📘 দ্বীনী কাজের বিনিময় বা মজুরী > 📄 ইমাম তিরমিযী –এর উপস্থাপনা

📄 ইমাম তিরমিযী –এর উপস্থাপনা


ইমাম তিরমিযী رَحِمَهُ اللهُ বলেন: وَرَخَّصَ الشَّافِعِيُّ لِلْمُعَلِّمِ أَنْ يَأْخُذَ عَلَى تَعْلِيمِ الْقُرْآنِ أَجْرًا، وَيَرَى لَهُ أَنْ يُشْتَرَطَ عَلَى ذَلِكَ، وَاحْتَجَّ بِهَذَا الْحَدِيثِ “ইমাম শাফেঈ رَحِمَهُ اللهُ শিক্ষকের জন্য তা’লিমুল কুরআনের মজুরিকে শিথিল করেছেন। আর সেটা হল, শিক্ষক এক্ষেত্রে শর্তও করতে পারে। এই হাদীসকে তিনি দলীল হিসেবে পেশ করেছেন।”⁴⁷

টিকাঃ
৪৭. সুনানে তিরমিযী হা/২০৬০ –এর আলোচনা।

📘 দ্বীনী কাজের বিনিময় বা মজুরী > 📄 ইমাম বুখারী –এর উপস্থাপনা

📄 ইমাম বুখারী –এর উপস্থাপনা


ইমাম বুখারী رَحِمَهُ اللهُ আলোচ্য হাদীসটি নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদের অধীনে এনেছেন: بَاب مَا يُفْعَلُ فِي الرُّقْيَةِ عَلَى أَحْيَاءِ الْعَرَبِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ “অনুচ্ছেদ: কোনো আরব গোত্রে সুরা ফাতিহা পড়ে ঝাড়-ফুঁক করার বদলে কিছু দেয়া হলে।”⁴⁸
এ থেকে প্রমাণিত হয়, ইমাম বুখারী رَحِمَهُ اللهُ-ও ঝাড়-ফুঁকের বিনিময় নেওয়াকে সমর্থন করেন। হাদীসটি অপর একটি অনুচ্ছেদের অধীনেও এনেছেন, যা নিম্নরূপ:
بَاب الشَّرْطِ فِي الرُّقْيَةِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ [بِقَطِيعٍ مِنَ الْغَنَمِ] “অনুচ্ছেদ: সুরা ফাতিহার দ্বারা ঝাড়-ফুঁকের ক্ষেত্রে (বকরির অংশ) শর্ত করা।”⁴⁹ বুখারী যাচ্ছে, ইমাম বুখারীর رَحِمَهُ اللهُ নিকট ঝাড়-ফুঁকের শর্ত আরোপ করা অর্থাৎ – এতটা বকরি বা টাকা-প্রভৃতি জায়েয। এছাড়া ইমাম বুখারী رَحِمَهُ اللهُ ‘বিবাহ অধ্যায়ে’ بَاب التَّزْوِيجِ عَلَى تَعْلِيمِ الْقُرْآنِ “অনুচ্ছেদ: তা’লিমুল কুরআনের বিনিময় (মোহর) দ্বারা বিবাহ” লিখেছেন। যা দ্বারা তিনি এই মাসআলাটিই প্রমাণ করেছেন যে, তা’লিমুল কুরআনকে বিনিময় বা মজুরি বানানো জায়েয।
ইমাম বুখারী রহ. ‘কিতাবুল ইজারাত’ একটি অনুচ্ছেদের ওপর প্রথামদিকে সাহাবী ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীসটি উল্লেখ করেছেন যেখানে এই শব্দগুলো ছিল:
إِنَّ أَحَقَّ مَا أَخَذْتُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا كِتَابُ اللَّهِ “নিশ্চয় তোমরা যেসব ক্ষেত্রে মজুরি নাও সেসব ক্ষেত্রে কিতাবুল্লাহ্-ই (কুরআন) বেশি হক (উপযুক্ত)।” অতঃপর লিখেছেন:
وَقَالَ الشَّعْبِيُّ: «لَا يُشْتَرَطُ الْمُعَلِّمُ، إِلَّا أَنْ يُعْطَى شَيْئًا فَيَقْبَلَهُ» وَقَالَ الْحَكَمُ: «لَمْ أَسْمَعْ أَحَدًا كَرِهَ أَجْرَ الْمُعَلِّمِ» وَأَعْطَى الْحَسَنُ دَرَاهِمَ عَشَرَةً শা‘বি রহ. বলেন: শিক্ষক কোনোরূপ (পারিশ্রমিকের) শর্তারোপ করবে না। তবে (বিনা শর্তে) যদি তাকে কিছু দেওয়া হয় তিনি তা গ্রহণ করতে পারেন। হাকাম রহ. বলেন: আমি এমন কারো কথা শুনিনি, যিনি শিক্ষকের পারিশ্রমিক গ্রহণ করাটাকে মাকরূহ মনে করেছেন। হাসান বসরি রহ. শিক্ষকের পারিশ্রমিক বাবদ দশ দিরহাম দিয়েছেন।⁵⁰
উক্ত হাদীস ও আছারগুলো দ্বারা ইমাম বুখারী রহ.-এর উদ্দেশ্য হলো, তা‘লিমুল কুরআনের বিনিময় জায়েয হিসেবে উল্লেখ করা।

টিকাঃ
৪৮. সহীহ বুখারী – কিতাবুল ইজারা হা/২২৭৬ নং এর পূর্বের অনুচ্ছেদ।
৪৯. সহীহ বুখারী– হা/৫৭০৭-এর পূর্বের অনুচ্ছেদ। বন্ধনীর অংশ ‘মাকতাবাতু শামেলাতে’ আছে, কিন্তু بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ নেই।
৫০. সহীহ বুখারী ২/২২৭৬-এর পূর্বের অনুচ্ছেদ।

📘 দ্বীনী কাজের বিনিময় বা মজুরী > 📄 ইমাম ইবনুল আরাবি মালিকী –এর বিশ্লেষণ

📄 ইমাম ইবনুল আরাবি মালিকী –এর বিশ্লেষণ


ইমাম ইবনুল আরাবি মালিকী রহ. (মৃত: ৫৪৩ হি.) সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণনাটির ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন: جوَازُ أَخْذِ الْأُجْرَةِ عَلَى الْقُرْآنِ وَقَدِ اتَّبَعَهُ بِقَوْلِهِ فِي الصَّحِيحِ إِنْ أَحَقُّ مَا أَخَذْتُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا كِتَابُ اللَّهِ “হাদীসটি থেকে কুরআনের দ্বারা মজুরি নেয়া জায়েয প্রমাণিত হয়। তা ছাড়া এর সমর্থন রয়েছে সহীহ বুখারীর ঐ হাদীসে যেখানে রয়েছে: নিশ্চয় তোমরা যেসব ক্ষেত্রে মজুরি নাও সেসব ক্ষেত্রে কিতাবুল্লাহ্-ই (কুরআন) বেশি হকদার (উপযুক্ত)।⁵¹”

টিকাঃ
৫১. আরিযাতুল আহওয়াযি শরহে তিরমিযী ১/২৬৮ পৃ:।

📘 দ্বীনী কাজের বিনিময় বা মজুরী > 📄 ইমাম বায়হাক্কী –এর বিশ্লেষণ

📄 ইমাম বায়হাক্কী –এর বিশ্লেষণ


ইমাম বায়হাকী র. সাহাবী ইবনু আব্বাস রা. -এর হাদীসটি উল্লেখ করে বলেন: وَهُوَ عَامٌ فِي جَوَازِ أَخْذِ الْأُجْرَةِ عَلَى كِتَابِ اللّٰهِ تَعَالٰى بِالتَّعْلِيمِ وَغَيْرِهِ وَإِذَا جَازَ أَخْذُ الْأُجْرَةِ عَلَيْهِ جَازَ أَنْ يَكُوْنَ مَهْرًا وَحَدِيْثُ ابْنِ عَبَّاسٍ أَصَحُّ مِنْ حَدِيْثِ عِبَادَةِ... “সাহাবী ইবনু আব্বাস রা. -এর হাদীসটি কিতাবুল্লাহ (কুরআন) তা‘লিমসহ অন্যান্যভাবে মজুরি গ্রহণ জায়েয হওয়ার ক্ষেত্রে ‘আম (ব্যাপকার্থক দলীল)। আর যখন কিতাবুল্লাহ’র তা‘লিম দ্বারা মজুরি গ্রহণ জায়েয তখন এ উপায়ে মোহর প্রদানও জায়েয হয়। আর ইবনু আব্বাসের রা. হাদীসটি উবাদাহ রা. -এর (ধনুক হাদিযা দেয়ার) হাদীসের থেকে বেশি শক্তিশালী।”⁶² ইমাম বায়হাকী র. কুরআন দ্বারা মজুরি গ্রহণ নাজায়েয হওয়ার যঈফ ও মনসূখ বর্ণনাগুলো সম্পর্কে লিখেছেন: قَالَ أَحْمَدُ: وَيُشْبِهُ إِنْ كَانَ شَيْءٌ مِنْ هَذَا ثَابِتًا أَنْ يَكُوْنَ مَنْسُوْخًا بِحَدِيْثِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَمَا رُوِيَ فِيْ مَعْنَاهُ عَنْ أَبِيْ سَعِيْدِ الْخُدْرِيِّ، وَيُسْتَدَلُّ عَلٰى ذٰلِكَ بِذَهَابِ عَامَّةِ أَهْلِ الْعِلْمِ عَلٰى تَرْكِ ظَاهِرِهِ، “ইমাম আহমাদ র. বলেন: যদি নাজায়েয হওয়ার হাদীস প্রমাণিত হয়, তবে তা ইবনু আব্বাসের রা. হাদীস দ্বারা মানসূখ হয়েছে। তা ছাড়া একই মর্মে আবূ সাঈদ খুদরী রা. -এর হাদীস রয়েছে। ফলে ‘আমভাবে আলেমগণ এ হাদীসগুলোর যাহেরি মর্মের আলোকে সে (যঈফ)গুলো বর্জন করেছেন।”⁶³

টিকাঃ
৬২. মা‘রিফাতু সুনান ওয়াল আছার ৫/৩৮১, শামেলী সংস্করণ: ১০/২২১ পৃ:, ۱۴২৫৯-৬৯ নং।
৬৩. মা‘রিফাতু সুনান ওয়াল আছার ৫/৩৮১, ৩৮২ শামেলী সংস্করণ: ১০/২২১ পৃ:, ১৪২৫৯ নং।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00