📘 দাউস কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না > 📄 আল-হাদীসে পর্দা

📄 আল-হাদীসে পর্দা


১. হযরত ইবনে মাসউদ (রা:) হতে বর্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেছেন, নারীরা হলো পর্দায় থাকার বস্তু। সুতরাং তারা যখন (পর্দা উপেক্ষ করে) বাইরে আসে, তখন শয়তান তাদেরকে (অন্য পুরুষের চোখে) সু-সজ্জিত করে দেখায়। (তিরমিযী)

২. হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন “আমি রাসূলুল্লাহ (সা:)-কে এই মর্মে প্রশ্ন করেছিলাম যে, হঠাৎ যদি কোনো নারীর উপর দৃষ্টি পড়ে, তাহলে কী করতে হবে? রাসূল (সা:) আমাদের নির্দেশ দিলেন যে, তুমি তোমার দৃষ্টিকে কালবিলম্ব না করে ফিরিয়ে নিবে। (মুসলিম)

৩. হযরত বুরাইদাহ (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা:) আলী (রা:)-কে লক্ষ্য করে বলেন, হে আলী! কোনো অপরিচিতা নারীর উপর হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে গেলে তা ফিরিয়ে নিবে এবং দ্বিতীয় বার তার প্রতি আর দৃষ্টিপাত করবে না। কেননা প্রথম দৃষ্টি তোমার আর দ্বিতীয় দৃষ্টি তোমার নয় বরং তা শয়তানের। (আবু দাউদ)

৪. নবী করীম (সা:) বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো অপরিচিত নারীর প্রতি যৌন লোলুপ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে, কিয়ামতের দিন তার চোখে উত্তপ্ত গলিত লোহা ঢেলে দেয়া হবে। (ফাতহুল কাদীর)

৫. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) হতে বর্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেছেন : দৃষ্টি তো ইবলীসের বিষাক্ত তীরগুলোর মধ্যে একটি। যে ব্যক্তি আমাকে ভয় করে এ দৃষ্টি ত্যাগ করবে, তার বিনিময়ে আমি তাকে এমন ঈমান দান করবো, যার স্বাদ সে অন্তরে অনুভব করতে পারবে। (তিরমিযী)

৬. উম্মুল মু'মেনীন হযরত উম্মে সালমাহ (রা:) হতে বর্ণিত, একদা তিনি এবং হযরত মায়মুনা (রা:) রাসূল (সা:)-এর নিকট বসা ছিলেন। হঠাৎ সেখানে ইবনে উম্মে মাকতূম এসে প্রবেশ করলেন। রাসূল (সা:) হযরত উম্মে সালমাহ ও মায়মুনা (রা:)-কে বললেন : তোমরা (আগন্তুক) লোকটি থেকে পর্দা করো। আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! লোকটি তো অন্ধ, আমাদেরকে দেখতে পাচ্ছে না। তখন রাসূল (সা:) বললেন: তোমরা দু'জনও কি অন্ধ যে, তাকে দেখতে পাচ্ছ না। (আহমদ, তিরমিযী, আবু দাউদ)

৭. হযরত আবূ উমামা (রা:) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন : যখন কোনো মুসলমানের দৃষ্টি কোনো নারীর উপর পড়বে, আর সাথে সাথে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিবে, আল্লাহ তার ইবাদতে স্বাদ ও আনন্দ সৃষ্টি করে দিবেন। (মুসানাদে আহমদ)

📘 দাউস কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না > 📄 পর্দা সম্পর্কে নবী করীম (সাঃ) এর আরো কিছু হাদীস নিম্নে বর্ণনা করা হলো

📄 পর্দা সম্পর্কে নবী করীম (সাঃ) এর আরো কিছু হাদীস নিম্নে বর্ণনা করা হলো


৮. নবী করীম (সা:) এর শ্যালিকা হযরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা:) একবার মিহি পাতলা কাপড় পরে তার সামনে আসলেন। কাপড়ের ভিতর দিয়ে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেখা যাচ্ছিল। সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে নবী করীম (সা:) বললেন: হে আসমা। সাবালিকা হওয়ার পর এটা এবং এটা ছাড়া শরীরের কোনো অংশ দেখানো নারীর পক্ষে জায়েজ হয় না। এই বলে নবী করীম (সা:) তার মুখমণ্ডল এবং হাতের কব্জির দিকে ইঙ্গিত করলেন। (ফাতহুল বারী)

৯. হাফসা বিনতে আবদুর রহমান একদা সূক্ষ্ণ দোপাট্টা পরে হযরত আয়েশা (রা:) এর ঘরে হাজির হলেন: তখন তিনি তা ছিঁড়ে ফেলে একটা মোটা চাদর দিয়ে তাকে ঢেকে দিলেন। (মুয়াত্তা ইমাম মালেক)

১০. নবী করীম (সা:) বলেছেন: আল্লাহর অভিশাপ ওইসব নারীদের উপর, যারা কাপড় পরেও উলঙ্গ থাকে। (অর্থাৎ এত পাতলা কাপড় পরে যে, তার ভিতরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেখা যায়।)

১১. হযরত ওমর (রা:) বলেন: নারীদের এমন আঁটসাঁট কাপড় পরতে দিওনা যাতে শরীরের গঠন স্পষ্ট হয়ে পড়ে।

১২. উকবা বিন আমের (রা:) হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল (সা:) বলেছেন : সাবধান! নিভৃতে নারীদের কাছে যেওনা। জনৈক আনসার বললেন : হে আল্লাহর রাসূল! দেবর সম্পর্কে আপনার নির্দেশ কি? নবী করীম (সা:) বললেন : সেতো মৃত্যু সমতুল্য। (অর্থাৎ মানুষ মৃত্যু দেখে যেমন ভয় পায়, দেবর হলো সে ধরনের ভয়ের বস্তু।)

১৩. মহানবী (সা:) বলেন: স্বামীর অনুপস্থিতিতে কোনো নারীর কাছে যেওনা, কারণ শয়তান তোমাদের যেকোনো একজনের মধ্যে রক্তের ন্যায় প্রবাহিত হবে। (তিরমিযী)

১৪. নবী (সা:) বললেন: আজ থেকে কেউ যেনো স্বামীর অনুপস্থিতিতে কোনো নারীর কাছে না যায়, যতক্ষণ তার কাছে একজন অথবা দু'জন লোক না থাকে। (মুসলিম)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00