📄 দ্বীনী কাজের বিনিময়ের বৈধতা
ইদানীং আযাবে কবর অস্বীকারকারীরা দীনি কাজের মজুরি বিষয়ক মাসআলাও নিজেদের একটি ইস্যু (Issue) বানিয়েছে। এ বিষয়টি তারা রাত-দিন তাবলিগ করছে যে, দীনি কাজের বিনিময় বা মজুরি নাজায়েয। এ সম্পর্কে তারা কিছু পুস্তিকাও প্রকাশ করেছে, যা দ্বারা তারা এক্ষেত্রে মজুরি অবৈধ হওয়ার দলীল উপস্থাপন করেছে। এটা অত্যন্ত অদ্ভুত বিষয় যে, আযাবে কবর সম্পর্কিত সহীহ, সুস্পষ্ট ও মুতাওয়াতির হাদীস থাকতেও তারা সেগুলো গ্রহণ করতে রাজি নয়। অথচ দীনি কাজের বিনিময়ের মাসআলাটিতে তারা যঈফ হাদীস উপস্থাপন করছে। পক্ষান্তরে যে সমস্ত সহীহ হাদীসে বিনিময় জায়েয করা হয়েছে, তারা সেগুলোকে তা’বিল করে ভিন্ন ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়েছে। এ বাতিল তা’বিল এ সমস্ত মুহাদ্দিসের বুকেও আসেনি, যারা হাদীসগুলো বর্ণনা করেছেন।
এ পর্যায়ে সহীহ হাদীসগুলো উপস্থাপন করব এবং যঈফ হাদীস, যা আযাবে কবর অস্বীকারকারীরা উপস্থাপন করে, সেগুলোর প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরব, ইনশাআল্লাহ।
প্রথম দলীল: একটি আরব গোত্র সাহাবীদের ঝাড়-ফুঁক ও তার বিনিময় গ্রহণ
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ اِنْطَلَقَ نَفَرٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ فِي سَفَرَةٍ سَافَرُوهَا حَتَّى نَزَلُوا عَلَى حَيٍّ مِنْ أَحْيَاءِ الْعَرَبِ فَاسْتَضَافُوهُمْ فَأَبَوْا أَنْ يُضَيِّفُوهُمْ فُلُدِغَ سَيِّدُ ذَلِكَ الْحَيِّ فَسَعَوْا لَهُ بِكُلِّ شَيْءٍ لَا يَنْفَعُهُ شَيْءٌ فَقَالَ بَعْضُهُمْ لَوْ أَتَيْتُمْ هَؤُلَاءِ الرَّهْطَ الَّذِينَ نَزَلُوا لَعَلَّهُ أَنْ يَكُونَ عِنْدَ بَعْضِهِمْ شَيْءٌ فَأَتَوْهُمْ فَقَالُوا يَا أَيُّهَا الرَّهْطُ إِنَّ سَيِّدَنَا لُدِغَ وَسَعَيْنَا لَهُ بِكُلِّ شَيْءٍ لَا يَنْفَعُهُ فَهَلْ عِنْدَ أَحَدٍ مِنْكُمْ مِنْ شَيْءٍ فَقَالَ بَعْضُهُمْ نَعَمْ وَاللَّهِ إِنِّي لَأَرْقِي وَلَكِنْ وَاللَّهِ لَقَدِ اسْتَضَفْنَاكُمْ فَلَمْ تُضَيِّفُونَا فَمَا أَنَا بِرَاقٍ لَكُمْ حَتَّى تَجْعَلُوا لَنَا جُعْلًا فَصَالَحُوهُمْ عَلَى قَطِيعٍ مِنَ الْغَنَمِ فَانْطَلَقَ يَتْفِلُ عَلَيْهِ وَيَقْرَأُ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ فَكَأَنَّمَا نَشِطَ مِنْ عِقَالٍ فَانْطَلَقَ يَمْشِي وَمَا بِهِ قَلَبَةٌ قَالَ فَأَوْفَوْهُمْ جُعْلَهُمْ الَّذِي صَالَحُوهُمْ عَلَيْهِ فَقَالَ بَعْضُهُمْ اقْسِمُوا فَقَالَ الَّذِي رَقَى لَا تَفْعَلُوا حَتَّى نَأْتِيَ النَّبِيَّ ﷺ فَنَذْكُرَ لَهُ الَّذِي كَانَ فَنَنْظُرَ مَا يَأْمُرُنَا فَقَدِمُوا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَذَكَرُوا لَهُ فَقَالَ وَمَا يُدْرِيكَ أَنَّهَا رُقْيَةٌ ثُمَّ قَالَ قَدْ أَصَبْتُمْ اقْسِمُوا وَاضْرِبُوا لِي مَعَكُمْ سَهْمًا فَضَحِكَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ وَقَالَ شُعْبَةُ حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ سَمِعْتُ أَبَا الْمُتَوَكِّلِ بِهَذَا
"সাহাবী আবু সাঈদ রাঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর একদল সাহাবী রাঃ কোনো এক সফরে যাত্রা করেন। তারা এক আরব গোত্রে পৌঁছে তাদের মেহমান হতে চাইলেন। কিন্তু তারা তাদের মেহমানদারি করতে অস্বীকার করল। ঐ গোত্রের সরদারকে বিষ দ্বারা দংশিত হল। লোকেরা তার (আরোগ্যের) জন্য সব ধরনের চেষ্টা করল। কিন্তু কিছুতেই কোনো উপকার হল না। তখন তাদের কেউ বলল, এই কাফেলা যারা এখানে এসেছে তাদের কাছে গেলে ভাল হতো। সম্ভবত, তাদের কারো কাছে কিছু থাকতে পারে। ওরা তাদের নিকট গেল এবং বলল, হে মুসাফির! আমাদের সরদারকে বিষ দংশন করেছে, আমরা সব রকমের চেষ্টা করেছি, কিন্তু কিছুতেই উপকার হচ্ছে না। তোমাদের কারো কাছে কিছু আছে কি? তাদের (সাহাবীদের) একজন বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! আমি ঝাড়-ফুঁক করব না, যে পর্যন্ত না তোমরা আমাদের জন্য পারিশ্রমিক নির্ধারণ কর। তখন তারা এক পাল বকরির শর্তে তাদের সাথে চুক্তি বদ্ধ হল। তারপর তিনি গিয়ে ‘আল-হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আ'লামীন’ (সুরা ফাতিহা) পড়ে তার উপর ফুঁ দিতে লাগলেন। ফলে সে (এমনভাবে নিরাময় হল) যেন বন্ধন থেকে মুক্ত হল এবং সে এমনভাবে চলতে ফিরতে লাগল যেন তার কোনো কষ্টই ছিল না। (বর্ণনাকারী বলেন,) তারপর তারা তাদের স্বীকৃত পারিশ্রমিক পুরোপুরি দিয়ে দিল। সাহাবীদের কেউ কেউ বললেন, এগুলো বন্টন কর। কিন্তু যিনি ঝাড়-ফুঁক করেছিলেন তিনি বললেন এটা করব না, যে পর্যন্ত না আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে গিয়ে তাঁকে এই ঘটনা জানাই এবং লক্ষ্য করি তিনি আমাদের কী নির্দেশ দেন। তারা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে তাঁকে ঘটনা বর্ণনা করলেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তুমি কীভাবে জানলে যে, সুরা ফাতিহা একটি (ঝাড়-ফুঁকের) দু'আ? তারপর বললেন: তোমরা ঠিকই করেছ। বন্টন কর এবং তোমাদের সাথে আমার জন্যও একটি অংশ রাখ। এ বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসলেন। শো'বা রাহিমাহুল্লাহ বলেন: আমার নিকট বিশর রাহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, আমি মুতাওয়াক্কিল রাহিমাহুল্লাহ-এর কাছ থেকে এ হাদীস শুনেছি।"⁴¹
হাদীসটি থেকে সুস্পষ্ট হয়, সাহাবীগণ ঝাড়-ফুঁকের যে মজুরি নিয়েছিলেন, সেটা নবী কেবল জায়েযই করেননি। বরং তাতে নিজের অংশ রাখার হুকুমও দিয়েছিলেন। ফলে সাহাবীগণের নিকট পারিশ্রমিকটি হালাল ও পবিত্র হওয়ার ব্যাপারে কোনো সংশয় থাকল না। তা ছাড়া নবী ঘটনাটি শুনে হেসেছিলেন ও খুশি হয়েছিলেন।
সাধারণত বর্ণনাগুলোতে ঝাড়-ফুঁককারীর নাম উল্লেখ নেই। কিন্তু মুসনাদে আহমাদ (৩/১০) ও জামে’ তিরমিযীর (২/২৩৩০) বর্ণনানুযায়ী ঝাড়-ফুঁককারী স্বয়ং হাদীসটির বর্ণনাকারী সাহাবী আবূ সাঈদ খুদরী ছিলেন।
সহীহ বুখারী, মুসনাদে আহমাদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ্র বর্ণনাতে বকরির সংখ্যা ৩০টি উল্লেখ করা হয়েছে।
মুসনাদে আহমাদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ্র বর্ণনাতে আছে, সূরা ফাতিহা সাত বার পড়ে উক্ত ব্যক্তির প্রতি ফুঁক দেয়া হয়। আর যে থুতু জমে যেত এ সাহাবী তা যখমের স্থানে লাগাতেন।
সহীহ বুখারীর (২/২২৭৬) বর্ণনাটিতে আছে, নবী ঘটনাটি শুনে বলেছিলেন: قَدْ أَصَبْتُمْ ‘তোমরা ঠিকই করেছ।’ আবার আবূ দাউদের (২/৩৮০০) বর্ণনাতে আছে: أَحْسَنْتُمْ ‘তোমরা ভালই করেছ।’
সহীহ মুসলিম ও অন্যান্য বর্ণনাতে আছে, সাহাবীদেরকে গোত্রের একজন মহিলা বলেছিল, তাদের সরদারকে সাপ ছোবল দিয়েছে। এমনকি শেষাবধি গোত্রের লোকেরা মজুরি প্রদানের সাথে সাথে সাহাবীদেরকে দুধ দ্বারা আপ্যায়ন করে (وَسَقَوْنَا لَبَنًا) 182
গোত্রের লোকেরা এভাবে সাহাবীদেরকে অতিথি সেবা দানের মাধ্যমে চরম উদারতার প্রদর্শন করে নিজেদের অধীনে নেয়।
টিকাঃ
৪১. সহীহ: সহীহ বুখারী- ‘কিতাবুল ইজারাহ’ بَابُ مَا يُعْطَى فِي الرُّقْيَةِ عَلَى أَحْيَاءِ الْعَرَبِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ (অনুচ্ছেদ: কোনো আরব গোত্রে সুরা ফাতিহা পড়ে ঝাড়-ফুঁক করার বদলে কিছু দেয়া হলে) হা/২২৭১। আরও দ্র: সহীহ বুখারী হা/৫০০৭, ৫৭০৬, ৫৭১৪; সহীহ মুসলিম - ‘কিতাবুস সালাম’ بَابُ جَوَازِ أَخْذِ الْأُجْرَةِ عَلَى الرُّقْيَةِ بِالْقُرْآنِ وَالْأَذْكَارِ (অনুচ্ছেদ: কুরআন ও যিকরের দ্বারা ঝাড়-ফুঁকে মজুরি গ্রহণ), আবূ দাউদ হা/৩৪৩৩, তিরমিযী হা/২০৬৩, মুসনাদে আহমাদ ৩/২, ১০, ৪৪, ৫০, ৮৮ পৃঃ; ফতহুর রব্বানী তারতীব মুসনাদে আহমাদ ১৭/১৬৪-১৬৫ পৃঃ প্রভৃতি।
82. সহীহ: সহীহ মুসলিম – কিতাবুল আদাব [بَاب جَوَازِ أَخْذِ الْأُجْرَةِ عَلَى الرُّقْيَةِ بِالْقُرْآنِ وَالْأَذْكَارِ] ওয়াল আযকার।
📄 দ্বিতীয় দলীল: কুরআন মাজীদ শেখানোকে মোহর নির্ধারণ করা
সাহাবী সাহাল বিন সা'দ সায়িদী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসের মর্ম হল: একজন মহিলা নিজেকে নাবী (সা.)-এর সাথে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু নাবী (সা.)-এর কোনো আগ্রহ ছিল না। একজন সাহাবী (রা.) নাবী (সা.)-এর নিকট ঐ মহিলাকে বিয়ের আবেদন করে। কিন্তু তার কাছে মোহর দেওয়ার মতো কিছুই ছিল না। শেষাবধি তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, তার কি কুরআনের কিছু হেফয আছে? সবশেষে নাবী (সা.) তাকে বললেন:
(১) অন্যত্র বর্ণিত আছে: اذْهَبْ فَقَدْ أَنْكَحْتُكَهَا بِمَا مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ “যাও, তোমাকে তার সাথে বিয়ে দিলাম তোমার কাছে কুরআনের যা আছে তার বিনিময়ে।”⁶⁷
(২) অন্যত্র বর্ণিত আছে: فَقَدْ زَوَّجْتُكَهَا بِمَا مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ “তোমার সাথে তার বিয়ে দিলাম, যেটুকু কুরআন তোমার কাছে আছে তার বিনিময়ে।”⁶⁸
(৩) অন্যত্র বর্ণিত আছে: فَقَدْ زَوَّجْنَاكَهَا بِمَا مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ “ফদ তোমাকে কাছে কুরআনের যা আছে, তার বিনিময়ে মহিলাটির সাথে তোমার বিয়ে দিলাম।”⁶⁹
(৪) অন্যত্র বর্ণিত আছে: اذْهَبْ فَقَدْ مَلَّكْتُكَهَا بِمَا مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ “যাও, তোমার কাছে কুরআনের যেটুকু আছে, তার বিনিময়ে তার সাথে তোমার বিয়ে দিলাম।”⁷⁰
(৫) অন্যত্র বর্ণিত আছে: أَمْلَكْنَاكَهَا بِمَا مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ “আমি তার সাথে তোমার বিয়ে দিলাম, যেটুকু কুরআন তোমার কাছে আছে তার বিনিময়ে।”⁷¹
এই হাদীসটি ইমাম বুখারী (রহ.) সহীহ বুখারীতে ঢের বার উল্লেখ করেছেন। আর প্রতিটি স্থানে তিনি হাদীসটির আলোকে কোনো না কোনো মাসআলা উল্লেখ করেছেন। একটি স্থানে ইমাম বুখারী (রহ.) নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদের অধীনে হাদীসটি এনেছেন:
بابُ التَّزْوِيجِ عَلَى الْقُرْآنِ وَغَيْرِ صَدَاقٍ. “অনুচ্ছেদ: কুরআন শিক্ষার বিনিময়ে মোহর ব্যতীত বিয়ে প্রদান।”⁹²
হাফেয ইবনু হাজার رَحِمَهُ اللّٰهُ অনুচ্ছেদটির দাবি সম্পর্কে লিখেছেন: أَيْ عَلَى تَعْلِيمِ الْقُرْآنِ وَغَيْرِ صَدَاقٍ مَالِيٍّ غَنِيٍّ. “অর্থাৎ তা‘লিমুল কুরআনের বিনিময় এবং বাহ্যিক মাল ছাড়া বিয়ে করা।”⁹³
আল্লামা সিদ্দীক رَحِمَهُ اللّٰهُ লিখেছেন: عَلَى مَا مَعَكَ أَي عَلَى تَعْلِيمِهَا “যে কুরআন তোমার কাছে আছে- অর্থাৎ যা তুমি তাকে তা‘লিম দিবে।”⁹⁴
হাদীসটি আরও যেসব প্রসিদ্ধ কিতাবে রয়েছে তার কয়েকটি নিম্নরূপ:
ক) সহীহ মুসলিম - কিতাবুন নিকাহ (باب الصداق) (অনুচ্ছেদ: মোহর)
খ) আবূ দাউদ - কিতাবুন নিকাহ (بَابٌ فِي التَّزْوِيجِ عَلَى الْعَمَلِ) (অনুচ্ছেদ: কাজের বিনিময়ে বিয়ে)
গ) তিরমিযী - কিতাবুন নিকাহ (بَابُ مَا جَاءَ فِي مُهُورِ النِّسَاءِ) (অনুচ্ছেদ: মহিলাদের মোহর সম্পর্কে যা এসেছে)।
ঘ) নাসাঈ – কিতাবুন নিকাহ (إباحَةُ التَّزَوُّجِ بِغَيْرِ صَدَاقٍ) (অনুচ্ছেদ: সম্পদের মোহর ব্যতীত বিয়ের বৈধতা)
ইমাম তিরমিযী رَحِمَهُ اللّٰهُ লিখেছেন: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ، وَقَدْ ذَهَبَ الشَّافِعِيُّ إِلَى هَذَا الْحَدِيثِ، فَقَالَ: «إِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ شَيْءٌ يُصَدِّقُهَا فَيُزَوِّجُهَا عَلَى سُورَةٍ مِنَ الْقُرْآنِ، فَالنِّكَاحُ جَائِزٌ، وَيُعَلِّمُهَا سُورَةً مِنَ الْقُرْآنِ». وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ: النِّكَاحُ جَائِزٌ، وَيَجْعَلُ لَهَا صَدَاقَ مِثْلِهَا، وَهُوَ قَوْلُ أَهْلِ الْكُوفَةِ، وَأَحْمَدَ، وَإِسْحَاقَ.
"এই হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমাম শাফেঈ রাহিমাহুল্লাহ এই হাদীস অনুসারে অভিমত প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, কারো যদি মোহর প্রদানের মতো কিছু না থাকে আর সে কোনো মহিলাকে কুরআনের কোনো সূরার বিনিময়ে বিয়ে করে তবে সে বিয়ে জায়েয। আর ঐ ব্যক্তি এই মহিলাকে কুরআনের সেই সূরা শিখিয়ে দেবে। কোনো কোনো আলেম বলেন, এমতাবস্থায় বিয়ে জায়েয হবে। তবে মহিলাকে মোহরও মিসালও দিতে হবে। এ হল, কুফাবাসী আলেম, আহমাদ ও ইসহাকের উক্তি।"⁷⁵
টিকাঃ
৬৭. সহীহ বুখারী হা/৫১৪৯।
৬৮. সহীহ বুখারী হা/৫০২৯, ৫১৩২।
৬৯. সহীহ বুখারী হা/৫০৩০, ৫১৩৫।
৭০. সহীহ বুখারী হা/৫০০৩, ৫০৮৭, ৫১২৬।
৭১. সহীহ বুখারী হা/৫১৩৯।
৯২. সহীহ বুখারী ২/৯৪৯-এর পূর্বের অনুচ্ছেদ।
৯৩. ফাতহুল বারী ৯/২০৫ পৃ:, আলোচ্য অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দ্র:।
৯৪. মূল লেখক সূত্রটি উল্লেখ করতে ভুলে গেছেন। আমরাও বুঝতে পারছি না কোথা থেকে তা নেয়া হয়েছে। – অনুবাদক
৭৫. সুনানে তিরমিযী হা/১১৪৪-এর শেষাংশ।
📄 তৃতীয় দলীল: খারিজাহ বিন সালতের বর্ণনা
عَنْ خَارِجَةَ بْنِ الصَّلْتِ عَنْ عَمِّهِ قَالَ: أَقْبَلْنَا مِنْ عِندِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فأنبينا عَلَى حَيٍّ مِنَ الْعَرَبِ فَقَالُوا: إِنَّا أَنبَأْنَا أَنَّكُمْ قَدْ جِئْتُمْ مِنْ عِندِ هَذَا الرَّجُلِ بِخَيْرٍ فَهَلْ عِندَكُمْ مِنْ دَوَاءٍ أَوْ رُقْيَةٍ فَإِنَّ عِندَنَا مَجْنُونًا فِي الْقُيُودِ فَقُلْنَا: نَعَمْ فَجَاءُوا بِمَعْتُوهِ فِي الْقُيُودِ فَقَرَأَتْ عَلَيْهِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ غَدْوَةً وَعَشِيَّةً أَجْمَعُ بَزَاقِي ثُمَّ أَتْفُلُ قَالَ: فَكَأَنَّمَا أُنْشِطَ مِنْ عِقَالٍ فَأَعْطَوْنِي جُعْلًا فَقُلْتُ: لَا حَتَّى أَسْأَلَ النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ: «كُلْ فَلَعَمْرِي لَمَنْ أَكَلَ بِرُقْيَةٍ بَاطِلٍ لَقَدْ أَكَلْتَ بِرُقْيَةٍ حَقٍّ»
“(তাবেঈ) খারিজা ইবনু সালত তার চাচা (সাহাবী ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একবার আমরা রসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট হতে রওয়ানা করলাম এবং একটি আরব গোত্রের নিকট পৌঁছলাম। তারা বলল, আমরা সংবাদ পেয়েছি, আপনারা এই ব্যক্তির (রসূলুল্লাহ ﷺ-এর) নিকট থেকে কল্যাণ (কুরআন) নিয়ে এসেছেন। আপনাদের নিকট কি কোনো ওষধ বা মন্ত্র আছে? আমাদের নিকট বাঁধা একটি পাগল আছে। আমরা বললাম, হ্যাঁ, আছে। তারা বাঁধা অবস্থাতে পাগলটাকে নিয়ে আসল। আমি তিন দিন সকাল-সন্ধ্যা একরূপে সূরা ফাতিহা পড়লাম যে, আমি আমার থুতু তার উপর থুকতাম। তিনি বলেন, এতে সে যেন হঠাৎ বন্ধন অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে গেল। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তারা আমাকে কিছু বিনিময় দিল। আমি বললাম: না (তা আমি নেব না), যতক্ষণ না নবী ﷺ-কে জিজ্ঞাসা করি। [অতঃপর আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম] তিনি ﷺ বললেন: খাও! আমার জীবনের শপথ, কিছু লোক তো বাতিল মন্ত্র দ্বারা উপার্জন করে থাকে। আর তুমি উপার্জন করেছ সত্য ঝাড়ু-ফুঁক দ্বারা।”¹⁰⁰
এই বর্ণনাটির একজন রাবী খারিজাহ বিন সালত। হাফেয ইবনু হাজার রাহিমাহুল্লাহু তাকে ‘তাক্বরীবে’ (১/২৫৪ পৃ: ১৬১৮ নং) মাকবুল বলেছেন। আর ইয়াহাবী রাহিমাহুল্লাহু বলেছেন: عَمُ الْصَدَقِ (তিনি সত্যনিষ্ঠ)।¹⁰⁴
হাফেয ইবনু হাজার রাহ. অন্যত্র বলেছেন: ...عن عبد الله بن مسعود وعنه الشعبي وعبد الأعلى بن الحكم الكلبي ذكره بن حيان في الثقات قلت وقد قال بن أبي خيثمة إذا روى الشعبي عن رجل وسماه فهو ثقة بختم تعذيبه "...তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তার থেকে বর্ণনা করেছেন শা'বি ও আব্দুল আ'লা বিন হাকাম আল-কালবি। ইবনু হিব্বান রাহ. তাকে 'সিকাহ' উল্লেখ করেছে। ইবনু আবী খায়সামাহ রাহ. বলেছেন: যখন ইমাম শা'বি কারো কাছ থেকে ও তার নাম উল্লেখ করেন- তখন তিনি সিকাহ হলে তার হাদীস দ্বারা দলীল দিতেন।"¹⁰⁰
এই হাদীসটির রাবী ইমাম শা'বি। আর তিনি রাহ. হাদীসটি খারিজাহ বিন সালত থেকে বর্ণনা করেছেন ও তার নাম উল্লেখ করেছেন। এ কারণে উপরে বর্ণিত উসূলের আলোকে হাদীসটি সহীহ। আর এ পর্যায়ে হাদীসটি মাকবুল স্তরের উপরে। আর যদি হাদীসটিকে 'আম উসূলের আলোকে তাকে মাকবুল গণ্য করি, তা হলেও মুতাবা' (সমর্থক) হাদীসের আলোকে মাকবুল বর্ণনাটি সহীহ স্তরে উত্তীর্ণ হয়। আর নিঃসন্দেহে হাদীসটি আবু সাঈদ খুদরী রা. ও ইবনু আব্বাস রা.-এর সহীহ হাদীসের জবরদস্ত মুতাবা'। তা ছাড়া ইমাম হাকিম রাহ. ও হাফেয যাহাবী রাহ. হাদীসটিকে সহীহ গণ্য করেছেন। আর খারিজাহ বিন সালত পর্যন্ত হাদীসটি সম্পূর্ণ সহীহ ও মুতাওয়াত্বির।¹⁰¹
এই হাদীসটি থেকে প্রমাণিত হল, ১) ঝাড়-ফুঁকের মজুরি বৈধ। ২) জায়েয ঝাড়-ফুঁকের মজুরি বৈধ এবং নিষিদ্ধ মজুরি সেটাই, যা অবৈধ ও ভ্রান্ত ঝাড়-ফুঁকের মাধ্যমে অর্জিত হয়। কিছু মানুষ উল্টা-পাল্টা মন্ত্রের মাধ্যমে লোকদের অর্থ হাতিয়ে নেয়। সুতরাং সঠিক ও ভুলকে এক করা, হক ও না-হককে সমান মনে করা বৈধ নয়, যা সহীহ এবং তার দ্বারা ইসলাম মজুরি অর্জনের অনুমতি দিয়েছে, কারো ব্যক্তিগত বক্তব্যের দ্বারা তাকে নাজায়েয গণ্য করা যায় না।
তা ছাড়া হাদীসটির আরও সমর্থন রয়েছে কায়েস বিন আবী হাযেমের হাদীসে: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، قَالَ: أَتَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ رَجُلٌ فَقَالَ: إِنِّي رَقَيْتُ فُلاَنًا وَكَانَ بِهِ جُنُونٌ، فَأُعْطِيتُ قَطِيعًا مِنَ غَنَمٍ، وَإِنَّمَا رَقَيْتُهُ بِالْقُرْآنِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: «مَنْ أَخَذَ بِرُقْيَةٍ بَاطِلٍ فَقَدْ أَخَذَتْ بِرُقْيَةٍ حَقٍّ»
“...ক্বায়েস বিন আবী হাযম থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল: আমি অমুক ব্যক্তিকে ঝাড়-ফুঁক করেছি, সে পাগল ছিল। (সুস্থ হওয়ার পর) সে আমাকে এক পাল বকরি দিয়েছে। এক্ষেত্রে তাকে কুরআন দ্বারা ঝাড়-ফুঁক করা হয়েছে। তখন রসূলুল্লাহ ﷺ বললেন: যারা বাতিল ঝাড়-ফুঁক দ্বারা অর্জন করে (তা অন্যায়)। আর তুমি হক্ক ঝাড়-ফুঁক দ্বারা তা অর্জন করেছ (সুতরাং এই মজুরি বৈধ)।" ¹⁰⁷ এই হাদীসের সমস্ত রাবী সিক্বাহ। ... ক্বায়েস বিন আবী হাযমও সিক্বাহ। কিছু বর্ণনানুযায়ী তিনি যখন নবী ﷺ-এর কাছে মদীনাত উপস্থিত হন, তখন নাবী ﷺ মারা গিয়েছেন। ... ¹⁰⁸
টিকাঃ
১০০. আবূ দাউদ ২/০৪২০, আহমাদ ৫/২৩০-১১ পৃ: হা/২২৬৭৯-৮০, মিশকাত (এমাদা) ৬/২৬৫ নং। শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (তা. আবু দাউদ ২/০৪২০, সহীহাহ ২/২০২৭)। শাইখ যুবায়েব আলী যায়ী রাহিমাহুল্লাহু হাদীসকে হাসান বলেছেন (তা. উর্দূ মিশকাত হা/২৩৬৬)।
১০৪. আল-কাশিফ ১/২২২ পৃ., হা/১০০৯ নং।
১০০. তাহযিবুত তাহযিব ৬/৭৫-৭৬ (শামেলা:২/৪১ পৃ: ১৪২ নং)।
১০১. মুস্তাদরাকে হাকিম ১/১৫৯-৬০; তা ছাড়া ইবনু হিব্বান তাঁর 'সহীহ'-তে (৫/৬১১০) ও হাফেয যাহাবী রাহ. 'আল-আ'রাকারে' (১/৩৩৫) হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। -অনুবাদক
১০৭. মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ ৫/৪৪৬ পৃ: – চিকিৎসা অধ্যায় فِي الْأَخْذِ عَلَى الرُّقْيَةِ، مِنْ رُخَّصَ فِيهَا (শামেলা সংস্করণ: হা/২৫৮৮৬)
১০৮. হাদীসটি মুরসাল গণ্য করলেও পূর্বের সহীহ ও হাসান হাদীসগুলোর সমর্থনে উপস্থাপন যোগ্য। - অনুবাদক
📄 চতুর্থ দলীল: যাকাত আদায়কারী (সূরা তাওবা ৬০ আয়াতের প্রথমাংশ)
আল্লাহ্ ﷺ বলেন:
إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا
“নিশ্চয় সাদাক্বাহ (যাকাত) ফক্বীর, মিসকীন ও তা আদায়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের জন্য...।” [সূরা তাওবাহ: ৬০ আয়াত]
আল্লাহ্ ﷺ যাকাত প্রাপ্তদেরকে আটটি ভাগে ভাগ করেছেন। এর মধ্যে তৃতীয় ভাগটি যাকাত আদায়ে নিযুক্ত ব্যক্তি বা 'আমিলদের' জন্য নির্ধারিত। তাদের যাকাত আদায়ের কাজের জন্য বেতন বা মজুরি দেয়া হয়। যাকাত একটি ফরয (মালী) ইবাদাত, যা আদায়কারীদের জন্য আয়াতটিতেই মজুরি দেয়ার হুকুম দেয়া হয়েছে। এ থেকে প্রমাণিত হল, ফরয ইবাদাতের ক্ষেত্রে মজুরি গ্রহণ করা বৈধ। ... [সংযোজন: মূলত এই ধরনের ইবাদাতের সাথে মানুষের হক্ব জড়িত, যা কেবল হুকুমগত ইবাদাতই নয় বরং সামাজিক দায়-দায়িত্বের সাথেও সম্পৃক্ত। এখানে আল্লাহর হকের সাথে সাথে বান্দার হক্বও জড়িত। ফলে এখানে দুনিয়াবী বা বস্তগত পরিশ্রম বা লেনদেনের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে। আর এ কারণেই এটা দীনি দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তার মজুরি বৈধ। পক্ষান্তরে সালাতের সাথে কোনো দুনিয়াবী লেনদেনের সম্পর্ক নেই। এ কারণে সালাতের কোনো মজুরি হয় না। কিন্তু ইমাম যখন সামাজিক বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের সাথে জড়িত হন এবং সালাতেরও ইমামতি করেন- তখন খলিফা, ক্বাযী প্রভৃতির ন্যায় এ দায়িত্বের কারণে বেতন বা মজুরি পাবেন। সমাজের ইমাম হওয়ার সালাত পড়ানোটা তার অপর একটি স্বতন্ত্র দায়িত্ব। কিন্তু সেক্ষেত্রে তিনি কেবল সালাতের ইমামই নন, বরং সমাজেরও ইমাম/প্রধান হিসেবে মেনে নেয়াটাও শর্ত। তার নির্দেশেই মুসলিমরা মসজিদভিত্তিক জীবন-যাপন ও আনুগত্য করতে বাধ্য। – অনুবাদক]
হাফেয সালাহুদ্দীন ইউসুফ লিখেছেন: “অর্থ: রাষ্ট্রের ঐ দায়িত্বশীল, যে যাকাত ও সাদাকা আদায়, বন্টন ও হিসাব-কিতাব রাখে।” ১০০৯ এ সম্পর্কে হাদীসে যে ব্যাখ্যা এসেছে তা নিম্নরূপ:
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَنَنِي السَّائِبُ بْنُ يَزِيدَ ابْنُ أُخْتِ نَمِرٍ أَنَّ عُوَيْقِبَ بْنَ عَبْدِ الْعُزَّى أَخْبَرَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ السَّعْدِيِّ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ قَدِمَ عَلَى عُمَرَ فِي خِلافَتِهِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ أَلَمْ أُحَدَّثْ أَنَّكَ تَلِي مِنْ أَعْمَالِ النَّاسِ أَعْمَالا فَإِذَا أُعْطِيتَ الْعِمَالَةَ كَرِهْتَهَا فَقُلْتُ بَلَى فَقَالَ عُمَرُ فَمَا تُرِيدُ إِلَى ذَلِكَ قُلْتُ إِنَّ لِي أَفْرَاسًا وَأَعْبُدًا وَأَنَا بِخَيْرٍ وَأُرِيدُ أَنْ تَكُونَ عِمَالَتِي صَدَقَةً عَلَى الْمُسْلِمِينَ قَالَ عُمَرُ لا تَفْعَلْ فَإِنِّي كُنْتُ أَرَدْتُ الَّذِي أَرَدْتَ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُعْطِينِي الْعَطَاءَ فَأَقُولُ أَفْقِرُ إِلَيْهِ مِنِّي حَتَّى أَعْطَانِي مَرَّةً مَالا فَقُلْتُ أَفْقِرُ إِلَيْهِ مِنِّي فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ خُذْهُ فَتَمَوَّلْهُ وَتَصَدَّقْ بِهِ فَمَا جَاءَكَ مِنَ هَذَا الْمَالِ وَأَنْتَ غَيْرُ مُشْرِفٍ وَلا سَائِلٍ فَخُذْهُ وَإِلا فَلا تُتْبِعْهُ نَفْسَكَ وَعَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ حَدَّثَنِي سَالِمٌ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُعْطِينِي الْعَطَاءَ فَأَقُولُ أَفْقِرُ إِلَيْهِ مِنِّي حَتَّى أَعْطَانِي مَرَّةً مَالا فَقُلْتُ أَفْقِرُهُ مِنْ هُوَ أَفْقَرُ إِلَيْهِ مِنِّي فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ خُذْهُ فَتَمَوَّلْهُ وَتَصَدَّقْ بِهِ فَمَا جَاءَكَ مِنْ هَذَا الْمَالِ وَأَنْتَ غَيْرُ مُشْرِفٍ وَلا سَائِلٍ فَخُذْهُ وَإِلا فَلا تُتْبِعْهُ نَفْسَكَ
“...আব্দুল্লাহ বিন সা'দী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, উমার (রাঃ)-এর খিলাফতকালে তিনি একবার তাঁর কাছে আসলেন। তখন উমার (রাঃ) তাঁকে বললেন: আমাকে কি এ সম্পর্কে জানানো হয়নি যে, তুমি জনগণের অনেক দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়ে থাক। কিন্তু যখন তোমাকে এর পারিশ্রমিক দেয়া হয়, তখন তুমি সেটা নেয়া অপছন্দ কর? আমি বললাম: হ্যাঁ। উমার (রাঃ) বললেন: কী কারণে তুমি এরূপ কর? আমি বললাম: আমার অনেক ঘোড়া ও গোলাম আছে এবং আমি ভাল অবস্থায় আছি। কাজেই আমি চাই যে, আমার পারিশ্রমিক সাধারণ মুসলিমদের জন্য সাদাকাহ হিসেবে গণ্য হোক। উমার (রাঃ) বললেন: এরকম করো না। কেননা, আমিও তোমার মতো এরকম ইচ্ছা পোষণ করতাম। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন আমাকে কিছু দিতেন, তখন আমি বলতাম, আমার চেয়ে যার প্রয়োজন বেশি তাকে দিন। একবার তিনি তিনি আমাকে কিছু মাল দিলেন। আমি বললাম: এই মাল আমার চেয়ে যার বেশি প্রয়োজন তাকে দিন। তখন নাবী (সাঃ) বললেন: এটা নিয়ে মালদার হও এবং তা বৃদ্ধি করে সাদাকাহ করো। তা না হলে এর পিছনে নিজেকে নিয়োজিত করো না।”১০১০
وَعَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، قَالَ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُولُ: كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُعْطِينِي الْعَطَاءَ، فَأَقُولُ أَعْطِهِ أَفْقَرَ إِلَيْهِ مِنِّي، حَتَّى أَعْطَانِي مَرَّةً مَالاً، فَقُلْتُ: أَعْطِهِ مَنْ هُوَ أَفْقَرُ إِلَيْهِ مِنِّي، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ: «خُذْهُ، فَتَمَوَّلْهُ، وَتَصَدَّقْ بِهِ، فَمَا جَاءَكَ مِنْ هَذَا الْمَالِ وَأَنْتَ غَيْرُ مُشْرِفٍ وَلَا سَائِلٍ فَخُذْهُ، وَمَا لَا فَلَا تُتْبِعْهُ نَفْسَكَ»
‘‘ইমাম যুহরি (রহ.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমাকে সালিম বিন আবদুল্লাহ বর্ণনা করেন, আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রা.)-কে বলতে শুনেছি: নবী (সা.) যখন আমাকে কিছু দান করতেন, তখন আমি বলতাম, আমার চেয়ে যার অধিক প্রয়োজন তাকে দিন। এভাবে একবার আমাকে কিছু মাল দিলেন। আমি বললাম, আমার চেয়ে যার আরও অধিক প্রয়োজন তাকে দিন। তিনি (সা.) বললেন: এটা নিয়ে নাও এবং বৃদ্ধি করে তা থেকে সাদাকাহ্ কর। আর এ রকম মালের যা-কিছু তোমার কাছে এমন অবস্থায় আসে যে, তুমি তার আশা কর না এবং প্রার্থীও নও তা হলে তা গ্রহণ কর। তবে যা এভাবে আসবে না নিজেকে তার অনুসারী বানাবে না।’’¹¹¹
সহীহ বুখারীর উর্দু অনুবাদক শাইখ দাউদ রায় লিখেছেন: ‘‘সুবহানাল্লাহ! নবী (সা.) এমন কথা বললেন যা উমার (রা.)-এর চিন্তাতেও আসেনি। অর্থাৎ যদি উমার (রা.) অর্থ না নিয়ে ফেরত দিতেন- সেটা অতটা ফায়দা দেতো না যতটা ফায়দা হতো তা গ্রহণ করে সাদাকাহ্ করাতে। কেননা এর ফলে সে সাদাকাহ্র সওয়াবও পাচ্ছে। মুহাক্কিক্বগণ বলেন, অনেক সময় এ ধরনের মাল গ্রহণ না করার ক্ষেত্রে নফসে অহংকার সৃষ্টি হয়। এমনটি হলে (অহংকার ত্যাগ করার জন্য) মাল গ্রহণ করা উচিত। অতঃপর সে তা দান করবে- এটা মাল গ্রহণ না করার থেকে উত্তম। আজকের সময় দ্বীনী খেদমাতদাতাদের জন্য এটা করাই উত্তম। ...’’¹¹²
হাদীস দুটি থেকে সুস্পষ্ট হল, দ্বীনী কাজের যে বিনিময় পাওয়া যায় তার উপর সন্তুষ্ট থাকা উচিৎ। বেশি আবেদন ও সুপারিশ করা ঠিক না। কেননা মুমিনের জন্য দুনিয়া মুসাফিরখানা। আর সফরের সময় মুসাফির ঠাণ্ডা-গরম (বড়ো-বৃষ্টি) সব ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। এ কারণে দ্বীনের তালেবে ইলম হিসেবে এবং দুনিয়াতে ইসলামের শির উচ্চ করার স্বার্থে- সে সর্বদা আখিরাতকে প্রাধান্য দিবে। দুনিয়াতে জাঁকজমক ও আরাম আয়েশ কাফেরদের জন্য। পক্ষান্তরে মুমিনের প্রকৃত ঠিকানা হল আখিরাত। ...
টিকাঃ
১০০৯. তাফসীর আহসানুল বায়ান পৃ: ২৬৯।
১০১০. সহীহ বুখারী – কিতাবুল আহকাম وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا (অনুচ্ছেদ: প্রশাসন ও প্রশাসনিক কাজে নিযুক্তদের ভাতা) ২/৭৬৮।
১১১. সহীহ বুখারী – কিতাবুল আহকাম হা/৭১৬৪।
১১২. সহীহ বুখারী (উর্দু) ৮/৩১০ (লাহোর: মাকতাবাহ কুদ্দুসিয়্যাহ)।