📘 ডিপ্রেশন কারণ ও প্রতিকার > 📄 দুশ্চিন্তা হতাশা ও বিষণ্ণতা দূর করার বিষয়ে ইমাম ইবনুল কাইয়িমের পরামর্শ

📄 দুশ্চিন্তা হতাশা ও বিষণ্ণতা দূর করার বিষয়ে ইমাম ইবনুল কাইয়িমের পরামর্শ


ইমাম ইবনুল কাইয়িম রাহিমাহুল্লাহ পনেরোটি উপায় সম্পর্কে লিখেছেন, যেগুলোর দ্বারা আল্লাহ তাআলা বান্দার দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি দূর করে দেন।
এক. তাওহিদুর রুবুবিয়্যাহ।
দুই. তাওহিদুল উলুহিয়্যাহ।
তিন. তাওহিদুল ইলমিল ইতিকাদি (আসমা ওয়াস-সিফাত)।
চার. আল্লাহ তাআলা বান্দার ওপর জুলুম করবেন কিংবা কোনো কারণ ছাড়াই বান্দাকে পাকড়াও করবেন (যা জুলুমকে আবশ্যক করে) – এ থেকে মহান রবকে পবিত্র ঘোষণা করা।
পাঁচ. বান্দার স্বীকার করা যে, সে জালিম।
ছয়. আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে প্রিয় বিষয়ের দ্বারা প্রার্থনা করা। সেগুলো হল তার নাম ও গুণাবলিসমূহ। আসমা ওয়াস সিফাতের মধ্যে সবচেয়ে সমৃদ্ধ হচ্ছে—
الحي القيوم
“তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক।”
সাত. একমাত্র আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া।
আট. প্রত্যাশার সাথে বান্দার রবের স্বীকৃতি দেওয়া।
নয়. তাওয়াক্কুল বাস্তবায়ন করা, তাঁর কাছে নিজেকে অর্পণ করা। বান্দার এটা স্বীকার করা যে, তার ললাট তার রবের হাতেই রয়েছে; তিনি যেভাবে ইচ্ছা, পরিচালনা করেন; তার ওপর রবের সমস্ত হুকুম বাস্তবায়িত হয়; রবের সকল ফয়সালা ইনসাফপূর্ণ হয়।
দশ. তার অন্তর কুরআনের বাগানের সুবাসে সুশোভিত করা। সকল বিপদে তা থেকে পাথেয় গ্রহণ করবে। অন্তরের সকল রোগে তা থেকে চিকিৎসা নেবে। তখন এটা হবে তার দুঃখ দূরীভূতকারী এবং তার দুশ্চিন্তা ও পেরেশানির জন্য শিফা।
এগারো. ইস্তিগফার।
বারো. তাওবা।
তেরো. জিহাদ।
চৌদ্দ. নামাজ।
পনেরো. সকল যোগ্যতা ও শক্তি থেকে নিজেকে মুক্ত বিশ্বাস করা এবং এগুলোকে সেই সত্তার ওপর ন্যস্ত করা, যার হাতে এসব রয়েছে।
আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে সকল দুশ্চিন্তা থেকে পানাহ চাচ্ছি। তিনি যেন আমাদের সকল বিপদ থেকে মুক্তি দেন এবং আমাদের সকল দুশ্চিন্তা দূর করে দেন। তিনিই সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী। তিনি চিরঞ্জীব ও অবিনশ্বর।

📘 ডিপ্রেশন কারণ ও প্রতিকার > 📄 জ্ঞাতব্য

📄 জ্ঞাতব্য


দুনিয়ার দুশ্চিন্তার এতসব প্রকার ও সমাধান উল্লেখ করার পর এখানে আরও আলোচনা করা আবশ্যক যে, আখিরাতের দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি হবে সবচেয়ে ভয়াবহ এবং সেখানের বিপদ হবে সবচেয়ে কঠিন। যার একটি দৃষ্টান্ত হচ্ছে, হাশরের ময়দানে মানুষের ওপর নেমে আসা বিপর্যয়, যা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে :
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِي اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ.. أَنَا سَيِّدُ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَهَلْ تَدْرُونَ مِمَّ ذَلِكَ يَجْمَعُ اللَّهُ النَّاسَ الْأَوَّلِينَ وَالآخِرِينَ فِي صَعِيدٍ وَاحِدٍ يُسْمِعُهُمُ الدَّاعِي وَيَنْفُذُهُمُ الْبَصَرُ وَتَدْنُو الشَّمْسُ فَيَبْلُغُ النَّاسَ مِنَ الْغَمِّ وَالْكَرْبِ مَا لَا يُطِيقُونَ وَلَا يَحْتَمِلُونَ فَيَقُولُ النَّاسُ أَلَا تَرَوْنَ مَا قَدْ بَلَغَكُمْ أَلَا تَنْظُرُونَ مَنْ يَشْفَعُ لَكُمْ إِلَى رَبِّكُمْ فَيَقُولُ بَعْضُ النَّاسِ لِبَعْضٍ عَلَيْكُمْ بِآدَمَ ...
আবু হুরায়রা রাজিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি হব কিয়ামতের দিন মানবকুলের সর্দার। তোমাদের কি জানা আছে, তা কেন? কিয়ামতের দিন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষ এমন এক ময়দানে সমবেত হবে, যেখানে একজন আহ্বানকারীর আহ্বান সকলে শুনতে পাবে এবং সকলেই একসঙ্গে দৃষ্টিগোচর হবে; সূর্য নিকটে এসে যাবে; মানুষ এমনই কষ্ট-ক্লেশের সম্মুখীন হবে, যা অসহনীয় ও অসহ্যকর হয়ে পড়বে। তখন লোকেরা বলবে, তোমরা কী বিপদের সম্মুখীন হয়েছ, তা কি দেখতে পাচ্ছো না? তোমরা কি এমন কাউকে খুঁজে বের করবে না, যিনি তোমাদের রবের কাছে তোমাদের জন্য সুপারিশকারী হবেন? কেউ কেউ অন্যদের বলবে যে, আদমের কাছে চলো।...[৭৩]
সেদিন আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া এসব দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি থেকে মুক্তির কোনো উপায় নেই।
وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه خير قوم والحمد لله الذي لا تأخذه سنة ولا نوم .

টিকাঃ
[৭৩] সহিহুল বুখারি: ৪৭১২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00