📘 ধ্বংসের দারপ্রান্তে একবিংশ শতাব্দীর গনতন্ত্র > 📄 وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ

📄 وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ


আর ঐসব লোক যাঁরা পরস্পর কুরআন এবং তাওহীদের উপদেশ দেয়। ইমাম রাযী রহ. এর তাফসীরে বলেন-

فالتواصي بالحق يدخل فيه سائر الدين من علم وعمل
'অর্থাৎ তাওয়াছী বিল হক্ক (পরস্পরকে হক্কের উপদেশ প্রদান করা) এর মধ্যে সম্পূর্ণ দ্বীন বিদ্যমান আছে অর্থাৎ ইলম ও আমল।'

কাযী ছানাউল্লাহ পানিপতি রহ. বলেন, এখানে হযরত হাসান বসরী রহ. ও ইমাম কাতাদা রহ. বলেন, হক্ক (حق) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: কুরআন। আর ইমাম মুকাতিল রহ. বলেন, হক্ক দ্বারা এখানে উদ্দেশ্য হলো: ঈমান ও তাওহীদ। সামনে গিয়ে তিনি বলেন-

مسئلة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر واجب من ترك كان من الخاسرين
'আমল বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার (সৎকাজে আদেশ, মন্দ কাজে নিষেধ) করা ওয়াজিব। যে তা পরিত্যাগ করবে, সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।'

সুতরাং وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ বলে ঐ বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, যে সমস্ত আহকাম ও বিধি-বিধানের উপর পরিপূর্ণ আমল করার উপদেশ দেওয়া ছাড়া ক্ষতি থেকে পরিপূর্ণরূপে বাঁচা যাবে না। কারণ, কোনো সমাজে যদি কোনো কর্ম এককভাবে করা হয়, অন্যদেরকে তার উপদেশ প্রদান করা বা তার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা না হয়; তাহলে এ ভালো কর্মটি ব্যাপক হয় না; বরং এক সময় এমন হয় যে, ঐ ভালো কর্মকারী লোকটাও তা ছেড়ে বসেন এবং তিনি নিজেও পরিবেশের সাথে একীভূত হয়ে যান। নেক আমল করা এবং অন্যদেরকে তার প্রতি দাওয়াত দেওয়া মানুষকে ঐ আমলের উপর অটল ও স্থির থাকতে সহায়তা করে এবং অন্যদেরকে ঐ আমলের উপর আনার কারণ হয়। وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ এর এ মেহনতের বদৌলতে সমাজের অধিকাংশ লোক ঐ নেক আমলের উপর আমল করা শুরু করে। এভাবে যদি কেউ নিজে মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকে; কিন্তু সমাজকে ঐ মন্দ কাজে লিপ্ত দেখে তাদেরকে তা থেকে বিরত থাকার উপদেশ না দেয়, তখনও এক সময় ঐ খারাপ কাজের প্রতি তার ঘৃণা দূর হয়ে যায় এবং তার অবস্থাও অন্যদের মতো হয়ে যায়। এজন্যই সমাজে وَتَوَاصَوْা بِالْحَقِّ এবং আমর বিল মারুফ ও নাহী আনিল মুনকারের আমল বন্ধ হয়ে যাওয়াকে কুরআনের দৃষ্টিতে খুব অপছন্দনীয় বিষয় সাব্যস্ত করা হয়েছে। কুরআনের অনেক জায়গায় এ চিন্তাধারার অনিষ্ট সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে-

كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَن مُنكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ ﴿المائدة: ৭৯﴾

"তারা পরস্পরকে মন্দ কাজে নিষেধ করত না, যা তারা করত। তারা যা করত তা অবশ্যই মন্দ ছিল।” (সূরা মায়িদা: ৭৯)

এটা ছিল বনী ইসরাঈলের অবস্থা। আল্লাহ তা'আলা তাদের উপর আম্বিয়া আ. এর যবানের মাধ্যমে লা'নত করেছেন এবং তাদেরকে বানর-শুকর বানিয়ে দিয়েছেন।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - إِنَّ أَوَّلَ مَا دَخَلَ النَّقْصُ عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانَ الرَّجُلُ يَلْقَى الرَّجُلَ فَيَقُولُ يَا هَذَا اتَّقِ اللَّهِ وَدَعْ مَا تَصْنَعُ فَإِنَّهُ لاَ يَحِلُّ لَكَ ثُمَّ يَلْقَاهُ مِنَ الْغَدِ فَلَا يَمْنَعُهُ ذَلِكَ أَنْ يَكُونَ أَكِيلَهُ وَشَرِيبَهُ وَقَعِيدَهُ فَلَمَّا فَعَلُوا ذَلِكَ ضَرَبَ اللَّهُ قُلُوبَ بَعْضِهِمْ بِبَعْضٍ ثُمَّ قَالَ ﴿ لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُدَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ﴾ إِلَى قَوْلِهِ ﴿فَاسِقُونَ﴾ ثُمَّ قَالَ كَلاً وَاللَّهِ لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ الْمُنْكَرِ وَلَتَأْخُذُنَّ عَلَى يَدَيِ الظَّالِمِ وَلَتَأْطُرُنَّهُ عَلَى الْحَقِّ أَطْرًا وَلَتَقْصُرُنَّهُ عَلَى الْحَقِّ قَصْرًا.

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূল ইরশাদ করেন, “বনী ইসরাঈলের মধ্যে সর্বপ্রথম যে অনিষ্ট প্রবেশ করে তা হলো: তাদের এক ব্যক্তি যখন অপর ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ হতো; তখন বলত, হে অমুক! আল্লাহকে ভয় কর এবং যে গোনাহ তুমি করছ; তা ত্যাগ কর, তোমার জন্য এটা বৈধ নয়। কিন্তু পরবর্তী দিন যখন এ (উপদেশদাতা) ব্যক্তি ওর সাথে সাক্ষাৎ হতো, তখন ঐ ব্যক্তির গোনাহ এ (উপদেশদাতা) ব্যক্তিকে তার সাথে খাবারদাবার খেতে এবং ওঠাবসা করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হতো না। তারা যখন এ ধরনের কাজ করতে শুরু করল, তখন আল্লাহ তা'আলা তাদের দিলসমূহকে পরস্পর মিলিয়ে কালো করে দিলেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করলেন, ("বনী-ইসরাঈলের মধ্যে যারা কাফের, তাদেরকে দাউদ ও মরিয়মতনয় ঈসার মুখে অভিসম্পাত করা হয়েছে।"—সূরা মায়েদা: ৭৮) রাসূল (ﷺ) পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেন। তারপর বললেন—সাবধান, আল্লাহর কসম! তোমরা আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার সব সময় করবে। জালেমের হাত অবশ্যই ধরবে এবং তাকে হক্কের দিকে উদ্বুদ্ধ করবে। তুমি তাকে হক্কের উপর যেভাবে রাখা উচিত সেভাবেই অটল রাখবে।"

অন্য রেওয়ায়েতে একটু প্রবৃদ্ধি রয়েছে—“যদি তোমরা এমনটি না করো; তাহলে আল্লাহ তা'আলা তোমাদের অন্তরসমূহকে পরস্পর মিলিয়ে কালো করে দেবেন। তারপর তিনি তোমাদের প্রতি অভিসম্পাত করবেন যেমনটি তিনি বনী ইসরাঈলের উপর করেছিলেন।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪৩৩৮, ৪৩৩৯, শামেলা)

عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَوْحَى الله عَزَّ وَجَلَّ إِلَى جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ أَنِ اقْلِبْ مَدِينَةَ كَذَا وَكَذَا بِأَهْلِهَا ، قَالَ : فَقَالَ: يَا رَبِّ إِنَّ فِيهِمْ عَبْدَكَ فُلَانًا لَمْ يَعْصِكَ طَرْفَةَ عَيْنٍ، قَالَ: فَقَالَ: اقْلِبْهَا عَلَيْهِمْ، فَإِنَّ وَجْهَهُ لَمْ يَتَمَيَّرْ فِي سَاعَةً قَطُّ

হযরত জাবের রাযি. বলেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, “আল্লাহ তা'আলা হযরত জিবরাঈল আ.কে নির্দেশ দিলেন—অমুক বস্তিকে তাদের অধিবাসীসহ উল্টে দিয়ে আস। হযরত জিবরাঈল আ. আরয করলেন, হে প্রভু! ঐ বস্তিতে তো আপনার অমুক বান্দাও থাকে, যে পলক পড়া পরিমাণও আপনার নাফরমানি করেনি। আল্লাহ তা'আলা বললেন, তাকে-সহ পুরো বস্তিকে উল্টিয়ে দাও। কারণ, তার চেহারা আমার জন্য কখনো পরিবর্তন হয়নি। অর্থাৎ বস্তিতে আমার নাফরমানি হচ্ছিল; কিন্তু আমার প্রতি ভালোবাসার দরুন তার চেহারায় (লোকদের নাফরমানির প্রতি) ঘৃণাও প্রকাশ পায়নি।” (মাজমাউয যাওয়ায়েদ, খণ্ড-৭, হাদীস নং-১২১৫৬, শামেলা)

عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَذَمٍ عَنْ أَبِي بَكْرِ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ تَقْرَءُونَ هَذِهِ الْآيَةَ { يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لَا يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ } وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ النَّاسَ إِذَا رَأَوْا الظَّالِمَ فَلَمْ يَأْخُذُوا عَلَى يَدَيْهِ أَوْشَكَ أَنْ يَعُمَّهُمْ اللَّهُ بِعِقَابِهِ - أو قال: المنكر فلم يغيروه – عمهم الله بعقابة

হযরত কায়েস ইবনে আবূ হাযেম রাযি. বলেন, হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি. এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন—["হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের চিন্তা কর। তোমরা যখন সৎপথে রয়েছ, তখন কেউ পথভ্রান্ত হলে তাতে তোমাদের কোন ক্ষতি নাই।"—সূরা মায়িদা: ১০৫] তারপর তিনি বললেন, লোকেরা এই আয়াতকে তার আপন স্থানে ব্যবহার করে না। সাবধান! আমি রাসূল (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, "মানুষ যদি কোন জালিমকে দেখবে; কিন্তু তাকে বাধা দান করবে না। অথবা বলেছেন, যখন কোনো খারাপ কাজ দেখার পরও তাতে বাধা দেবে না, তখন আল্লাহ ব্যাপক আকারের আযাব প্রেরণ করবেন।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৩০, শামেলা)

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ خَطِيبًا فَكَانَ فِيمَا قَالَ أَلَا لَا يَمْنَعَنَّ رَجُلًا هَيْبَةُ النَّاسِ أَنْ يَقُولَ بِحَقِّ إِذَا عَلِمَهُ قَالَ فَبَكَى أَبُو سَعِيدٍ فَقَالَ قَدْ وَاللَّهِ رَأَيْنَا أَشْيَاءَ فَهَبْنَا

হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, একদিন রাসূল (ﷺ) খুতবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে দাঁড়ালেন। তারপর খুতবায় বললেন, "সাবধান! কোনো লোকের ভয়ে সত্য বলা থেকে বিরত থাকবে না।” এটা শুনে হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. কেঁদে দিলেন এবং বললেন, 'আল্লাহ! আমরা তো কত গলদ ও না-হক্ক বিষয় দেখে ভয়ে চুপ ছিলাম!' (ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৪০০৭, শামেলা)

এক বর্ণনায় এই শব্দগুলোর প্রবৃদ্ধি উল্লেখ আছে—
فإنه لا يقرب من أجل ولا يباعد من رزق أن يقول بحق, أو يذكر بعظيم
“কেননা, সত্য বলা এবং কোনো বড় মানুষকে সত্য সম্পর্কে অবহিত করা মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করবে না এবং রিযিক থেকেও দূরে সরিয়ে দেবে না।”

عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ : إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: « لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوفِ، وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ الْمُنْكَرِ أَوْ لَيُسَلِّطَنَّ اللَّهُ عَلَيْكُمْ شِرَارَكُمْ، فَلَيَسُومُنَكُمْ سُوءَ الْعَذَابِ ، ثُمَّ يَدْعُو خِيَارُكُمْ فَلَا يُسْتَجَابُ لَهُمْ، لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوفِ، وَلَتَنْهَوْنَّ عَنِ الْمُنْكَرِ ، أَوْ لَيَبْعَثَنَّ اللَّهُ عَلَيْكُمْ مَنْ لَا يَرْحَمُ صَغِيرَكُمْ، وَلَا يُوَقِّرُ كَبِيرُكُمْ »

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূল ইরশাদ করেন, “তোমরা অবশ্যই ভালো কাজের আদেশ দিতে থাকো এবং মন্দ কাজ থেকে বাধা দিতে থাকো। অন্যথায় আল্লাহ তা'আলা তোমাদের উপর খারাপ লোকদেরকে চাপিয়ে দেবেন। ফলে তারা তোমাদেরকে বেদনাদায়ক শাস্তি দেবে। অতঃপর তোমাদের মধ্য হতে ভাল লোকেরা দুআ করবে; কিন্তু তাদের দুআ কবুল হবে না। তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ দিতে থাকো এবং মন্দ কাজ থেকে বাধা দিতে থাকো। অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের উপর এমন লোকদের পাঠাবেন; যারা তোমাদের ছোটদের প্রতি রহম করবে না এবং তোমাদের বড়দেরকে সম্মান করবে না।”

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. বলেন, আর তাঁকে এটাও বলতে শুনেছি—
وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: «مَنْ تَرَكَ الْأَمْرَ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيَ عَنِ الْمُنْكَرِ مِنْ مَخَافَةِ الْمَخْلُوقِينَ نُزِعَتْ مِنْهُ هَيْبَةُ الطَّاعَةِ، فَلَوْ أَمَرَ وَلَدَهُ أَوْ بَعْضَ مَوَالِيهِ لَاسْتَخَفَّ بِهِ»
“যে ব্যক্তি মাখলুকের ভয়ে আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তা'আলা তার প্রভাবকে (মাখলুকের অন্তর থেকে) খতম করে দেবেন। তখন সে তার ছেলে বা গোলামকেও কোনো বিষয়ের নির্দেশ দিলে তারা গুরুত্ব দেবে না।"

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ : " قُلْنَا : يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنْ لَمْ تَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَلَمْ نَنْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ ، حَتَّى لَا نَدَعُ شَيْئًا مِنَ الْمَعْرُوفِ إِلَّا عَمِلْنَا بِهِ، وَلَا شَيْئًا مِنَ الْمُنْكَرِ إِلَّا تَرَكْنَاهُ، لَا تَأْمُرُ بِمَعْرُوفٍ وَلَا نَنْهَى عَنْ مُنْكَرٍ ؟، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مُرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَإِنْ لَمْ تَعْمَلُوا بِهِ كُلِّهِ، وَانْهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَإِنْ لَمْ تَنَاهَوْا عَنْهُ كُلِّهِ»

হযরত আবূ হুরাইরা রাযি. বলেন, আমরা আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি নিজেরা আমল করা পর্যন্ত অন্যকে ভাল কাজের আদেশ দান করব না? এবং ঐ সময় পর্যন্ত মন্দ কাজ থেকে বাধা দান করব না, যতক্ষণ না নিজেরা সেটা থেকে বিরত থাকি? তখন আল্লাহর রাসূল ইরশাদ করলেন, “ভাল কাজের আদেশ দিতে থাকো, যদিও তোমরা না করো এবং মন্দ কাজ থেকে বাধা দাও, যদিও তোমরা নিজেরা তা থেকে পুরোপুরি বিরত না থাক।"

এ কাজের গুরুত্ব, তার ফাযায়েল এবং তা ত্যাগ করার শাস্তি আলোচনা করার উদ্দেশ্য হলো, সমাজকে মঙ্গল ও কল্যাণের উপর রাখা এবং অকল্যাণ ও অনিষ্ট থেকে দূরে রাখা। وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ এর আমল জারি রাখা খুব জরুরি। যে সমাজে এ আমল চালু থাকবে, সে সমাজ আমালে সালেহা বা উত্তম আমলের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। পক্ষান্তরে কোনো সমাজ থেকে যদি এ আমল ওঠে যায়, সে সমাজ যতই ভালো হোক না কেন, দেখতে দেখতে এক সময় সে সমাজে পাপাচার ও অকল্যাণ ছড়িয়ে পড়বে। সমাজের কারো মাঝে এর অনুভূতিটুকুও থাকবে না। এ আমলের গুরুত্ব অনুধাবন করার জন্য ঐ সমাজ ও তার পবিত্র সদস্যদের আমলের প্রতি দৃষ্টিপাত করা যেতে পারে, যাঁদের মাঝে এ আয়াত নাযিল হয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম রাযি. একে অপরের সাথে মিলিত হলে বিদায় নেওয়ার পূর্বে একে অপরের সামনে সূরা আসর তিলাওয়াত করতেন।

📘 ধ্বংসের দারপ্রান্তে একবিংশ শতাব্দীর গনতন্ত্র > 📄 হক্কানী উলামায়ে কেরাম ও وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ

📄 হক্কানী উলামায়ে কেরাম ও وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ


উপরোক্ত আয়াত ও হাদীস যেগুলো হক্ক বলা এবং হক্ককে লুকানোর ব্যাপারে এসেছে, এগুলোই উলামায়ে হক্কানীর ঘুম হারাম করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বিশেষ করে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেহেতু অডিও-ভিডিও ভাষণের জয়জয়কার চলছে এবং দ্বীনের নামে বিচিত্র রকমের কথা বলে হক্ককে বাতিল, কুফরকে ইসলাম আর ইসলামকে ইসলামের বাহিরের প্রমাণ করার অপপ্রয়াস চলছে।

প্রভাবশালীগোষ্ঠী তাদের পদলেহী সরকারি মোল্লাদের মাধ্যমে তাদের প্রবৃত্তি ও ইচ্ছাকে ইসলাম প্রমাণ করার চেষ্টায় লিপ্ত। এহেন পরিস্থিতিতে হক্কানী উলামায়ে কেরামের উপর ফরয হলো—তারা দ্বীনকে তার মূল অবস্থার উপর প্রতিষ্ঠিত রাখবেন। শরয়ী পরিভাষা, তার সঠিক অর্থ ও ব্যাখ্যাকে হেফাযত করবেন। কুফর ও ইসলামের সীমারেখা রক্ষা করবেন। তার জন্য যদিও আসলাফ ও আকাবিরদের পদ্ধতি তথা শাসকগোষ্ঠীর আক্রোশ, জেল-জুলুম, দেশান্তর এবং ফাঁসি বরণ করে নিতে হয়। এটাই তো সত্যিকারের উলামাদের উত্তরাধিকার। উত্তরসূরিরা তো ওরাই হয়—যারা উত্তরাধিকার অর্জন করে নেয়।

কুফরী নেযাম ও ব্যবস্থাপনার প্রতি আপনি দৃষ্টি মেললে দেখবেন, তারা কতটা পাবন্দি ও ধারাবাহিকতার সাথে কুফরী ও পাপাচারের প্রচার-প্রসার করে যাচ্ছে। মিডিয়ার মাধ্যমে দিনরাত মেহনত করে যাচ্ছে তারা। তাদের মেহনতের উদ্দেশ্য একটাই—অপব্যাখ্যা ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে কুফর ও ইসলামকে গোঁজামিল করে দেওয়া; যাতে সাধারণ মুসলমান তো বটেই, বিশেষ মুসলমানরাও ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। এসব দেখতে দেখতে সমাজে এমন সব পাপাচার ছড়িয়ে পড়ে, কয়েক বছর পূর্বে যার কল্পনাও করা যেত না। এমনকি দ্বীনদার শ্রেণীরাও এমন এমন পাপাচারে জড়িয়ে পড়ে, যার কল্পনা করাও ধার্মিক পরিবারে পাপ মনে করা হতো। সবচেয়ে দুঃখের কথা হলো, এ পাপগুলোকে পাপ মনে করার অনুভূতিটুকুই বের হয়ে যাচ্ছে মানুষের অন্তর থেকে।

এভাবে কোনো ভাল কাজ থেকে বাধা দেওয়ার প্রক্রিয়া চালানো হলে তার প্রভাবও সমাজের উপর পড়ে। ফলে সমাজ এ ভাল কাজকে ভাল মনে করা সত্ত্বেও তা থেকে বিরত থাকতে শুরু করে। তারপর এমন একটা সময় আসে, যখন ঐ কাজটা করতে সমাজের সামনে লজ্জা অনুভব করতে শুরু করে। বর্তমান নতুন সমাজব্যবস্থার প্রতি গভীরভাবে দৃষ্টি মেললে স্পষ্টভাবে বুঝে আসে যে, মানুষ কিন্তু জন্মগতভাবে খুব একটা খারাপ নয়, কিন্তু সমাজ ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশের কারণে সে মন্দ হতে বাধ্য হয়ে যায়। অথবা সে খারাপ তো হয় না, কিন্তু নিজেকে সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য খারাপ সাজার চেষ্টা করে।

বুঝা গেল وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ এর আমল সমাজের পরিবর্তন সাধন ও সংশোধনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই যদি দ্বীনের দায়ীগণ সমাজকে সংশোধন করতে চান; তাহলে তাদেরকে প্রতিটি ক্ষেত্রে وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ এর আমলকে খুব জোরালোভাবে চালু করতে হবে। বরং তার উপরের স্তরের দাওয়াত তথা বলপূর্বক দাওয়াতের সাথে মিলিয়ে দাওয়াতকে জোরালো ও মজবুত করার দিকে ক্রমান্বয়ে অগ্রসর হতে হবে। যে যতটুকু শক্তি ব্যয় করে এ আমল করার সামর্থ্য রাখে, তাকে ততটুকুই করা চাই। আল্লাহর হুকুম পালনে নির্দেশ দিতে কাউকে ভয় করা উচিত নয়। আল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ বিষয় থেকে নিষেধ করতে কাউকে পরোয়া করা যাবে না। এ আমল ব্যক্তিগতভাবেও করতে হবে। পারিবারিক, গ্রামভিত্তিক, গোত্রভিত্তিক এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রীয়ভাবেও করা চাই। এতে যে যতটুকু অংশ নেবে, সে ততটুকুই ক্ষতি ও অনিষ্ট থেকে বাঁচতে পারবে এবং ততটুকুই ফায়দা অর্জন করতে পারবে। কারণ প্রবহমান সময়ের স্রোতে হয়তো ক্ষতির বোঝা ভারী করে চলছে, নয়তো লাভের স্টক সমৃদ্ধ করে যাচ্ছে।

📘 ধ্বংসের দারপ্রান্তে একবিংশ শতাব্দীর গনতন্ত্র > 📄 وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ

📄 وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ


ইমাম ওয়াহিদী রহ. বলেন-
وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ على طاعة الله والجهاد في سبيله 'তারা আল্লাহর আনুগত্য এবং জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ'র উপর অবিচল থাকার জোর দেয়।'

ইমাম রাযী রহ. বলেন-
والتواصي بالصبر يدخل فيه حمل النفس على مشقة التكليف في القيام بما يجب، وفي اجتنابهم ما يحرم إذ الإقدام على المكروه، والإحجام عن المراد كلاهما شاق شديد
'আবশ্যক বিষয়াবলি আদায় করার মধ্যে যা কষ্টকর, তা সহ্য করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করাও وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ এর অন্তর্ভুক্ত। এমনিভাবে হারাম বিষয়াবলি থেকে বেঁচে থাকাও। কারণ, যে কাজ করতে মন চায় না, তা করা এবং যা মন চায়, তা বর্জন করা—উভয়টাই কঠিন ব্যাপার।'

ইসলামী পুনর্জাগরণের জন্য وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ এর গর্জনের মাধ্যমে সমাজে এক আওয়াজ তোলা কোনো নতুন কথা নয়। সত্যের স্লোগানে স্লোগানে হৃদয়গুলোকে উষ্ণ করে, যুবসমাজের বুকে চেতনার আগুন জ্বালিয়ে দেওয়াও কোনো কঠিন ব্যাপার নয়। সেই জাগরণে শামিল একটি বড় অংশকে সংঘবদ্ধ করাও সাধারণ ব্যাপার মাত্র! وَتَوَاصَوْা بِالصَّبْرِ এর আহ্বানে অলি-গলি, হাট-বাজার ও সাধারণ-বিশেষের সব মিলনমেলাই মুখরিত হয়।

এসব কিছু হয় প্রাথমিক স্তরে; তবে পরীক্ষার স্তর এরপরেই শুরু হয়, যখন বিরোধী জীবনব্যবস্থা গতিশীল হয়। স্বীয় রাজত্ব-কর্তৃত্ব, সর্দারি-নেতৃত্ব, স্বীয় মতবাদ ও বিশ্বাস এবং স্বীয় হস্তে খোদিত প্রবৃত্তির বানানো প্রভুদের রক্ষা করতে বিরোধী শিবির তখন শক্তি প্রয়োগ করতে শুরু করে।

ক্ষমতার নেশায় বুঁদ ও শক্তির হটকারিতায় ডুবে থাকা অভিজাতশ্রেণীর কাছে যখন দলিল ফুরিয়ে যায়, তখন তাদের বারান্দা থেকে এ আওয়াজ আসতে শুরু করে—

﴿قَالُوا حَرِّقُوهُ وَانصُرُوا آلِهِتَكُمْ إِن كُنتُمْ فَاعِلِينَ﴾ ﴿الأنبياء: ৬৮﴾
"তারা বললঃ একে (ইবরাহীম আ.) পুড়িয়ে দাও এবং তোমাদের উপাস্যদের সাহায্য কর, যদি তোমরা কিছু করতে চাও।” (সূরা আম্বিয়া: ৬৮)

﴿فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَن قَالُوا أَخْرِجُوا آلَ لُوطٍ مِّن قَرْيَتِكُمْ إِنَّهُمْ أُنَاسٌ يَتَطَهَّرُونَ﴾ ﴿النمل: ৫৬﴾
"উত্তরে তাঁর কওম শুধু এ কথাটিই বললো, লুত পরিবারকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও। এরা তো এমন লোক যারা শুধু পাকপবিত্র সাজতে চায়।” (সূরা নামল: ৫৬)

এবার শুরু হয় আসল পরীক্ষা। খড়কুটো বেছে নেওয়ার পালা। পার্থক্য হয়ে যায় সত্য-মিথ্যা। দ্বীনের পথে বিপদ ও পরীক্ষাসমূহের ব্যাপারে এ ধারণা রাখা ঠিক নয় যে, প্রত্যেক যুগে এটি রুখসত-আজিমত তথা ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবেই ছিল—যে তা পালন করবে, বড় সওয়াবের মালিক হবে। আর যে তা করবে না, তার ঈমানের কোনো ক্ষতি হবে না। বরং কখনো-কখনো এ বিপদ ও পরীক্ষাসমূহ দ্বীনের আবশ্যিক বিষয়ও হতে পারে। এটি যুগ-যুগান্তরে চলে আসা আল্লাহর এক অমোঘ বিধান।

﴿الم﴾ ﴿العنكبوت: ১﴾ ﴿أَحَسِبَ النَّاسُ أَن يُتْرَكُوا أَن يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ﴾ ﴿العنكبوت: ২﴾
"আলিফ-লাম-মীম। মানুষ কি মনে করে যে, তারা একথা বলেই অব্যাহতি পেয়ে যাবে যে, আমরা বিশ্বাস করি এবং তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না?” (সূরা আনকাবুত: ১-২)

﴿وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ﴾ ﴿العنكبوت: ৩﴾
"আমি তাদেরকেও পরীক্ষা করেছি, যারা তাদের পূর্বে ছিল। আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন যারা সত্যবাদী এবং নিশ্চয়ই জেনে নেবেন মিথ্যুকদেরকে।” (সূরা আনকাবুত: ৩)

﴿وَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْمُنَافِقِينَ﴾ ﴿العنكبوت: ১১﴾
"আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং নিশ্চয় জেনে নেবেন যারা মুনাফেক।” (সূরা আনকাবুত: ১১)

﴿أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَعْلَمِ اللَّهُ الَّذِينَ جَاهَدُوا مِنكُمْ وَيَعْلَمَ الصَّابِرِينَ﴾ ﴿آل عمران: ১৪২﴾
"তোমাদের কি ধারণা, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ আল্লাহ এখনও দেখেননি তোমাদের মধ্যে কারা জেহাদ করেছে এবং কারা ধৈর্য্যশীল।” (সূরা আলে-ইমরান: ১৪২)

﴿أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرَ اللَّهِ قَرِيبٌ﴾ ﴿البقرة: ২১৪﴾
"তোমাদের কি এই ধারণা যে, তোমরা জান্নাতে চলে যাবে, অথচ সে লোকদের অবস্থা অতিক্রম করনি যারা তোমাদের পূর্বে অতীত হয়েছে। তাদের উপর এসেছে বিপদ ও কষ্ট। আর এমনি ভাবে শিহরিত হতে হয়েছে যাতে নবী ও তাঁর প্রতি যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে পর্যন্ত একথা বলতে হয়েছে যে, কখন আসবে আল্লাহর সাহায্যে! তোমরা শোনে নাও, আল্লাহর সাহায্যে একান্তই নিকটবর্তী।” (সূরা বাকারাহ: ২১৪)

সুতরাং সত্যের আহ্বায়কদের জন্য এটি আল্লাহর এক অমোঘ বিধান। তাঁদেরকেই পরীক্ষার ফাঁদে পা ফেলতে হয়। শত্রুর জেলখানা ও ফাঁসির মঞ্চ তাঁদের প্রাথমিক দীক্ষালয়। বিপদাপদের ঘূর্ণিঝড় তাদের অভিজ্ঞতার বিস্তীর্ণ মাঠ। সেসব বিপদাপদে দুঃখের সান্তনা হিসেবে নেমে আসে নতুন বিপদাপদ। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন-

﴿فَأَثَابَكُمْ غَمَّا بِغَمٍّ ... ﴾ ﴿آل عمران: ১৫৩﴾
"অতঃপর তোমাদের উপর এলো শোকের ওপরে শোক” (সূরা আলে-ইমরান: ১৫৩)

যাতে এক দুঃখের সান্তনাস্বরূপ আরেক নতুন দুঃখ পেয়ে বসে। এ পথটিই এমন। যেখানে জখমের চিকিৎসা নতুন এক জখমের মাধ্যমে হয়ে থাকে। যাতে জখম সইতে সইতে অন্তর অবিচল হয়ে যায়।

﴿فَأَثَابَكُمْ غَمَّا بِغَمٍّ لِكَيْلَا تَحْزَنُوا عَلَى مَا فَاتَكُمْ وَلَا مَا أَصَابَكُمْ وَاللَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ﴾ ﴿آل عمران: ১৫৩﴾

"অতঃপর তোমাদের উপর এলো শোকের ওপরে শোক, যাতে তোমরা হাত থেকে বেরিয়ে যাওয়া বস্তুর জন্য দুঃখ না কর এবং যার সম্মুখীণ হচ্ছ সেজন্য বিমর্ষ না হও। আর আল্লাহ তোমাদের কাজের ব্যাপারে অবহিত রয়েছেন।” (সূরা আলে-ইমরান: ১৫৩)

কারণ, পরীক্ষার নিয়মে এটিই চলমান। এভাবেই চলতে থাকবে। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন-

﴿وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ حَتَّى نَعْلَمَ الْمُجَاهِدِينَ مِنكُمْ وَالصَّابِرِينَ وَنَبْلُوَ أَخْبَارَكُمْ﴾ ﴿محمد: ৩১﴾

"আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব যে পর্যন্ত না ফুটিয়ে তুলি তোমাদের জেহাদকারীদেরকে এবং সবরকারীদেরকে এবং যতক্ষণ না আমি তোমাদের অবস্থান সমূহ যাচাই করি।” (সূরা মুহাম্মাদ: ৩১)

এ আয়াত প্রত্যেক মুসলমান এবং বিশেষত প্রত্যেক মুজাহিদের জন্য শিউরে ওঠার মতো। সর্বজ্ঞানী পরওয়ারদেগার গুরুত্বসহ ঘোষণা করছেন, মুজাহিদ ও গাইরে মুজাহিদ পার্থক্য করার জন্য এবং আল্লাহর পথে অবিচল মুজাহিদ ও তা থেকে পলায়নকারীকে প্রকাশ করে দেওয়ার জন্য আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষায় নিপতিত করব। তোমাদের উপর এমন অবস্থার সৃষ্টি করব, যাতে স্পষ্ট হয়ে যায়, তাওহীদকে স্বীকার করে নেওয়ার পর কে তা পুরোপুরি আদায় করতে পারে? জিহাদে আসার পর কে তাতে অবিচল থাকতে পারে? এমনকি নিজের প্রাণও সেই কালিমার জন্য কুরবান করে দিয়ে সফলদের দলে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।

📘 ধ্বংসের দারপ্রান্তে একবিংশ শতাব্দীর গনতন্ত্র > 📄 উম্মাহর অবস্থা ভালো করার সূক্ষ্ম এক রহস্য

📄 উম্মাহর অবস্থা ভালো করার সূক্ষ্ম এক রহস্য


এ আয়াত থেকে জানতে পারি যে, কিতালের মহান কাজ চালু রাখাই এ উম্মাহকে সব ধরনের ফেতনা থেকে বাঁচানোর মাধ্যম। কিতাল ফী সাবীলিল্লাহ আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশনা এবং তাঁর সন্তুষ্টি ও মুসলমানদের সামাজিক অবস্থা শুদ্ধ করার মাধ্যম। যখনই এ উম্মাহ কিতাল ফী সাবীলিল্লাহ'র আমলকে ছেড়ে বসবে, তখনই তাদের অধঃপতন শুরু হবে। তারা যুদ্ধে হেরে বসবে। নেতৃত্ব তাদের হাত থেকে বেরিয়ে শরীয়াহ'র দুশমন (কাফের, মুরতাদ ও মুনাফিক) এর হাতে চলে যাবে।

তাইতো মনে হচ্ছে, বাতিলশক্তিও এ রহস্য ভালোভাবেই জানে। তাই তারা সর্বপ্রথম শর্ত দেয় যে, আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করা যাবে না। যুদ্ধ বন্ধ করে অস্ত্রসমর্পণ করতে হবে। তারা জানে, তারপর মুসলমানদেরকে ষড়যন্ত্রের জালে ফাঁসানো একদম সহজ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00