📄 ইমাম আবূ বকর জাসসাস রহ.
ফিকহে হানাফীর সিংহপুরুষ ইমাম আবূ বকর জাসসাস রহ. (৩০৫-৩৭০ হি./ ৯১৭-৯৮০ খৃ.) বলেন-
ثم قلدوا أحبارهم هؤلاء أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ فِي التَّحْلِيلِ وَالتَّحْرِيمِ وَقَبِلُوهُ مِنْهُمْ وَتَرَكُوا أَمْرَ اللَّهِ تَعَالَى فِيمَا حَرَّمَ وَحَلَّلَ صَارُوا مُتَّخِذِينَ لَهُمْ أَرْبَابًا إِذْ نَزَّلُوهُمْ فِي قَبُولِ ذَلِكَ مِنْهُمْ مَنْزِلَةَ الْأَرْبَابِ
“অতঃপর তারা (খৃষ্টানরা) হালাল-হারাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিজেদের পাদ্রী-যাজকদের অনুসরণ করতে লাগল। তাদের কাছ থেকে তারা তা গ্রহণ করল। ভুলে গেল আল্লাহর হুকুম, আল্লাহ তা'আলা যা হালাল কিংবা হারাম করেছিলেন। তেমনিভাবে খৃষ্টানরা সেসব পাদ্রীকে রব বানিয়ে নিল। কারণ, তারা পাদ্রীদেরকে হুকুম (আইন) গ্রহণ করার ক্ষেত্রে রবের আসনে সমাসীন করেছে।"
📄 ইমাম আবূ সাউদ রহ.
ইমাম আবূ সাউদ রহ. (৮৯৮-৯৮২ হি.) বলেন-
بأن أطاعوهم في تحريم ما أحل الله تعالى وتحليل ما حرمه أربابا من دون الله
"তারা নিজেদের উলামা ও পাদ্রীদেরকে রব বানিয়ে নিয়েছিল। এভাবে যে, আল্লাহ যা হালাল ও বৈধ ঘোষণা করেছেন, তা হারাম ও অবৈধ বানানো এবং আল্লাহ যা হারাম ও অবৈধ বলেছেন, তা হালাল ও বৈধ বানানোর ক্ষেত্রে তারা (ইয়াহুদী-খৃষ্টানরা) বড়দের কথা মান্য করত।"
একটু সামনে গিয়ে তিনি আরও বলেন-
إلا ليعبدوا إلها واحدا عظيم الشأن هو الله سبحانه وتعالى ويطيعوا أمره ولا يطيعوا أمر غيره بخلافه فإن ذلك مخل بعبادته تعالى
"তাদেরকে হুকুম দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর হুকুম ও আইনের অনুসরণ করে। এর বিপরীতে অন্য কারো হুকুম ও আইনের অনুসরণ না করে। কারণ, এমনটি করা আল্লাহর ইবাদতের পরিপন্থী।"
📄 আল্লামা আলূসী রহ.
আল্লামা আলুসী রহ. (১২১৭-১২৭০ হি./১৮০২-১৮৫৪ খৃ.) এটিকে ইবাদতেরই বিপরীত বলে দিয়েছেন। তিনি বলেন-
ويطيعوا أمر غيره بخلافه فإن ذلك مناف لعبادته جل شأنه
"আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তারা আল্লাহর হুকুমই মানবে। তিনি ছাড়া অন্য কারো হুকুম মানবে না। কারণ, এমনটি করা আল্লাহর উপাসনার বিপরীত।"
📄 ইমাম রাযী রহ.
ইমাম রাযী রহ. (৫৪৪-৬০৬ হি./১০৫০-১২১০ খৃ.) রব বানানোর অর্থটি আরও পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন। যার উদ্দেশ্য মানুষ ভালোভাবে বুঝতে পারবে। তিনি বলেন-
المسألة الثانية: الأكثرون من المفسرين قالوا: ليس المراد من الأرباب أنهم اعتقدوا فيهم أنهم آلهة العالم، بل المراد أنهم أطاعوهم في أوامرهم ونواهيهم
"অধিকাংশ মুফাসসিরের মতামত হলো, রব বানানো থেকে এ কথা উদ্দেশ্য নয় যে, তারা নিজেদের পাদ্রীদের ব্যাপারে এ বিশ্বাস রাখতে শুরু করেছে যে, তারাই জগতের উপাস্য। বরং এর উদ্দেশ্য হলো, তারা হুকুম ও আইন-কানুনে সেসব পাদ্রীর অনুসরণ করত।"
সুতরাং আল্লাহর বিপরীতে আইন-কানুন ও হুকুম-আহকামের ক্ষেত্রে কারো অনুসরণ করা মানে তার উপাসনা করা এবং তাকে উপাস্যের স্তরে নিয়ে যাওয়া।