📘 দীন কায়েমের নববী রূপরেখা > 📄 যুগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

📄 যুগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়


বর্তমান যুগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, বিপ্লবের তরিকা নির্ণয় করতে পারা এবং সুস্পষ্টভাবে তা বুঝতে পারা। বর্তমান যুগের মুসলমানদের মধ্যে জযবার কোনো কমতি নেই। হাজারো মানুষ নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। পৃথিবী দেখেছে; অথচ কাশ্মীরিদের ব্যাপারে বলা হয়, তারা তো লড়াই জাতিই নয়। এখন দেখুন, তাদের মধ্যে ক্রমাগত লড়াইয়ের জযবা ও মানসিকতা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান থেকে সেখানে গিয়ে কত মানুষ যে শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করেছে, তার হিসাব করাও তো মুশকিল। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, এসব ইসলামি বিপ্লবের বিপ্লবী তরিকা বা কর্মসূচি নয়। এসব করে কোনো সফলতা আসবে না। এসব তরিকা অবলম্বন করে আপনি শুধু নিজের ক্ষোভই মেটাতে পারবেন; এরচেয়ে বেশি কিছু নয়।

দেখুন, আফ্রিকায় গিয়ে আমেরিকার দুটি দূতাবাস হামলায় আক্রমণ করে উড়িয়ে দেওয়া হলো; কিন্তু একই সঙ্গে সেখানকার অধিবাসী দুজন আফ্রিকানও মারা গেল। ফায়দা কী হলো? শুধু এতটুকু কাজ হলো যে, আপনার ক্ষোভ মিটেছে। তো, সহজ ভাষায় বললে, এসব ভেলকিবাজি ছাড়া কিছুই নয়।

তেমন করে কিছু অর্জন করা সম্ভব নয়। নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়লাভিত হওয়া অসম্ভব। এর পেছনে আছে। আমি মানি, বিপ্লবের জন্য মুহাম্মাদি तरিকা ও কর্মসূচি তো গোলদ। ইসলামি আপনিই বলুন, আরবে নির্বাচন করতে হবে। পারবেন? কুরআন তো বলে—

إِن تُطِعْ أَكْثَرَ مَن فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ

আর যদি আপনি পৃথিবীর বেশিরভাগ লোকের কথা মেনে নেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। ( সূরা আনআম : ১১৬)

নির্বাচনে শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও সংখ্যালঘ্যতার ব্যাপার থাকে। আমি এর চেয়েও আরও বহু পরের উদাহরণ দিচ্ছি। বলুন তো, আয়াতুল্লাহ খামিনি কি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে পারবেন না! আল্লাহ ওয়ান্তে নিজেদের আর প্রতারিত করবেন না। আজ পুরো মুসলিম উম্মাহ আল্লাহর আজাব থেকে কেবল এ সুরতে মুক্তি লাভ করতে পারবে যে, অন্ততপক্ষে কোনো একটি রাষ্ট্র প্রকৃতার্থে দ্বীন কায়েম করে পুরো পৃথিবীকে দেখিয়ে আহ্বান করবে, দেখো সবাই, এ হচ্ছে প্রকৃত ইসলাম। ইসলামের বরকত দেখো সবাই। ইসলামের কল্যাণ দেখে যাও সবাই। এখানে সমতা ও ভ্রাতৃত্ব দেখে যাও। এখানের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা দেখে যাও। যদি আমরা এমনটা করতে না পারি, তবে আল্লাহর আজাব আরও কঠিন থেকে কঠিনতর হতে থাকবে। কবির ভাষায়—‘আর কিছুদিন পর তো শূন্যলোক থেকেও রক্ত ঝরবে!’

দিন দিন আজাব বাড়তে থাকবে; কমবে না। আর বিশ্ব সবচেয়ে বেশি এ আজাবের শিকার হবে। কারণ, আল্লাহ তাদের ওপর সবচেয়ে বেশি অনুগ্রহ করেছেন। তাদের মধ্যেই রাসূল ﷺ-কে পাঠিয়েছেন। ‘এ মহান মর্যাদা তো তারাই পেয়েছে, যারা এ (নবির জাতি হওয়ার) মাহাত্ম্য লাভ করেছে।’ আরেকটা কারণ হচ্ছে, তাদের ভাষায় আল্লাহ তাঁর সর্বশেষ কিতাব নাজিল করেছেন। আমরা তো চাটাই-চুম্বাও মুখস্থ করেছি, আরবদের তো আর ফারসি কুরআনও বুঝেছি, কিন্তু তাদের তো এটা মাতৃভাষা ছিল।

যাই হোক, আমাদের দেশের স্থায়িত্ব ও কল্যাণ এতেই রয়েছে যে, এখানে ইসলামি বিপ্লব আসবে, ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে; এটিই তার টিকে থাকার কারণ। নতুবা আমাদের দেশের অবস্থা তো এখন পুরোপুরি ভঙ্গুর অবস্থার ওপর ওয়াফাকিয়ার শেষ রুকুতে তুলে ধরা হয়েছে। যখন কেউ মুমূর্ষু অবস্থায় থাকে আর তার পাশে আত্মীয়স্বজন দাঁড়িয়ে দেখতে থাকে, সে বিদায় নিচ্ছে। কিন্তু তারা তখন অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, তাদের কিছুই করার থাকে না। তাদের অবস্থার কুরআন এভাবে চিত্রিত করেছে যে—

فَلَوْلَا إِن كُنتُمْ غَيْرَ مَدِينِينَ تَرْجِعُونَهَا إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ

তোমরা যদি কর্মজীবনে না হও, তাহলে তোমরা ওটা (রূহ) ফিরিয়ে দাও না কেন? যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো। ( সূরা ওয়াকিয়া : ৮৬-৮৭)

একইভাবে আমিও বলছি, আমাদের দেশ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। একসময় দেখবেন, আপনার অট্টালিকা আর আপনার কলকারখানার আর আপনার থাকবে না; অন্য কেউ এর মালিক হবে। ‘অস্থিতিশীলতার অবস্থা দেখে; একেবারে বিরান খণ্ডভূমিতে পরিণত হবে!’ যদি এখানে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত না হয়, তাহলে পাকিস্তানের ধ্বংস আর এখন কি অধিকার থাকবে না। আমি ‘বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ইসলাম ও পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ’—প্রসঙ্গে দুটি বক্তব্য দিয়েছিলাম: [১] বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ইসলামের ভবিষ্যৎ। [২] পাকিস্তানে কি ধ্বংস হতে চলেছে? আর এখনও কি কোনো পথ খোলা আছে?

যুগের একটি পথই খোলা আছে আর তা হচ্ছে, ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। দুঃখের বিষয়, যারা এর ইচ্ছা রাখে, তারা লালন করে—তাদের সামনে যেহেতু কোনো সুস্পষ্ট কর্মসূচি নেই; এজন্য তারা এদিক-ওদিক হাতড়ে যেতে থাকে। আমি রাসূল ﷺ-এর সিরাত থেকে আহরণ করে আপনাদের সামনে বিপ্লবের এমন কর্মসূচি পেশ করেছি, যা অনুসরণ করলে সফলতার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। নতুবা আপনার ইখলাস তার জায়গায় পড়ে থাকবে; কিন্তু সফলতার দেখা মিলবে না।

আমার যা কিছু বলার ছিল—আল্লাহর ইচ্ছায় তা বলতে পেরেছি। সবশেষে আমি নিজের জন্য, আপনাদের জন্য এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00