📄 ৫. সুদব্যবস্থার জয়জয়কার
কুরআন-হাদীসের অসংখ্য স্থানে সুদের দুর্নাম করা হয়েছে। এটিকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধ অবহিত করা হয়েছে। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা, হোক সেটা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক, এটি সুদব্যবস্থার উপরই দাঁড়িয়ে আছে। অর্থাৎ গণতন্ত্র হোক বা রাজতন্ত্র, দারুল আমান হোক বা দারুল হারব, এ সময়ের যেসব দেশ জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত, সব দেশই সুদের সাথে জড়িত। যেন বিশ্বব্যবস্থা প্রত্যেক রাষ্ট্রের জন্য সুদকে বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। আর সব রাষ্ট্রই জনগণের উপর বিভিন্ন করারোপ করে সেই সুদ সংগ্রহ করে। করের নামে দেশে দেশে যে পরিমাণ টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে, এর একটি বিশেষ অংশ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থাগুলোর কাছে কিস্তি আকারে পৌঁছে যাচ্ছে।
আল্লাহ তা'আলা কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেন-
فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِن تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ ﴿البقرة: ২৭৯﴾
"অতঃপর যদি তোমরা পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে যাও। কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমরা নিজের মূলধন পেয়ে যাবে। তোমরা কারও প্রতি অত্যাচার করো না এবং কেউ তোমাদের প্রতি অত্যাচার করবে না।" (সূরা বাকারাহ: ২৭৯)
الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا ... ﴿البقرة: ২৭৫﴾
“যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতে দন্ডায়মান হবে, যেভাবে দন্ডায়মান হয় ঐ ব্যক্তি, যাকে শয়তান আসর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়। তাদের এ অবস্থার কারণ এই যে, তারা বলেছেঃ ক্রয়-বিক্রয় ও তো সুদ নেয়ারই মত! অথচ আল্লাহ তা'আলা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন।” (সূরা বাকারাহ: ২৭৫)
নবী কারীম কতই না শক্তভাবে সুদের তুলনা বর্ণনা করেছেন-
عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ : الرِّبَا اثْنَانِ وَسَبْعُونَ بَابًا، أَدْنَاهَا مِثْلُ إِتْيَانِ الرَّجُلِ أُمَّهُ، وَأَرْبَى الرِّبَا اسْتِطَالَةُ الرَّجُلِ فِي عِرْضِ أَخِيهِ.
হযরত বারা ইবনে আযিব রাযি. বলেন, রাসূল ইরশাদ করেছেন, “সূদের (পাপের) ৭২টি দরজা বা স্তর রয়েছে। তন্মধ্যে নিম্নতম স্তর হচ্ছে—স্বীয় মায়ের সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া তুল্য পাপ এবং ঊর্ধ্বতম স্তর হল কোন ব্যক্তি কর্তৃক তার এক ভাইয়ের মান-সম্ভ্রমের হানি ঘটান তুল্য পাপ। (সিলসিলা ছহীহাহ, হাদীস নং-১৮৭১)
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْظَلَةَ غَسِيلِ الْمَلَائِكَةِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دِرْهَمْ رِبًا يَأْكُلُهُ الرَّجُلُ وَهُوَ يَعْلَمُ أَشَدُّ مِنْ سِتَّةٍ وَثَلَاثِينَ زَنْيَةً.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হানজালা (যাকে ফেরেশতাগণ গোসল দিয়েছিলেন) থেকে বর্ণিত, রাসূল বলেন, “এক টাকা সুদও যদি কেউ জেনেবুঝে খায়, তা ছত্রিশবার ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার চেয়ে মারাত্মক।” (মুসনাদে আহমাদ, খণ্ড-৩৬, হাদীস নং-২১৯৫৭, শামেলা)
عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آكِلَ الرِّبَا، وَمُؤْكِلَهُ، وَكَاتِبَهُ، وَشَاهِدَيْهِ، وَقَالَ: هُمْ سَوَاءٌ
হযরত জাবের রাযি. বলেন, রাসূল অভিশাপ দিয়েছেন সুদদাতা, সুদগ্রহীতা, সুদলেখক, সুদের সাক্ষ্যদাতার উপর। আরো বলেছেন, এরা সবাই সমান (অপরাধী)। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৪১৭৭, শামেলা)
عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : مَا مِنْ قَوْمٍ يَظْهَرُ فِيهِمُ الرِّبَا، إِلَّا أُخِذُوا بِالسَّنَةِ، وَمَا مِنْ قَوْمٍ يَظْهَرُ فِيهِمُ الرُّشَا، إِلَّا أُخِذُوا بِالرُّعْبِ
হযরত আমর ইবনুল আস রাযি. বলেন, আমি রাসূল (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, “যে জাতির মধ্যেই সুদ ব্যাপক আকার ধারণ করে, তারা দুর্ভিক্ষের শিকার হয়। যে জাতির মধ্যে ঘুষ ব্যাপক হয়ে যায়, তারা ভয়ের শিকার হয়।” (মুসনাদে আহমাদ, খণ্ড-২৯, হাদীস নং- ১৭৮২২, শামেলা)
সুতরাং প্রচলিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সম্পর্কে আপনার মতামত কী? যেটি সুদি ব্যবস্থার উপর দাঁড়িয়ে আছে; বরং এর গভীরে যাওয়ার পর মনে হয় যে, এটির মৌলিক উদ্দেশ্যসমূহের অন্যতম হলো, সুদের লেনদেন থেকে মানুষ যেন বাঁচতে না পারে। তাই তো একদম নিম্নস্তর পর্যন্ত সুদের কারবার। আপনারা দেখছেন, সুদি কারবার শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে নয়, রাষ্ট্রীয়ভাবে সুদি কারবারকে শুধু বৈধই বলছে না; বরং অনেক কাজের মধ্যে তা আবশ্যক করে দেওয়া হয়েছে। ইচ্ছায় অনিচ্ছায় মানুষ সুদে জড়িত হচ্ছে।
📄 ৬. জোরপূর্বক করারোপ
আল্লাহর সৃষ্টি থেকে কর আদায় করা সুদের চেয়েও মারাত্মক গোনাহ বলে সাব্যস্ত করেছেন উলামায়ে কেরাম। কিন্তু বিশ্বকুফরী ব্যবস্থা প্রত্যেক রাষ্ট্রকে (গণতন্ত্র হোক বা রাজতন্ত্র) তার নাগরিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক কর আদায় করতে বাধ্য করছে। রাষ্ট্রীয় সুদি লেনদেনের ঋণের বোঝা জনগণের করের টাকা দিয়েই পরিশোধ করা হয়। এভাবে তাতে উভয় ধরনের নোংরামি ও জুলুম একত্রিত হয়ে যায়।
ইমাম হাকিম রেওয়ায়েত করেন- عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ ، قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ : لَا يَدْخُلُ صَاحِبُ مَكْسِ الْجَنَّةَ
উকবা ইবনে আমের রাযি. বলেন, আমি রাসূল কে বলতে শুনেছি যে, “কর আদায়ে জুলুমকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” (মুসনাদে আহমাদ, খণ্ড-২৮, হাদীস নং- ১৭৩৫৪, শামেলা)
এ হাদীসের ব্যাখ্যায় কাযী ইয়াজ রহ. বলেন-
রাসূল বলেছেন, “গামিদিয়াহ রাযি. এমন তাওবা করেছেন, যদি কর আদায়কারীরাও এমন তাওবা করে, তবে তাদেরকেও মাফ করে দেওয়া হবে।” কর আদায় বড় গোনাহ হওয়ার এটি একটি দলিল।
ইমাম আবূ বকর জাসসাস রহ. বলেন-
وَكَذَلِكَ حُكْمُ مَنْ يَأْخُذُ أَمْوَالَ النَّاسِ مِنْ الْمُتَسَلِّطِينَ الظُّلَمَةِ وَآخِذِي الضَّرَائِبِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ الْمُسْلِمِينَ قِتَاهُمْ وَقَتْلُهُمْ إِذَا كَانُوا مُمْتَنِعِينَ، وَهَؤُلَاءِ أَعْظَمُ جُرْمًا مِنْ آكِلِي الرِّبَا لِانْتِهَاكِهِمْ حُرْمَةَ النَّهْيِ وَحُرْمَةَ الْمُسْلِمِينَ جَمِيعًا. وَآكِلُ الرِّبَا إِنَّمَا انْتَهَكَ حُرْمَةَ اللَّهِ تَعَالَى فِي أَخْذِ الرِّبَا وَلَمْ يَنْتَهِكُ لِمَنْ يُعْطِيهِ ذَلِكَ حُرْمَةً لِأَنَّهُ أَعْطَاهُ بِطِيبَةِ نَفْسِهِ. وَآخِذُو الضَّرَائِبِ فِي مَعْنَى قُطَّاعِ الطَّرِيقِ الْمُنْتَهِكِينَ لِحُرْمَةِ نَهْيِ اللَّهِ تَعَالَى وَحُرْمَةِ الْمُسْلِمِينَ: إِذْ كَانُوا يَأْخُذُونَهُ جَبْرًا وَقَهْرًا لَا عَلَى تَأْوِيلٍ وَلَا شُبْهَةٍ، فَجَائِزٌ لِمَنْ عَلِمَ مِنْ الْمُسْلِمِينَ إِصْرَارَ هَؤُلَاءِ عَلَى مَا هُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَخْذِ أَمْوَالِ النَّاسِ عَلَى وَجْهِ الضَّرِيبَةِ أَنْ يَقْتُلَهُمْ كَيْفَ أَمْكَنَهُ قَتْلُهُمْ، وَكَذَلِكَ أَتْبَاعُهُمْ وَأَعْوَاقُهُمْ الَّذِينَ بِهِمْ يَقُومُونَ عَلَى أَخْذِ الْأَمْوَالِ.
'যেভাবে সুদের কারবারীদের সাথে ঐ সময় যুদ্ধ করা হবে, যখন তারা ইসলামী রাষ্ট্রপ্রধানের নিয়ন্ত্রণ থেকে বের হয়ে একটি শক্তিশালী গ্রুপের রূপ লাভ করবে। তেমনি সেসব মানুষের হুকুমও একই, যারা মানুষ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করে এবং করারোপ করে। যখন তাদের শক্তির কারণে তাদের উপর ইসলামী আইনপ্রয়োগ করা সম্ভব হয় না, তখন তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এবং তাদেরকে হত্যা করা প্রত্যেক মুসলমানদের জন্য ফরয। এরা তো সুদি কারবারিদের চেয়েও বড় অপরাধী। কারণ, আল্লাহ তা'আলার হারামকৃত হুকুমকে তারা পদদলিত করে এবং মুসলমানদের সম্মানকেও পদদলিত করে। সুদ কারবারিরা তো শুধু আল্লাহর হুকুমই পদদলিত করে। কিন্তু সুদগ্রহীতা দাতার সম্মানে আঘাত করে না; বরং সুদদাতা সন্তুষ্ট হয়েই সুদ দেয়। কর আদায়কারীরা ডাকাতের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। কারণ, তারা আল্লাহর হুকুমকে যেমন অসম্মান করে, তেমনি মুসলমানদেরকেও অসম্মান করে। কারণ, তারা শক্তির বলে জোরপূর্বক কোনো ব্যাখ্যা ছাড়া মুসলমানদের সম্পদ উসুল করে। সুতরাং প্রত্যেক মুসলমানের জন্য বৈধ হলো, যেভাবে হোক তাদেরকে হত্যা করা। যে মুসলমানই এ কথা জানবে যে, সে জোরপূর্বক মানুষের কাছ থেকে কর আদায় করছে এবং তেমনিভাবে তার সহযোগীদেরকেও হত্যা করা বৈধ।'
📄 ৭. বেহায়াপনা
এ সময়ের জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রগুলোতে (মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হোক বা কাফের সংখ্যাগরিষ্ঠ) যে জীবনধারা প্রচলিত আছে, তার বাস্তবতা অনুধাবনকারীর জন্য এ কথা বুঝা মোটেও কঠিন নয় যে, এ পুরো ধারাটিই প্রবৃত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। এ জীবনব্যবস্থার বাগডোর না; বরং শাহরগ যাদের (কর্পোরেট, বিশ্বব্যাংক ও মাল্টিন্যাশনাল) হাতে, তাদের প্রথম উদ্দেশ্যই হলো, মুসলমানদেরকে নয় শুধু, পুরো মানবতাকে বেহায়াপনার গর্তে নিক্ষেপ করা, যেখানে মানবতা লজ্জিত। এ পর্যায়ে মানুষকে দেখে ইবলিশ খুবই আনন্দিত হয়।
ইসলাম বিজয়ী হওয়ার অবস্থায় শরীয়াহব্যবস্থা যে স্পর্শকাতর বিষয়টির প্রতি (দমনের লক্ষ্যে) সবচেয়ে খেয়াল রাখে, তা হলো বেহায়াপনা। এর সূক্ষ্মানুভূতি এ কথার দ্বারা স্পষ্ট যে, ব্যভিচার একজন মানুষ গোপনভাবেই করে। যদি সাক্ষী না থাকে এবং সে নিজেও তা স্বীকার না করে, তখন আলামত পাওয়া যাওয়া সত্ত্বেও তাকে শরীয়াহ শাস্তি দেয় না। অথচ অপরাধ তো সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু এ অপরাধ যদি খোলামেলা পরিবেশে করার চেষ্টা করা হয়, তখন এর শাস্তি খুবই কঠিন। বুঝা গেল, শরীয়াহর কাছে গোনাহর প্রসার করা গোনাহ করার চেয়ে মারাত্মক।
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন-
إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَن تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ﴿النور: ১৯﴾
"যারা পছন্দ করে যে, ঈমানদারদের মধ্যে ব্যভিচার প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্যে ইহকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না।” (সূরা নূর: ১৯)
বর্তমান গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে যেহেতু এলিটশ্রেণীর প্রবৃত্তিই আসল, তাই বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার প্রসার ঘটাতে রাষ্ট্র সাধ্যের সবটুকু ঢেলে দেয়। বেহায়াপনার খবরসমূহ নতুন নতুন মোড়কে প্রচার করা হচ্ছে, যা দেখে আশ্চর্য না হয়ে কোনো উপায় নেই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্তম্ভ এ বেহায়াপনা শয়তানের ইচ্ছার যেন জ্যান্ত প্রতিচ্ছবি।
বেহায়াপনা ও অশ্লীলতা ছড়ানোর কত যে গুরুত্ব এ ব্যবস্থায়, তা আপনি এ কথা থেকে আন্দাজ করতে পারবেন যে, কোনো ধর্মনিষ্ঠ মুসলমান যদি ঘরে ঘরে সংযোগ দেওয়া ক্যাবল তারগুলো কাটার চেষ্টা করে, অথবা নাচগান ও নাইট ক্লাবগুলো বন্ধ করতে চায় এবং এ লক্ষ্যে ঈমানী আত্মমর্যাদার সর্বোচ্চ স্তর 'হাত' ব্যবহার করে, তখন রাষ্ট্র তাঁকে কেমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেবে? রাষ্ট্রের আইনশৃংখলা বাহিনী (তাঁর বিরুদ্ধে) পদক্ষেপ নেবে। সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হবে। লাল-মাসজিদ ট্র্যাজেডি আপনাদের সামনে আছে। তাঁদের অপরাধ ছিল, তাঁরা এ নাপাকি থেকে সমাজকে বাঁচাতে চেয়েছেন, যা দেশের রাজধানীতে ছড়িয়ে পড়েছিল। এমনকি এমন ঘটনা ঘটছিল, যা শুনে মেজাজ ঠিক রাখা মুশকিল ছিল। বাপ-মেয়ে, ভাই-বোনের পার্থক্য শেষ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু রাষ্ট্র এসবের প্রতি রুষ্ট হয়নি। রুষ্ট হয়েছে সেই নষ্টামি প্রতিহতকারী ধার্মিকশ্রেণীর কিছু নিরীহ ছাত্র-ছাত্রীর প্রতি।
ধার্মিক ধনীশ্রেণীকে এ কথা ভালো করে বুঝে নিতে হবে যে, বেহায়াপনা এ ব্যবস্থায় লাইফস্টাইল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। প্রবৃত্তির কামনা-বাসনার পূর্ণতাদানে মেয়েদের পর্যন্ত পৌঁছতে ছেলেদের জন্য যেসব প্রতিবন্ধকতা আছে, তা শেষ করে দেওয়া জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বকুফরী ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য। আর জাতীয়তাবাদী সরকারগুলো তো জাতিসংঘেরই অনুগত। সুতরাং কোনো শক্তি আল্লাহর হুকুম সৎকর্মের আদেশ ও অসৎকর্মের নিষেধ করবে এবং নিজের চোখের সামনে ঘটমান হারামকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে শক্তিপ্রয়োগ করবে, তা কখনো রাষ্ট্র বরদাশত করবে না।