📘 দ্বীনী কাজের বিনিময় বা মজুরী > 📄 উর্দু প্রকাশকের নিবেদন

📄 উর্দু প্রকাশকের নিবেদন


‘দারুর রহমানিয়া’ প্রকাশনী প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কেবল কুরআন ও সুন্নাহর প্রচারণা। আয়ামে ক্ববরা অস্বীকারকারীরা (যাদেরকে উসমানী¹ বা বারাযিখি ফিরক্বাও বলা হয়) দ্বীনি কাজের বিনিময়ের বৈধতাকে কঠিনভাবে অস্বীকার করে থাকে। তারা বলে: কুরআন ও হাদীসের তা'লিমের মজুরি নাজায়েয ও হারাম। এমনকি এ ধরনের ইমামের ইক্তিদাতে সালাত হবে না, যারা ইমামতির বেতন গ্রহণ করে।² আল্লাহ ﷺ শাইখ মুফতি আবু জাবির আব্দুল্লাহ দামানাদি-কে জামায়ে শায়ের দান করুন, তিনি এ বিষয়টার উপর তাহক্বীক্বি আলোচনা উপস্থাপন করেছেন। শাইখের আয়ামে ক্ববরা উপরও বেশকিছু লেখনী আছে, যেগুলোতে তিনি আয়ামে ক্ববরা অস্বীকারকারীদের আপত্তির জবাব দিয়েছেন। শাইখের এই লেখাটি হায়দারাবাদে ‘মাসিক দা’ওাতে আহলে হাদীস’-এ দশ কিস্তিতে ছাপানো হয়েছিল। প্রয়োজনীয় সংযোজনী ও সম্পাদনাসহ এখন এটি বর্তমান পুস্তিকার আকারে প্রকাশিত হল, যা ‘দারুর রহমানিয়া’ প্রকাশনী প্রকাশ করল।
মুহাম্মাদ আফজাল খুখর° দারুর রহমানিয়া, করাচি।

টিকাঃ
১. পাকিস্তানের ক্যাপ্টেন মাসউদ উদ্দীন উসমানী’র অনুসারী।
২. কেবল সালাতের ইমামতির মজুরির সরাসরি দলীল আমারও পাচ্ছিনা। তবে সমাজের ইমাম যখন সালাতের ইমামতি করেন তখন সমাজের দায়িত্বপালনের জন্য তিনি ভাতা পাবেন। যেভাবে খুলাফায়ে রাশেদীনের সময় চালু ছিল। আর খলিফা ও সমাজের ইমামেরই দায়িত্ব সালাতে ইমামতি করা। আমাদের বর্তমান সমাজেও মাসজিদের ইমামের সাথে ধর্মানুষ্ঠানে পারিবারিক জীবন-যাপন, বিচার-আচার প্রভৃতির নির্দেশনা ও সেগুলোর সমাধানের দায়িত্ব দিলে তার ভাতাও বৈধতা পায়। সর্বোপরি তার মজুরিটা মানুষের হক্ব ও উপকারের সাথে সম্পর্কিত হতে হবে। কেবল মাত্র আল্লাহ ﷺ'র হক্ব তথা সালাতের সাথে সম্পর্কিত হবে না। কেননা সালাতের কোনো দুনিয়াবী বিনিময় হয় না, এর বিনিময় কেবলই আখিরাতের জন্য সুনির্দিষ্ট। - অনুবাদক
৩. The Khokhar are people from the Punjab region. The Khokhars were designated as an agricultural tribe and are usually classified as Jat and Rajput. (উইকিপিডিয়া)

📘 দ্বীনী কাজের বিনিময় বা মজুরী > 📄 উর্দু লেখকের ভূমিকা

📄 উর্দু লেখকের ভূমিকা


আয়াতের কবর অস্বীকারকারীরা কবরের আযাব অস্বীকার করার সাথে সাথে দ্বীনী কাজের বিনিময়ের বৈধতাও অস্বীকার করে থাকে। তারা জনসাধারণের কাছে আলেমদের বিরোধিতায় জবরদস্তিমূলক এটাই প্রচার করে যে, এরা দ্বীনী কাজের বিনিময় নেয়। সুতরাং এদের পিছনে সালাত আদায় করা জায়েয নয়। প্রকৃতপক্ষে ইহুদি ও নাসারাদের ভয়ানক ষড়যন্ত্র হলো, যেন কুরআন ও হাদীসের সমস্ত দ্বীনী তা'লিম কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তারা দ্বীনের বিকৃতি ঘটাতে থাকবে। ...
কেননা তাদের অন্যতম বড় এজেন্ডা হলো, কুরআন ও হাদীসের সমস্ত প্রকাশনী বন্ধ করতে হবে। এর বাস্তবায়নে তারা এটা প্রচার করেছে যে, দ্বীনী কাজের বিনিময় হারাম। কেননা যদি তারা সরাসরি এটা বলে যে, দ্বীনী প্রকাশনা বন্ধ করতে হবে। তা হলে সমস্ত মুসলিম একত্রে তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। এ পর্যায়ে তারা মর্যাদাসম্পন্ন আমলদারীর পোশাকে এই ফাতওয়া জারির মাধ্যমে জনসাধারণের অন্তরে সন্দেহের সৃষ্টি করছে। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে দ্বীনী প্রকাশনীর উপর হস্তক্ষেপ করাটা সহজতর হবে। যখন ফাতওয়াটি প্রত্যেক দিক ও স্তর থেকে ব্যাপকতর হবে, তখন আলেমগণ বাধ্যতাযমূলকভাবে (দুনিয়াযাবী) আয়-উপার্জনের প্রতি ঝুঁকতে থাকবে। ফলে আলেমদের নেতৃত্ব সমাজ থেকে বিলুপ্ত হবে। যখন আলেমেরা দুনিয়াযাবী ধান্দাতে ব্যস্ত হবে তখন দ্বীনী প্রকাশনীগুলো বিরান হয়ে যাবে। তাদের এ পরিকল্পনা যখন বাস্তবরূপ লাভ করবে, তখন কুরআন ও হাদীসের ইলম দুনিয়া থেকে উঠে যাবে।...
আমার এই লেখনীতে মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উলামায়ে সালাফে সালেহীনের উদ্ধৃতিও উল্লেখ করা হয়েছে। পক্ষান্তরে উসমানী ফিরকা যা-কিছু উপস্থাপন করেছে সেটা কোনো মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও আলেমে দ্বীন দাবি করেননি। এমনকি এই ফেরকা কেবল কুরআন ও হাদীস অস্বীকারই করছে না, বরং ‘আমি মানব না’ পলিসিও দৃঢ় রয়েছে। যেহেতু উর্দুতে এ বিষয়ে কোনো পূর্ণাঙ্গ বই নেই, তাই এর অভাব পূরণে সাধ্যমত চেষ্টা করেছি।...
এই লেখাটি 'মাসিক দাওয়াতে আহলে হাদীস' হায়দারাবাদ থেকে দশ কিস্তিতে ছাপানো হয়। এখন প্রয়োজনীয় সহযোগী ও সংশোধনসহ কিতাব আকারে প্রকাশিত হলো। আমি প্রকাশক জনাব মুহাম্মাদ আফজাল শাধারের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি বইটি ছাপানোর ব্যাপারে কঠিন পরিশ্রম করে পাঠকের হাতে পৌঁছে দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁকে জাযায়ে খায়ের দান করুন। আল্লাহ এই বইটিকে যেন তাঁর জন্য, আমার জন্য এবং অন্যান্য সহযোগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আমলের নাজাতের মাধ্যম করে দেন। যারা কুরআন ও হাদীসের পথ থেকে দূরে সরে গিয়েছিল, তারা যেন এই বইটির মাধ্যমে আবারও হিদায়াতের পথে ফিরে আসে। আমিন!!
هذا ما عندي والله اعلم بالصواب
আবু জাবির আব্দুল্লাহ দামানাদি ১৫ রজব ১৪২৫ হিঃ, আগস্ট ২০০৪ ঈসায়ী। অনুবাদ (সংক্ষেপিত): কামাল আহমাদ [৯ জিলহজ্জ ১৪৩৭, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৬]

📘 দ্বীনী কাজের বিনিময় বা মজুরী > 📄 দ্বীনী কাজের বিনিময়ের বৈধতা

📄 দ্বীনী কাজের বিনিময়ের বৈধতা


ইদানীং আযাবে কবর অস্বীকারকারীরা দীনি কাজের মজুরি বিষয়ক মাসআলাও নিজেদের একটি ইস্যু (Issue) বানিয়েছে। এ বিষয়টি তারা রাত-দিন তাবলিগ করছে যে, দীনি কাজের বিনিময় বা মজুরি নাজায়েয। এ সম্পর্কে তারা কিছু পুস্তিকাও প্রকাশ করেছে, যা দ্বারা তারা এক্ষেত্রে মজুরি অবৈধ হওয়ার দলীল উপস্থাপন করেছে। এটা অত্যন্ত অদ্ভুত বিষয় যে, আযাবে কবর সম্পর্কিত সহীহ, সুস্পষ্ট ও মুতাওয়াতির হাদীস থাকতেও তারা সেগুলো গ্রহণ করতে রাজি নয়। অথচ দীনি কাজের বিনিময়ের মাসআলাটিতে তারা যঈফ হাদীস উপস্থাপন করছে। পক্ষান্তরে যে সমস্ত সহীহ হাদীসে বিনিময় জায়েয করা হয়েছে, তারা সেগুলোকে তা’বিল করে ভিন্ন ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়েছে। এ বাতিল তা’বিল এ সমস্ত মুহাদ্দিসের বুকেও আসেনি, যারা হাদীসগুলো বর্ণনা করেছেন।
এ পর্যায়ে সহীহ হাদীসগুলো উপস্থাপন করব এবং যঈফ হাদীস, যা আযাবে কবর অস্বীকারকারীরা উপস্থাপন করে, সেগুলোর প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরব, ইনশাআল্লাহ।
প্রথম দলীল: একটি আরব গোত্র সাহাবীদের ঝাড়-ফুঁক ও তার বিনিময় গ্রহণ
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ  قَالَ اِنْطَلَقَ نَفَرٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ فِي سَفَرَةٍ سَافَرُوهَا حَتَّى نَزَلُوا عَلَى حَيٍّ مِنْ أَحْيَاءِ الْعَرَبِ فَاسْتَضَافُوهُمْ فَأَبَوْا أَنْ يُضَيِّفُوهُمْ فُلُدِغَ سَيِّدُ ذَلِكَ الْحَيِّ فَسَعَوْا لَهُ بِكُلِّ شَيْءٍ لَا يَنْفَعُهُ شَيْءٌ فَقَالَ بَعْضُهُمْ لَوْ أَتَيْتُمْ هَؤُلَاءِ الرَّهْطَ الَّذِينَ نَزَلُوا لَعَلَّهُ أَنْ يَكُونَ عِنْدَ بَعْضِهِمْ شَيْءٌ فَأَتَوْهُمْ فَقَالُوا يَا أَيُّهَا الرَّهْطُ إِنَّ سَيِّدَنَا لُدِغَ وَسَعَيْنَا لَهُ بِكُلِّ شَيْءٍ لَا يَنْفَعُهُ فَهَلْ عِنْدَ أَحَدٍ مِنْكُمْ مِنْ شَيْءٍ فَقَالَ بَعْضُهُمْ نَعَمْ وَاللَّهِ إِنِّي لَأَرْقِي وَلَكِنْ وَاللَّهِ لَقَدِ اسْتَضَفْنَاكُمْ فَلَمْ تُضَيِّفُونَا فَمَا أَنَا بِرَاقٍ لَكُمْ حَتَّى تَجْعَلُوا لَنَا جُعْلًا فَصَالَحُوهُمْ عَلَى قَطِيعٍ مِنَ الْغَنَمِ فَانْطَلَقَ يَتْفِلُ عَلَيْهِ وَيَقْرَأُ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ فَكَأَنَّمَا نَشِطَ مِنْ عِقَالٍ فَانْطَلَقَ يَمْشِي وَمَا بِهِ قَلَبَةٌ قَالَ فَأَوْفَوْهُمْ جُعْلَهُمْ الَّذِي صَالَحُوهُمْ عَلَيْهِ فَقَالَ بَعْضُهُمْ اقْسِمُوا فَقَالَ الَّذِي رَقَى لَا تَفْعَلُوا حَتَّى نَأْتِيَ النَّبِيَّ ﷺ فَنَذْكُرَ لَهُ الَّذِي كَانَ فَنَنْظُرَ مَا يَأْمُرُنَا فَقَدِمُوا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَذَكَرُوا لَهُ فَقَالَ وَمَا يُدْرِيكَ أَنَّهَا رُقْيَةٌ ثُمَّ قَالَ قَدْ أَصَبْتُمْ اقْسِمُوا وَاضْرِبُوا لِي مَعَكُمْ سَهْمًا فَضَحِكَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ وَقَالَ شُعْبَةُ حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ سَمِعْتُ أَبَا الْمُتَوَكِّلِ بِهَذَا
"সাহাবী আবু সাঈদ রাঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর একদল সাহাবী রাঃ কোনো এক সফরে যাত্রা করেন। তারা এক আরব গোত্রে পৌঁছে তাদের মেহমান হতে চাইলেন। কিন্তু তারা তাদের মেহমানদারি করতে অস্বীকার করল। ঐ গোত্রের সরদারকে বিষ দ্বারা দংশিত হল। লোকেরা তার (আরোগ্যের) জন্য সব ধরনের চেষ্টা করল। কিন্তু কিছুতেই কোনো উপকার হল না। তখন তাদের কেউ বলল, এই কাফেলা যারা এখানে এসেছে তাদের কাছে গেলে ভাল হতো। সম্ভবত, তাদের কারো কাছে কিছু থাকতে পারে। ওরা তাদের নিকট গেল এবং বলল, হে মুসাফির! আমাদের সরদারকে বিষ দংশন করেছে, আমরা সব রকমের চেষ্টা করেছি, কিন্তু কিছুতেই উপকার হচ্ছে না। তোমাদের কারো কাছে কিছু আছে কি? তাদের (সাহাবীদের) একজন বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! আমি ঝাড়-ফুঁক করব না, যে পর্যন্ত না তোমরা আমাদের জন্য পারিশ্রমিক নির্ধারণ কর। তখন তারা এক পাল বকরির শর্তে তাদের সাথে চুক্তি বদ্ধ হল। তারপর তিনি গিয়ে ‘আল-হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আ'লামীন’ (সুরা ফাতিহা) পড়ে তার উপর ফুঁ দিতে লাগলেন। ফলে সে (এমনভাবে নিরাময় হল) যেন বন্ধন থেকে মুক্ত হল এবং সে এমনভাবে চলতে ফিরতে লাগল যেন তার কোনো কষ্টই ছিল না। (বর্ণনাকারী বলেন,) তারপর তারা তাদের স্বীকৃত পারিশ্রমিক পুরোপুরি দিয়ে দিল। সাহাবীদের কেউ কেউ বললেন, এগুলো বন্টন কর। কিন্তু যিনি ঝাড়-ফুঁক করেছিলেন তিনি বললেন এটা করব না, যে পর্যন্ত না আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে গিয়ে তাঁকে এই ঘটনা জানাই এবং লক্ষ্য করি তিনি আমাদের কী নির্দেশ দেন। তারা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে তাঁকে ঘটনা বর্ণনা করলেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তুমি কীভাবে জানলে যে, সুরা ফাতিহা একটি (ঝাড়-ফুঁকের) দু'আ? তারপর বললেন: তোমরা ঠিকই করেছ। বন্টন কর এবং তোমাদের সাথে আমার জন্যও একটি অংশ রাখ। এ বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসলেন। শো'বা রাহিমাহুল্লাহ বলেন: আমার নিকট বিশর রাহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, আমি মুতাওয়াক্কিল রাহিমাহুল্লাহ-এর কাছ থেকে এ হাদীস শুনেছি।"⁴¹
হাদীসটি থেকে সুস্পষ্ট হয়, সাহাবীগণ ঝাড়-ফুঁকের যে মজুরি নিয়েছিলেন, সেটা নবী কেবল জায়েযই করেননি। বরং তাতে নিজের অংশ রাখার হুকুমও দিয়েছিলেন। ফলে সাহাবীগণের নিকট পারিশ্রমিকটি হালাল ও পবিত্র হওয়ার ব্যাপারে কোনো সংশয় থাকল না। তা ছাড়া নবী ঘটনাটি শুনে হেসেছিলেন ও খুশি হয়েছিলেন।
সাধারণত বর্ণনাগুলোতে ঝাড়-ফুঁককারীর নাম উল্লেখ নেই। কিন্তু মুসনাদে আহমাদ (৩/১০) ও জামে’ তিরমিযীর (২/২৩৩০) বর্ণনানুযায়ী ঝাড়-ফুঁককারী স্বয়ং হাদীসটির বর্ণনাকারী সাহাবী আবূ সাঈদ খুদরী ছিলেন।
সহীহ বুখারী, মুসনাদে আহমাদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ্‌র বর্ণনাতে বকরির সংখ্যা ৩০টি উল্লেখ করা হয়েছে।
মুসনাদে আহমাদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ্‌র বর্ণনাতে আছে, সূরা ফাতিহা সাত বার পড়ে উক্ত ব্যক্তির প্রতি ফুঁক দেয়া হয়। আর যে থুতু জমে যেত এ সাহাবী তা যখমের স্থানে লাগাতেন।
সহীহ বুখারীর (২/২২৭৬) বর্ণনাটিতে আছে, নবী ঘটনাটি শুনে বলেছিলেন: قَدْ أَصَبْتُمْ ‘তোমরা ঠিকই করেছ।’ আবার আবূ দাউদের (২/৩৮০০) বর্ণনাতে আছে: أَحْسَنْتُمْ ‘তোমরা ভালই করেছ।’
সহীহ মুসলিম ও অন্যান্য বর্ণনাতে আছে, সাহাবীদেরকে গোত্রের একজন মহিলা বলেছিল, তাদের সরদারকে সাপ ছোবল দিয়েছে। এমনকি শেষাবধি গোত্রের লোকেরা মজুরি প্রদানের সাথে সাথে সাহাবীদেরকে দুধ দ্বারা আপ্যায়ন করে (وَسَقَوْنَا لَبَنًا) 182
গোত্রের লোকেরা এভাবে সাহাবীদেরকে অতিথি সেবা দানের মাধ্যমে চরম উদারতার প্রদর্শন করে নিজেদের অধীনে নেয়।

টিকাঃ
৪১. সহীহ: সহীহ বুখারী- ‘কিতাবুল ইজারাহ’ بَابُ مَا يُعْطَى فِي الرُّقْيَةِ عَلَى أَحْيَاءِ الْعَرَبِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ (অনুচ্ছেদ: কোনো আরব গোত্রে সুরা ফাতিহা পড়ে ঝাড়-ফুঁক করার বদলে কিছু দেয়া হলে) হা/২২৭১। আরও দ্র: সহীহ বুখারী হা/৫০০৭, ৫৭০৬, ৫৭১৪; সহীহ মুসলিম - ‘কিতাবুস সালাম’ بَابُ جَوَازِ أَخْذِ الْأُجْرَةِ عَلَى الرُّقْيَةِ بِالْقُرْآنِ وَالْأَذْكَارِ (অনুচ্ছেদ: কুরআন ও যিকরের দ্বারা ঝাড়-ফুঁকে মজুরি গ্রহণ), আবূ দাউদ হা/৩৪৩৩, তিরমিযী হা/২০৬৩, মুসনাদে আহমাদ ৩/২, ১০, ৪৪, ৫০, ৮৮ পৃঃ; ফতহুর রব্বানী তারতীব মুসনাদে আহমাদ ১৭/১৬৪-১৬৫ পৃঃ প্রভৃতি।
82. সহীহ: সহীহ মুসলিম – কিতাবুল আদাব [بَاب جَوَازِ أَخْذِ الْأُجْرَةِ عَلَى الرُّقْيَةِ بِالْقُرْآنِ وَالْأَذْكَارِ] ওয়াল আযকার।

📘 দ্বীনী কাজের বিনিময় বা মজুরী > 📄 দ্বিতীয় দলীল: কুরআন মাজীদ শেখানোকে মোহর নির্ধারণ করা

📄 দ্বিতীয় দলীল: কুরআন মাজীদ শেখানোকে মোহর নির্ধারণ করা


সাহাবী সাহাল বিন সা'দ সায়িদী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসের মর্ম হল: একজন মহিলা নিজেকে নাবী (সা.)-এর সাথে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু নাবী (সা.)-এর কোনো আগ্রহ ছিল না। একজন সাহাবী (রা.) নাবী (সা.)-এর নিকট ঐ মহিলাকে বিয়ের আবেদন করে। কিন্তু তার কাছে মোহর দেওয়ার মতো কিছুই ছিল না। শেষাবধি তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, তার কি কুরআনের কিছু হেফয আছে? সবশেষে নাবী (সা.) তাকে বললেন:
(১) অন্যত্র বর্ণিত আছে: اذْهَبْ فَقَدْ أَنْكَحْتُكَهَا بِمَا مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ “যাও, তোমাকে তার সাথে বিয়ে দিলাম তোমার কাছে কুরআনের যা আছে তার বিনিময়ে।”⁶⁷
(২) অন্যত্র বর্ণিত আছে: فَقَدْ زَوَّجْتُكَهَا بِمَا مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ “তোমার সাথে তার বিয়ে দিলাম, যেটুকু কুরআন তোমার কাছে আছে তার বিনিময়ে।”⁶⁸
(৩) অন্যত্র বর্ণিত আছে: فَقَدْ زَوَّجْنَاكَهَا بِمَا مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ “ফদ তোমাকে কাছে কুরআনের যা আছে, তার বিনিময়ে মহিলাটির সাথে তোমার বিয়ে দিলাম।”⁶⁹
(৪) অন্যত্র বর্ণিত আছে: اذْهَبْ فَقَدْ مَلَّكْتُكَهَا بِمَا مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ “যাও, তোমার কাছে কুরআনের যেটুকু আছে, তার বিনিময়ে তার সাথে তোমার বিয়ে দিলাম।”⁷⁰
(৫) অন্যত্র বর্ণিত আছে: أَمْلَكْنَاكَهَا بِمَا مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ “আমি তার সাথে তোমার বিয়ে দিলাম, যেটুকু কুরআন তোমার কাছে আছে তার বিনিময়ে।”⁷¹
এই হাদীসটি ইমাম বুখারী (রহ.) সহীহ বুখারীতে ঢের বার উল্লেখ করেছেন। আর প্রতিটি স্থানে তিনি হাদীসটির আলোকে কোনো না কোনো মাসআলা উল্লেখ করেছেন। একটি স্থানে ইমাম বুখারী (রহ.) নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদের অধীনে হাদীসটি এনেছেন:
بابُ التَّزْوِيجِ عَلَى الْقُرْآنِ وَغَيْرِ صَدَاقٍ. “অনুচ্ছেদ: কুরআন শিক্ষার বিনিময়ে মোহর ব্যতীত বিয়ে প্রদান।”⁹²
হাফেয ইবনু হাজার رَحِمَهُ اللّٰهُ অনুচ্ছেদটির দাবি সম্পর্কে লিখেছেন: أَيْ عَلَى تَعْلِيمِ الْقُرْآنِ وَغَيْرِ صَدَاقٍ مَالِيٍّ غَنِيٍّ. “অর্থাৎ তা‘লিমুল কুরআনের বিনিময় এবং বাহ্যিক মাল ছাড়া বিয়ে করা।”⁹³
আল্লামা সিদ্দীক رَحِمَهُ اللّٰهُ লিখেছেন: عَلَى مَا مَعَكَ أَي عَلَى تَعْلِيمِهَا “যে কুরআন তোমার কাছে আছে- অর্থাৎ যা তুমি তাকে তা‘লিম দিবে।”⁹⁴
হাদীসটি আরও যেসব প্রসিদ্ধ কিতাবে রয়েছে তার কয়েকটি নিম্নরূপ:
ক) সহীহ মুসলিম - কিতাবুন নিকাহ (باب الصداق) (অনুচ্ছেদ: মোহর)
খ) আবূ দাউদ - কিতাবুন নিকাহ (بَابٌ فِي التَّزْوِيجِ عَلَى الْعَمَلِ) (অনুচ্ছেদ: কাজের বিনিময়ে বিয়ে)
গ) তিরমিযী - কিতাবুন নিকাহ (بَابُ مَا جَاءَ فِي مُهُورِ النِّسَاءِ) (অনুচ্ছেদ: মহিলাদের মোহর সম্পর্কে যা এসেছে)।
ঘ) নাসাঈ – কিতাবুন নিকাহ (إباحَةُ التَّزَوُّجِ بِغَيْرِ صَدَاقٍ) (অনুচ্ছেদ: সম্পদের মোহর ব্যতীত বিয়ের বৈধতা)
ইমাম তিরমিযী رَحِمَهُ اللّٰهُ লিখেছেন: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ، وَقَدْ ذَهَبَ الشَّافِعِيُّ إِلَى هَذَا الْحَدِيثِ، فَقَالَ: «إِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ شَيْءٌ يُصَدِّقُهَا فَيُزَوِّجُهَا عَلَى سُورَةٍ مِنَ الْقُرْآنِ، فَالنِّكَاحُ جَائِزٌ، وَيُعَلِّمُهَا سُورَةً مِنَ الْقُرْآنِ». وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ: النِّكَاحُ جَائِزٌ، وَيَجْعَلُ لَهَا صَدَاقَ مِثْلِهَا، وَهُوَ قَوْلُ أَهْلِ الْكُوفَةِ، وَأَحْمَدَ، وَإِسْحَاقَ.
"এই হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমাম শাফেঈ রাহিমাহুল্লাহ এই হাদীস অনুসারে অভিমত প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, কারো যদি মোহর প্রদানের মতো কিছু না থাকে আর সে কোনো মহিলাকে কুরআনের কোনো সূরার বিনিময়ে বিয়ে করে তবে সে বিয়ে জায়েয। আর ঐ ব্যক্তি এই মহিলাকে কুরআনের সেই সূরা শিখিয়ে দেবে। কোনো কোনো আলেম বলেন, এমতাবস্থায় বিয়ে জায়েয হবে। তবে মহিলাকে মোহরও মিসালও দিতে হবে। এ হল, কুফাবাসী আলেম, আহমাদ ও ইসহাকের উক্তি।"⁷⁵

টিকাঃ
৬৭. সহীহ বুখারী হা/৫১৪৯।
৬৮. সহীহ বুখারী হা/৫০২৯, ৫১৩২।
৬৯. সহীহ বুখারী হা/৫০৩০, ৫১৩৫।
৭০. সহীহ বুখারী হা/৫০০৩, ৫০৮৭, ৫১২৬।
৭১. সহীহ বুখারী হা/৫১৩৯।
৯২. সহীহ বুখারী ২/৯৪৯-এর পূর্বের অনুচ্ছেদ।
৯৩. ফাতহুল বারী ৯/২০৫ পৃ:, আলোচ্য অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দ্র:।
৯৪. মূল লেখক সূত্রটি উল্লেখ করতে ভুলে গেছেন। আমরাও বুঝতে পারছি না কোথা থেকে তা নেয়া হয়েছে। – অনুবাদক
৭৫. সুনানে তিরমিযী হা/১১৪৪-এর শেষাংশ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00