📄 ৭. বেহায়াপনা
এ সময়ের জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রগুলোতে (মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হোক বা কাফের সংখ্যাগরিষ্ঠ) যে জীবনধারা প্রচলিত আছে, তার বাস্তবতা অনুধাবনকারীর জন্য এ কথা বুঝা মোটেও কঠিন নয় যে, এ পুরো ধারাটিই প্রবৃত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। এ জীবনব্যবস্থার বাগডোর না; বরং শাহরগ যাদের (কর্পোরেট, বিশ্বব্যাংক ও মাল্টিন্যাশনাল) হাতে, তাদের প্রথম উদ্দেশ্যই হলো, মুসলমানদেরকে নয় শুধু, পুরো মানবতাকে বেহায়াপনার গর্তে নিক্ষেপ করা, যেখানে মানবতা লজ্জিত। এ পর্যায়ে মানুষকে দেখে ইবলিশ খুবই আনন্দিত হয়।
ইসলাম বিজয়ী হওয়ার অবস্থায় শরীয়াহব্যবস্থা যে স্পর্শকাতর বিষয়টির প্রতি (দমনের লক্ষ্যে) সবচেয়ে খেয়াল রাখে, তা হলো বেহায়াপনা। এর সূক্ষ্মানুভূতি এ কথার দ্বারা স্পষ্ট যে, ব্যভিচার একজন মানুষ গোপনভাবেই করে। যদি সাক্ষী না থাকে এবং সে নিজেও তা স্বীকার না করে, তখন আলামত পাওয়া যাওয়া সত্ত্বেও তাকে শরীয়াহ শাস্তি দেয় না। অথচ অপরাধ তো সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু এ অপরাধ যদি খোলামেলা পরিবেশে করার চেষ্টা করা হয়, তখন এর শাস্তি খুবই কঠিন। বুঝা গেল, শরীয়াহর কাছে গোনাহর প্রসার করা গোনাহ করার চেয়ে মারাত্মক।
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন-
إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَن تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ﴿النور: ১৯﴾
"যারা পছন্দ করে যে, ঈমানদারদের মধ্যে ব্যভিচার প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্যে ইহকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না।” (সূরা নূর: ১৯)
বর্তমান গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে যেহেতু এলিটশ্রেণীর প্রবৃত্তিই আসল, তাই বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার প্রসার ঘটাতে রাষ্ট্র সাধ্যের সবটুকু ঢেলে দেয়। বেহায়াপনার খবরসমূহ নতুন নতুন মোড়কে প্রচার করা হচ্ছে, যা দেখে আশ্চর্য না হয়ে কোনো উপায় নেই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্তম্ভ এ বেহায়াপনা শয়তানের ইচ্ছার যেন জ্যান্ত প্রতিচ্ছবি।
বেহায়াপনা ও অশ্লীলতা ছড়ানোর কত যে গুরুত্ব এ ব্যবস্থায়, তা আপনি এ কথা থেকে আন্দাজ করতে পারবেন যে, কোনো ধর্মনিষ্ঠ মুসলমান যদি ঘরে ঘরে সংযোগ দেওয়া ক্যাবল তারগুলো কাটার চেষ্টা করে, অথবা নাচগান ও নাইট ক্লাবগুলো বন্ধ করতে চায় এবং এ লক্ষ্যে ঈমানী আত্মমর্যাদার সর্বোচ্চ স্তর 'হাত' ব্যবহার করে, তখন রাষ্ট্র তাঁকে কেমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেবে? রাষ্ট্রের আইনশৃংখলা বাহিনী (তাঁর বিরুদ্ধে) পদক্ষেপ নেবে। সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হবে। লাল-মাসজিদ ট্র্যাজেডি আপনাদের সামনে আছে। তাঁদের অপরাধ ছিল, তাঁরা এ নাপাকি থেকে সমাজকে বাঁচাতে চেয়েছেন, যা দেশের রাজধানীতে ছড়িয়ে পড়েছিল। এমনকি এমন ঘটনা ঘটছিল, যা শুনে মেজাজ ঠিক রাখা মুশকিল ছিল। বাপ-মেয়ে, ভাই-বোনের পার্থক্য শেষ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু রাষ্ট্র এসবের প্রতি রুষ্ট হয়নি। রুষ্ট হয়েছে সেই নষ্টামি প্রতিহতকারী ধার্মিকশ্রেণীর কিছু নিরীহ ছাত্র-ছাত্রীর প্রতি।
ধার্মিক ধনীশ্রেণীকে এ কথা ভালো করে বুঝে নিতে হবে যে, বেহায়াপনা এ ব্যবস্থায় লাইফস্টাইল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। প্রবৃত্তির কামনা-বাসনার পূর্ণতাদানে মেয়েদের পর্যন্ত পৌঁছতে ছেলেদের জন্য যেসব প্রতিবন্ধকতা আছে, তা শেষ করে দেওয়া জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বকুফরী ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য। আর জাতীয়তাবাদী সরকারগুলো তো জাতিসংঘেরই অনুগত। সুতরাং কোনো শক্তি আল্লাহর হুকুম সৎকর্মের আদেশ ও অসৎকর্মের নিষেধ করবে এবং নিজের চোখের সামনে ঘটমান হারামকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে শক্তিপ্রয়োগ করবে, তা কখনো রাষ্ট্র বরদাশত করবে না।