📘 ধর্মনিরপেক্ষতা ও তার কুফল 📄 মুসলিমদের কর্তব্য

📄 মুসলিমদের কর্তব্য


বর্তমান চরম খারাপ পরিস্থিতিতে, মুসলিমরা যা পার করছে, তাদের দায়িত্ব অনেক বড়, অনেক বেশি, অর্থাৎ এ খারাপ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করা, যা পুরো উম্মতকে ইসলাম থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। সকল মুসলিমের নিকট বর্তমান সময়ের দাবি: সময়, সম্পদ, নিজের জান ও সন্তান দ্বারা এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ও এ বিপদ থেকে মুক্তির জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা; যদিও আলেম সমাজ, তালেবে ইলম, আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী, ক্ষমতার অধিকারী ও প্রভাবশালী মুসলিমের দায়িত্ব অনেক, যার উপযুক্ত সাধারণ মুসলিমরা নয়, কারণ তারা নেতৃত্ব দেবে, অন্যরা তাদের অনুসরণ করবে।

এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য ইলম ও আমলের বিকল্প নেই, কারণ আমলহীন ইলম কখনো পরিস্থিতি পাল্টাতে সক্ষম নয়, আবার ইলমহীন আমল সংস্কার অপেক্ষা ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে ঢের বেশী। ইলম দ্বারা আমার উদ্দেশ্য কতক ফিকহি মাসআলা, ইসলামী আদব ও শিষ্টাচারের জ্ঞান নয়, যার প্রতি অধিকাংশ মানুষ অধিক গুরুত্বারোপ করে, যে পরিমাণ গুরুত্বারোপ ইসলামও করেনি। ইলম দ্বারা আমার উদ্দেশ্য অন্তরে ঈমান সৃষ্টিকারী ইলম, যার ফলে আল্লাহর মহব্বত, তার রাসূলের মহব্বত ও তার দ্বীনের মহব্বত সকল বস্তুর উপর অগ্রাধিকার পায়। যে ইলমের কারণে ব্যক্তি নিজের জান ও প্রিয় বস্তুর বিনিময়ে আল্লাহর দ্বীনকে তার জমিনে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে। জ্ঞাতব্য যে, তাওহীদ যা ইসলামের মূল হিসেবে স্বীকৃত তা সম্পর্কে পরিপূর্ণ, ব্যাপক ও পরিপক্ক ইলম ব্যতীত এ ত্যাগের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা কখনো সম্ভব নয়। অতঃপর দ্বীন পরিপন্থী বস্তুর ইলম থাকা ও জরুরি, যা মুসলিম উম্মাহর অস্তিত্বের জন্য হুমকি। সেসব শত্রু সম্পর্কে ইলম থাকাও জরুরি, যারা ইসলামকে ক্ষতি করার জন্য ওঁৎ পেতে আছে এবং মুসলিম উম্মাহর মাঝে সেকুলারিজম বা তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতার ন্যায় বাতিল ও ধ্বংসাত্মক মতবাদ প্রচলন করতে চায়। আবার ইলমের দাবি অনুযায়ী ইসলামের দুশমনদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা ও মুমিনদের সাথে সম্পর্ক যথার্থভাবে প্রতিষ্ঠা করার প্রতি পূর্ণ গুরুত্ব প্রদান করা।

যারা সাধারণ মুসলিম, তাদের উপর ওয়াজিব সহি ইলম ও পরিপূর্ণ জ্ঞান হাসিল করার জন্য ইলম তলব করা ও আহলে ইলমের শরণাপন্ন হওয়া। অনুরূপভাবে যারা লেখক ও প্রকাশক রয়েছেন, তাদের উপর ওয়াজিব ইসলামী কিতাব অধিকহারে প্রচার ও বাজারজাত করা, যা মুসলিমদেরকে তাদের দ্বীনের সাথে সম্পৃক্ত করবে এবং সীমালঙ্ঘন ও বাড়াবাড়ি ব্যতীত শরীয়তের বিধান ও হুকুমসমূহের প্রতি যথাযথ মর্যাদা প্রদানের পথ দেখাবে। প্রতিটি বিধানকে তার স্ব-স্ব স্থানে রাখা, এক বিধানকে অপর বিধানের উপর বিনা কারণে গুরুত্বারোপ না করা। আবার কোনো বিধানকে তার প্রাপ্য সম্মানের চেয়ে নীচে নিয়ে না আসা। এক বিধানের বাস্তবায়ণ যেন অপর বিধানের ক্ষতি করে করা না হয় সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া।

বলার অপেক্ষা রাখে না, এ ময়দানে লেখক ও প্রকাশকদের বিকল্প নেই, বিশেষ করে মুসলিম উম্মাহর বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে। তাদের পক্ষে সমীচীন নয় সাধারণ মানুষের মন-মগজ বিবেচনা করে অপেক্ষাকৃত কমগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করা আর অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অবহেলা করা বা ভুলে যাওয়া। আমরা এটাও চাই না যে, তারা কম-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে একেবারে ত্যাগ করে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি সকল মনোযোগ নিবিষ্ট করুন, বরং উভয়ের মাঝে ভারসাম্য ও সামঞ্জস্য রক্ষার আহ্বান করি, অতএব ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুত্বের ভিত্তিতে প্রত্যেক বিষয়ে লেখা থাকা চাই।

এটা কখনো গ্রহণযোগ্য নয় যে, জিন, জাদু, ভেলকিবাজি, তাকওয়া, যুহুদ, যিকির-আযকার, ফাজায়েলে আমাল ও ফিকহের মাসআলা ইত্যাদিতে কোনো লাইব্রেরি ভরপুর থাকবে, অথচ মানুষকে সঠিক পথ দেখানো, যুগোপযোগী আলোচনা ও ইসলামের শত্রুদের ষড়যন্ত্র থেকে সতর্ক করে কোনো কিতাব তাতে থাকবে না, যার গুরুত্ব স্থানকাল-পাত্র ভেদে ঢের বেশী। যেমন 'ইসলামে রাজনীতির বিধান', পূর্বে যার নাম ছিল 'সুলতানি বিধান' বা রাষ্ট্রীয় বিধান। অনুরূপ 'ইসলামী বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন মতবাদ ও রাজনৈতিক দর্শন', যেমন গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, দেশাত্মবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং কুফরি আকিদা লালনকারী বার্থপার্টি ও জাতীয়তাবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত দলসমূহ সম্পর্কে আলোচনা থাকা জরুরি। অনুরূপ জিহাদ সম্পর্কে লেখালেখি করা জরুরি। জিহাদ দ্বারা জিহাদ ফরয হওয়া ও কিয়ামত পর্যন্ত তার ধারাবাহিকতা বজায় থাকা বুঝানো আমার উদ্দেশ্য নয়, বরং আমার উদ্দেশ্য তার পাশাপাশি শাসক ও কর্তৃত্বের অধিকারী মুরতাদদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা, যারা তথাকথিত গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তা ইত্যাদি মতবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে ও মানুষের উপর তা চাপিয়ে দিচ্ছে। অনুরূপভাবে বিলুপ্ত ইসলামী খিলাফত কিভাবে ফিরিয়ে আনা যায়, সে সম্পর্কে অধিকহারে আলোচনা থাকা জরুরি, যার গুরুত্ব মুসলিম জীবনে অনেক বেশী।

কোনো লেখক বা প্রকাশক বলতে পারেন: "এসব কিতাব মানুষ পড়তে আগ্রহী নয়"। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, যে ব্যক্তি কোনো সুনির্দিষ্ট বাণী প্রচার করতে বদ্ধপরিকর সে কি মানুষের মন-মগজ ও তাদের প্রবৃত্তির তোয়াক্কা করে তার বাণী প্রচার করবে? তাছাড়া কোনো লেখক যদি কোনো কিতাবের ব্যাপক প্রচার ও প্রসিদ্ধ চায়, তাহলে সে অবশ্যই মানুষকে আকৃষ্ট করা ও তাদের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টির জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করে। অতএব যদি সত্যিই হয় যে, এ জাতীয় কিতাবের প্রতি মানুষের আগ্রহ নেই, তাহলে তাদের অনাগ্রহের জন্য আপনারা ও কম দায়ী নন, তাদের অনাগ্রহের প্রতি আপনাদের সন্তুষ্টি প্রকাশ পাচ্ছে। তাদেরকে আপনারা বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করতে দেননি, তাদেরকে বলনেনি এক বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করে অপর বিষয় ত্যাগ করা সমীচীন নয়। এরূপ ঘটতে থাকলে মানুষেরা ইসলামকে কোনো এক ইবাদত, অথবা কোনো এক আদব অথবা কোনো এক অভ্যাসে সংকীর্ণ ও সীমাবদ্ধ করে ফেলবে, বরং অনেকের নিকট তো এখনই সালাত, সিয়াম ও কতক জিকিরের মাঝে ইসলাম সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে।

আপনি যদি তাদেরকে ইসলামের ব্যাপ্তি ও ব্যাপকতার প্রতি দাওয়াত দেন, তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন, যেমন আল্লাহর তাওহীদ, আখিরাতের প্রতি ঈমান, আল্লাহর বিধান মোতাবেক ফয়সালা করা ও তার শরীয়ত আঁকড়ে ধরা; অথবা ইসলামী খিলাফত পুনরুদ্ধার ও কায়েম করার আলোচনা এবং কুফরি মতবাদসমূহের বাতুলতা প্রকাশ করেন, যেমন গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা ইত্যাদি, তাহলে তারা ভাববে আপনি ইসলাম ছাড়া অপর কোনো বিষয়ে আলোচনা করছেন। তারা বলবে, 'এটাই তো রাজনীতি, আর রাজনীতির সাথে দ্বীনকে সম্পৃক্ত করা বৈধ নয়।' এ জাতীয় বিশ্বাসে বিশ্বাসী লোকদের জন্য যদি সেসব বিষয় জুমার খুতবা, মসজিদের হালকা, বিভিন্ন সেমিনার ও ছোট ছোট কিতাবে প্রকাশ করা হত, যা পড়া ও বুঝা সহজ, তাহলে তাদের থেকে এরূপ বিচ্যুতিমূলক কথা কখনো বের হত না।

আমরা লেখক বা প্রকাশক যাই হই, পাঠকদের চাহিদা ও বেচাকেনার বাজার গরম রাখার জন্য দ্বীনকে অসম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করা, দ্বীনকে বিকৃত করা, তার এক বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে অপর বিষয়কে ত্যাগ করার মত মারাত্মক ক্ষতিকর কাজে প্রবৃত্ত হওয়া ও তাতে অংশগ্রহণ না করা ওয়াজিব। এরূপ আচরণ আমাদের থেকে প্রকাশ পেলে প্রকারান্তরে আমরাই দ্বীনের গণ্ডিকে সংকীর্ণ করে ফেলব এবং দ্বীনকে জীবন ও রাষ্ট্র থেকে আলাদা করার ক্ষেত্রে সেকুলার বা তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদের সহযোগী হয়ে যাব।

ইসলাম প্রচার ও ব্যাপক করার জন্য প্রাথমিক থেকে শুরু করে ভার্সিটি পর্যন্ত সকল স্তরের শিক্ষক, প্রফেসর ও অধ্যাপকদের নিম্নরূপ দায়িত্ব পালন করা জরুরি:
১. বিশুদ্ধ শিক্ষানীতি ও সিলেবাস তৈরি করা, যেন শিক্ষার প্রত্যেক শাখা ইসলামের সেবায় ব্যবহার হয়, একমাত্র গবেষণাই যেন তার উদ্দেশ্য না হয়। উল্লেখ্য যে, আমাদের দ্বীন আল্লাহর পক্ষ থেকে, তাতে অগ্র-পশ্চাৎ কোনো দিক থেকে বাতিল প্রবেশ করতে পারে না, আবার বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারও আল্লাহর সৃষ্ট, অতএব বিজ্ঞান ও দ্বীনের মাঝে কোনো বৈপরীত্য নেই, তাই বৈজ্ঞানিক অনেক আবিষ্কারকে ঈমানের সেবক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। অনুরূপ নাস্তিকতার বাতুলতা প্রমাণ ও তা প্রত্যাখ্যান করার জন্য বিজ্ঞানের অনেক মূলনীতিকে ব্যবহার করা যায়, যাতে খোদ নাস্তিকরা বিশ্বাসী, যার বিপরীত কোনো নীতি তারা বিশ্বাস করে না। এ জন্য ছাত্রদের সিলেবাস নির্ধারণের সময় এসব বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করা জরুরি।
২. শিক্ষা উপকরণকে তাতে প্রবিষ্ট কুফরি ও গোমরাহি মুক্ত করা, হতে পারে কোনো বই এমন লোকের তৈরি, যে দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞ অথবা দ্বীন বিদ্বেষী। তাই মুসলিম শিক্ষক কখনো বই-পুস্তক যেভাবে আছে সেভাবে পাঠদান করে ক্ষান্ত হয় না, এরূপ করা বৈধও নয়। তার কর্তব্য হচ্ছে, বই-পুস্তকে বিদ্যমান ভ্রষ্টতা ছাত্রদেরকে বলা ও তা থেকে সতর্ক করা।
৩. ইসলামকে ভালোভাবে বুঝানো, অথবা ইসলামী আকিদা প্রতিষ্ঠা করা, অথবা মুসলিমদের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় স্পষ্ট করে দেওয়া, তাদের সম্পর্কে প্রচলিত ভ্রান্তি দূর করা, অথবা ইসলামী শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়ার যখন কোনো সুযোগ আসবে শিক্ষক সেটাই লুফে নিবেন।

📘 ধর্মনিরপেক্ষতা ও তার কুফল 📄 পরিশিষ্ট

📄 পরিশিষ্ট


এ গবেষণার পরিশিষ্টে এসে এবার আমরা যা জানলাম তা বাস্তবে নিয়ে আসা ও তার উপর যথাযথ আমল করার ব্যাপারে মনোনিবেশ করি। এখানে আমল দ্বারা উদ্দেশ্য সে আমল নয়, যার উপকারিতা শুধু ব্যক্তিতে সীমাবদ্ধ থাকে, এটাও একটা উদ্দেশ্য সন্দেহ নেই, তবে আমাদের উদ্দেশ্য সে আমল, যার দ্বারা ব্যক্তির সাথে মুসলিম উম্মতও উপকৃত হয়।

আমরা আমাদের ও অধীনদের ক্ষেত্রে বাস্তব বিশ্বাসে বিশ্বাসী হব ও তার উপর আমল করব। এতেই ক্ষান্ত হব না, বরং মানুষদেরকে আহ্বান করব ও ইসলামের হাকিকত সম্পর্কে বুঝাব। কিভাবে আমাদের শত্রুরা ভেতরে-বাইরে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে তাদেরকে সেগুলো সম্পর্কে সতর্ক করব। মুসলিম উম্মাহ বর্তমান কি পরিমাণ দুর্দশায় ভোগছে তাও তুলে ধরব তাদের সামনে। কোনো কষ্ট, বাঁধা ও বিরোধিতা আমাদেরকে এ দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে পারবে না। যদিও ধর্মনিরপেক্ষতার অনুসারী ও তার দোসররা আমাদেরকে কোণঠাস করে কিংবা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে, আমরা তার থেকে পিছপা হব না কখনো। অবশ্যই আমাদেরকে দ্বীনের স্বার্থে দ্বীন মোতাবেক কাজ করতে হবে। আল্লাহ ও তার রাসূলের পছন্দনীয় আকিদা, কথা ও কর্মের উপর মানুষদের উঠাতে হবে, প্রয়োজনে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতে হবে। আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে, যেন ফিতনা দূরীভূত হয় ও একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়।

আমার মনে হয় না, মুসলিমদের করণীয় সম্পর্কে আমি যথাযথ আলোচনা করতে পেরেছি, তবে এ গ্রন্থ একটি স্মারক হিসেবে কাজ করবে সন্দেহ নেই, যার দ্বারা আল্লাহ আমাদেরকে উপকৃত করবেন, হে আল্লাহ তুমি কবুল কর।

লেখক
৩-রবিউল আউয়াল, ১৪১১হি, রবিবার রাতে এ লেখা শেষ করলাম। শুরু-শেষে প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তা'আলার জন্যই।

* * *

এ কিতাব আপনাকে খুব সহজ ও বোধগম্য উপায়ে আগামী বিপদ ও গোপন ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবহিত করবে। এ কিতাব ছোটরা বুঝবে ও বড়রা তার থেকে উপকৃত হবে। নিশ্চয় এ কিতাব আপনাকে আপনার শত্রু সম্পর্কে জ্ঞান দিবে... আমি মনে করি এ কিতাবের হাজারো সংখ্যা ভার্সিটি, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সংস্থাসমূহে প্রচার করা হোক, যেন প্রত্যেকে তাদের করণীয় সম্পর্কে সজাগ থাকে। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: "এভাবেই আমি আমার আয়াতগুলো স্পষ্ট করে বর্ণনা করি, এবং যেন অপরাধীদের রাস্তা স্পষ্ট হয়ে যায়"। আল্লাহ লেখককে নিরাপদ রাখুন, তাকে উত্তম বিনিময় প্রদান করুন ও তার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন।

'আয়েদ আল-কারনি

ফন্ট সাইজ
15px
17px