📘 ধ্বংসের দারপ্রান্তে একবিংশ শতাব্দীর গনতন্ত্র > 📄 কালিমায়ে তাওহীদের দাবি: সব বাতিল জীবনব্যবস্থা (দ্বীন) থেকে পবিত্রতা ঘোষণা

📄 কালিমায়ে তাওহীদের দাবি: সব বাতিল জীবনব্যবস্থা (দ্বীন) থেকে পবিত্রতা ঘোষণা


উপাস্য ও উপাসনার সংজ্ঞা জানার পর এটাও জেনে রাখা দরকার যে, একজন ঈমানদারের কাছে কালিমায়ে তাওহীদের প্রথম দাবি হলো, সব বাতিল উপাস্য ও সব বাতিল জীবনব্যবস্থাকে অস্বীকার করা এবং তা থেকে পবিত্রতা ঘোষণা করা। তারপর আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। কালিমার বিন্যাসও এ কথার সমর্থন করে।

لا إله إلا الله محمد رسول الله
"কোনো উপাস্য নেই একমাত্র আল্লাহ ছাড়া। মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল।”

আল্লাহ তা'আলা সূরা বাকারায় ইরশাদ করেছেন-

لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَد تَّبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ فَمَن يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِن بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لَا انفِصَامَ لَهَا وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ﴿البقرة: ২৫৬﴾

"দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। নিঃসন্দেহে হিদায়াত গোমরাহী থেকে পৃথক হয়ে গেছে। এখন যে ব্যক্তি তাগুতকে অস্বীকার করবে এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে, সে ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাতল; যা ভাঙবার নয়। আর আল্লাহ সবই শুনেন এবং জানেন।” (সূরা বাকারাহ: ২৫৬)

এ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা প্রথমে গাইরুল্লাহ'র অস্বীকৃতি বর্ণনা করেছেন। অতঃপর আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের কথা বলেছেন।

عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: « بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ: عَلَى أَنْ يُعْبَدَ اللَّهُ وَيُكْفَرَ بِمَا دُونَهُ، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَحَجِّ الْبَيْتِ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ ».

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. রাসূল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি ইরশাদ করেন, "ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি বিষয়ের উপর। ১. একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করা; তিনি ব্যতীত বাকি সবকিছু (মিথ্যা ইলাহকে) অস্বীকার করা, ০২. সালাত কায়েম করা, ০৩. যাকাত প্রদান করা, ০৪. হজ্ব করা, ০৫. রমজানের রোজা রাখা।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১২১, শামেলা)

ইলাল্লাযীনা আমানু (إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا) শুধুমাত্র তারা, যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে যে, উপাস্য একমাত্র তিনিই। সালাতেও একমাত্র তাঁরই ইবাদত করা হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকার-আদালতেও তিনি ছাড়া অন্য কাউকে উপাস্য বানানো যাবে না। তিনিই বিচারক, তিনিই সৃষ্টিকর্তা।

أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ ... ﴿الأعراف: ৫৪﴾
"শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা।”

তাঁর সৃজন গুণের মধ্যে যেমন কেউ শরীক নেই, তেমনি তাঁর আইন প্রণয়ন ও আদেশ গুণেও কেউ শরীক নেই। আইন প্রণয়ন একমাত্র তাঁরই অধিকার। তাতে কাউকে অংশীদার বানানো তাকে উপাস্য বানানোর শামিল; যা সরাসরি কুফরী। কোনটি আইনি, কোনটি বেআইনি? কোনটি বৈধ, কোনটি অবৈধ? এটি নির্ধারণ করা তাঁরই গুণ। এ অধিকার অন্য কারো নেই। তাঁর আদেশ ও আইন পার্লামেন্টে পাশ হওয়া ছাড়াও বাস্তবায়ন করার উপযুক্ত। এ ছাড়া সব আইন বাতিল। সুতরাং তাঁর অবতীর্ণ আইন-কানুন এ থেকে পবিত্র যে, সেগুলোকে প্রথমে গণতন্ত্রের দারুন নাদওয়ায় (মক্কার কাফেরদের পার্লামেন্ট, যেখানে বসে তারা আইন প্রণয়ন করত এবং সেই আইনকে ধর্মীয় রূপ দেওয়ার জন্য মূর্তির দিকে সম্বন্ধ করত) আলোচনা করতে হবে। কুরআনের আইন সংবিধানের অংশ হতে পারবে কিনা—নাউযুবিল্লাহ, সেটার জন্য মিটিং করতে হবে?? তা পার্লামেন্ট হয়তো অনুমোদন দেবে, না হয় রদ করে দেবে। আবার চাইলে শাসনযন্ত্রের দেবী পার্লামেন্ট নামের দারুন নাদওয়া সেটি রদ করতেও পারে। আল্লাহর অবতীর্ণ আইন, যা মুহাম্মাদ (ﷺ) কে দিয়ে প্রেরণ করা হয়েছে, নাউযুবিল্লাহ, তা পার্লামেন্ট থেকে বের করে দেওয়া হবে?? তারপরও পার্লামেন্ট পবিত্র! সেটির পবিত্রতার শপথ নেওয়া হয়!! সেটির মর্যাদা সম্মানের দোহাই দেওয়া হয়!!

যেন আল্লাহর ইচ্ছাকে পার্লামেন্টের জালিম, বদমাশ, মাদকাসক্ত ও ব্যভিচারীদের হাতে তুলে দেওয়ার নামই গণতন্ত্র। তারা যা ইচ্ছা হালাল (বৈধ) বলবে, আর যা ইচ্ছা হারাম (অবৈধ) বলবে।

আল্লাহর কুরআনকে পার্লামেন্টের মুখাপেক্ষী বানানো—এটি তাঁর সত্তার সাথে সুস্পষ্ট কুফরী। তাঁর সাথে এটি ঠাট্টা ও উপহাস। রাহমাতুল্লিল আলামীন এর আনীত দ্বীনের সাথে এর চেয়ে বড় উপহাস ও অসম্মান আর কী হতে পারে? এর চেয়ে বড় ক্ষতি আর কী হবে?

আল্লাহর অকাট্য আইনকে পার্লামেন্টের অনুমোদনের মুহতাজ বানানোর দৃষ্টিভঙ্গিসহ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কোন ফকীহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে? তবে সেসব ফকীহর কথা ভিন্ন, যারা সামান্য ধন-সম্পদের বিনিময়ে নিজেদের ইলমকে বিক্রয় করেন। অথবা যারা নিজের জীবনযাপনকে স্বাভাবিক গতিতে চলতে দিতে ক্ষমতাবানদের কথা মেনে নিতে বাধ্য।

📘 ধ্বংসের দারপ্রান্তে একবিংশ শতাব্দীর গনতন্ত্র > 📄 দ্বীন ইসলামই গ্রহণযোগ্য; মিশ্র ধর্ম নয়

📄 দ্বীন ইসলামই গ্রহণযোগ্য; মিশ্র ধর্ম নয়


নবীগণের ইতিহাস এ কথার সাক্ষ্য দেয় যে, তাঁদের সাথে তাঁদের বিরোধীদের মূল দ্বন্দ্ব ছিল—তাঁরা এ কথার দাওয়াত দিতেন যে, জীবনের সকল শাখায় ইবাদত শুধু আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সাথে সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রেও গাইরুল্লাহ'র পরিবর্তে এক আল্লাহর হুকুমের আনুগত্য করা হবে।

হযরত শুআইব আ. যখন দ্বীনের এ শাখার দাওয়াত দিলেন, তখন ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা বড়ই আশ্চর্য হয়ে বলতে লাগল-

قَالُوا يَا شُعَيْبُ أَصَلَاتُكَ تَأْمُرُكَ أَن نَّতْرُكَ مَا يَعْبُدُ آبَاؤُنَا أَوْ أَن نَّفْعَلَ فِي أَمْوَالِنَا مَا نَشَاءُ إِنَّكَ لَأَنتَ الْحَلِيمُ الرَّشِيدُ ﴿هود: ৮৭﴾

"তারা বলল—হে শোয়ায়েব (আঃ) আপনার নামায কি আপনাকে ইহাই শিক্ষা দেয় যে, আমরা ঐসব উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করব আমাদের বাপ-দাদারা যাদের উপাসনা করত? অথবা আমাদের ধন-সম্পদে ইচ্ছামত যা কিছু করে থাকি, তা ছেড়ে দেব? আপনি তো একজন খাস মহৎ ব্যক্তি ও সৎপথের পথিক।” (সূরা হুদ : ৮৭)

অর্থাৎ তাঁর জাতিও এ বিষয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় ছিল যে, হযরত শুআইব আ. এর ধর্ম আমাদের অর্থনীতিব্যবস্থা ও পার্থিব লেনদেন এর মাঝে নাক গলাচ্ছে কেন?

আজকের দিনেও হক্ক-বাতিলের মাঝে এ লড়াই-ই বিদ্যমান। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ এমন 'পাগলদের' বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে, যাঁরা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সাথে সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রেও এক আল্লাহর অবতীর্ণ আইন বাস্তবায়নের দাবি জানায়।

কিন্তু যাঁরা এক আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছে সেই পূর্ণাঙ্গ শরীয়াহর উপর, যা মুহাম্মাদ (ﷺ) এর মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। যিনি আল্লাহর সাথে আধুনিক যুগের কোনো মূর্তিকে উপাস্য বানাননি। যিনি মাসজিদেও এক আল্লাহকে উপাস্য মানতেন। লেনদেন, ব্যবসায়-বাণিজ্য, আইন-আদালত, লাভ-লোকসানেও আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে উপাস্য বানানো যাবে না। তিনি শুধু আল্লাহর নাযিলকৃত দ্বীনের প্রতিই বিশ্বাস স্থাপন করতেন। ইসলামের সাথে তিনি অন্য কোনো মতবাদকে মানতেন না। মিশ্র ধর্মকেও তিনি মানতেন না, যাতে কিছু ইসলাম থেকে নেওয়া হয়েছে, কিছু অন্য ধর্ম থেকে নিয়ে এক নতুন ধর্মের সৃষ্টি করা হয়েছে।

📘 ধ্বংসের দারপ্রান্তে একবিংশ শতাব্দীর গনতন্ত্র > 📄 সন্ধির প্রস্তাবনা

📄 সন্ধির প্রস্তাবনা


হক্ক-বাতিলের মাঝে চলমান এ লড়াইয়ে বাতিলের পক্ষ থেকে শক্তিপ্রয়োগ করে হক্কের আহ্বানকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। তাঁদের উপর সব ধরনের নির্যাতন বৈধ করা হয়। জুলুম-নির্যাতন ও হুমকি-ধমকিতে ব্যর্থ হয়ে বাতিলের পক্ষ থেকে আলোচনা, সহাবস্থান, বোঝাপড়া, শান্তিচুক্তি, ঐক্য ইত্যাদি মুখরোচক স্লোগানের মাধ্যমে হক্ক-বাতিলকে ওলটপালট করার চেষ্টা করা হয়।

রাহমাতুল্লিল আলামীনের বিরুদ্ধে জাযিরাতুল আরবের সবচেয়ে বড় পরাশক্তি কুরাইশের সর্দারশ্রেণী যখন দেখল যে, ইসলামকে জোর করে দাবিয়ে রাখার প্রয়াস বারবারই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে, তখন তারাও শান্তিচুক্তি, আলোচনা ও সহাবস্থানের নামে অসাম্প্রদায়িকতার ঢোল পেটাতে শুরু করল। তাদের পক্ষ থেকে রাহমাতুল্লিল আলামীন (ﷺ) এর কাছে বিভিন্ন প্রস্তাবনা পেশ করতে শুরু করল।

ইমাম বাগাভী রহ. বলেন, একদিন মক্কা মুকাররমার পাঁচজন লোক আব্দুল্লাহ ইবনে উমাইয়া মাখযুমী, ওয়ালীদ ইবনে মুগيرة, মিকরায ইবনে হাফস, আমর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবী কাইস আল-আমেরী ও আস ইবনে ওয়ায়েল নবী কারীম (ﷺ) এর কাছে এল। তারা বলল, আপনি যদি চান যে, আমরা আপনার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করি; তবে আপনি এই কুরআন বাদ দিয়ে আরেকটি কুরআন নিয়ে আসুন!

আল্লাহ তা'আলা তাদের এ প্রস্তাবনাকে এভাবে বর্ণনা করেছেন-

وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا بَيِّنَاتٍ قَالَ الَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَاءَنَا انْتِ بِقُرْآنٍ غَيْرِ هَذَا أَوْ بَدِلْهُ ... ﴿يونس: ১৫﴾

"আর যখন তাদের কাছে আমার প্রকৃষ্ট আয়াত সমূহ পাঠ করা হয়, তখন সে সমস্ত লোক বলে, যাদের আশা নেই আমার সাক্ষাতের, নিয়ে এসো কোন কোরআন এটি ছাড়া, অথবা একে পরিবর্তিত করে দাও।” (সূরা ইউনুস: ১৫)

সুতরাং আমাদের ও আপনার মাঝে সন্ধির একটি মাত্র পথ আছে। ঘৃণাভরা, শান্তি-শৃংখলা ও নিরাপত্তা বিনষ্টকারী বিষয়গুলো বন্ধ করা হোক। এর জন্য আবশ্যক হলো, এ কুরআন বাদ দিয়ে অন্য কোনো কুরআন নিয়ে আসুন! যেখানে লাত, মানাত ও উজ্জার উপাসনার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা নেই। অথবা এ কুরআনে পরিবর্তন করুন। সেখান থেকে এমন সব কথা বের করে দিন; যাতে আমাদের জীবনব্যবস্থা ও মূর্তি সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করা হয়েছে। আমাদের কাছে আমাদের পার্লামেন্টে (দারুন নাদওয়া) অনুমোদিত আইন-কানুন ও জীবনব্যবস্থাকে ত্যাগ করার দাবি জানানো হয়েছে। আমাদের জীবনব্যবস্থায় যেসব বিষয়কে হারাম বলা হয়েছে, তা হালাল করে দেওয়া হোক। আমরা যাদেরকে উপাস্য বানিয়েছি, যাদেরকে আমরা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার সাথে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দিয়েছি; এ কুরআন তা হারাম বলছে, তাকে বাতিল ও তাগুত বলছে। সুতরাং তাতে সংস্কার করা হোক। যা হালাল বলা হয়েছে তা হারাম করা হোক।

কিন্তু আসল উপাস্য আল্লাহ তা'আলা প্রিয় নবীকে বলেছেন-

قُلْ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أُبَدِّلَهُ مِن تِلْقَاءِ نَفْسِي إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَى إِلَيَّ إِنِّي أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّي عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ ﴿يونس: ১৫﴾

"তাহলে বলে দাও, একে নিজের পক্ষ থেকে পরিবর্তিত করা আমার কাজ নয়। আমি সে নির্দেশেরই আনুগত্য করি, যা আমার কাছে আসে। যদি আমি আপন প্রতিপালকের অবাধ্যতা করি, তবে কঠিন দিবসের আযাবের ভয় করি।” (সূরা ইউনুস: ১৫)

আজ চৌদ্দশ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও কুফরের মানস যেমন পরিবর্তিত হয়নি, তেমনি কাফের বিদ্রোহীদের কর্মপন্থাও পরিবর্তিত হয়নি। সারা বিশ্বের কুফরী শক্তি জাতীয় হোক বা প্রাদেশিক, এক আল্লাহকে উপাস্য মান্যকারীদের কাছে এমনই দাবি করছে যে, কুরআনের এমন সব কথা বলা থেকে বিরত থাকুন—যা কাফেরদের অপছন্দ হয়, যেসব কথায় কাফেরদের তৈরি আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় উপাস্যসমূহকে (জীবনব্যবস্থা ও রাষ্ট্র পরিচালনার আইন) মন্দ বলা হয় এবং এ কুফরীব্যবস্থা শেষ করে দিয়ে শুধুমাত্র এক আল্লাহর নাযিলকৃত জীবনব্যবস্থা বাস্তবায়নের কথা বলা হয়ে থাকে।

📘 ধ্বংসের দারপ্রান্তে একবিংশ শতাব্দীর গনতন্ত্র > 📄 চিন্তার মুহূর্ত

📄 চিন্তার মুহূর্ত


আল্লাহ তা'আলা স্বীয় রাসূলের পবিত্র মুখে ঘোষণা করিয়ে দিয়েছেন যে, এতে কোনো ধরনের পরিবর্তন করা অসম্ভব। এটিই কুরআন, যা আমার উপর অবতীর্ণ হয়েছে। এটাকেই মানতে হবে। সন্ধির অন্য কোনো ধরন অসম্ভব।

কিন্তু আজকের যুগের ধর্মীয় সন্ধি স্থাপনকারীদের দেখুন! বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে আগামীর দিনগুলোতে কুফর ও ইসলামকে এক করার নামে মেলা সাজাচ্ছে। তাদের মাঝে পারস্পরিক ঐক্য, সৌহার্দ্য, মৈত্রী, সহমর্মিতা সৃষ্টি করার প্রয়াস চালাচ্ছে। কখনো জাতীয়তার দোহাই দিয়ে, কখনো গণতন্ত্রের ধোঁয়া তুলে, কখনো আবার রাষ্ট্রদেবীর পবিত্রতার নামে একাকার হওয়ার আতশবাজিতে আগুনের স্ফুলিঙ্গ ওপরে উঠছে।

আল্লাহ আমাদের সহায় হোক! বিবেক তখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যায়, যখন সেই মেলায় এমন সব লোককেও দেখি—যাদেরকে দ্বীনি ইলমের ধারকবাহক ভাবা হয়। কুফর ও ইসলামের মাঝে ঐক্য ও সৌহার্দ্য, আল্লাহ ও মূর্তির মাঝে ঐক্যবদ্ধতা—এ ব্যাপারে শ্রেষ্ঠ নবী (ﷺ) এর ভাষায় দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে যে-

قُلْ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أُبَدِّلَهُ مِن تِلْقَاءِ نَفْسِي إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَى إِلَيَّ ... ﴿يونس: ১৫﴾

"তাহলে বলে দাও, একে নিজের পক্ষ থেকে পরিবর্তিত করা আমার কাজ নয়। আমি সে নির্দেশেরই আনুগত্য করি, যা আমার কাছে আসে।” (সূরা ইউনুস: ১৫)

কিন্তু সেই জ্ঞানপাপীদের আল্লাহর উপর কী দুঃসাহস দেখো, কেমন হঠকারিতার সাথে এসব কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করছে এবং তা ছবি বানিয়ে ও ভিডিও ধারণ করে বিশ্ববাসীকেও সেই দুঃসাহসের সাক্ষী বানাচ্ছে। এসব জ্ঞানপাপীরা সেসব মেলায় এ জন্যই অংশ নেয় যে, নিজের কথা ও লেখা বিক্রি করে পার্থিব ভোগ-বিলাসের উপকরণ কিনবে। আল্লাহর আয়াতের কথা বলে নিজেদের পেটকে জাহান্নামের গর্তে পরিণত করবে।

إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنزَلَ اللَّهُ مِنَ الْكِتَابِ وَيَشْتَرُونَ بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا أُولَئِكَ مَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ إِلَّا النَّارَ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿البقرة: ১৭৪﴾

"নিশ্চয় যারা সেসব বিষয় গোপন করে, যা আল্লাহ কিতাবে নাযিল করেছেন এবং সেজন্য অল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা আগুন ছাড়া নিজের পেটে আর কিছুই ঢুকায় না। আর আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাদের সাথে না কথা বলবেন, না তাদের পবিত্র করা হবে, বস্তুতঃ তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।” (সূরা বাকারাহ : ১৭৪)

أُولَئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلَالَةَ بِالْهُدَى وَالْعَذَابَ بِالْمَغْفِرَةِ فَمَا أَصْبَرَهُمْ عَلَى النَّارِ ﴿البقرة: ১৭৫﴾

"এরাই হল সে সমস্ত লোক, যারা হেদায়েতের বিনিময়ে গোমরাহী খরিদ করেছে এবং (খরিদ করেছে) ক্ষমা ও অনুগ্রহের বিনিময়ে আযাব। অতএব, তারা দোযখের উপর কেমন ধৈর্য্য ধারণকারী।” (সূরা বাকারাহ : ১৭৫)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00