📘 দ্বীনী কাজের বিনিময় বা মজুরী > 📄 হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানীর ব্যাখ্যা

📄 হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানীর ব্যাখ্যা


لدغ হল: ছোবল মারা; যেমন- لسع (দংশন করা, কামড়ানো)। কেউ কেউ বলেন: সাপে কাটলে لسع বলে। আর বিচ্ছু কাটলে لدغ বলে। এদের প্রত্যেকটি অপরটির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়।⁴⁴ সাধারণত لدغ বিচ্ছু দংশন করলে এবং لسع সাপে দংশন করলে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু কখনো কখনো অপরটির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়।
وَاسْتَدَلَّ بِهِ الْجُمْهُورُ فِي جَوَازِ أَخْذِ الْأُجْرَةِ عَلَى تَعْلِيمِ الْقُرْآنِ وَخَالَفَ الْحَنَفِيَّةُ فَمَنَعُوْهُ فِي التَّعْلِيمِ وَأَجَازُوْهُ فِي الرُّقَى كَالدَّوَاءِ قَالُوا لِأَنَّ تَعْلِيمَ الْقُرْآنِ عِبَادَةٌ وَالْأَجْرُ فِيهِ عَلَى اللهِ وَهُوَ الْقِيَاسُ فِي الرُّقَى إِلَّا أَنَّهُمُ أَجَازُوْهُ فِيهَا لِهَذَا الْخَبَرِ وَحَمَلَ بَعْضُهُمُ الْأَجْرَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ عَلَى الثَّوَابِ وَسِيَاقُ الْقِصَّةِ الَّتِي فِي الْحَدِيثِ يَأْبَى هَذَا التَّأْوِيلَ وَادَّعَى بَعْضُهُمْ نُسْخَةٌ بِالْأَحَادِيثِ الْوَارِدَةِ فِي الْوَعِيدِ عَلَى أَخْذِ الْأُجْرَةِ عَلَى تَعْلِيمِ الْقُرْآنِ وَقَدْ رَوَاهَا أَبُو دَاوُدَ وَغَيْرُهُ وَتَعَقَّبَ بِأَنَّهُ الثَّبَاتُ لِلنَّسْخِ بِالِاحْتِمَالِ وَهُوَ مَرْدُودٌ وَبِأَنَّ الْأَحَادِيثَ لَيْسَ فِيهَا تَصْرِيحٌ بِالْمَنْعِ عَلَى الْإِطْلَاقِ بَلْ هِيَ وَقَائِعُ أَحْوَالٍ مُحْتَمِلَةٍ لِلتَّأْوِيلِ لِتُوَافِقَ الْأَحَادِيثَ الصَّحِيحَةَ كَحَدِيثِيْ الْبَابِ وَبِأَنَّ الْأَحَادِيثَ الْمَذْكُوْرَةَ أَيْضًا لَيْسَ فِيهَا مَا تَقُومُ بِهِ الْحُجَّةُ فَلَا تَعَارُضَ الْأَحَادِيثُ الصَّحِيحَةُ وَسَيَكُوْنُ لَنَا عَوْدَةٌ إِلَى الْبَحْثِ فِي ذَلِكَ فِي كِتَابِ النِّكَاحِ فِي بَابِ التَّزْوِيجِ عَلَى تَعْلِيمِ الْقُرْآنِ
“জুমহুর আলেম হাদীসটি থেকে তা'লিমুল কুরআনের বিনিময়কে জায়েয করার দলীল নিয়ে এর মজুরিকে গ্রহণ করেছেন। হানাফীগণ এক্ষেত্রে জুমহুরের বিরোধী পথে চলেছেন। তারা বলেন: তা'লিমুল কুরআনের মজুরি জায়েয নয়, অবশ্য ঝাড়ু-ফুঁকের মজুরি জায়েয। কেননা ঝাড়ু-ফুঁক হলো ওযুধের মতো (যার বিনিময় হয়)। হানাফীদের দলীল হল, তা'লিমুল কুরআন ইবাদাত। আর এর বিনিময় আল্লাহর যিম্মাদারীতে। আর কিয়াসের দাবি হল, ঝাড়ু-ফুঁকের ক্ষেত্রেও মজুরি না নেয়া। কিন্তু হানাফীগণ হাদীসটির আলোকে সেটা জায়েয গণ্য করেছেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন, হাদীসটিতে আজর (মজুরি) বলতে সওয়াবকে বুঝানো হয়েছে। কিন্তু হাদীসে ঘটনাটার ধারাবাহিকতা তা খণ্ডন করে। আবার কেউ বলেছেন, এই হাদীসটি ঐ সব হাদীস দ্বারা মানসুখ হয়েছে, যেখানে তা'লিমুল কুরআনের মজুরির ব্যাপারে ধমকি এসেছে, যা আবূ দাউদ প্রমুখ বর্ণনা করেছেন। এ লোকেরা এমন বিষয়ের অনুসরণ করছে, যাদের মানসুখ হওয়ার দাবিটি কেবলই ধারণা। আর ধারণার ভিত্তিতে মানসুখ হওয়ার বিষয়টি বাতিল। তা ছাড়া (বিরোধীপক্ষের) হাদীসগুলোতে উন্মুক্তভাবে নিষেধের সুস্পষ্টতা নেই। বরং সেগুলো বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের সাথে জড়িত- যা তাবিলের (ব্যাখ্যার) দাবি রাখে। ফলে অন্যান্য হাদীসের আলোকে, সেগুলো অন্যান্য সহীহ হাদীসের পরিপূরক হয়ে যায়। যেমন- আলোচ্য অনুচ্ছেদের হাদীসটি। তা ছাড়া (যঈফ হাদীস হওয়ায়) সেগুলো দ্বারা হুজ্জাত কায়েম করা যায় না। এমনকি হাদীসগুলো সহীহ হাদীসের বিরোধীও নয়। এর বিস্তারিত আলোচনা আমি (ইবনু হাজার) বিবাহ অধ্যায়ে (অনুচ্ছেদ: কুরআন শেখানোর বিনিময়ে বিবাহ) আলোচনা করেছি।"⁴⁵

টিকাঃ
44. লিসানুল কুরআন ৪/৩০০।
৪৫. ফাতহুল বারী ৪/৪৫৪ পৃ:।

📘 দ্বীনী কাজের বিনিময় বা মজুরী > 📄 ইমাম নাওয়াবী (নূভী-নববী)-এর ব্যাখ্যা

📄 ইমাম নাওয়াবী (নূভী-নববী)-এর ব্যাখ্যা


ইমাম নাওয়াৰী (নূভী-নববী) رَضِيَ اللهُ عَنْهُ হাদীসটির ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে লিখেছেন:
قَوْلُهُ ﷺ : (خُذُوا مِنْهُمْ وَاضْرِبُوا لَهُمْ مَعَكُمْ) هَذَا تَصْرِيحٌ بِجَوَازِ أَخْذِ الْأُجْرَةِ عَلَى الرُّقْيَةِ بِالْفَاتِحَةِ وَالذِّكْرِ وَأَنَّهَا حَلَالٌ لَا كَرَاهَةَ فِيهَا وَكَذَا الْأُجْرَةُ عَلَى تَعْلِيمِ الْقُرْآنِ وَهَذَا مَذْهَبُ الشَّافِعِي وَمَالِكٍ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ وَأَبِي ثَوْرٍ وَآخَرِينَ مِنَ السَّلَفِ وَمَنْ بَعْدَهُمْ وَمِنْهُمْ أَبُو حَنِيفَةَ فِي تَعْلِيمِ الْقُرْآنِ وَأَجَازَهَا فِي الرُّقْيَةِ ... قَوْلُهُ ﷺ وَاضْرِبُوا لَهُمْ بِسَهْمٍ فَإِنَّهُ لَقِيَا تَفْلِقُوا لِقُلُومٍ وَمُبَالِغَةٍ فِي تَعْرِيفِهِمْ أَنَّهُ حَلَالٌ لَا شُبْهَةَ فِيهِ
“রাসূল ﷺ বাণী: 'তাদের থেকে সেগুলো নাও এবং তোমাদের বণ্টনের মধ্যে আমাকেও শরীক করো'- এটা সুস্পষ্টভাবে সূরা ফাতিহার ও যিকর দ্বারা ঝাড়-ফুঁকের মজুরি আয়ের বৈধতা দেয়। নিশ্চয় এটা হালাল যে ব্যাপারে কোনো আপত্তি নেই। তা'লিমুল কুরআনের মজুরির বৈধতাও অনুরূপ। এটা শাফেঈ, মালেক, আহমাদ, ইসহাক, আবূ সওর এবং অন্যান্য সালাফ ও তাদের পরবর্তীগণের মাযহাব। আর ইমাম আবূ হানিফা رَضِيَ اللهُ عَنْهُ তা'লিমুল কুরআনের মজুরি নিষেধ করেছেন ও ঝাড়-ফুঁকের ক্ষেত্রে অনুমতি দিয়েছেন।... (অতঃপর ইমাম নাওয়াৰী رَضِيَ اللهُ عَنْهُ বলেন) নবী ﷺ -এর উক্তি 'আমার জন্যও অংশ রেখো' - সাহাবীদের অন্তর পবিত্রকরণ ও গুরুত্বারোপের জন্য এটা করা হয়েছিল যে, এই মজুরি হালাল হবার ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই।”⁴⁶

টিকাঃ
৪৬. শরহে সহীহ মুসলিম লিন-নাওয়াৰী ২/২২৪।

📘 দ্বীনী কাজের বিনিময় বা মজুরী > 📄 ইমাম তিরমিযী –এর উপস্থাপনা

📄 ইমাম তিরমিযী –এর উপস্থাপনা


ইমাম তিরমিযী رَحِمَهُ اللهُ বলেন: وَرَخَّصَ الشَّافِعِيُّ لِلْمُعَلِّمِ أَنْ يَأْخُذَ عَلَى تَعْلِيمِ الْقُرْآنِ أَجْرًا، وَيَرَى لَهُ أَنْ يُشْتَرَطَ عَلَى ذَلِكَ، وَاحْتَجَّ بِهَذَا الْحَدِيثِ “ইমাম শাফেঈ رَحِمَهُ اللهُ শিক্ষকের জন্য তা’লিমুল কুরআনের মজুরিকে শিথিল করেছেন। আর সেটা হল, শিক্ষক এক্ষেত্রে শর্তও করতে পারে। এই হাদীসকে তিনি দলীল হিসেবে পেশ করেছেন।”⁴⁷

টিকাঃ
৪৭. সুনানে তিরমিযী হা/২০৬০ –এর আলোচনা।

📘 দ্বীনী কাজের বিনিময় বা মজুরী > 📄 ইমাম বুখারী –এর উপস্থাপনা

📄 ইমাম বুখারী –এর উপস্থাপনা


ইমাম বুখারী رَحِمَهُ اللهُ আলোচ্য হাদীসটি নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদের অধীনে এনেছেন: بَاب مَا يُفْعَلُ فِي الرُّقْيَةِ عَلَى أَحْيَاءِ الْعَرَبِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ “অনুচ্ছেদ: কোনো আরব গোত্রে সুরা ফাতিহা পড়ে ঝাড়-ফুঁক করার বদলে কিছু দেয়া হলে।”⁴⁸
এ থেকে প্রমাণিত হয়, ইমাম বুখারী رَحِمَهُ اللهُ-ও ঝাড়-ফুঁকের বিনিময় নেওয়াকে সমর্থন করেন। হাদীসটি অপর একটি অনুচ্ছেদের অধীনেও এনেছেন, যা নিম্নরূপ:
بَاب الشَّرْطِ فِي الرُّقْيَةِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ [بِقَطِيعٍ مِنَ الْغَنَمِ] “অনুচ্ছেদ: সুরা ফাতিহার দ্বারা ঝাড়-ফুঁকের ক্ষেত্রে (বকরির অংশ) শর্ত করা।”⁴⁹ বুখারী যাচ্ছে, ইমাম বুখারীর رَحِمَهُ اللهُ নিকট ঝাড়-ফুঁকের শর্ত আরোপ করা অর্থাৎ – এতটা বকরি বা টাকা-প্রভৃতি জায়েয। এছাড়া ইমাম বুখারী رَحِمَهُ اللهُ ‘বিবাহ অধ্যায়ে’ بَاب التَّزْوِيجِ عَلَى تَعْلِيمِ الْقُرْآنِ “অনুচ্ছেদ: তা’লিমুল কুরআনের বিনিময় (মোহর) দ্বারা বিবাহ” লিখেছেন। যা দ্বারা তিনি এই মাসআলাটিই প্রমাণ করেছেন যে, তা’লিমুল কুরআনকে বিনিময় বা মজুরি বানানো জায়েয।
ইমাম বুখারী রহ. ‘কিতাবুল ইজারাত’ একটি অনুচ্ছেদের ওপর প্রথামদিকে সাহাবী ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীসটি উল্লেখ করেছেন যেখানে এই শব্দগুলো ছিল:
إِنَّ أَحَقَّ مَا أَخَذْتُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا كِتَابُ اللَّهِ “নিশ্চয় তোমরা যেসব ক্ষেত্রে মজুরি নাও সেসব ক্ষেত্রে কিতাবুল্লাহ্-ই (কুরআন) বেশি হক (উপযুক্ত)।” অতঃপর লিখেছেন:
وَقَالَ الشَّعْبِيُّ: «لَا يُشْتَرَطُ الْمُعَلِّمُ، إِلَّا أَنْ يُعْطَى شَيْئًا فَيَقْبَلَهُ» وَقَالَ الْحَكَمُ: «لَمْ أَسْمَعْ أَحَدًا كَرِهَ أَجْرَ الْمُعَلِّمِ» وَأَعْطَى الْحَسَنُ دَرَاهِمَ عَشَرَةً শা‘বি রহ. বলেন: শিক্ষক কোনোরূপ (পারিশ্রমিকের) শর্তারোপ করবে না। তবে (বিনা শর্তে) যদি তাকে কিছু দেওয়া হয় তিনি তা গ্রহণ করতে পারেন। হাকাম রহ. বলেন: আমি এমন কারো কথা শুনিনি, যিনি শিক্ষকের পারিশ্রমিক গ্রহণ করাটাকে মাকরূহ মনে করেছেন। হাসান বসরি রহ. শিক্ষকের পারিশ্রমিক বাবদ দশ দিরহাম দিয়েছেন।⁵⁰
উক্ত হাদীস ও আছারগুলো দ্বারা ইমাম বুখারী রহ.-এর উদ্দেশ্য হলো, তা‘লিমুল কুরআনের বিনিময় জায়েয হিসেবে উল্লেখ করা।

টিকাঃ
৪৮. সহীহ বুখারী – কিতাবুল ইজারা হা/২২৭৬ নং এর পূর্বের অনুচ্ছেদ।
৪৯. সহীহ বুখারী– হা/৫৭০৭-এর পূর্বের অনুচ্ছেদ। বন্ধনীর অংশ ‘মাকতাবাতু শামেলাতে’ আছে, কিন্তু بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ নেই।
৫০. সহীহ বুখারী ২/২২৭৬-এর পূর্বের অনুচ্ছেদ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00