📘 ধ্বংসের দারপ্রান্তে একবিংশ শতাব্দীর গনতন্ত্র > 📄 ইলাহের সংজ্ঞা

📄 ইলাহের সংজ্ঞা


এখানে কালিমায়ে তায়্যিবার অর্থ সংক্ষেপে আলোচনা করা সমীচীন মনে করছি। ইমাম রাগেব ইস্পাহানী বলেন- وإله جَعَلُوهُ اسْمًا لِكُلِّ مَعْبُودٍ لَهُمْ، وَكَذَا اللَّاتُ، وَسَمَّوُا الشَّمْسَ إِلَاهَةً لِاتِّخَاذِهِمْ إِيَّاهَا مَعْبُودًا.
'তারা (কাফেররা) তাদের সব প্রভুকে ইলাহ (উপাস্য) নামকরণ করেছে। আর এমনিভাবে লাতকে। সূর্যকেও তারা ইলাহ নামকরণ করেছিল। কারণ, তারা সেটাকেও উপাস্য বানিয়ে নিয়েছিল। সুতরাং ইলাহ অর্থ এখানে উপাস্য।'

আল্লামা ইবনে জারীর তবারী রহ. ﴿مَا تَعْبُدُونَ مِنْ بَعْدِي﴾ আয়াতের তাফসীরে বলেন- أي شيء تعبدون من بعدي"؟ أي من بعد وفاتي؟ قالوا : "نعبد إلهك"، يعني به قال بنوه له : نعبد معبودك الذي تعبده، ومعبود آبائك إبراهيم وإسماعيل وإسحاق، "إلها واحدا"
'হযরত ইয়াকুব আ. যখন স্বীয় সন্তানদেরকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা আমার মৃত্যুর পর কার ইবাদত করবে? তখন তাঁরা উত্তর দিল, আমরা আপনার উপাস্য, আপনার পিতা-পিতামহ ইবরাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাক আ. এর উপাস্যের ইবাদত করব। যিনি একমাত্র ইলাহ।'

আল্লামা ইবনে জারীর তবারী রহ.ও এখানে ইলাহের অর্থ উপাস্য করেছেন।
ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী রহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থে উল্লেখ করেন- أما كفار قريش كانوا يطلقونه في حق الأصنام 'কুরাইশের কাফেররা ইলাহ শব্দটি উপাস্য অর্থে ব্যবহার করত।'

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন- الإله هو المعبود المطاع فهو إله بمعنى مالوه 'ইলাহ সেই উপাস্য, যার অনুসরণ করা হয়। সুতরাং ইলাহ উপাস্য অর্থেই ব্যবহৃত হয়।'

আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম রহ. বলেন- الإله هو الذي تأله القلوب محبة وإجلالا وإنابة وإكراما وتعظيما وخوفا ورجاء وتوكلا 'ইলাহ সেই সত্তা; যার সাথে হৃদয়ের সম্পর্ক থাকে, ভালোবাসা-বড়ত্বের ক্ষেত্রে, আশ্রয় প্রার্থনা ও সম্মানদানের ক্ষেত্রে, ভয় ও আশা-ভরসার ক্ষেত্রে।'

আব্দুল কাদের জিলানী রহ. ইলাহের সংজ্ঞা দেন এভাবে- 'আজ তুমি ভরসা করছ নিজের উপর, নিজের টাকা-পয়সা, দিনার-দেরহামের উপর, নিজের কেনাকেটা ও স্বীয় শহরের প্রশাসকের উপর। যে বস্তুর উপরই তুমি ভরসা করবে, সেটিই তোমার উপাস্য। যে ব্যক্তিকে তুমি ভয় কর; কিংবা যার কাছে কোনো কিছু আশা কর, সেই তোমার উপাস্য। যে ব্যক্তিকে তুমি লাভ-ক্ষতির মালিক মনে কর, সেই তোমার উপাস্য। সুতরাং অনুধাবন কর, আল্লাহ তা'আলাই স্বীয় কুদরতে এসব নিয়ন্ত্রণ করেন। ফলে তিনিই তোমার উপাস্য।'

'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু'র চুক্তিই তো এ জন্য যে, আল্লাহ ছাড়া কাউকেই উপাস্যের স্থানে বসানো যাবে না। আর তখনই গিয়ে ঈমান গ্রহণযোগ্য হবে।

📘 ধ্বংসের দারপ্রান্তে একবিংশ শতাব্দীর গনতন্ত্র > 📄 উপাসনা কার জন্য?

📄 উপাসনা কার জন্য?


উল্লিখিত আলোচনায় এ কথা প্রতিভাত হয় যে, ইলাহ অর্থ উপাস্য। অর্থাৎ যার উপাসনা করা হয়। এরপরে সমীচীন মনে হচ্ছে যে, উপাসনার সংজ্ঞা সম্পর্কে আলোচনা করা। কারণ, আমাদের সমাজে উপাসনা বলতে বুঝায়, কেউ কাউকে সিজদা করা বা পূজা করা। অথচ শরীয়াহর ভাষায় তা আরও ব্যাপক।

কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন-

اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهَا وَاحِدًا لَّا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ ﴿التوبة: ٣١﴾

"তারা তাদের পন্ডিত ও সংসার-বিরাগীদিগকে তাদের পালনকর্তারূপে গ্রহণ করেছে আল্লাহ ব্যতীত এবং মরিয়মের পুত্রকেও। অথচ তারা আদিষ্ট ছিল একমাত্র মাবুদের এবাদতের জন্য। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তারা তাঁর শরীক সাব্যস্ত করে, তার থেকে তিনি পবিত্র।” (সূরা তাওবা : ৩১)

এ আয়াত সেসব খৃষ্টানদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা আইন রচনা (হারাম, হালাল, বৈধতা-অবৈধতা) এর অধিকার নিজেদের পাদ্রীদেরকে সোপর্দ করেছে। যেটাকে তারা হালাল করে দিতেন, তাদের অনুসারীরাও তাকে হালাল বানিয়ে ফেলত; অথচ আল্লাহ তা'আলা তা হারাম করেছিলেন। তেমনি (তাদের) সেই সম্মানিত ও অভিজাতশ্রেণী যা হারাম ঘোষণা করত, মানুষও সেটাকে হারাম বানিয়ে ফেলত; অথচ আল্লাহ তা হালাল করেছিলেন।

এ আয়াতের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে অধিকাংশ মুফাসসির এ ঘটনা বর্ণনা করেন যে, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়, তখন আদী ইবনে হাতিম রাযি. যিনি ইতঃপূর্বে খৃষ্টান ছিলেন, রাসূল (ﷺ) কে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা তো তাদেরকে উপাস্য বানাতাম না। রাসূল (ﷺ) বললেন, আল্লাহ তা'আলা যা হালাল করেছেন, তারা তা হারাম করত আর তোমরাও তা হারাম মানতে এবং আল্লাহ তা'আলা যা হারাম করেছেন, তারা তা হালাল করত আর তোমরাও তাকে হালাল ভাবতে। তখন আদী ইবনে হাতিম রাযি. বললেন, হ্যাঁ এমনটিই। তিনি বললেন, এটিই তাদের ইবাদত।

রাসূল (ﷺ) এ তাফসীরের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, কাউকে আইন রচনার ক্ষমতা দেওয়ার অর্থ হলো, তার উপাসনা করা।

📘 ধ্বংসের দারপ্রান্তে একবিংশ শতাব্দীর গনতন্ত্র > 📄 চিন্তার খোরাক

📄 চিন্তার খোরাক


গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কি পার্লামেন্টকে এ অধিকার দেওয়া হয়নি? গণতন্ত্রের প্রবক্তারা কি এ কথা দাবি করে না?—আইন প্রণয়নের ক্ষমতা তো পার্লামেন্টের হাতে। তাছাড়া গণতান্ত্রিক সরকারগুলোতে বাস্তবেও কি এমন হচ্ছে না যে, সরকার যেটি ইচ্ছা হালাল করছে, যেটি ইচ্ছা নিষিদ্ধ করছে? তার আনুগত্য করা আবশ্যক করা হচ্ছে, তার বিরোধীদেরকে রাষ্ট্রের চোখে অপরাধী এবং অস্বীকারকারীদেরকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বলা হচ্ছে??

পূর্বে হোক বা পশ্চিমে, এটিই গণতন্ত্রের বাস্তবতা। সফলতার গ্যারান্টিদাতা (?) আসল গণতন্ত্রের প্রাণ এটিই। কয়েক ক্লাস পড়েছে আর এই গণতন্ত্রের সংজ্ঞা জানে না এমন কেউ কি আছে? গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার আসল প্রাণ হলো, আইন প্রণয়নের অধিকার নিরঙ্কুশভাবে পার্লামেন্টকে সোপর্দ করা।

এখন যদি কেউ বলে, পার্লামেন্ট তিয়াত্তরের আইন মেনেই চলে, যেখানে আইন প্রণয়নের সর্বোচ্চ ক্ষমতা আল্লাহর জন্য স্বীকার করা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, এই যে আইন প্রণয়নের সর্বোচ্চ ক্ষমতা আল্লাহর জন্য—এটি কে মঞ্জুর করেছে? নিশ্চয় সেই পার্লামেন্টই। পৃথিবীতে কি এমন কোনো গণতন্ত্র আছে, যেখানে পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত ছাড়া এ ক্ষমতাটি আল্লাহকে দেওয়া হয়েছে? যারাই গণতন্ত্রের সংজ্ঞা ও এর মূল প্রতিপাদ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল, তারা এ প্রশ্নের জবাব ভালোভাবেই জানে। এ ব্যবস্থা যদি এতই ইসলামী হয়, এসব যদি এতই ইসলামী হয়; তো রজম তথা প্রস্তর নিক্ষেপের শরীয়াহ আইনকে আইনে রূপ দেওয়ার জন্য পার্লামেন্টের মঞ্জুরির বাধ্যবাধকতা কেন রাখা হয়েছে? আর সুদকে অবৈধ (হারাম) সাব্যস্ত করার জন্য পার্লামেন্ট নয় শুধু, বরং দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোট কেন লাগবে?

পরিষ্কার কথা হলো, এ ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ আইনপ্রণেতা কে? যিনি মঞ্জুর করেন এবং যাকে মঞ্জুরির যোগ্য মনে করা হয়। মঞ্জুরি পেলে তো ভালো। অন্যথায় রদ করে দিলেও সংবিধানের পবিত্রতায় (গণতন্ত্রপূজারিদের দৃষ্টিতে) কোনো ঘাটতি আসে না। সুতরাং ভাবুন!

এ পার্লামেন্ট নিজের কাজের মাধ্যমে এ কথা বারবার প্রমাণ করছে যে, তার সামনে (নাউযুবিল্লাহ) আল্লাহর হাকিমিয়্যাহ তথা আইন প্রণয়নের ক্ষমতার কী মর্যাদা আছে? যেমন সুদ, বিবাহিত ব্যভিচারীকে প্রস্তর নিক্ষেপ, মুসলমানদের হত্যায় কাফেরদের সাহায্য করা, নির্লজ্জতা ও নাস্তিকতা প্রসারকারী ব্যক্তি ও মাধ্যমগুলোর রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা দান, সুদব্যবস্থাকে রক্ষার জন্য যুদ্ধের অনুমতি প্রদান; বরং এটি ইবাদত মনে করা, শরীয়াহ বাস্তবায়নে লড়াইকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাকে জিহাদ বলা, ইসলামের অটুট বিধান জিহাদকে অবৈধ ঘোষণা করা ইত্যাদি। এসব ব্যাপারে পার্লামেন্ট এ কথা প্রমাণ করেছে যে, আইন প্রণয়নের সর্বোচ্চ ক্ষমতা তাদেরই হাতে, আল্লাহর হাতে নয়। (নাউযুবিল্লাহ!)

এত স্পষ্ট কর্মপদ্ধতি হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর দ্বীন, কুরআন ও তাঁর নবীর আনীত শরীয়াহর বিরুদ্ধে (গণতন্ত্রপন্থীরা) এমন দুঃসাহস দেখাচ্ছে যে, প্রত্যেক কুফরীর উপর ইসলামের লেবেল লাগিয়ে দিয়ে তা গ্রহণ করা হচ্ছে। যদি কোনো কিছু (এ ব্যবস্থায়) গ্রহণ না করা হয়ে থাকে, তবে তা হলো আল্লাহর শরীয়াহ; যেটিকে তিনি সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) এর মাধ্যমে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। এটিকে সম্পূর্ণ আইন-কানুন মেনে নেওয়ার পরিবর্তে কথিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক লড়াই, জাতীয় পর্যায়ের দমন অভিযান, নিরপরাধ মুসলমানদেরকে গণহত্যা, তাদেরকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। আচ্ছা, যদি তোমাদের সংবিধানই ইসলাম হয়, তো কুরআনের আইন-কানুনকে পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়া মেনে নাও না কেন?

আল্লাহর ওয়াস্তে তোমরা দু'দিনের এ তুচ্ছ জীবনের স্বার্থে কুরআন বিক্রয় করো না। আল্লাহর আয়াতসমূহকে তার আসল অর্থ ও তাৎপর্য থেকে সরিয়ে কুরআন-বিকৃতির অপরাধে জড়িত হইও না। সত্যের প্রতি জোর দেওয়ার সাহস যদি তোমার নাও থাকে, বা তোমার কোনো ওজর থাকে; তাহলে অন্তত এতটুকু তো করতে পার যে, মুখটা বন্ধ করে চুপ মেরে থাকবে। হকের আজান দিতে পারছ না, তাতে সমর্থন দিতে পারছ না, তাতে সঙ্গ দিতে পারছ না; তো অন্তত: কুফরকে ইসলাম প্রমাণ করা থেকে বিরত থাক। পরাশক্তিগুলোর ভয় আর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আশঙ্কায় ইসলাম আর কুফরকে তো এক করে ফেলতে পারো না! সিংহভাগ কুফর আর একটু ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ ইসলাম বলা থেকে বিরত থাক! আমরা জানি, তোমাদের উপর গোপন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর চাপ ও তোমাদের অপারগতার কথা। এতটুকুতেই থামো! আল্লাহর জন্য থামো! কুফর ও তাকফীরের বিষয়গুলোর মধ্যে কুফর ও ইসলামকে গুলিয়ে ফেলো না। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের প্রসিদ্ধ নীতি হলো, কোনো কথা বা কাজের কুফরী হওয়া এবং তাতে জড়িত ব্যক্তিকে কাফের বলা—দু'টি আলাদা মাসআলা। এ কথায় আমরা শতভাগ একমত যে, কুফরীতে লিপ্ত ব্যক্তিকে কাফের বলার ক্ষেত্রে উলামায়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত যেসব শর্তাবলি আরোপ করেছেন, তা আমাদেরও আকীদা। আল-হামদুলিল্লাহ, আমরা আজও সেই আকীদার উপর অটল আছি। কিন্তু তোমরা তো কুফরকে ইসলাম প্রমাণ করতে চাচ্ছ। কুফরের পক্ষে প্রতিরোধ গড়তেই কুফরের প্রতিবন্ধকতাসমূহের দলিল দিচ্ছ। এখানে একটি পার্থক্য জেনে রাখবে যে, কুফরীতে লিপ্ত কোনো ব্যক্তিকে কাফের বলতে অনেক শর্ত আছে—এ কথার অর্থ এই নয় যে, সেই কুফরী কাজ বা কথাটি ইসলাম হয়ে গিয়েছে। এটি খুব ভালোভাবে বুঝে নাও। তোমরা জেনেশুনেই পুরো আলোচনায় বিষয়টা গুলিয়ে ফেলার চেষ্টা করছ। আল্লাহ তা'আলা তা ভালোভাবেই জানেন। তোমরা মানুষকে কুফরী থেকে বাঁচাতে গিয়ে তাদের কুফরীগুলোকেই ইসলাম প্রমাণ করার চেষ্টা করছ। যা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের কারো আকীদা নয়। আল্লাহর সাথে সরাসরি কুফরীকে ইসলাম প্রমাণ করা—এটি খৃষ্টানদের সেই কথা থেকেও মারাত্মক, যা তারা আল্লাহর পুত্র সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে বলেছে।

وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَدًا ﴿৮৮﴾ لَقَدْ جِئْتُمْ شَيْئًا إِدًا ﴿৮৯﴾ تَكَادُ السَّمَاوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْهُ وَتَنشَقُّ الْأَرْضُ وَتَخِرُّ الْجِبَالُ هَدًّا ﴿৯০﴾ أَن دَعَوْا لِلرَّحْمَنِ وَلَدًا ﴿৯১﴾ وَمَا يَنبَغِي لِلرَّحْمَنِ أَن يَتَّخِذَ وَلَدًا ﴿৯২﴾

"আর তারা বলে, দয়াময় আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। নিশ্চয় তোমরা তো এক অদ্ভুত কান্ড করেছ। হয়তো এর কারণে এখনই নভোমন্ডল ফেটে পড়বে, পৃথিবী খণ্ড-বিখণ্ড হবে এবং পর্বতমালা চূর্ণবিচূর্ণ হবে। এ কারণে যে, তারা দয়াময় আল্লাহর জন্য সন্তান আহবান করে। অথচ সন্তান গ্রহণ করা দয়াময়ের জন্য শোভনীয় নয়।" (সূরা মারইয়াম : ৮৮-৯২)

সুতরাং একটি সরাসরি কুফরীব্যবস্থা (গণতন্ত্র) কে ইসলামী প্রমাণ করা কত বড় অপরাধ? যদি তোমরা তা বুঝতে পারতে!!!

📘 ধ্বংসের দারপ্রান্তে একবিংশ শতাব্দীর গনতন্ত্র > 📄 কালিমায়ে তাওহীদের দাবি: সব বাতিল জীবনব্যবস্থা (দ্বীন) থেকে পবিত্রতা ঘোষণা

📄 কালিমায়ে তাওহীদের দাবি: সব বাতিল জীবনব্যবস্থা (দ্বীন) থেকে পবিত্রতা ঘোষণা


উপাস্য ও উপাসনার সংজ্ঞা জানার পর এটাও জেনে রাখা দরকার যে, একজন ঈমানদারের কাছে কালিমায়ে তাওহীদের প্রথম দাবি হলো, সব বাতিল উপাস্য ও সব বাতিল জীবনব্যবস্থাকে অস্বীকার করা এবং তা থেকে পবিত্রতা ঘোষণা করা। তারপর আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। কালিমার বিন্যাসও এ কথার সমর্থন করে।

لا إله إلا الله محمد رسول الله
"কোনো উপাস্য নেই একমাত্র আল্লাহ ছাড়া। মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল।”

আল্লাহ তা'আলা সূরা বাকারায় ইরশাদ করেছেন-

لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَد تَّبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ فَمَن يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِن بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لَا انفِصَامَ لَهَا وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ﴿البقرة: ২৫৬﴾

"দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। নিঃসন্দেহে হিদায়াত গোমরাহী থেকে পৃথক হয়ে গেছে। এখন যে ব্যক্তি তাগুতকে অস্বীকার করবে এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে, সে ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাতল; যা ভাঙবার নয়। আর আল্লাহ সবই শুনেন এবং জানেন।” (সূরা বাকারাহ: ২৫৬)

এ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা প্রথমে গাইরুল্লাহ'র অস্বীকৃতি বর্ণনা করেছেন। অতঃপর আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের কথা বলেছেন।

عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: « بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ: عَلَى أَنْ يُعْبَدَ اللَّهُ وَيُكْفَرَ بِمَا دُونَهُ، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَحَجِّ الْبَيْتِ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ ».

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. রাসূল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি ইরশাদ করেন, "ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি বিষয়ের উপর। ১. একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করা; তিনি ব্যতীত বাকি সবকিছু (মিথ্যা ইলাহকে) অস্বীকার করা, ০২. সালাত কায়েম করা, ০৩. যাকাত প্রদান করা, ০৪. হজ্ব করা, ০৫. রমজানের রোজা রাখা।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১২১, শামেলা)

ইলাল্লাযীনা আমানু (إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا) শুধুমাত্র তারা, যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে যে, উপাস্য একমাত্র তিনিই। সালাতেও একমাত্র তাঁরই ইবাদত করা হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকার-আদালতেও তিনি ছাড়া অন্য কাউকে উপাস্য বানানো যাবে না। তিনিই বিচারক, তিনিই সৃষ্টিকর্তা।

أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ ... ﴿الأعراف: ৫৪﴾
"শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা।”

তাঁর সৃজন গুণের মধ্যে যেমন কেউ শরীক নেই, তেমনি তাঁর আইন প্রণয়ন ও আদেশ গুণেও কেউ শরীক নেই। আইন প্রণয়ন একমাত্র তাঁরই অধিকার। তাতে কাউকে অংশীদার বানানো তাকে উপাস্য বানানোর শামিল; যা সরাসরি কুফরী। কোনটি আইনি, কোনটি বেআইনি? কোনটি বৈধ, কোনটি অবৈধ? এটি নির্ধারণ করা তাঁরই গুণ। এ অধিকার অন্য কারো নেই। তাঁর আদেশ ও আইন পার্লামেন্টে পাশ হওয়া ছাড়াও বাস্তবায়ন করার উপযুক্ত। এ ছাড়া সব আইন বাতিল। সুতরাং তাঁর অবতীর্ণ আইন-কানুন এ থেকে পবিত্র যে, সেগুলোকে প্রথমে গণতন্ত্রের দারুন নাদওয়ায় (মক্কার কাফেরদের পার্লামেন্ট, যেখানে বসে তারা আইন প্রণয়ন করত এবং সেই আইনকে ধর্মীয় রূপ দেওয়ার জন্য মূর্তির দিকে সম্বন্ধ করত) আলোচনা করতে হবে। কুরআনের আইন সংবিধানের অংশ হতে পারবে কিনা—নাউযুবিল্লাহ, সেটার জন্য মিটিং করতে হবে?? তা পার্লামেন্ট হয়তো অনুমোদন দেবে, না হয় রদ করে দেবে। আবার চাইলে শাসনযন্ত্রের দেবী পার্লামেন্ট নামের দারুন নাদওয়া সেটি রদ করতেও পারে। আল্লাহর অবতীর্ণ আইন, যা মুহাম্মাদ (ﷺ) কে দিয়ে প্রেরণ করা হয়েছে, নাউযুবিল্লাহ, তা পার্লামেন্ট থেকে বের করে দেওয়া হবে?? তারপরও পার্লামেন্ট পবিত্র! সেটির পবিত্রতার শপথ নেওয়া হয়!! সেটির মর্যাদা সম্মানের দোহাই দেওয়া হয়!!

যেন আল্লাহর ইচ্ছাকে পার্লামেন্টের জালিম, বদমাশ, মাদকাসক্ত ও ব্যভিচারীদের হাতে তুলে দেওয়ার নামই গণতন্ত্র। তারা যা ইচ্ছা হালাল (বৈধ) বলবে, আর যা ইচ্ছা হারাম (অবৈধ) বলবে।

আল্লাহর কুরআনকে পার্লামেন্টের মুখাপেক্ষী বানানো—এটি তাঁর সত্তার সাথে সুস্পষ্ট কুফরী। তাঁর সাথে এটি ঠাট্টা ও উপহাস। রাহমাতুল্লিল আলামীন এর আনীত দ্বীনের সাথে এর চেয়ে বড় উপহাস ও অসম্মান আর কী হতে পারে? এর চেয়ে বড় ক্ষতি আর কী হবে?

আল্লাহর অকাট্য আইনকে পার্লামেন্টের অনুমোদনের মুহতাজ বানানোর দৃষ্টিভঙ্গিসহ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কোন ফকীহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে? তবে সেসব ফকীহর কথা ভিন্ন, যারা সামান্য ধন-সম্পদের বিনিময়ে নিজেদের ইলমকে বিক্রয় করেন। অথবা যারা নিজের জীবনযাপনকে স্বাভাবিক গতিতে চলতে দিতে ক্ষমতাবানদের কথা মেনে নিতে বাধ্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00