়েয।”³¹²
অনুরূপভাবে হাদীসে ইলম অর্জনকেও ‘ফি-সাবিলিল্লাহ’র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংযোজন: উক্ত বিষয়গুলো সংক্ষেপে নিম্নোক্ত হাদীসগুলোর আলোকে ‘ফি-সাবিলিল্লাহ’র অন্তর্ভুক্ত:
১) নাবী ﷺ বলেছেন:
جَاهِدُوا الْمُشْرِكِينَ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ وَأَلْسِنَتِكُمْ. “মুশরিকদের সাথে জিহাদ কর মাল, জান ও মুখ দ্বারা।”¹¹¹⁶ আর ইসলামে ‘জিহাদ’ মাত্রই ‘ফি-সাবিলিল্লাহ’র অন্তর্ভুক্ত। যেমন- আল্লাহ ﷻ বলেন:
وَجَاهِدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ. “তারা নিজেদের মাল ও জান দিয়ে ‘ফি-সাবিলিল্লাহ’ (আল্লাহর পথে) জিহাদ করেছে।”¹¹¹⁷
হজ্জও ‘ফি-সাবিলিল্লাহ’র অন্তর্ভুক্ত। কেননা ঐ সফরে পথচলা কেবল আল্লাহর নির্দেশ ও আল্লাহর উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে। এ মর্মে আল্লাহ ﷻ বলেন:
وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا. “আর আল্লাহর জন্য মানুষের উপর ঐ ঘরের হজ্জ (এক বিধান) রয়েছে যার সে পথে যাওয়ার সামর্থ্য রয়েছে।”¹¹¹⁸ ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহু অনুচ্ছেদ লিখেছেন:
بَابُ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى ﴿وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ﴾ وَيُذْكَرُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ﷺ يَعْنِي مِنْ زَكَاةٍ مَالِهِ وَيُعْطِي فِي الْحَجِّ وَقَالَ الْحَسَنُ إِنِ اشْتَرَى أَبَاهُ مِنَ الزَّكَاةِ جَازَ وَيُعْطِي فِي الْمُجَاهِدِينَ وَالَّذِي لَمْ تَجِبْ لَهُ ﴿إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ﴾ الآيَةُ فِي أَيِّهَا أَعْطَيْتَ أَجْزَأَتْ وَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ خَالِدٌ احْتَبَسَ أَدْرَاعَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَيُذْكَرُ عَنْ أَبِي لَاسٍ حَمَلَنَا النَّبِيُّ ﷺ عَلَى إِبِلِ الصَّدَقَةِ لِلْحَجِّ.
“অনুচ্ছেদ: আল্লাহর বাণী, '(যাকাত হল) দাসমুক্তি, ঋণমুক্তি ও ফি-সাবিলিল্লাহ বা আল্লাহর পথে" (৯: ৬০) - ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, নিজের মালের যাকাত দ্বারা দাসমুক্ত করবে এবং হাজ্জ আদায়কারীকে দেবে। হাসান বসরি বলেন: কেউ যাকাতের অর্থ দ্বারা তার পিতাকে (দাসত্ব থেকে মুক্তির জন্য) ক্রয় করলে তা জায়েয হবে। আর মুজাহিদীন এবং যে হাজ্জ করেনি তাদের (যাকাত) দেবে। অতঃপর لِلْفُقَرَاءِ الَّذِينَ أَحْصِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ﻵ আয়াতটি তিলাওয়াত করেন। এর যে কোনো খাত দিয়েই যাকাত আদায় হবে। নাবী ﷺ বলেছেন: খালিদ (বিন ওয়ালিদ) তার বর্মসমূহ জিহাদের কাজে আবদ্ধ রেখেছেন। আবু লাইস থেকে (দুর্বল সূত্রে) বর্ণনা করা হয়, নাবী ﷺ আমাদের হাজ্জ আদায় করার জন্য বাহনরূপে যাকাতের উট দেন। ”¹¹⁹
বর্ণনাগুলোর মধ্যে দুর্বলতা থাকলেও পূর্বে বর্ণিত সুরা আলে ইমরানের ১৭৭ নং আয়াতের দাবি এগুলোকে সমর্থন করে।
আলেমদের দায়িত্ব-কর্তব্যের সাথেও ‘ফি-সাবিলিল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর পথ’ উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন- নাবী ﷺ বলেছেন: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ كَثِيرًا مِّنَ الْأَحْبَارِ وَالرُّهْبَانِ لَيَأْكُلُونَ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ
“হে মু'মিনগণ! অধিকাংশ পণ্ডিত ও পুরোহিতরা মানুষের মাল-সম্পদ বাতিলপন্থায় ভোগ করে থাকে এবং ফি-সাবিলিল্লাহ (আল্লাহর পথ) থেকে দূরে রাখে।”¹²⁰
পরিপক্ক হক্্কপন্থী আলেমরা জনগণকে ‘ফি-সাবিলিল্লাহ’ বা আল্লাহর পথে পরিচালিত করে। যা তাদের দায়িত্ব কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত। –অনুবাদক]
... তেমনি দ্বীনী তা'লিম তথা মসজিদ ও মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা খরচ। দা'ওয়াতি কাজের সাথে সম্পর্কিত ও আবদ্ধ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি প্রকারান্তরে ‘জিহাদ ফি-সাবিলিল্লাহ’র দাবিই পূরণ করছেন। এদের ব্যস্ততার কারণে তাদের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ ﷻ বলেন:
لِلْفُقَرَاءِ الَّذِينَ أُحْصِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَا يَسْتَطِيعُونَ ضَرْبًا فِي الْأَرْضِ تَحْسَبُهُمُ الْجَاهِلُ أَغْنِيَاءَ مِنَ التَّعَفُّفِ تَعْرِفُهُم بِسِيمَاهُمْ لَا يَسْأَلُونَ النَّاسَ إِلْحَافًا ۗ وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ ۙ
“(সাদকা) এ গরীবদের জন্য, যারা আল্লাহ্র পথে আবদ্ধ হয়ে গেছে। (যারা জীবিকার সন্ধানে) যমীনে ঘোরাফেরা করতে সক্ষম নয়। অজ্ঞ লোকেরা যাঞ্চা না করার কারণে তাদেরকে অভাবমুক্ত মনে করে। তোমরা তাদেরকে তাদের লক্ষণ দ্বারা চিনবে। তারা মানুষের কাছে কাকুতি-মিনতি করে ভিক্ষা চায় না। তোমরা যে সম্পদ ব্যয় কর সে ব্যাপারে আল্লাহ ভালোভাবেই জানেন।”¹⁹¹
এই আয়াতে ঐ সমস্ত লোককে ফকির বলা হয়েছে, যারা দ্বীনি কাজে দিন-রাত ব্যস্ত রয়েছে। এর কারণে তারা দুনিয়াবী আয়-রোজগার ও লেনদেন করতে পারে না। এর মধ্যে মুজাহিদীন, দ্বীনি তা’লিম শেখা ও শেখানো, দ্বীনি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ প্রমুখ অন্তর্ভুক্ত।
টিকাঃ
৩১০. সূরা তাওবাহ: ৬০ আয়াত।
৩১১. তাফসীর আহসানুল বায়ান – আলোচ্য আয়াতের তাফসীর দ্র:।
৩১২. তাফসীর তাইসিরুল কুরআন ( লাহোর: মাকতাবাতুল ইসলাম) ২/২২৭ পৃ:।
¹¹¹⁶. আবু দাউদ হা/২৫০৪; শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ (তাঃ. মিশকাত হা/৩৮২১) ও শাইখ যুবায়ের আলী যাঈ ‘হাসান’ বলেছেন (উর্দূ তাঃ. মিশকাত হা/৩৮২১) ।
¹¹¹⁷. সূরা আনফাল: ৭২।
¹¹¹⁸. সূরা আলি-ইমরান: ৯৭।
¹¹⁹. সহীহ বুখারী - কিতাবুল হাজ্জ ২/১৪৬৮-এর পূর্বের অনুচ্ছেদ।
¹²⁰. সুরা তাওবা: ৩৪।
¹⁹¹. সূরা বাক্বারাহ: ২৭৩ আয়াত。
📄 ষষ্ঠ দলীল: মালে গনীমত ও মালে ফাই
আল্লাহ বলেন: وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُم مِّن شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ
“আর জেনে রাখো! তোমরা যে গণীমত লাভ কর তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহ্র, রাসূলের, রাসূলের স্বজনদের, ইয়াতীম, মিসকীন ও পথচারীদের জন্য।”¹⁹² বাকি অংশ মুজাহিদদের জন্য।
অনুরূপ মালে ফাই বা বিনাযুদ্ধে অর্জিত সম্পদ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন: مَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَىٰ رَسُولِهِ مِنْ أَهْلِ الْقُرَىٰ فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ كَيْ لَا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنكُمْ ٥
“আল্লাহ এই জনপদবাসীর নিকট থেকে তার রসূলকে ‘ফাই’ দিয়েছেন- তা আল্লাহ্র, তার রসূলের, আত্মীয় স্বজনের, ইয়াতীমদের, মিসকীনদের এবং মুসাফিরদের; যেন সম্পদ তোমাদের মধ্যে যারা বিত্তবান কেবল তাদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়।”¹⁹³
অতএব উক্ত সম্পদের মধ্যে ঐ সমস্ত মুহাজিরদেরকেও শরীক করা হয়েছে যাদেরকে নিজেদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। অথচ তারা আল্লাহ ﷺ ও তাঁর রাসূলের সাহায্যকারী ছিলেন।¹⁵⁴
এরপর তাদেরকেও ঐ মালের অংশ দেওয়া হয়েছে, যারা মদীনাবাসী আনসার ছিলেন। যারা মুহাজিরদেরকে নিজেদের উপর অগ্রাধিকার দিয়েছেন– এমনকি নিজে অভাবগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও।¹⁵⁵
এরপর ঐ সমস্ত লোককেও ঐ মালে অংশীদার করা হয়েছে – যারা ঈমান ও আমলের দিক থেকে তাদের অনুসারী। তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, ঐ সমস্ত আনসার ও মুহাজির সাহাবীর প্রতি তারা বিদ্বেষ পোষণ করে না।¹⁵⁶ বুঝা যাচ্ছে, সাহাবীদের প্রতি বিদ্বেষপোষণকারী শিয়া, রাফেযী প্রভৃতি সম্প্রদায়কে মালে ফাইয়ের অংশ দেওয়া যাবে না। কেননা তারা সাহাবীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়িয়ে থাকে।
পশ্চাতরে সাহাবীদের অনুসারী তাবেঈ, তাবে-তাবেঈ ও মুহাদ্দিসগণের জামা‘আত সাহাবীদের মর্যাদা সমুন্নত রাখত সব-সময় দৃঢ় ছিলেন। আর এ কারণে তাদের অনুসারী হিসেবে যারা দ্বীনী কাজে সব-সময় ব্যস্ত তারাও ‘মালে ফাই’ পাবার যোগ্য।
সপ্তম দলীল: উমার কুরআনের শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ করেছিলেন। وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الْمَعْرُوفِ الْفَقِيهِ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ أَحْمَدَ الْإِسْفَرَايِينِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ خَالِدٍ بِبَغْدَادَ، حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ كَتَبَ إِلَى بَعْضِ عُمَّالِهِ: «أَنْ أَعْطِ النَّاسَ عَلَى تَعْلِيمِ الْقُرْآنِ»، فَكَتَبَ إِلَيْهِ: إِنَّكَ كَتَبْتَ إِلَيَّ أَنْ أَعْطِ النَّاسَ عَلَى تَعْلِيمِ الْقُرْآنِ فَيَعْلَمُهُ مَنْ لَيْسَ فِيهِ رَغْبَةٌ إِلَّا رَغْبَةٌ فِي الْجَعْلِ، فَكَتَبَ إِلَيْهِ: «أَنْ أَعْطِهِمْ عَلَى الْمُرُوءَةِ وَالْصُّحَابَةِ».
"...ইবরাহিম বিন সা'দ তার পিতা (সা'দ বিন ইবরাহিম) থেকে বর্ণনা করেন: খলিফা উমার (রা.) তার কিছু গভর্নরকে লিখেছিলেন, লোকেদেরকে কুরআন তা'লিমের জন্য বৃত্তি দাও। তার গভর্নররা জবাবে লিখলেন, আপনি লিখেছেন লোকদেরকে কুরআন তা'লিমের জন্য বৃত্তি দিতে। (আমরা তেমনটি করেছি) ফলে এক্ষেত্রে এমন লোকেরাও কুরআনের তা'লিম নিচ্ছে যাদের এর প্রতি আগ্রহ ছিল না। এটা যেন কেবলই বৃত্তি লাভের আগ্রহ। তখন উমার (রা.) তাদেরকে লিখলেন: সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বের খাতিরে তাদের দিতে থাক।¹²⁷
حدثنا أبو بكر قال حدثنا وكيع عن صدقة بن موسى الدمشقي عن الوضين بن عطاء قال: كان بالمدينة ثلاثة مُعلِّمين يُعَلِّمُون الصِّبْيَانَ, فَكَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَرْزُقُ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ خَمْسَةَ عَشَرَ كُلَّ شَهْرٍ.
...ওয়াদিন বিন আতা (রাহ.) বর্ণনা করেন, মদীনাতো তিনজন মু'আল্লিম (শিক্ষক) ছিলেন, যারা বাচ্চাদের তা'লিম দিত। উমার ইবনুল খাত্তাব (রা.) তাদের প্রত্যেককে মাসিক পনেরো দিরহাম করে বেতন দিতেন।¹²⁸
৩) ইমাম জাউযি (রাহ.) [মৃত: ৫৯৭ হি.] লিখেছেন:
إِنَّ عمر بن الخطاب وعثمان بن عفان كانا يرزقان المؤذنين والأئمة والمعلمين
"খলিফা উমার বিন খাত্তাব ও খলিফা উসমান বিন আফফান (রা.) মুয়ায্যিন, ইমাম ও মু'আল্লিম (শিক্ষক)-দের বেতন দিতেন।"¹²⁹
আল্লামা জাউযি (রাহ.) ফক্বীহদের সম্পর্কে এটাও উল্লেখ করেছেন যে, তাদেরকে কোনো কোনো শহরে তা'লিমের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তিনি তাদের বৃত্তি ও বেতন সম্পর্কেও লিখেছেন।¹³⁰
টিকাঃ
¹⁹². সূরা আনফাল: ৪১ আয়াত।
¹⁹³. সূরা হাশর: ৭ আয়াত।
¹⁵⁴. সূরা হাশর: ৮ আয়াতের আলোকে।
¹⁵⁵. সূরা হাশর: ৯ আয়াতের আলোকে।
¹⁵⁶. সূরা হাশর: ১০ আয়াতের আলোকে।
¹²⁷. মা'আরেফাতুস সুনান লিলবায়হাকী ৫/৩৮২, কিতাবুল আমওয়াল পৃ: ৭৭৩, নাসবুর রায়া ৪/১০৭ পৃ:। বইটি লেখার মুহূর্তে বর্ণনাটির সহীহ/যঈফ কোনো মুহাক্কিকের তাহক্বীক্ব আমি (অনুবাদক) পাইনি।
¹²⁸. মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ ৫/৮৭, মুহায্যা লিবনি হায়াম ৭/২১ পৃ:। বইটি লেখার মুহূর্তে বর্ণনাটির সহীহ/যঈফ কোনো মুহাক্কিকের তাহক্বীক্ব আমি (অনুবাদক) পাইনি।
¹²⁹. সিরাতুল 'আমরাইন পৃ: ১৬৫।
¹³⁰. সিরাতুল 'আমরাইন পৃ: ১৬৬।
📄 সার-সংক্ষেপ
দ্বীনী কাজের বিনিময়ের ব্যবহার ক্ষেত্রে জুমহুর আলেমদের অবস্থান হল, দ্বীনী বিশেষ-বিশেষ কাজ, ঝাড়-ফুঁক, তা‘লিমুল কুরআন ও হাদীস প্রভৃতির মজুরি নেয়া যেতে পারে। এ ছাড়াও জায়েয কাজের আরও ধরন রয়েছে। যেমন – কুরআনের কপি করা, হাদীসের কিতাব লেখা, তাফসীর ও অন্যান্য দ্বীনী কিতাব প্রভৃতির ক্রয়-বিক্রয়ও জায়েয। অনুরূপ মাসজিদ ও মাদরাসা নির্মাণের মজুরি নেয়া। সাহাবী আমর বিন সালামাহ নিজের কওমের ইমামতি করতেন।। কওমের লোকেরা তাঁর পরিধানের কাপড় কিনে দিতেন। এ কারণে আমর বিন সালামাহ খুশী হতেন। ২৮ এ থেকে বুঝা যায়, ইমামের প্রয়োজন পূরণ করা জায়েয, তেমনি মুয়াযযিনের কাজেরও মূল্যায়ন করা যায়, যেভাবে নবী আবু মাহযূরাহ -কে আযান দেয়ার কারণে রূপা ভর্তি একটি থলি দিয়েছিলেন। অবশ্য মুয়াযযিনের জন্য আযানের মজুরি চাওয়াটা জায়েয নয়। তা ছাড়া ইমাম ও
টিকাঃ
২৯৬. বর্ণনান্তর উল্লেখযোগ্য অংশ হল, সাহাবী আমর বিন সালামাহ বর্ণনা করেন : ...فَلَمَّا كَانَتْ وَقْعَةُ أَهْلِ الْفَتْحِ بَادَرَ كُلُّ قَوْمٍ بِإِسْلَامِهِمْ وَيَتَمَزَّرُ أَبِي قَوْمِي بِإِسْلَامِهِمْ فَلَمَّا قَدِمَ قَالَ جِئْتُكُمْ وَاللَّهِ مِنْ عِنْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَقًّا فَقَالَ صَلُّوا صَلَاةً كَذَا فِي حِينِ كَذَا وَصَلُّوا صَلَاةً كَذَا فِي حِينِ كَذَا فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ فَلْيُؤَذِّنْ أَحَدُكُمْ وَلْيَؤُمُّكُمْ أَكْثَرُكُمْ قُرْآنًا فَنَظَرُوا فَلَمْ يَكُنْ أَحَدٌ أَكْثَرَ قِرَاءَةً مِنِّي لِمَا كُنْتُ أَتَلَقَّى مِنَ الرُّكْبَانِ فَقَدَّمُونِي بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَأَنَا ابْنُ سِتٍّ أَوْ سَبْعٍ سِنِينَ وَكَانَتْ عَلَيَّ بُرْدَةٌ إِذَا سَجَدْتُ تَقَلَّصَتْ عَنِّي فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنَ الْحَيِّ أَلَا تُغَطُّوا عَنَّا اسْتَ فَاشْتَرَوْا لِي قَمِيصًا فَمَا فَرِحْتُ بِشَيْءٍ فَرِحِي بِذَلِكَ الْقَمِيصِ
... অতঃপর যখন মক্কা বিজয়ের ঘটনা ঘটল। এবার সব গোত্রই তাড়াহুড়া করে ইসলাম গ্রহণ করতে লাগল। আমাদের কওমের ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে আমার পিতা বেশ তাড়াহুড়া করলেন। তিনি ইসলাম গ্রহণের পর ফিরে এসে বললেন : আল্লাহ্র শপথ! আমি সত্য নাবীর নিকট থেকে তোমাদের কাছে অমুক সময়ে অমুক সালাত এবং অমুক সময়ে অমুক সালাত আদায় করবে। এভাবে সালাতের সময় হলে, তোমাদের একজন আযান দেবে এবং তোমাদের মধ্যে যে কুরআন অধিক জানে সে সালাতের ইমামতি করবে। সবাই এ রকম একজন লোক খুঁজলেন। কিন্তু আমার চেয়ে অধিক কুরআন জানা একজনকেও পাওয়া গেল না। কেননা আমি কাফেলার লোকদের থেকে কুরআন শিখেছিলাম। কাজেই সবাই আমাকে তাদের সামনে এগিয়ে দিল। অথচ তখনো আমি ছয়-সাত বছরের বালক। আমার একটি চাদর ছিল, যখন আমি সাজদাতে যেতাম তখন চাদরটি আমার গায়ের সঙ্গে জড়িয়ে উপরের দিকে উঠে যেত। তখন গোত্রের জনৈক মহিলা বলল, তোমরা আমাদের দৃষ্টি থেকে তোমাদের ক্বারীর নিতম্ব আবৃত করে দাও না কেন? তারা কাপড় খরিদ করে আমাকে একটি জামা তৈরি করে দিল। এ জামা পেয়ে আমি এত খুশি হয়েছিলাম যে, আর কিছুতে এত খুশি হইনি।" [সহীহ বুখারী – কিতাবুল মাগাযী, ২/৮০০২]