📄 জুলুমের ফলে সৃষ্টি হওয়া দুশ্চিন্তা
কিছু দুশ্চিন্তা অন্যদের ওপর জুলুমের ফলে সৃষ্টি হয়। যেমন: নিকট আত্মীয়দেরকে জুলুম কর।। এক কবি বলেছেন—
وظلم ذوي القربى أشد مضاضة على النفس من وقع الحسام المهند
নিকট আত্মীয়দের জুলুম ধারালো তরবারির আঘাত থেকেও অন্তরে বেশি কষ্ট দেয়।
📄 দুনিয়াবি বিপদাপদের ফলে তৈরি হওয়া দুশ্চিন্তা
কিছু দুশ্চিন্তা দুনিয়ার বিপদাপদ থেকে জন্ম নেয়। যেমন: দীর্ঘস্থায়ী ও মারাত্মক রোগ, সন্তানদের অবাধ্যতা, স্ত্রীর কর্তৃত্ব ও স্বামীর বক্রতা।
📄 ভবিষ্যতের ব্যাপারে দুশ্চিন্তা
কিছু দুশ্চিন্তা ভবিষ্যতের ভয়ের ফলে হয়ে থাকে। যেমন: কোনো বাবা তার পরবর্তী প্রজন্মের ব্যাপারে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়া। বিশেষত যদি তারা দুর্বল হয় এবং তার কাছে এমন কিছু না থাকে, যা তাদের জন্য রেখে যেতে পারবে।
এভাবেই দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে।
সামনে কিছুটা বিস্তারিত বিবরণের সাথে আলোচনা করছি।
📄 ডিপ্রেশন: কারণ ও প্রকারভেদ
দাঈদের দুশ্চিন্তা : একজন দাঈ নিজ জাতিকে দাওয়াত দেওয়ার সময় যে দুশ্চিন্তা তার ওপর আপতিত হয়, এ ধরনের দুশ্চিন্তা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত করেছে নবিগণ (আলাইহিমুস সালাম)-কে। আয়িশা রাজিয়াল্লাহু আনহা তাঁর বোনপো উরওয়া'র কাছে বর্ণনা করেন :
حَدَّثَنِي عُرْوَةُ، أَنَّ عَائِشَةَ رضى الله عنها زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَدَّثَتْهُ أَنَّهَا قَالَتْ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هَلْ أَتَى عَلَيْكَ يَوْمُ كَانَ أَشَدَّ مِنْ يَوْمٍ أُحُدٍ قَالَ لَقَدْ لَقِيتُ مِنْ قَوْمِكِ مَا لَقِيتُ، وَكَانَ أَشَدُّ مَا لَقِيتُ مِنْهُمْ يَوْمَ الْعَقَبَةِ، إِذْ عَرَضْتُ نَفْسِي عَلَى ابْنِ عَبْدِ يَالِيلَ بْنِ عَبْدِ كُلالٍ، فَلَمْ يُجِبْنِي إِلَى مَا أَرَدْتُ، فَانْطَلَقْتُ وَأَنَا مَهْمُومُ عَلَى وَجْهِي، فَلَمْ أَسْتَفِقْ إِلَّا وَأَنَا بِقَرْنِ النَّعَالِبِ، فَرَفَعْتُ رَأْسِي، فَإِذَا أَنَا بِسَحَابَةٍ قَدْ أَظَلَّتْنِي، فَنَظَرْتُ فَإِذَا فِيهَا جِبْرِيلُ فَنَادَانِي فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ قَدْ سَمِعَ قَوْلَ قَوْمِكَ لَكَ وَمَا رَدُّوا عَلَيْكَ، وَقَدْ بَعَثَ إِلَيْكَ مَلَكَ الْجِبَالِ لِتَأْمُرَهُ بِمَا شِئْتَ فِيهِمْ، فَنَادَانِي مَلَكُ الجِبَالِ ، فَسَلّمَ عَلَى ثُمَّ قَالَ يَا مُحَمَّدُ، فَقَالَ ذَلِكَ فِيمَا شِئْتَ إِنْ شِئْتَ أنْ أطْبق عَلَيْهِمِ الأخْشَبَيْنِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَلْ أَرْجُو أنْ يُخْرِجَ اللهُ مِنْ أَصْلا بهمْ مَنْ يَعْبُدُ اللهَ وَحْدَهُ لاَ يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا".
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহধর্মিণী আয়িশা রাজিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, একবার তিনি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, অহুদের দিনের চেয়ে কঠিন কোনো দিন কি আপনার ওপর এসেছিল? তিনি বললেন, আমি তোমার কওম থেকে যে বিপদের সম্মুখীন হয়েছি, তা তো হয়েছিই। তাদের চেয়েও বেশি কঠিন বিপদের সম্মুখীন হয়েছি, আকাবার দিন— যখন আমি নিজেকে ইবনু আবদি ইয়ালিল ইবনি আবদি কুলালের নিকট পেশ করেছিলাম। আমি যা চেয়েছিলাম, সে তাতে সাড়া দেয়নি। তখন আমি এমন বিষণ্ণ চেহারা নিয়ে ফিরে এলাম যে, কারনুস সাআলিবে পৌঁছা পর্যন্ত আমার চিন্তা লাঘব হয়নি। তখন আমি মাথা উপরে উঠালাম। হঠাৎ দেখতে পেলাম, এক খণ্ড মেঘ আমাকে ছায়া দিচ্ছে। আমি সেদিকে দৃষ্টি দিলাম। তার মধ্যে ছিলেন জিবরিল (আলাইহিস সালাম)। তিনি আমাকে ডেকে বললেন, আপনার কওম আপনাকে যা বলেছে এবং আপনার প্রতি উত্তরে তারা যা বলেছে, তার সবই আল্লাহ শুনেছেন। তিনি আপনার কাছে পাহাড়ের (দায়িত্বে নিয়োজিত) ফেরেশতাকে পাঠিয়েছেন। এদের সম্পর্কে আপনার যা ইচ্ছা, আপনি তাকে হুকুম দিতে পারেন। তখন পাহাড়ের ফেরেশতা আমাকে ডাকলেন এবং আমাকে সালাম দিলেন। তারপর বললেন, হে মুহাম্মাদ! এসব ব্যাপার আপনার ইচ্ছাধীন। আপনি যদি চান, তাহলে আমি তাদের উপর আখশাবাইনকে (মক্কায় পাশাপাশি অবস্থিত দুটি কঠিন শিলার পাহাড়) চাপিয়ে দেবো। উত্তরে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, (না, তা হতে পারে না) বরং আমি আশা করি, মহান আল্লাহ তাদের বংশ থেকে এমন সন্তান জন্ম দেবেন, যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে আর তাঁর সাথে কাউকে শরিক করবে না।[৭]
তেমনিভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনেক চিন্তিত হয়েছিলেন, যখন তাঁর জাতি মিরাজের সফরের ব্যাপারে তাঁকে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিল। ইমাম মুসলিম রাহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেন :
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَدْ رَأَيْتُنِي فِي الْحِجْرِ وَقُرَيْسٌ تَسْأَلُنِي عَنْ مَسْرَايَ فَسَأَلَتْنِي عَنْ أَشْيَاءَ مِنْ بَيْتِ الْمَقْدِسِ لَمْ أُثْبِتْهَا فَكَرِبْتُ كُرْبَةً مَا كُرِبْتُ مِثْلَهُ قَطُّ قَالَ فَرَفَعَهُ اللَّهُ لِي أَنْظُرُ إِلَيْهِ مَا يَسْأَلُونِي عَنْ شَيْءٍ إِلَّا أَنْبَأْتُهُمْ بِهِ.
আবু হুরায়রা রাজিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি হিজরে (হাতিমে কাবায়) ছিলাম। এ সময় কুরাইশরা আমাকে আমার ইসরা সম্পর্কে প্রশ্ন করতে শুরু করে। তারা আমাকে বাইতুল মাকদিসের এমন সব বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে লাগল, যা আমি ভালোভাবে মনে রাখিনি। ফলে আমি এত বেশি চিন্তিত হয়ে পড়লাম, এরকম চিন্তিত আর কখনোই হইনি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তারপর আল্লাহ তাআলা আমার সম্মুখে বাইতুল মাকদিসকে উদ্ভাসিত করে দিলেন এবং আমি তা দেখছিলাম। তারা আমাকে যে প্রশ্ন করছিল, আমি তার জবাব দিতে লাগলাম।[৮]
ইবাদত নিয়ে দুশ্চিন্তা : কিছু চিন্তা হয়ে থাকে ইবাদতের জন্য। যেমন: মানুষের মাঝে নামাজের ঘোষণা কীভাবে করা হবে, এ বিষয়টি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চিন্তিত করে দিয়েছিল।
عَنْ أَبِي عُمَيْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ عُمُومَةٍ، لَهُ مِنَ الْأَنْصَارِ قَالَ اهْتَمَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِلصَّلاةِ كَيْفَ يَجْمَعُ النَّاسَ لَهَا فَقِيلَ لَهُ انْصِبْ رَايَةً عِنْدَ حُضُورِ الصَّلاةِ فَإِذَا رَأَوْهَا آذَنَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا فَلَمْ يُعْجِبْهُ ذَلِكَ قَالَ فَذُكِرَ ة الفنع - يَعْنِي الشَّبُورَ - وَقَالَ زِيَادُ شَبُّورَ الْيَهُودِ فَلَمْ يُعْجِبُهُ ذَلِكَ وَقَالَ هُوَ مِنْ أَمْرِ الْيَهُودِ". قَالَ فَذُكِرَ لَهُ النَّاقُوسُ فَقَالَ " هُوَ مِنْ أَمْرِ النَّصَارَى". الْعَرَفَ عَبْدُ اللهِ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ رَبِّهِ وَهُوَ مُهْتَمُّ لِهَمَّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأُرِيَ الأَذَانَ فِي مَنَامِهِ - قَالَ - فَغَدَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لَبَيْنَ نَائِمٍ وَيَقْظَانَ إِذْ أَتَانِي آتٍ فَأَرَانِي الأَذَانَ.
আবু উমায়ির ইবনু আনাসের সূত্রে তাঁর এক আনসার চাচা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এজন্য চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন যে, লোকদের নামাজের জন্য কীভাবে একত্রিত করা যায়। (এ বিষয়ে পরামর্শসভা ডাকলে সাহাবিদের) কেউ কেউ বললেন, নামাজের সময় হলে ঝান্ডা উড়ানো হোক। যখন লোকেরা তা দেখবে, তখন একে অন্যকে নামাজের জন্য ডেকে আনবে। কিন্তু তা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মনঃপূত হল না। অতঃপর নবিজির কাছে শিঙা ফুঁকার কথা উল্লেখ করা হল। জিয়াদ বলেন, শিঙা ছিল ইহুদিদের ধর্মীয় প্রতীক। ফলে এটাও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পছন্দ হল না এবং তিনি বললেন, এটি ইহুদিদের বিষয় (প্রতীক)। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে 'নাকুস' (এক প্রকার বাদ্যযন্ত্র বা ঘণ্টা)-এর কথা উল্লেখ করা হল। (রাবি বলেন, উপাসনার সময় ঘণ্টাধ্বনি করা ছিল নাসারা তথা খ্রিষ্টানদের রীতি। এজন্য নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাও অপছন্দ করলেন।) নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এটা খ্রিষ্টানদের বিষয় (রীতি)। (অতঃপর কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সেদিনের বৈঠক সমাপ্ত হল এবং সকলে নিজ নিজ আবাসে ফিরে গেলেন।)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চিন্তিত থাকার কারণে আবদুল্লাহ বিন জায়িদ বিন আবদি রাব্বিহি রাজিয়াল্লাহু আনহুও উদ্বিগ্ন-উৎকণ্ঠিত হয়ে বাড়িতে ফিরে গেলেন। অতঃপর তাঁকে স্বপ্নে আজান দেখানো (শিক্ষা দেওয়া) হয়। বর্ণনাকারী বলেন, পরদিন ভোরে তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে উপস্থিত হয়ে তা অবহিত করে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি ঘুম ও জাগরণের মাঝামাঝি (তন্দ্রাচ্ছন্ন) অবস্থায় ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি (ফেরেশতা) আমার নিকট এসে আমাকে আজান দেখিয়েছেন অর্থাৎ, আজান দেওয়ার পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছেন।[৯]
মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কারণে দুশ্চিন্তা: আরেকটা দুশ্চিন্তা হচ্ছে, সত্যবাদী ব্যক্তিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কারণে তার মধ্যে তৈরি হওয়া দুশ্চিন্তা। যেমনটা মহান সাহাবি জায়িদ ইবনুল আরকাম রাজিয়াল্লাহু আনহুর সাথে ঘটেছিল। তিনি শুনলেন, মুনাফিকদের সর্দার (আবদুল্লাহ বিন উবাই) তার সঙ্গীদেরকে বলছে-
لَئِن رَّجَعْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ لَيُخْرِجَنَّ الْأَعَزُّ مِنْهَا الْأَذَلَّ
"আমরা মদিনায় ফিরে গেলে সেখান থেকে সবল (আবদুল্লাহ বিন উবাই) দুর্বল (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বের করে দেবে।”[১০]
قَالَ زَيْدُ وَأَنَا رِدْفُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَسَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أُبَى فَأَخْبَرْتُ عَنِّي فَانْطَلَقَ فَأَخْبَرَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَحَلَفَ وَجَحَدَ. قَالَ فَصَدَّقَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَكَذَّبَنِي قَالَ فَجَاءَ عَنِّي إِلَى فَقَالَ مَا أَرَدْتَ إِلَّا أَنْ مَقَتَكَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَكَذَّبَكَ وَالْمُسْلِمُونَ. قَالَ فَوَقَعَ عَلَى مِنَ الْهَمِّ مَا لَمْ يَقَعْ عَلَى أَحَدٍ. قَالَ فَبَيْنَمَا أَنَا أَسِيرُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم في سَفَرٍ قَدْ خَفَقْتُ بِرَأْسِي مِنَ الْهَمَّ إِذْ أَتَانِي رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم فَعَرَكَ أُذُنِي وَضَحِكَ فِي وَجْهِي فَمَا كَانَ يَسُرُّنِي أَنَّ لِي بِهَا الخُلْدَ فِي الدُّنْيَا. ثُمَّ إِنَّ أَبَا بَكْرٍ لَحِقَنِي فَقَالَ مَا قَالَ لَكَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم قُلْتُ مَا قَالَ شَيْئًا إِلَّا أَنَّهُ عَرَكَ أُذُنِي وَضَحِكَ في رَجْهِي. فَقَالَ أَبْشِرْ. ثُمَّ لَقَنِي عُمَرُ فَقُلْتُ لَهُ مِثْلَ قَوْلِي لأَبِي بَكْرٍ فَلَمَّا أَصْبَحْنَا قَرَأَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم سُورَةَ الْمُنَافِقِينَ.
জায়িদ রাজিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তখন আমি ছিলাম নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাহনে তাঁর পেছনে উপবিষ্ট। আবদুল্লাহ বিন উবাইয়ের কথাবার্তা আমি শুনে ফেললাম। আমি আমার চাচাকে তা অবহিত করলাম। তিনি গিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তা জানালেন। তিনি আবদুল্লাহকে ডেকে পাঠালেন। সে কসম করে তা অস্বীকার করল। ফলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে সত্যবাদী এবং আমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করলেন। আমার চাচা আমার কাছে এলেন। বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও মুসলিমদের ক্রোধান্বিত এবং নিজেকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করাটাই কি তোমার অভিপ্রায় ছিল?
জায়িদ রাজিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ফলে এত দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি আমার ওপর আপতিত হল, যা আর কারও ওপর আপতিত হয়নি। আমি সফরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলাম। চিন্তায় আমার মাথা ঝুঁকে পড়েছিল। এমন সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার কাছে এলেন, আমার কান মলে দিলেন এবং আমার সামনে হাসলেন। (নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ আচরণ আমাকে এতটাই আনন্দিত করে যে) এর বিনিময়ে আমার অমরত্ব অর্জিত হলেও আমি এতটা আনন্দিত হতাম না।
তারপর আবু বকর রাজিয়াল্লাহু আনহু এসে আমার সঙ্গে দেখা করে প্রশ্ন করলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাকে কী বলেছেন? আমি বললাম, আমাকে তিনি কিছুই বলেননি; তিনি কেবল আমার কান মলেছেন এবং আমার দিকে তাকিয়ে হেসেছেন। আবু বকর রাজিয়াল্লাহু আনহু বললেন, সুসংবাদ গ্রহণ করো। তারপর উমর রাজিয়াল্লাহু আনহু এলেন। আবু বকরকে যে কথা বলেছিলাম, তাকেও আমি সেভাবে বললাম। পরে যখন ভোর হল, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুরা আল-মুনাফিকুন পাঠ করে শোনালেন।[১১]
মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে :
قَالَ: فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرْتُهُ بِذَلِكَ فَأَرْسَلَ إِلَى عَبْدِ اللهِ بْن أُبَى فَسَأَلَهُ فَاجْتَهَدَ يَمِينَهُ مَا فَعَلَ فَقَالَ كَذَبَ زَيْدُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - فَوَقَعَ فِي نَفْسِي مِمَّا قَالُوهُ شِدَّةٌ حَتَّى أَنْزَلَ اللَّهُ تَصْدِيقِي (إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ).
তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে তাঁকে এ সম্পর্কে অবহিত করলাম। তখন তিনি আবদুল্লাহ ইবনু উবাইকে ডেকে পাঠালেন এবং তাকে জিজ্ঞেস করলেন। সে জোরদার কসম খেয়ে বলল যে, সে এমন কাজ করেনি। আর বলল, জায়িদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে মিথ্যা কথা বলেছে। জায়িদ রাজিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তাদের এ কথায় আমি মনে ভীষণ কষ্ট পেলাম। তখন আল্লাহ তাআলা আমার সত্যবাদিতার পক্ষে إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونِ নাজিল করেন।
মিথ্যা অপবাদের কারণে দুশ্চিন্তা: কিছু দুশ্চিন্তা রয়েছে, যা নির্দোষ ব্যক্তিকে মিথ্যা অপবাদের কারণে জন্ম নেয়। আমাদের রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র স্ত্রী আয়িশা রাজিয়াল্লাহু আনহাকে এ ধরনের দুশ্চিন্তার বড় একটা অংশ সইতে হয়েছিল— যখন মুরাইসিয়ের যুদ্ধে মুনাফিকরা তাঁকে অশ্লীল কর্মে লিপ্ত হওয়ার অপবাদ দিয়োছল। এ সময় তিনি ছিলেন অসুস্থ। তাঁর ঘরের এক মহিলার কাছে খবর শুনলেন, ফলে অসুস্থতা আরও বেড়ে গেল। প্রবল দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়লেন।
قَالَتْ فَقُلْتُ سُبْحَانَ اللهِ أَوَلَقَدْ تَحَدَّثَ النَّاسُ بِهَذَا قَالَتْ فَبَكَيْتُ تِلْكَ اللَّيْلَةَ حَتَّى أَصْبَحْتُ لا يَرْقَأُ لِي دَمْعُ وَلَا أَكْتَحِلُ بِنَوْمٍ حَتَّى أَصْبَحْتُ أَبْكِي..
আয়িশা রাজিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি (মর্মাহত হয়ে) বললাম, সুবহানাল্লাহ! লোকজন কি এমন গুজবই রটিয়েছে! আয়িশা রাজিয়াল্লাহু আনহা বলেন, সারারাত আমি কাঁদলাম; (কাঁদতে কাঁদতে) সকাল হয়ে গেল; কিন্তু এর মধ্যে আমার চোখের পানিও বন্ধ হল না এবং আমি ঘুমুতেও পারলাম না। এমনকি কাঁদতে থাকাবস্থায়ই আমার ভোর হল।
ثم قَالَتْ: فَبَكَيْتُ يَوْمِي ذَلِكَ لا يَرْقَأُ لِي دَمْعُ وَلَا أَكْتَحِلُ بِنَوْمٍ قَالَتْ: فَأَصْبَحَ أَبَوَايَ عِنْدِي وَقَدْ بَكَيْتُ لَيْلَتَيْنِ وَيَوْمًا لَا أَكْتَحِلُ بِنَوْمٍ وَلَا يَرْقَأُ لِي دَمْعُ يَظُنَّانِ أَنَّ الْبُكَاءَ فَالِقُ كَبِدِي قَالَتْ فَبَيْنَمَا هُمَا جَالِسَانِ عِنْدِي وَأَنَا أَبْكِي فَاسْتَأْذَنَتْ عَلَيَّ امْرَأَةُ مِنَ الْأَنْصَارِ فَأَذِنْتُ لَهَا فَجَلَسَتْ تَبْكِي مَعِي قَالَتْ فَبَيْنَا نَحْنُ عَلَى ذَلِكَ دَخَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَلَّمَ ثُمَّ جَلَسَ قَالَتْ وَلَمْ يَجْلِسُ عِنْدِي مُنْذُ قِيلَ مَا قِيلَ قَبْلَهَا وَقَدْ لَبِثَ شَهْرًا لا يُوحَى إِلَيْهِ فِي شَأْنِي قَالَتْ فَتَشَهَّدَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ جَلَسَ ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ يَا عَائِشَةُ فَإِنَّهُ قَدْ بَلَغَنِي عَنْكِ كَذَا وَكَذَا فَإِنْ كُنْتِ بَرِيئَةٌ فَسَيُبَرِّئُكِ اللَّهُ وَإِنْ كُنْتِ أَلْمَمْتِ بِذَنْبٍ فَاسْتَغْفِرِي اللهِ وَتُوبِي إِلَيْهِ فَإِنَّ الْعَبْدَ إِذَا اعْتَرَفَ بِذَنْبِهِ ثُمَّ تَابَ إِلَى اللَّهِ تَابَ اللهُ عَلَيْهِ قَالَتْ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَقَالَتَهُ قَلَصَ دَمْعِي حَتَّى مَا أُحِسُّ مِنْهُ قَطْرَةٌ فَقُلْتُ لِأَبِي أَجِبْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا قَالَ قَالَ وَاللهِ مَا أَدْرِي مَا أَقُولُ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ لأُمِّي أَجِيبِي رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ مَا أَدْرِي مَا أَقُولُ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ فَقُلْتُ وَأَنَا جَارِيَةٌ حَدِيثَةُ السِّنّ لا أَقْرَأُ كَثِيرًا مِنَ الْقُرْآنِ إِنِّي وَاللهِ لَقَدْ عَلِمْتُ لَقَدْ سَمِعْتُمْ هَذَا الْحَدِيثَ حَتَّى اسْتَقَرَّ فِي أَنْفُسِكُمْ وَصَدَّقْتُمْ بِهِ فَلَئِنْ قُلْتُ لَكُمْ إِنِّي بَرِيئَةُ وَاللَّهُ يَعْلَمُ أَنِّي بَرِيئَةٌ لا تُصَدِّقُونِي بِذَلِكَ وَلَئِنِ اعْتَرَفْتُ لَكُمْ بِأَمْرٍ وَاللهُ يَعْلَمُ أَنِّي مِنْهُ بَرِيئَةٌ لَتُصَدِّقُنِّي وَاللَّهِ مَا أَجِدُ لَكُمْ مَثَلاً إِلَّا قَوْلَ أَبِي يُوسُفَ قَالَ فَصَبْرٌ جَمِيلٌ وَاللهُ الْمُسْتَعَانُ عَلَى مَا تَصِفُونَ) قَالَتْ ثُمَّ تَحَوَّلْتُ فَاضْطَجَعْتُ عَلَى فِرَاشِي قَالَتْ وَأَنَا حِينَئِذٍ أَعْلَمُ أَنِّي بَرِيئَةً وَأَنَّ اللهَ مُبَرِّنِي بِبَرَاءَتِي وَلَكِنْ وَاللهِ مَا كُنْتُ أَظُنُّ أَنَّ اللَّهِ مُنْزِلُ فِي شَأْنِي وَحْيًا يُتْلَى وَلَشَأْنِي فِي نَفْسِي كَانَ أَحْقَرَ مِنْ أَنْ يَتَكَلَّمَ اللَّهُ فِي بِأَمْرٍ يُتْلَى وَلَكِنْ كُنْتُ أَرْجُو أَنْ يَرَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي النَّوْمِ رُؤْيَا يُبَرِّئُنِي اللهُ بِهَا قَالَتْ فَوَاللَّهِ مَا رَامَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا خَرَجَ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الْبَيْتِ حَتَّى أُنْزِلَ عَلَيْهِ فَأَخَذَهُ مَا كَانَ يَأْخُذُهُ مِنَ الْبُرَحَاءِ حَتَّى إِنَّهُ لَيَتَحَدَّرُ مِنْهُ مِثْلُ الْجُمَانِ مِنَ الْعَرَقِ وَهُوَ فِي يَوْمٍ شَاتٍ مِنْ ثِقَلِ الْقَوْلِ الَّذِي يُنْزَلُ عَلَيْهِ قَالَتْ فَلَمَّا سُرِّيَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُرِّي عَنْهُ وَهُوَ يَضْحَكُ فَكَانَتْ أَوَّلُ كَلِمَةٍ تَكَلَّمَ بِهَا يَا عَائِشَةُ أَمَّا اللهُ عَزَّ وَجَلَّ فَقَدْ بَرَّأَكِ فَقَالَتْ أُنِّي قُوِي إِلَيْهِ قَالَتْ فَقُلْتُ لَا وَاللَّهِ لا أَقُومُ إِلَيْهِ وَلا أَحْمَدُ إِلا اللهَ عَزَّ وَجَلَّ فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ (إِنَّ الَّذِينَ جَاءُوا بِالإِفْكِ عُصْبَةٌ مِنْكُمْ لا تَحْسِبُوهُ الْعَشْرَ الآيَاتِ كُلَّهَا .
আয়িশা রাজিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি সেদিন সারাক্ষণ কেঁদে কাটালাম; আমার কান্নার অশ্রুও বন্ধ হয়নি এবং একটু ঘুমও হয়নি। তিনি বলেন, সকালে আমার বাবা-মা আমার কাছে এলেন। এরই মধ্যে আমি দুই রাত ও এক দিন কেঁদে কাটিয়ে দিলাম; এর মধ্যে আমার কোনো ঘুমও হয়নি, চোখের অশ্রু ঝরাও বন্ধ হয়নি। আমার বাবা-মা শঙ্কা করতে লাগলেন, কান্নার কারণে বুঝি আমার কলিজা ফেটে যাবে! আমার বাবা-মা আমার কাছে বসা ছিলেন আর আমি কাঁদছিলাম। ইত্যবসরে এক আনসার মহিলা আমার কাছে আসার অনুমতি চাইলে আমি তাকে আসার অনুমতি দিলাম। তিনি বসে আমার সঙ্গে কাঁদতে লাগলেন। তিনি (আয়িশা) বলেন, আমরা যখন এমন অবস্থায় ছিলাম, তখনই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে এসে সালাম করলেন এবং আমার পাশে বসে গেলেন। আয়িশা রাজিয়াল্লাহু আনহা বলেন, অপবাদ রটানোর পর তিনি আমার পাশে এভাবে আর বসেননি। এদিকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একমাস অপেক্ষা করার পরও আমার ব্যাপারে তাঁর নিকট কোনো অহি আসেনি। আয়িশা রাজিয়াল্লাহু আনহা বলেন, বসার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কালিমা শাহাদাত পড়লেন। এরপর বললেন, আয়িশা তোমার ব্যাপারে আমার কাছে অনেক কথাই পৌঁছেছে; যদি তুমি এর থেকে পবিত্র হও, তবে শীঘ্রই আল্লাহ তোমাকে এ অপবাদ থেকে মুক্ত করবেন। আর যদি তুমি কোনো গুনাহ করে থাকো, তবে আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করো এবং তাওবা করো। কারণ, বান্দা গুনাহ স্বীকার করে তাওবা করলে আল্লাহ তাআলা তাওবা কবুল করেন।
তিনি (আয়িশা রাজিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কথা শেষ করলে আমার অশ্রুধারা বন্ধ হয়ে যায়। এক ফোঁটা অশ্রুও আমি আর বের করতে পারলাম না। তখন আমি আমার আব্বাকে বললাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা বলছেন, আমার হয়ে তার জবাব দিন। আমার আব্বা বললেন, আল্লাহর কসম! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কী জবাব দেবো, তা আমি জানি না। তখন আমি আমার আম্মাকে বললাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা বলছেন, আপনি তার উত্তর দিন। আম্মা বললেন, আল্লাহর কসম! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কী উত্তর দেবো, তা আমি জানি না। তখন আমি ছিলাম অল্পবয়সী কিশোরী। কুরআনও বেশি পড়তে পারতাম না। তথাপি এ অবস্থা দেখে আমি নিজেই বললাম, আমি জানি আপনারা এ অপবাদের ঘটনা শুনেছেন, আপনারা তা বিশ্বাস করেছেন এবং বিষয়টি আপনাদের মনে দৃঢ়মূল হয়ে আছে। এখন আমি যদি বলি যে, এর থেকে আমি পবিত্র, তাহলে আপনারা আমাকে বিশ্বাস করবেন না। আর যদি আমি এ অপরাধের কথা স্বীকার করে নিই— যা সম্পর্কে আল্লাহ জানেন যে, আমি এর থেকে পবিত্র; তাহলে আপনারা তা বিশ্বাস করবেন। আল্লাহর কসম! আমি ও আপনারা যে বিপাকে পড়েছি, এর জন্য ইউসুফ আলাইহিস সালামের পিতার কথা ব্যতীত আমি কোনো দৃষ্টান্ত খুঁজে পাচ্ছি না। তিনি বলেছিলেন, “কাজেই পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়, তোমরা যা বলছ, এ ব্যাপারে আল্লাহই একমাত্র আমার আশ্রয়স্থল।” অতঃপর আমি মুখ ঘুরিয়ে আমার বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লাম। আল্লাহ তাআলা জানেন যে, সে মুহূর্তেও আমি পবিত্র। অবশ্যই আল্লাহ আমার পবিত্রতা প্রকাশ করে দেবেন তবে আল্লাহর কসম, আমি কখনো ভাবিনি যে, আমার সম্পর্কে আল্লাহ অহি অবতীর্ণ করবেন যা পাঠ করা হবে। আমার সম্পর্কে আল্লাহ কোনো কথা বলবেন— আমি নিজেকে এতটা উত্তম মনে করিনি; বরং আমি নিজেকে এর চেয়ে অনেক অধম বলে ভাবতাম। তবে আমি আশা করতাম যে, হয়তো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বপ্নযোগে দেখানো হবে, যার ফলে আল্লাহ আমার পবিত্রতা প্রকাশ করবেন। আল্লাহর কসম! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখনও তাঁর বসার জায়গা ছেড়ে যাননি এবং ঘরের লোকজনও কেউ ঘর হতে বেরিয়ে যাননি— ইত্যবসরে তাঁর উপর অহি অবতরণ শুরু হল। অহি অবতীর্ণ হওয়ার সময় তাঁর যে বিশেষ ধরনের কষ্ট হতো, তখনও সে অবস্থা হল। এমনকি ভীষণ শীতে দিনেও তাঁর শরীর হতে মোতির দানার মতো বিন্দু বিন্দু ঘাম গড়িয়ে পড়ল ও বাণীর গুরুভারে, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। আয়িশা রাজিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ অবস্থা কেটে গেলে তিনি হাসিমুখে প্রথমে যে কথা উচ্চারণ করলেন, সেটা হল, হে আয়িশা! আল্লাহ তোমার পবিত্রতা প্রকাশ করে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, এ কথা শুনে আমার মা আমাকে বললেন, তুমি উঠে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে যাও। আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি উঠে তাঁর কাছে যাব না; মহান আল্লাহ ব্যতীত কারও প্রশংসাও করব না। আয়িশা রাজিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আল্লাহ (আমার পবিত্রতার ব্যাপারে) যে দশটি আয়াত অবতীর্ণ করেছেন, তা হল, “যারা এ অপবাদ রটনা করেছে তারা তো তোমাদেরই একটি দল; এ ঘটনাকে তোমরা তোমাদের জন্য অনিষ্টকর মনে করো না।”[১৩]
একইভাবে সেই মহিলার ঘটনা, যার ওপর অবিচারবশত মিথ্যা অপবাদ আরোপ করা হয়েছিল। তার ঘটনাটাও আয়িশা রাজিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন।
عَنْ عَائِشَةَ رضى الله عنها - قَالَتْ أَسْلَمَتِ امْرَأَةٌ سَوْدَاءُ لِبَعْضِ الْعَرَبِ، وَكَانَ لَهَا حِفْسٌ فِي الْمَسْجِدِ قَالَتْ فَكَانَتْ تَأْتِينَا فَتَحَدَّثُ عِنْدَنَا فَإِذَا فَرَغَتْ مِنْ حَدِيثِهَا قَالَتْ وَيَوْمُ الْوِشَاحِ مِنْ تَعَاجِيبِ رَبِّنَا أَلَا إِنَّهُ مِنْ بُلْدَةِ الْكُفْرِ أَنْجَانِي فَلَمَّا أَكْثَرَتْ قَالَتْ لَهَا عَائِشَةُ وَمَا يَوْمُ الْوِشَاحِ قَالَتْ خَرَجَتْ جُوَيْرِيَةٌ لِبَعْضِ أَهْلِي، وَعَلَيْهَا وِشَاحٌ مِنْ أَدَمٍ فَسَقَطَ مِنْهَا، فَانحَطَّتْ عَلَيْهِ الحُدَيَّا وَهْيَ تَحْسِبُهُ لَمًا، فَأَخَذَتْ فَاتَّهَمُونِي بِهِ فَعَذَّبُونِي، حَتَّى بَلَغَ مِنْ أَمْرِي أَنَّهُمْ طَلَبُوا فِي قُبُلِي، فَبَيْنَا هُمْ حَوْلِي وَأَنَا فِي كَرْبِي إِذْ أَقْبَلَتِ الْخُدَيَّا حَتَّى وَازَتْ بِرُءُوسِنَا ثُمَّ أَلْقَتْهُ، فَأَخَذُوهُ فَقُلْتُ لَهُمْ هَذَا الَّذِي اتَّهَمْتُمُونِي بِهِ وَأَنَا مِنْهُ بَرِيئَةُ.
আয়িশা রাজিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আরবের কোনো এক গোত্রের এক (মুক্তিপ্রাপ্ত) কৃষ্ণকায় মহিলা ইসলাম গ্রহণ করেন। মসজিদের পাশে তার একটি কুঁড়েঘর ছিল। আয়িশা রাজিয়াল্লাহু আনহা বলেন, সে আমাদের কাছে আসত এবং আমাদের সাথে কথাবার্তা বলত। যখন তার বাক্যালাপ শেষ হতো, তখন প্রায়ই বলত, ইয়াওমুল ওয়িশাহ (মণিমুক্তা-খচিত হারের দিন) আমাদের রবের পক্ষ হতে আশ্চর্যজনক ঘটনাবলির একটি দিন। জেনে রাখুন! আমার রব আমাকে কুফরের দেশ থেকে মুক্তি দিয়েছেন। যখন সে এ কথাটি বেশি বেশি (প্রায়ই) বলতে লাগল, তখন আয়িশা রাজিয়াল্লাহু আনহা সেই মহিলাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'ইয়াওমুল ওয়িশাহ' কী? তখন সে বলল যে, আমার মুনিবের পরিবারের এক শিশু-কন্যা ঘর হতে বের হল। তার গলায় চামড়ার (উপর মনিমুক্তা খচিত) একটি হার ছিল। হারটি (ছিঁড়ে) গলা থেকে পড়ে গেল। তখন একটি চিল ওটা গোশতের টুকরো মনে করে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল। তারা আমাকে হার চুরিরসন্দেহে শাস্তিপ্রদান ও নির্যাতন করতে লাগল। এমনকি তারা আমার লজ্জাস্থানেও তল্লাশী চালাল! যখন তারা আমার চারপাশে ছিল এবং আমি চরম দুঃখে ছিলাম, এমন সময় একটি চিল কোত্থেকে উড়ে এলো এবং আমাদের মাথার উপরে এসে হারটি ফেলে দিল। তারা হারটি তুলে নিল। তখন আমি বললাম, এটা হল সেই হার, যেটা চুরির ব্যাপারে আমার ওপর অপবাদ দিয়েছ; অথচ এ ব্যাপারে আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ।[১৪]
স্ত্রী ও সন্তানাদির ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা: আরেক প্রকারের চিন্তা-পেরেশানি হচ্ছে কোনো ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী ও সন্তানাদির ভবিষ্যতের চিন্তা।
عن عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ إِنَّ أَمْرَكُنَّ مِمَّا بنِي بَعْدِي وَلَنْ يَصْبِرَ عَلَيْكُنَّ إِلَّا الصَّابِرُونَ قَالَ ثُمَّ تَقُولُ عَائِشَةُ فَسَقَى اللهُ أَبَاكَ مِنْ سَلْسَبِيلِ الْجَنَّةِ تُرِيدُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ وَكَانَ قَدْ وَصَلَ أَزْوَاجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَالٍ يُقَالُ بِيعَتْ بِأَرْبَعِينَ أَلْفاً.
আয়িশা রাজিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (তাঁর স্ত্রীদের) বলতেন, আমার (মৃত্যুর) পরে তোমাদের অবস্থা কী হবে, সে সম্পর্কে আমি চিন্তিত; ধৈর্য ধারণকারী ও সহিষ্ণুতা অনুরাগী ব্যক্তি ছাড়া তোমাদের অধিকারের প্রতি কেউ ভ্রুক্ষেপ করবে না। পরবর্তী সময়ে আয়িশা রাজিয়াল্লাহু আনহা (আবদুর রহমান বিন আওফ রাজিয়াল্লাহু আনহুর ছেলেকে সম্বোধন করে) বলেন, আল্লাহ তাআলা যেন তোমার বাবাকে অর্থাৎ, আবদুর রহমান ইবনু আওফ রাজিয়াল্লাহু আনহুকে জান্নাতের সালসাবিল ঝরনার পানি পান করান। কারণ, তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীদের সেবায় যে সম্পদ নিয়োজিত করেছিলেন, পরবর্তীকালে তা চল্লিশ হাজার (দিনার মূল্যে) বিক্রি করা হয়।[১৫]
ঋণ নিয়ে দুশ্চিন্তা: আরেক প্রকারের দুশ্চিন্তা হচ্ছে ঋণের কারণে দুশ্চিন্তা। এর একটি উদাহরণ হল, সেই দুশ্চিন্তা, যা জুবাইর ইবনুল আওয়াম রাজিয়াল্লাহু আনহুর ওপর আপতিত হয়েছিল। তাঁর ঘটনাটি তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ বিন জুবাইর রাজিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন-
لَمَّا وَقَفَ الزُّبَيْرُ يَوْمَ الْجَمَلِ دَعَانِي فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ فَقَالَ يَا بُنَيَّ إِنَّهُ لَا يُقْتَلُ الْيَوْمَ إِلا ظَالِمُ أَوْ مَظْلُومٌ وَإِنِّي لَا أُرَانِي إِلَّا سَأُقْتَلُ الْيَوْمَ مَظْلُومًا وَإِنَّ مِنْ أَكْبَرِ هَمِّي لَدَيْنِي أَفَتُرَى يُبْقِي دَيْنُنَا مِنْ مَالِنَا شَيْئًا فَقَالَ يَا بُنَيَّ بِعْ مَالَنَا فَاقْضِ دَيْنِي وَأَوْصَى بِالثُّلُثِ وَثُلُثِهِ لِبَنِيهِ يَعْنِي بَنِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ يَقُولُ ثُلُثُ الثُلُثِ فَإِنْ فَضَلَ مِنْ مَالِنَا فَضْلُ بَعْدَ قَضَاءِ الدَّيْنِ شَيْءٍ فَثُلُثُهُ لِوَلَدِكَ قَالَ هِشَامٌ وَكَانَ بَعْضُ وَلَدِ عَبْدِ اللَّهِ قَدْ وَازَى بَعْضَ بَنِي الزُّبَيْرِ خُبَيْبُ وَعَبَّادٌ وَلَهُ يَوْمَئِذٍ يَسْعَةُ بَنِينَ وَتِسْعُ بَنَاتٍ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَجَعَلَ يُوصِينِي بِدَيْنِهِ وَيَقُولُ يَا بُنَيَّ إِنْ عَجَزْتَ عَنْهُ فِي شَيْءٍ فَاسْتَعِنُ عَلَيْهِ مَوْلايَ قَالَ فَوَاللَّهِ مَا دَرَيْتُ مَا أَرَادَ حَتَّى قُلْتُ يَا أَبَتِ مَنْ مَوْلاكَ قَالَ اللهُ قَالَ فَوَاللَّهِ مَا وَقَعْتُ فِي كُرْبَةٍ مِنْ دَيْنِهِ إِلَّا قُلْتُ يَا مَوْلَى الزُّبَيْرِ اقْضِ عَنْهُ دَيْنَهُ فَيَقْضِيهِ.. قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ الزُّبَيْرِ فَحَسَبْتُ مَا عَلَيْهِ مِنَ الدَّيْنِ فَوَجَدْتُهُ أَلْفَيْ أَلْفٍ وَمِائَتَيْ أَلْفٍ.. (واستبعد بعض أصحاب الزبير رضي الله عنه إمكان قضاء الدين من هوله وكثرته ولكن بارك الله في أرض كانت للزبير بركة عظيمة ومدهشة فقسمت وبيعت وسدد الدين وبقيت بقية ) فَلَمَّا فَرَغَ ابْنُ الزُّبَيْرِ مِنْ قَضَاءِ دَيْنِهِ قَالَ بَنُو الزُّبَيْرِ اقْسِمْ بَيْنَنَا مِيرَاثَنَا قَالَ لا وَاللهِ لا أُقْسِمُ بَيْنَكُمْ حَتَّى أُنَادِيَ بِالْمَوْسِمِ أَرْبَعَ سِنِينَ أَلا مَنْ كَانَ لَهُ عَلَى الزُّبَيْرِ دَيْنُ فَلْيَأْتِنَا فَلْنَقْضِهِ قَالَ فَجَعَلَ كُلَّ سَنَةٍ يُنَادِي بِالْمَوْسِمِ فَلَمَّا مَضَى أَرْبَعُ سِنِينَ قَسَمَ بَيْنَهُمْ قَالَ فَكَانَ لِلزُّبَيْرِ أَرْبَعُ نِسْوَةٍ وَرَفَعَ الثُلُثَ فَأَصَابَ كُلَّ امْرَأَةٍ أَلْفُ أَلْفٍ وَمِائَنَا أَلْفٍ فَجَمِيعُ مَالِهِ خَمْسُونَ أَلْفَ أَلْفٍ وَمِائَتَا أَلْفٍ.
আবদুল্লাহ ইবনু জুবাইর রাজিয়াল্লাহু আনহু বলেন, উষ্ট্রীর যুদ্ধের দিন জুবাইর রাজিয়াল্লাহু আনহু যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান গ্রহণ করে আমাকে ডাকলেন। আমি তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। তিনি আমাকে বললেন, হে বৎস! আজকের দিনে জালিম অথবা মাজলুম ব্যতীত কেউ নিহত হবে না। আমার মনে হয়, আমি আজ মাজলুম হিসেবে নিহত হব। আর আমি আমার ঋণ সম্পর্কে অধিক চিন্তিত। তুমি কি মনে করো যে, আমার ঋণ আদায় করার পর আমার সম্পদের কিছু অবশিষ্ট থাকবে? অতঃপর তিনি বললেন, হে পুত্র! আমার সম্পদ বিক্রয় করে আমার ঋণ পরিশোধ করে দিও। তিনি এক তৃতীয়াংশের অসিয়ত করেন। আর সেই এক তৃতীয়াংশের এক তৃতীয়াংশ অসিয়ত করেন তাঁর (আবদুল্লাহ ইবনু জুবাইরের) ছেলেদের জন্য; তিনি বললেন, এক তৃতীয়াংশকে তিন ভাগে বিভক্ত করবে; ঋণ পরিশোধ করার পর যদি আমার সম্পদের কিছু অবশিষ্ট থাকে, তবে তার এক তৃতীয়াংশ তোমার পুত্রদের জন্য। হিশাম বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু জুবাইর রাজিয়াল্লাহু আনহুর কোনো কোনো ছেলে জুবাইর রাজিয়াল্লাহু আনহুর কোনো কোনো ছেলের সমবয়সী ছিলেন। যেমন: খুবাইব ও আব্বাদ। আর মৃত্যুকালে তাঁর নয় ছেলে ও নয় মেয়ে ছিল। আবদুল্লাহ রাজিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তিনি আমাকে তাঁর ঋণ সম্পর্কে অসিয়ত করছিলেন এবং বলছিলেন, প্রিয় ছেলে! যদি এসবের কোনো বিষয়ে তুমি অক্ষম হও, তবে এ ব্যাপারে আমার মাওলার সাহায্য চাইবে। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! আমি বুঝে উঠতে পারিনি যে, তিনি মাওলা দ্বারা কাকে উদ্দেশ্য করেছেন। অবশেষে আমি জিজ্ঞেস করলাম, বাবা! আপনার মাওলা কে? তিনি উত্তর দিলেন, আল্লাহ। আবদুল্লাহ রাজিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আল্লাহর কসম! আমি যখনই তাঁর ঋণ আদায়ে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, তখনই বলেছি, হে জুবাইরের মাওলা! তাঁর পক্ষ হতে তাঁর ঋণ আদায় করে দিন; এতে তাঁর কর্জ শোধ হয়ে যেত! ...
আবদুল্লাহ ইবনু জুবাইর রাজিয়াল্লাহু আনহু বলেন, অতঃপর আমি তাঁর ঋণের পরিমাণ হিসাব করে দেখতে পেলাম, তা বাইশ লাখ!
(জুবাইর রাজিয়াল্লাহু আনহুর কিছু সাথি এই বিশাল পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করাটা অসম্ভব মনে করেছিলেন। কিন্তু আল্লাহ তাআলা জুবাইর রাজিয়াল্লাহু আনহুর জমিতে এত বরকত দেন, যা ছিল বিস্ময়কর। সে জমি ভাগ করে বিক্রি করে ঋণ পরিশোেধ করার পরেও তা থেকে অবশিষ্ট থেকে যায়।)
অতঃপর যখন ইবনু জুবাইর রাজিয়াল্লাহু আনহু তাঁর বাবার ঋণ পরিশোেধ করে সারলেন, তখন জুবাইর রাজিয়াল্লাহু আনহুর ছেলেরা বললেন, আমাদের মিরাস ভাগ করে দিন। তখন তিনি বললেন, না, আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের মাঝে ভাগ করব না, যতক্ষণ না আমি চারটি হজ মৌসুমে এ ঘোষণা প্রচার করি যে, যদি কেউ জুবাইর রাজিয়াল্লাহু আনহুর কাছে ঋণ পাওনা থাকে, সে যেন আমাদের কাছে আসে; আমরা তা পরিশোধ করব। রাবি বলেন, তিনি প্রতি হজের মৌসুমে এ ঘোষণা প্রচার করেন। অতঃপর যখন চার বছর অতিবাহিত হল, তখন তিনি তা তাদের মাঝে ভাগ করে দিলেন। রাবি বলেন, জুবাইর রাজিয়াল্লাহু আনহুর চার স্ত্রী ছিলেন। (ঋণ পরিশোধের পর, অবশিষ্ট সম্পত্তি থেকে অসিয়ত পূর্ণ করার জন্য) এক তৃতীয়াংশ পৃথক করে রাখার পরেও প্রত্যেক স্ত্রী বারো লাখ করে পেলেন। আর জুবাইর রাজিয়াল্লাহু আনহুর মোট সম্পত্তি ছিল পাঁচ কোটি দু'লাখ![১৬]
দুঃস্বপ্ন তাড়িত দুশ্চিন্তা : আরেক প্রকারের দুশ্চিন্তা হচ্ছে দুঃস্বপ্ন তাড়িত দুশ্চিন্তা। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর এমন দুশ্চিন্তা আপতিত হয়েছিল। আবু হুরায়রা রাজিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
بَيْنَا أَنَا نَائِمُ أُتِيتُ بِخَزَائِنِ الْأَرْضِ، فَوُضِعَ فِي كَفِّي سِوَارَانِ مِنْ ذَهَبٍ، فكَبُرَا عَلَى فَأُوحِيَ إِلَيَّ أَنِ انْفُخْهُمَا، فَنَفَخْتُهُمَا فَذَهَبًا فَأَوَّلْتُهُمَا الْكَذَّابَيْنِ اللَّذَيْنِ أَنَا بَيْنَهُمَا صَاحِبَ صَنْعَاءَ، وَصَاحِبَ الْيَمَامَةِ".
“আমি ঘুমাচ্ছিলাম এমতাবস্থায় (স্বপ্নে) আমার নিকট জমিনের সমুদয় সম্পদ উপস্থাপন করা হল এবং আমার হাতে সোনার দুটি বালা রাখা হল। এটি আমার কাছে গুরুতর অনুভূত হলে আমাকে অহির মাধ্যমে জানানো হল, আমি যেন এগুলোর ওপর ফুঁ দিই। আমি ফুঁ দিলাম, বালা দুটি উধাও হয়ে গেল। এরপর আমি এ দুটির ব্যাখ্যা করলাম যে, এরা সেই দুই মিথ্যাবাদী (নবি দাবিকারী), যাদের মাঝখানে আমি অবস্থান করছি— অর্থাৎ, সানআর অধিবাসী (আসওয়াদ আনসি) এবং ইয়ামামার অধিবাসী (মুসাইলামাতুল কাজ্জাব)।”[১৭]
ইবনু উমর রাজিয়াল্লাহু আনহুও এমন দুঃস্বপ্নের কারণে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়েছিলেন। তিনি বলেন—
كُنْتُ فِي عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا لِي مَبِيتُ إِلَّا فِي مَسْجِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَصْبَحَ يَأْتُونَهُ فَيَقُصُّونَ عَلَيْهِ الرُّؤْيَا قَالَ فَقُلْتُ مَا لِي لا أَرَى شَيْئًا فَرَأَيْتُ كَأَنَّ النَّاسَ يُحْشَرُونَ فَيُرْمَى بِهِمْ عَلَى أَرْجُلِهِمْ فِي رَبِّي فَأُخِذْتُ فَلَمَّا دَنَا إِلَى الْبِثْرِ قَالَ رَجُلٌ خُذُوا بِهِ ذَاتَ الْيَمِينِ فَلَمَّا اسْتَيْقَظْتُ هَمَّتْنِي رُؤْيَايَ وَأَشْفَقْتُ مِنْهَا فَسَأَلْتُ حَفْصَةَ عَنْهَا فَقَالَتْ نِعْمَ مَا رَأَيْتَ فَقُلْتُ لَهَا سَلِي النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَتْهُ فَقَالَ نِعْمَ الرَّجُلُ عَبْدُ اللَّهِ لَوْ كَانَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ. حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ خَالِدٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْفَزَارِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ ابْنُ عُمَرَ وَكُنْتُ إِذَا نِمْتُ لَمْ أَقُمْ حَتَّى أُصْبِحَ قَالَ نَافِعُ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يُصَلِّي اللَّيْلَ.
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় আমার কোনো ঘর ছিল না। তাই আমি মসজিদে নববিতেই ঘুমাতাম। কোনো ব্যক্তি স্বপ্ন দেখলে সকালে তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বর্ণনা করতেন। তিনি বলেন, আমি (মনে মনে) বলতাম যে, আমার কী হয়েছে যে, আমি কোনো স্বপ্ন দেখি না? এরপর আমি স্বপ্ন দেখলাম, যেন কিছু লোককে একটি কূপের মধ্যে একত্র করে তাদের পায়ের ওপর পাথর নিক্ষেপ করা হচ্ছে। এরপর আমাকে ধরে একটি কূপের নিকট নিয়ে যাওয়া হল। তখন একজন লোক বলল, এর ডান হাত ধরো। এরপর আমি জেগে উঠলাম। তখন আমার স্বপ্ন আমাকে খুব ভয় ও শঙ্কায় ফেলে দিল।
তারপর আমি এই স্বপ্নের কথা হাফসা রাজিয়াল্লাহু আনহার কাছে বর্ণনা করলাম। হাফসা রাজিয়াল্লাহু আনহা বললেন, তুমি যা দেখেছ, তা কতই না উত্তম! তখন আমি তাঁকে বললাম, আপনি তা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট ব্যক্ত করুন। তখন তিনি তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ব্যক্ত করলেন। তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আবদুল্লাহ কতই না ভালো লোক! যদি সে রাতে (তাহাজ্জুদ) সালাত আদায় করত!” (অপর সূত্রে) এই হাদিস বর্ণনা করতে গিয়ে ইবনু উমর রাজিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, আমি ঘুমালে সকাল হওয়ার আগে উঠতাম না। বর্ণনাকারী নাফি বলেন, (এরপর থেকে) ইবনু উমর রাজিয়াল্লাহু আনহুমা রাতে সালাত (তাহাজ্জুদ) আদায় করতেন।[১৮]
সহিহুল বুখারিতে ঘটনাটা এভাবে বর্ণিত হয়েছে-
عن ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ إِنَّ رِجَالاً مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانُوا يَرَوْنَ الرُّؤْيَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَقُصُّونَهَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَقُولُ فِيهَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا شَاءَ اللَّهُ وَأَنَا غُلَامٌ حَدِيثُ السِّنِّ وَبَيْتِي الْمَسْجِدُ قَبْلَ أَنْ أَنْكِحَ فَقُلْتُ فِي نَفْسِي لَوْ كَانَ فِيكَ خَيْرٌ لَرَأَيْتَ مِثْلَ مَا يَرَى هَؤُلَاءِ فَلَمَّا اضْطَجَعْتُ ذَاتَ لَيْلَةٍ قُلْتُ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ فِي خَيْراً فَأَرِنِي رُؤْيَا فَبَيْنَمَا أَنَا كَذَلِكَ إِذْ جَاءَنِي مَلَكَانِ فِي يَدِ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِقْمَعَةٌ مِنْ حَدِيدٍ يُقْبِلانِ بِي إِلَى جَهَنَّمَ وَأَنَا بَيْنَهُمَا أَدْعُو اللَّهُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ جَهَنَّمَ ثُمَّ أُرَانِي لَقِيَنِي مَلَكُ فِي يَدِهِ مِقْمَعَةٌ مِنْ حَدِيدٍ فَقَالَ لَنْ تُرَاعَ نِعْمَ الرَّجُلُ أنْتَ لَوْ كُنْتَ تُكْثِرُ الصَّلاةَ فَانْطَلَقُوا بي حَتَّى وَقَفُوا بِي عَلَى شَفِيرٍ جَهَنَّمَ فَإِذَا هِيَ مَطْوِيَّةٌ كَطَيَّ الْبِئْرِ لَهُ قُرُونُ كَقَرْنِ الْبِئْرِ بَيْنَ كُلِّ قَرْنَيْنِ مَلَكُ بِيَدِهِ مِقْمَعَةٌ مِنْ حَدِيدٍ وَأَرَى فِيهَا رِجَالاً مُعَلَّقِينَ بِالسَّلاسِلِ رُؤوسُهُمْ أَسْفَلَهُمْ عَرَفْتُ فِيهَا رِجَالاً مِنْ قُرَيْشٍ فَانْصَرَفُوا بِي عَنْ ذَاتِ الْيَمِينِ. فَقَصَصْتُهَا عَلَى حَفْصَةً فَقَصَّتْهَا حَفْصَةُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهِ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ عَبْدَ اللَّهِ رَجُلٌ صَالِحٌ لَوْ كَانَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ فَقَالَ نَافِعُ فَلَمْ يَزَلْ بَعْدَ ذَلِكَ يُكْثِرُ الصلاة.
ইবনু উমর রাজিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে তাঁর অনেক সাহাবি স্বপ্ন দেখতেন। অতঃপর তাঁরা তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বর্ণনা করতেন। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসব স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিতেন, যা আল্লাহ ইচ্ছা করতেন। আমি তখন অল্প বয়সের যুবক। আর বিয়ের আগে মসজিদই ছিল আমার ঘর। আমি মনে মনে নিজেকে সম্বোধন করে বললাম, যদি তোমার মধ্যে কোনো কল্যাণ থাকত, তবে তো তুমিও তাঁদের মতো স্বপ্ন দেখতে। আমি এক রাতে বিছানায় শুয়ে শুয়ে বললাম, হে আল্লাহ! আপনি যদি জানেন যে, আমার মধ্যে কোনো কল্যাণ আছে, তবে আমাকে কোনো একটি স্বপ্ন দেখান। আমি ঐ অবস্থায়ই (ঘুমিয়ে) থাকলাম। দেখলাম, আমার কাছে দুজন ফেরেশতা এসেছে। তাদের প্রত্যেকের হাতেই লোহার একটি করে হাতুড়ি। তারা আমাকে নিয়ে (জাহান্নামের দিকে) এগোচ্ছে।
আর আমি তাদের দুজনের মাঝে থেকে আল্লাহর কাছে দুআ করছি, হে আল্লাহ! আমি জাহান্নাম থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এরপর আমাকে দেখানো হল যে, একজন ফেরেশতা আমার কাছে এসেছে। তার হাতে লোহার একটি হাতুড়ি। সে আমাকে বলল, তোমার কোনো ভয় নেই। তুমি খুবই ভালো মানুষ; যদি অধিক হারে সালাত আদায় করতে! তারা আমাকে নিয়ে চলল, অবশেষে তারা আমাকে জাহান্নামের (কাছে এনে) দাঁড় করাল, (যা দেখতে) কূপের মতো গোল আকৃতির। কূপের মতো এরও রয়েছে অনেক শিং।।[১৯] আর প্রতি দুই শিঙের মাঝখানে একজন ফেরেশতা, যার হাতে লোহার একটি হাতুড়ি। আর আমি এতে কিছু লোককে (জাহান্নামে) শিকল পরিহিত দেখলাম। তাদের মাথা ছিল নিচের দিকে। কুরাইশের এক ব্যক্তিকে সেখানে আমি চিনে ফেললাম। অতঃপর তারা আমাকে ডান দিকে নিয়ে ফিরল। ঘটনাটা আমি হাফসা রাজিয়াল্লাহু আনহার কাছে ব্যক্ত করলাম। তিনি তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বর্ণনা করলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আবদুল্লাহ তো নেককার লোক; যদি সে রাতের নামাজ (তাহাজ্জুদ) পড়ত! (বর্ণনাকারী) নাফি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এরপর থেকে আবদুল্লাহ বিন উমর রাজিয়াল্লাহু আনহু বেশি বেশি (নফল) নামাজ পড়তে লাগলেন।[২০]
শরিয়তে দুঃস্বপ্ন তাড়িত দুশ্চিন্তার অনেক সমাধান রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে বাম দিকে তিনবার থুতু দেওয়া। আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে তিনবার পানাহ (আশ্রয়) চাওয়া। স্বপ্নে যা মন্দ দেখেছে, তা থেকে তিনবার আল্লাহর কাছে পানাহ চাওয়া। যে পার্শ্বে শুয়েছিল, তা পরিবর্তন করা অথবা উঠে নামাজ পড়া এবং তার স্বপ্ন কারও কাছে বর্ণনা না করা।
দুনিয়ার বিভিন্ন দুশ্চিন্তার প্রকারভেদ নিয়ে পূর্বোক্ত আলোচনার পর আমরা এখন এসবের চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করব, ইনশাআল্লাহ।
টিকাঃ
[৭] সহিহুল বুখারি : ৩২৩১
[৮] সহিহু মুসলিম : ১৭২
[৯] সুনানু আবি দাউদ, কিতাবুস সালাহ, বাবু বাদইল আজান : ৪৯৮
[১০] সুরা মুনাফিকুন : ৮
[১১] জামিউত তিরমিজি: ৩৩১৩
[১২] সহিহ মুসলিম: ২৭৭২
[১৩] সহিহুল বুখারি: ৪১৪১; ৪৭৫০
[১৪] সহিহুল বুখারি: ৩৮৩৫
[১৫] জামিউত তিরমিজি : ৩৬৮২
[১৬] সহিহুল বুখারি: ৩১২৯
[১৭] সহিহুল বুখারি: ৪৩৭৫
[১৮] সুনানুদ দারিমি: ২১১৮, ২১৯৯
[১৯] কূপের শিং-এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, কূপের পার্শ্ব, যা পাথর দ্বারা নির্মাণ করা হয় এবং তাতে কাষ্ঠখণ্ড স্থাপন করে সেই কাঠের সাথে কূপ থেকে পানি উত্তোলনের উপকরণ যেমন: বালতি, রশি ইত্যাদি সংযুক্ত করে রাখা হয়। আর সাধারণ প্রচলন অনুযায়ী প্রত্যেক কূপের এ ধরনের দুটি শিং থাকে। দেখুন, ফাতহুল বারি। -সম্পাদক
[২০] সহিহুল বুখারি: ৭০২৮