📘 দ্বীনী কাজের বিনিময় বা মজুরী > 📄 ইমাম নাওয়াবী (নূভী-নববী)-এর ব্যাখ্যা

📄 ইমাম নাওয়াবী (নূভী-নববী)-এর ব্যাখ্যা


ইমাম নাওয়াৰী (নূভী-নববী) رَضِيَ اللهُ عَنْهُ হাদীসটির ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে লিখেছেন:
قَوْلُهُ ﷺ : (خُذُوا مِنْهُمْ وَاضْرِبُوا لَهُمْ مَعَكُمْ) هَذَا تَصْرِيحٌ بِجَوَازِ أَخْذِ الْأُجْرَةِ عَلَى الرُّقْيَةِ بِالْفَاتِحَةِ وَالذِّكْرِ وَأَنَّهَا حَلَالٌ لَا كَرَاهَةَ فِيهَا وَكَذَا الْأُجْرَةُ عَلَى تَعْلِيمِ الْقُرْآنِ وَهَذَا مَذْهَبُ الشَّافِعِي وَمَالِكٍ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ وَأَبِي ثَوْرٍ وَآخَرِينَ مِنَ السَّلَفِ وَمَنْ بَعْدَهُمْ وَمِنْهُمْ أَبُو حَنِيفَةَ فِي تَعْلِيمِ الْقُرْآنِ وَأَجَازَهَا فِي الرُّقْيَةِ ... قَوْلُهُ ﷺ وَاضْرِبُوا لَهُمْ بِسَهْمٍ فَإِنَّهُ لَقِيَا تَفْلِقُوا لِقُلُومٍ وَمُبَالِغَةٍ فِي تَعْرِيفِهِمْ أَنَّهُ حَلَالٌ لَا شُبْهَةَ فِيهِ
“রাসূল ﷺ বাণী: 'তাদের থেকে সেগুলো নাও এবং তোমাদের বণ্টনের মধ্যে আমাকেও শরীক করো'- এটা সুস্পষ্টভাবে সূরা ফাতিহার ও যিকর দ্বারা ঝাড়-ফুঁকের মজুরি আয়ের বৈধতা দেয়। নিশ্চয় এটা হালাল যে ব্যাপারে কোনো আপত্তি নেই। তা'লিমুল কুরআনের মজুরির বৈধতাও অনুরূপ। এটা শাফেঈ, মালেক, আহমাদ, ইসহাক, আবূ সওর এবং অন্যান্য সালাফ ও তাদের পরবর্তীগণের মাযহাব। আর ইমাম আবূ হানিফা رَضِيَ اللهُ عَنْهُ তা'লিমুল কুরআনের মজুরি নিষেধ করেছেন ও ঝাড়-ফুঁকের ক্ষেত্রে অনুমতি দিয়েছেন।... (অতঃপর ইমাম নাওয়াৰী رَضِيَ اللهُ عَنْهُ বলেন) নবী ﷺ -এর উক্তি 'আমার জন্যও অংশ রেখো' - সাহাবীদের অন্তর পবিত্রকরণ ও গুরুত্বারোপের জন্য এটা করা হয়েছিল যে, এই মজুরি হালাল হবার ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই।”⁴⁶

টিকাঃ
৪৬. শরহে সহীহ মুসলিম লিন-নাওয়াৰী ২/২২৪।

📘 দ্বীনী কাজের বিনিময় বা মজুরী > 📄 ইমাম তিরমিযী –এর উপস্থাপনা

📄 ইমাম তিরমিযী –এর উপস্থাপনা


ইমাম তিরমিযী رَحِمَهُ اللهُ বলেন: وَرَخَّصَ الشَّافِعِيُّ لِلْمُعَلِّمِ أَنْ يَأْخُذَ عَلَى تَعْلِيمِ الْقُرْآنِ أَجْرًا، وَيَرَى لَهُ أَنْ يُشْتَرَطَ عَلَى ذَلِكَ، وَاحْتَجَّ بِهَذَا الْحَدِيثِ “ইমাম শাফেঈ رَحِمَهُ اللهُ শিক্ষকের জন্য তা’লিমুল কুরআনের মজুরিকে শিথিল করেছেন। আর সেটা হল, শিক্ষক এক্ষেত্রে শর্তও করতে পারে। এই হাদীসকে তিনি দলীল হিসেবে পেশ করেছেন।”⁴⁷

টিকাঃ
৪৭. সুনানে তিরমিযী হা/২০৬০ –এর আলোচনা।

📘 দ্বীনী কাজের বিনিময় বা মজুরী > 📄 ইমাম বুখারী –এর উপস্থাপনা

📄 ইমাম বুখারী –এর উপস্থাপনা


ইমাম বুখারী رَحِمَهُ اللهُ আলোচ্য হাদীসটি নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদের অধীনে এনেছেন: بَاب مَا يُفْعَلُ فِي الرُّقْيَةِ عَلَى أَحْيَاءِ الْعَرَبِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ “অনুচ্ছেদ: কোনো আরব গোত্রে সুরা ফাতিহা পড়ে ঝাড়-ফুঁক করার বদলে কিছু দেয়া হলে।”⁴⁸
এ থেকে প্রমাণিত হয়, ইমাম বুখারী رَحِمَهُ اللهُ-ও ঝাড়-ফুঁকের বিনিময় নেওয়াকে সমর্থন করেন। হাদীসটি অপর একটি অনুচ্ছেদের অধীনেও এনেছেন, যা নিম্নরূপ:
بَاب الشَّرْطِ فِي الرُّقْيَةِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ [بِقَطِيعٍ مِنَ الْغَنَمِ] “অনুচ্ছেদ: সুরা ফাতিহার দ্বারা ঝাড়-ফুঁকের ক্ষেত্রে (বকরির অংশ) শর্ত করা।”⁴⁹ বুখারী যাচ্ছে, ইমাম বুখারীর رَحِمَهُ اللهُ নিকট ঝাড়-ফুঁকের শর্ত আরোপ করা অর্থাৎ – এতটা বকরি বা টাকা-প্রভৃতি জায়েয। এছাড়া ইমাম বুখারী رَحِمَهُ اللهُ ‘বিবাহ অধ্যায়ে’ بَاب التَّزْوِيجِ عَلَى تَعْلِيمِ الْقُرْآنِ “অনুচ্ছেদ: তা’লিমুল কুরআনের বিনিময় (মোহর) দ্বারা বিবাহ” লিখেছেন। যা দ্বারা তিনি এই মাসআলাটিই প্রমাণ করেছেন যে, তা’লিমুল কুরআনকে বিনিময় বা মজুরি বানানো জায়েয।
ইমাম বুখারী রহ. ‘কিতাবুল ইজারাত’ একটি অনুচ্ছেদের ওপর প্রথামদিকে সাহাবী ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীসটি উল্লেখ করেছেন যেখানে এই শব্দগুলো ছিল:
إِنَّ أَحَقَّ مَا أَخَذْتُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا كِتَابُ اللَّهِ “নিশ্চয় তোমরা যেসব ক্ষেত্রে মজুরি নাও সেসব ক্ষেত্রে কিতাবুল্লাহ্-ই (কুরআন) বেশি হক (উপযুক্ত)।” অতঃপর লিখেছেন:
وَقَالَ الشَّعْبِيُّ: «لَا يُشْتَرَطُ الْمُعَلِّمُ، إِلَّا أَنْ يُعْطَى شَيْئًا فَيَقْبَلَهُ» وَقَالَ الْحَكَمُ: «لَمْ أَسْمَعْ أَحَدًا كَرِهَ أَجْرَ الْمُعَلِّمِ» وَأَعْطَى الْحَسَنُ دَرَاهِمَ عَشَرَةً শা‘বি রহ. বলেন: শিক্ষক কোনোরূপ (পারিশ্রমিকের) শর্তারোপ করবে না। তবে (বিনা শর্তে) যদি তাকে কিছু দেওয়া হয় তিনি তা গ্রহণ করতে পারেন। হাকাম রহ. বলেন: আমি এমন কারো কথা শুনিনি, যিনি শিক্ষকের পারিশ্রমিক গ্রহণ করাটাকে মাকরূহ মনে করেছেন। হাসান বসরি রহ. শিক্ষকের পারিশ্রমিক বাবদ দশ দিরহাম দিয়েছেন।⁵⁰
উক্ত হাদীস ও আছারগুলো দ্বারা ইমাম বুখারী রহ.-এর উদ্দেশ্য হলো, তা‘লিমুল কুরআনের বিনিময় জায়েয হিসেবে উল্লেখ করা।

টিকাঃ
৪৮. সহীহ বুখারী – কিতাবুল ইজারা হা/২২৭৬ নং এর পূর্বের অনুচ্ছেদ।
৪৯. সহীহ বুখারী– হা/৫৭০৭-এর পূর্বের অনুচ্ছেদ। বন্ধনীর অংশ ‘মাকতাবাতু শামেলাতে’ আছে, কিন্তু بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ নেই।
৫০. সহীহ বুখারী ২/২২৭৬-এর পূর্বের অনুচ্ছেদ।

📘 দ্বীনী কাজের বিনিময় বা মজুরী > 📄 ইমাম ইবনুল আরাবি মালিকী –এর বিশ্লেষণ

📄 ইমাম ইবনুল আরাবি মালিকী –এর বিশ্লেষণ


ইমাম ইবনুল আরাবি মালিকী রহ. (মৃত: ৫৪৩ হি.) সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণনাটির ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন: جوَازُ أَخْذِ الْأُجْرَةِ عَلَى الْقُرْآنِ وَقَدِ اتَّبَعَهُ بِقَوْلِهِ فِي الصَّحِيحِ إِنْ أَحَقُّ مَا أَخَذْتُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا كِتَابُ اللَّهِ “হাদীসটি থেকে কুরআনের দ্বারা মজুরি নেয়া জায়েয প্রমাণিত হয়। তা ছাড়া এর সমর্থন রয়েছে সহীহ বুখারীর ঐ হাদীসে যেখানে রয়েছে: নিশ্চয় তোমরা যেসব ক্ষেত্রে মজুরি নাও সেসব ক্ষেত্রে কিতাবুল্লাহ্-ই (কুরআন) বেশি হকদার (উপযুক্ত)।⁵¹”

টিকাঃ
৫১. আরিযাতুল আহওয়াযি শরহে তিরমিযী ১/২৬৮ পৃ:।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00