📄 ইমাম রাযী রহ.
ইমাম রাযী রহ. (৫৪৪-৬০৬ হি./১০৫০-১২১০ খৃ.) রব বানানোর অর্থটি আরও পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন। যার উদ্দেশ্য মানুষ ভালোভাবে বুঝতে পারবে। তিনি বলেন-
المسألة الثانية: الأكثرون من المفسرين قالوا: ليس المراد من الأرباب أنهم اعتقدوا فيهم أنهم آلهة العالم، بل المراد أنهم أطاعوهم في أوامرهم ونواهيهم
"অধিকাংশ মুফাসসিরের মতামত হলো, রব বানানো থেকে এ কথা উদ্দেশ্য নয় যে, তারা নিজেদের পাদ্রীদের ব্যাপারে এ বিশ্বাস রাখতে শুরু করেছে যে, তারাই জগতের উপাস্য। বরং এর উদ্দেশ্য হলো, তারা হুকুম ও আইন-কানুনে সেসব পাদ্রীর অনুসরণ করত।"
সুতরাং আল্লাহর বিপরীতে আইন-কানুন ও হুকুম-আহকামের ক্ষেত্রে কারো অনুসরণ করা মানে তার উপাসনা করা এবং তাকে উপাস্যের স্তরে নিয়ে যাওয়া।
📄 ইমাম আবুল লাইস সমরকন্দী রহ.
ইমাম আবুল লাইস সমরকন্দী রহ. (মৃত্যু: ৩৭৫ হি./ ৯৮৫ খৃ.) বলেন-
أربابا من دون الله يعني: اتخذوهم كالأرباب يطيعونهم في معاصي الله
অর্থাৎ সেসব ইয়াহুদী-খৃষ্টানরা তাদের বড়দেরকে রবের মতো বানিয়ে ফেলেছে। তারা আল্লাহর অবাধ্যতার ক্ষেত্রে তাদের কথাই মান্য করত। সুতরাং আল্লাহর অবাধ্যতায় যারা নিজেদের শাসনকর্তা ও নেতাদের হুকুম মান্য করে, তারা মূলত তাদেরকে রব বানিয়ে নিয়েছে।
📄 ইমাম বাগভী রহ.
একই কথা ইমাম বাগাভী রহ. (মৃত্যু: ৫১৬ হি./১২২২ খৃ.) বলেন-
قلنا: معناه أنهم أطاعوهم في معصية الله واستحلوا ما أحلوا وحرموا ما حرموا، فاتخذوهم كالأرباب
“আমরা বলি, এর অর্থ হলো, তারা (খৃষ্টানরা) আল্লাহর অবাধ্যতার ক্ষেত্রে নিজেদের পাদ্রীদের কথা মান্য করেছে। পাদ্রীরা যা হালাল বলেছে, তা হালাল হিসেবে মেনে নিয়েছে আর যা হারাম বলেছে, তা হারাম হিসেবে মেনে নিয়েছে। সুতরাং তারা পাদ্রীদের সাথে রবের ন্যায় আচরণ করেছে।"
📄 হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.
হযরত থানভী রহ. (মৃত্যু: ৪ জুলাই ১৯৪৩ খৃ.) তাফসীরে বয়ানুল কুরআনে বলেন-
یعنی ان کی اطاعت تحلیل اور تحریم میں مثل طاعت خدا کے کرتے ہیں کہ نص پر ان کے قول کو ترجیح دیتے ہیں اور ایسی اطاعت بالکل عبادت ہے پس اس حساب سے وہ ان کی عبادت کرتے ہیں
অর্থাৎ হালাল-হারাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে আল্লাহর আনুগত্যের মতো তাদের অনুসরণ করতে থাকে। নছ (আল্লাহর সুস্পষ্ট নির্দেশ) এর উপর তাদের কথাকে প্রাধান্য দেয়। আর এমন অনুসরণ নিরেট উপাসনা। সুতরাং সেই অর্থে তারা তাদের উপাসনা করে।