📘 ধ্বংসের দারপ্রান্তে একবিংশ শতাব্দীর গনতন্ত্র > 📄 সারকথা

📄 সারকথা


এ তো অল্প কিছু মন্দ দিক আলোচনা করা হয়েছে, না হয় এ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ঘটে না—এমন আর কী বাকি আছে?

এখানে একটি প্রশ্ন হতে পারে, সমাজে বিভিন্ন আন্দোলন জোরদার হওয়া সত্ত্বেও সমাজে পাপাচার কেন বেড়ে চলছে? অর্থাৎ একদিকে আমরা ধর্মীয় আধ্যাত্মিক শক্তিগুলো (তাবলীগ জামাত, মাদরাসা, খানকা) কে যখন দেখি, তো আল-হামদুলিল্লাহ খুশিতে হৃদয় নেচে ওঠে। ফেতনাভরা এ যুগে কত কষ্ট করে দিনরাত মেহনতের মাধ্যমে জাতিকে ইসলামের বাণী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এমন এক পরিস্থিতির মাঝে, যখন রাষ্ট্র নয় শুধু, আন্তর্জাতিকভাবে পাপাচারের পৃষ্ঠপোষকতা করা হচ্ছে। এ দ্বীনি শক্তিগুলো বড় বড় শহরে যুবকদেরকে ইসলামের রঙে রাঙিয়ে দিচ্ছে।

কিন্তু এসব কিছুর পরও সমাজে সামগ্রিকভাবে বেহায়াপনা বেড়েই চলছে। অর্থাৎ যে মন্দ কাজকে কালও ধার্মিকরা ফেতনা মনে করত; কিন্তু আজ অনেক ধার্মিক বা তাদের সন্তানরাও তাতে জড়িয়ে পড়ছে। এর কারণ স্পষ্ট, যে ব্যবস্থা বিজয়ী থাকবে, তারই জীবনধারা বিজয়ী থাকবে। সেই ব্যবস্থার ছায়াতলে থেকে যতই সংশোধনের চেষ্টা করা হোক না কেন। আল্লাহ তা'আলা এ বাস্তবতা ভালোভাবেই জানেন। তাই কুফরের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার আগেই তিনি তা ভেঙে দিতে বলেছেন— وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ "শরীয়াহ'র দুশমনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, যতক্ষণ না ফেতনা নির্মূল হয়।"

সুতরাং যতদিন ফেতনা তথা গাইরুল্লাহ'র মতবাদ বিদ্যমান থাকবে, ততদিন মুহাম্মাদ (ﷺ) এর শরীয়াহ বাস্তবায়িত হবে না। তাই প্রথমে সেই শক্তিকে ভেঙে দিতে বলা হয়েছে, যা এসব নষ্টামির পৃষ্ঠপোষকতা করছে। আপনি সুদের বিরুদ্ধে যত কর্মশালাই করুন না কেন, যত তাবলীগ করুন না কেন। কিন্তু যখন রাষ্ট্র স্বীয় শক্তিবলে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুদকে আবশ্যক করে দেয় এবং তা আদায় করা রাষ্ট্রীয়ভাবে ফরয করে দেয়, তখন তার বিরোধিতা রাষ্ট্রদ্রোহিতা নামেই অভিহিত হয়। তাই মুসলমানদের ইচ্ছায় অনিচ্ছায় এ সুদি কারবারে জড়াতে বাধ্য করা হচ্ছে, যাতে তারা সুদি লেনদেনে জড়িয়ে কামাই রুজি করে।

অনেকে মনে করেন, সুদ পাকিস্তান বা অন্য যে কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাই চাইলে তা শেষ করে দেওয়া যাবে। বিশ্বব্যবস্থা ও জাতিসংঘের নিয়ম-কানুন বুঝতে ভুল করার কারণেই এমন ধারণা হতে পারে। দেশীয় সরকারের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বকুফর সরকার। তা সব দেশকে আন্তর্জাতিক আইন মানতে বাধ্য করছে। তাই জিহাদ ছাড়া শুধু বুঝিয়ে এসব পরিবর্তন করা অসম্ভব। তাই সর্বপ্রথম সেই হাত ভাঙতে হবে, যা পুরো পৃথিবীকে জিম্মি বানিয়ে রেখেছে। সুদ ছাড়া জীবনোপকরণ অসম্ভব করে দিয়েছে।

পাপাচারের সহায়ক শক্তিগুলো যতদিন বিদ্যমান থাকবে, ততদিন সেই পাপাচারের জোর ভাঙা যাবে না। সেই শক্তিকে প্রথমে ভেঙে দিলে এমনিতেই পুরো পরিস্থিতি আল্লাহর আইনের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। আগে কুফরীশক্তিকে ভেঙে দেওয়া ব্যতীত পুরো পরিবেশ দ্বীনমুখী হয়ে যাওয়া অসম্ভব।

📘 ধ্বংসের দারপ্রান্তে একবিংশ শতাব্দীর গনতন্ত্র > 📄 আল্লাহ তাআলার নেয়ামত থেকে বঞ্চিতকরণের কিছু চিত্র

📄 আল্লাহ তাআলার নেয়ামত থেকে বঞ্চিতকরণের কিছু চিত্র


আসমান ও জমিনের রব যখন কোনো জাতির উপর রুষ্ট হোন, তখন তিনি যতটুকু ইচ্ছা তাদের থেকে তাঁর নেয়ামত ছিনিয়ে নেন। কখনো শরয়ীভাবে অর্থাৎ, দ্বীনি ক্ষেত্রে তাদের উপর ঐ নেয়ামত হারাম করে দেন। কখনো সৃষ্টিগতভাবে যার বিভিন্ন কারণ হতে পারে। কখনো ঐ সকল লোকই সে সকল নেয়ামত নিজেদের উপর হারাম করে নেয়। কেননা, তখন তাদের জ্ঞানশূন্য করে দেওয়া হয় এবং ঐ ব্যাপারে তাদের চোখে কোনো ধরনের জৈবিক ও প্রাকৃতিক ক্ষতি পরিলক্ষিত হয় না। আর এমনটি তাদের অপরাধের কারণেই করা হয়, যা তারা মহান রবের সাথে করেছে।

তাফসীরে 'আনওয়ারুল বয়ানে' আল্লামা আশেকে ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. লিখেছেন-
﴿ذَلِكَ جَزَيْنَاهُم بِبَغْيِهِمْ وَإِنَّا لَصَادِقُونَ﴾ ﴿الأنعام: ১৪৬﴾
"তাদের অবাধ্যতার কারণে আমি তাদেরকে এ শাস্তি দিয়েছিলাম। আর আমি অবশ্যই সত্যবাদী।” (সূরা আন'আম: ১৪৬)

এ ধরনের আয়াত সূরা নিসায়ও অতিবাহিত হয়েছে যে,
﴿فَبِظُلْمٍ مِّنَ الَّذِينَ هَادُوا حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ طَيِّبَاتٍ أُحِلَّتْ لَهُمْ وَبِصَدِّهِمْ عَن سَبِيلِ اللَّهِ كَثِيرًا﴾ ﴿النساء: ১৬০﴾
"বস্তুতঃ ইহুদীদের জন্য আমি হারাম করে দিয়েছি বহু পূত-পবিত্র বস্তু যা তাদের জন্য হালাল ছিল-তাদের পাপের কারণে এবং আল্লাহর পথে অধিক পরিমাণে বাধা দানের দরুন।” (সূরা নিসা: ১৬০)

এ থেকে জানা যায় যে, আল্লাহ তা'আলা'র সাথে অবাধ্যতায় লিপ্ত হওয়া এবং গুনাহ করে নিজেদের উপর জুলুম করা পাক-পবিত্র জিনিসগুলো থেকে বঞ্চিত হওয়ার অন্যতম কারণ। ইয়াহুদীদের উপর শরয়ীভাবে পবিত্র জিনিসগুলো হারাম করা হয়েছিল; কিন্তু সর্বশেষ নবী এর উপর নবুওয়াত সমাপ্ত হওয়ার কারণে কোনো জিনিস এখন শরয়ীভাবে হালাল থেকে হারাম হবে না। নছসমূহ রহিত হওয়ার সম্ভাবনা না থাকার কারণে। তবে সৃষ্টিগতভাবে ভালো জিনিসগুলো থেকে বঞ্চিতকরণ হতে পারে। যেটা বিভিন্ন সময় দৃশ্যমান হয় এবং এটা বিভিন্ন কারণে হতে পারে।

অনুরূপভাবে ইমাম আবূ মানসূর মা'তুরিদী রহ. সূরায়ে নিসার আয়াতের অধীনে লিখেছেন-
ثم المنع لهم يكون من جهتين احدهما: منع من جهة منع الإنزال : لقلة الامطار والقحط، كسني يوسف عليه السلام . وسني مكة علي ما كان لهم من القحط
والثاني: منع من جهة الخلق الا يعطوا شيئا، لا بيعا ولا شراء ولا معروفا

অর্থাৎ 'নেয়ামত থেকে বঞ্চিতকরণ দু'ভাবে হতে পারে। যথা-
প্রথম প্রকার: অবতরণের দিক দিয়ে। আর তা হচ্ছে, অল্প অল্প বৃষ্টি বর্ষিত হওয়া এবং মহামারী প্রেরণ করা। যেমন, ইউসুফ আ. এর যুগের দুর্ভিক্ষের বছরগুলো এবং রাসূল (ﷺ) এর যুগে মক্কাবাসীর উপর দুর্ভিক্ষের বছরগুলো প্রণিধানযোগ্য।
দ্বিতীয় প্রকার: সৃষ্টির পক্ষ থেকেও এটা হতে পারে। এভাবে যে তারা বঞ্চিতদের কিছুই দেয় না। তাদের কাছে ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ করে দেয় এবং অনুগ্রহস্বরূপও কিছু দেয় না।'

অনুরূপ ইমাম আবু কাতাদাহ রহ. বলেন-
عوقب القوم بظلم ظلموه وبغي بغوه حرمت عليهم أشياء ببغيهم وبظلمهم
'কোনো জাতিকে তাদের জুলুম আর অবাধ্যতার কারণে শাস্তি দেওয়া হয়। তাদের ঔদ্ধত্য এবং অবাধ্যতার কারণে বিভিন্ন পবিত্র জিনিসসমূহ তাদের উপর হারাম করা হয়েছে।'

ইমাম ইবনে কাসির রহ. বলেন-
عن ابن خيرة وكان من اصحاب علي رضي الله عنه قال: جزاء المعصية الوهن في العبادة، والضيق في المعيشة، والتعسر في اللذة. قيل: وما التعسر في اللذة؟ قال: لا يصادف لذة حلالا الا جاءه من ينغصه اياه
ইবনুল খিয়ারহ, যিনি হযরত আলী রাযি. এর সাথীদের মধ্য হতে একজন। তিনি বলেন, 'অবাধ্যতা ও নাফরমানির শাস্তি হলো, ইবাদতে অলসতা এসে যাওয়া, জীবিকার মধ্যে সংকীর্ণতা এবং স্বাদে তিক্ততা আসা। অর্থাৎ কোথাও যদি স্বাদ অনুভব করে, তখন সাথে সাথে এমন এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যে, সে স্বাদ তার জন্য আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।'

عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الْعَبْدَ لَيُحْرَمُ الرِّزْقَ بِالذَّنْبِ يُصِيبُهُ وَلَا يَرُدُّ الْقَدَرَ إِلَّا الدُّعَاءُ وَلَا يَزِيدُ فِي الْعُمُرِ إِلَّا الْبِرُّ.
হযরত ছাওবান রাযি. থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, "মানুষকে তার গুনাহর কারণেই রিযিক থেকে বঞ্চিত করা হয়। একমাত্র দু'আই তাকদীরকে পরিবর্তন করতে পারে। আর ভালো ও সৎকাজ মানুষের হায়াত বৃদ্ধি করে।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২২৪৩৮, শামেলা)

আর বিশ্বের অধিপতি ঘোষণা করেছেন-
ذَلِكَ جَزَيْنَاهُم بِمَا كَفَرُوا وَهَلْ نُجَازِي إِلَّا الْكَفُورَ ﴿الأنعام: ১৪৬﴾
"তাদের অবাধ্যতার কারণে আমি তাদেরকে এ শাস্তি দিয়েছিলাম। আর আমি অবশ্যই সত্যবাদী। (সূরা আন'আম: ১৪৬)

📘 ধ্বংসের দারপ্রান্তে একবিংশ শতাব্দীর গনতন্ত্র > 📄 মানবতা ধ্বংসের দায়ভার কার ঘাড়ে?

📄 মানবতা ধ্বংসের দায়ভার কার ঘাড়ে?


এর দায়ভার ঐ শ্রেণীর উপর যারা বৈশ্বিক পুঁজিবাদের দোহাই দিয়ে গণতান্ত্রিক ও অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পরিচালনা করছে এবং আল্লাহর বান্দাদেরকে এ কুফরী ও অত্যাচারী ব্যবস্থার দাস বানিয়েছে। বৈশ্বিক ব্যাংকার, অসংখ্য জাতীয় কোম্পানি, ইবলিসকে নিজেদের প্রভু হিসেবে স্বীকৃতিদানকারী, প্রভাবশালী কিছু আত্মপূজারি—আত্মপূজাই যাদের দ্বীন, এরা এমন কিছু লোকের বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং তাদেরকে রব হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছে; যারা পুরো মানবতাকে সুদ ও পুঁজিবাদের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে এবং আল্লাহর শরীয়তের বিপরীতে গণতন্ত্রের মাধ্যমে নিজেদের বানানো আইনকে মানুষের উপর চাপিয়ে দিয়েছে।

বৈশ্বিক এ কুফরী ব্যবস্থার সংরক্ষণের জন্য জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন দেশগুলোতে স্থানীয় ব্যাংকারদের থেকে ঋণের মাধ্যমে কয়েক শ্রেণীর সৈন্যবাহিনী গঠন করেছে, যাদের উপরস্থ শ্রেণী এসব দেশগুলোতে প্রতিষ্ঠিত সুদি ব্যবস্থাগুলোর সংরক্ষণে নিয়োজিত রয়েছে। সেটা যে দেশই হোক না কেন, শাসনব্যবস্থা যার হাতেই যাক না কেন এ সুদিব্যবস্থা চালু থাকবে। এ বাস্তবতাকে কেউই অস্বীকার করতে পারবে না। ইউরোপ-আমেরিকার উপর আধিপত্য বিস্তারকারী শক্তিগুলো নিজেদের জনগণের সাথে সে আচরণ করেছে, যা ফিরআউন তার জাতির সাথে করেছিল।

فَاسْتَخَفَّ قَوْمَهُ فَأَطَاعُوهُ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ ﴿الزخرف: ৫৪﴾
“অতঃপর সে তার সম্প্রদায়কে বোকা বানিয়ে দিল, ফলে তারা তার কথা মেনে নিল। নিশ্চয় তারা ছিল পাপাচারী সম্প্রদায়।” (সূরা যুখরুফ: ৫৪)

সুতরাং ইউরোপের এ প্রভাবশালী শক্তিগুলো তাদের জাতিকে 'জনগণের শাসন' নামক শ্লোগানে তাদেরকে খেল-তামাশার সেই ষাঁড় বানিয়েছে যে, ইউরোপের পুনঃজাগরণ, ফ্রান্স ও আমেরিকার বিপ্লবের আজ শতবর্ষ অতিক্রান্ত হলো; অথচ এখনো জনগণ খেলার সেই ষাঁড়ই রয়ে গেল। তারা তাদের আখিরাত তো অনেক আগেই বরবাদ করে দিয়েছে, দুনিয়াতেও এ জনগণরা বিশ্বের সুদখোরদের মজুরি করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি।

মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন-
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ بَدَّلُوا نِعْمَتَ اللَّهِ كُفْرًا وَأَحَلُّوا قَوْمَهُمْ دَارَ الْبَوَارِ ﴿ابراهيم : ২৮﴾ جَهَنَّمَ يَصْلَوْنَهَا وَبِئْسَ الْقَرَارُ ﴿ابراهيم: ২৯﴾
"তুমি কি তাদের কে দেখনি, যারা আল্লাহর নেয়ামতকে কুফরে পরিণত করেছে এবং স্ব-জাতিকে সম্মুখীন করেছে ধ্বংসের আলয়ে। দোযখের? তারা তাতে প্রবেশ করবে সেটা কতই না মন্দ আবাস।” (সূরা ইবরাহীম: ২৮-২৯)

পশ্চিমা বিশ্বে নিজেদের দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার পর সুদখোরেরা মুসলিম বিশ্বে নিজেদের ছল-চাতুরী শুরু করেছে। উসমানী খিলাফতকে ধ্বংস করেছে। উম্মাতে মুসলিমাহকে খিলাফতের বন্ধন থেকে বের করে অভিশপ্ত জাতীয়তাবাদে বিভক্ত করেছে এবং তাদের উপর নিজেদের দালাল একনিষ্ঠ দাস শাসকবর্গ ও জেনারেলদের বসিয়ে দিয়েছে, যারা নিজেরাই মুহাম্মাদ (ﷺ) এর আনীত শরীয়তের দুশমন। যারা প্রকাশ্যে মুসলমানদের ন্যায় নাম ধারণ করেছে; কিন্তু তাদের অন্তর কাফেরদের চিরসঙ্গী। তারা নিজ দেশ ও জাতির সাথে গাদ্দারি করল আর কাফেরদের একান্ত আস্থাভাজনে পরিণত হলো। মুহাম্মাদ (ﷺ) এর আনীত শরীয়ত থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করল, আর কাফেরদের দ্বীনকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করল। এটা এমন একশ্রেণী যারা স্বীয় জনগণকে দারিদ্রসীমার নিচে রেখে নিজেদের ও বৈশ্বিক পুঁজিবাদের উদরগুলো পূর্ণ করে। নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যতকে উজ্জ্বল করার জন্য স্বজাতির লোকদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন করে।

📘 ধ্বংসের দারপ্রান্তে একবিংশ শতাব্দীর গনতন্ত্র > 📄 মানবতার মুক্তি: স্রষ্টার সৃষ্টির মাঝে একমাত্র স্রষ্টার বিধান বাস্তবায়নে

📄 মানবতার মুক্তি: স্রষ্টার সৃষ্টির মাঝে একমাত্র স্রষ্টার বিধান বাস্তবায়নে


মানবতা ধ্বংসের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ একটিই। সেটা ঐ পথ, যার উপর চলে মানবতা সর্বদা সফল হয়েছিল। এটা এমন পথ যে, যদি দিকভ্রান্ত ও বিপদগ্রস্ত জাতিগুলো এর উপর চলে; তাহলে বিশ্বের প্রধান ও পথপ্রদর্শকে পরিণত হবে। আরব-আজম, পূর্ব-পশ্চিমের রাজা বাদশাদের বাদশাহী তাদের ঘোড়ার পদতলে পিষ্ট হবে। দুনিয়ার বড় বড় পরাশক্তিগুলো তাদের পদচুম্বন করবে। যে পথ অনুসরণ করে মানুষ তার স্রষ্টা পর্যন্ত পৌঁছেছে। নিজেকেও পৌঁছিয়েছে, এবং জিন্দেগীর মূল উদ্দেশ্যকেও পৌঁছিয়েছে। মানবসমাজ চরিত্রের সর্বোচ্চ অলঙ্কারে সজ্জিত হয়েছে। যেখানে নিরাপত্তা ও স্থিরতা, ইজ্জত-সম্মান, লজ্জা-শরম, অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতিপূরণ, আত্মত্যাগ ও প্রাধান্যতা, এবং আত্মীয়-স্বজনের পবিত্র সম্পর্ক সবকিছুই অর্জিত হয়েছিল।

মানব ইতিহাস সাক্ষী যে, এসব গুনাবলি মানুষের জন্য অর্জিত হয়েছিল কেবল একটিমাত্র পথেই, আর তা হলো—আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাবকে বিধান ও জীবনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করে নেওয়া। রাহমাতুল্লিল আলামীন তথা বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ মুহাম্মাদ (ﷺ) এর আনীত শরীয়তকে জীবনাদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে দেশসমূহে তা বাস্তবায়ন করা। পৃথিবী এবং তার মধ্যে অবস্থিত যা কিছু আছে সবগুলোকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর একমাত্র পথ হলো, এ পৃথিবীকে আল্লাহর নাযিলকৃত ব্যবস্থা অনুযায়ী শাসন করা। কেননা, আল্লাহ তা'আলার সত্তা হলো, সারা পৃথিবীকে লালনকারী সত্তা। তিনিই মানবজাতিকে সঠিক পথে চালানোর জন্য তাঁর রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন। সবশেষে মুহাম্মাদ (ﷺ) কে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছেন। যে শরীয়ত দিয়ে মুহাম্মাদ (ﷺ) কে পাঠানো হয়েছে, তা কেবল মুসলমানদের জন্য নয়; বরং পুরো বিশ্বের জন্য রহমতস্বরূপ।

মানুষের ভালো-মন্দের ব্যাপারে মহান আল্লাহ থেকে কে বেশি অবগত আছে? যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, যিনি তাকে মায়ের পেটে তিনটি আবরণের মাঝে জীবন দান করেছেন এবং দুর্বলতা থেকে শক্তিমান করেছেন। সুতরাং, তিনি যে জীবনব্যবস্থা (দ্বীন) মুহাম্মাদ (ﷺ) কে দিয়ে প্রেরণ করেছেন, তা শুধু মুসলিমদের জন্য নয়; বরং কাফেরদের জন্য এমনকি ভূ-পৃষ্ঠের প্রত্যেক অনু-পরমাণু, জড়পদার্থ, জীবজন্তু এবং উদ্ভিদের জন্যও রহমতস্বরূপ। সুতরাং যখন আল্লাহ তা'আলার প্রকৃতিগত আইনের সাথে বিদ্রোহ করা হবে এবং তাঁর নাযিলকৃত জীবনব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করে শাসকগোষ্ঠীর বানানো ব্যবস্থাকে জীবনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করা হবে, তখন তার পরিণামস্বরূপ ব্যাপকভাবে ধ্বংস ও বড় বিপর্যয়ের দৃশ্য বিশ্বকে প্রত্যক্ষ করতে হবে।

মানবজাতিকে পরিপূর্ণ ধ্বংসের হাত থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত রক্ষা করা যাবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর জমিনে আল্লাহর বিধানকে বিজয়ী করা হবে। যেটাকে আল্লাহ তা'আলা জীবনব্যবস্থা হিসেবে মানুষের জন্য পছন্দ করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন-
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا ... ﴿المائدة : ৩﴾
"আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন (জীবনব্যবস্থা) হিসেবে পছন্দ করলাম।” (সূরা মায়েদা: ০৩)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00