📘 দাউস কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না > 📄 প্রচণ্ড গরম

📄 প্রচণ্ড গরম


অনেকে প্রচণ্ড গরমের জন্য হিজাব পরতে চায় না। কথা সত্যি, হিজাব পরলে খুব গরম লাগে। অবশ্য গরমের সময়। শীতকালে ভালোই লাগে। কিন্তু আখেরাতের গরমের কাছে এই গরমের কোনো মূল্য আছে? যদি মরা না লাগত, আখেরাতে হিসাব-নিকাস ও বিচারের সম্মুখীন হতে না হতো তাহলে মনে হয় আমি পর্দা করতাম না। গরমের সময় আমার পর্দা করতে খুব কষ্ট হয়। কিন্তু মরতেই হবে। বেপর্দা চলার জন্য সেই দিন জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে। স্বামী এবং বাবাসহ। তার চেয়ে পর্দা করা কি কঠিন? আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আল কুরআনে যা বলেছেন তার বিরুদ্ধে যদি কেউ কথা বলে, তার ঈমান থাকতে পারেনা- এ কথা আমরা সবাই বুঝি এবং বিশ্বাস করি। কিন্তু তারপরও একদল মুসলমানই বলে, 'অত পর্দা করি না বাপু, যারা বেশি পর্দা করে তাদের মধ্যেই শয়তানী বেশি।”
আল্লাহ্ বললেন উত্তম- ভালো। আর বান্দা বলছে শয়তানী। এইসব কথা যারা বলে তারা বেঈমান হয়ে যায়। বে-ঈমানের কোনো এবাদাত আল্লাহ পাক কবুল করেন না। যারা পর্দার বিরুদ্ধে কথা বলে তারা যদি বেঈমান হয়ে যায় তাহলে যারা পর্দা করে না তারা কেমন ঈমানদার?

📘 দাউস কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না > 📄 ইবাদাতের মজা

📄 ইবাদাতের মজা


ইবাদাত কেউ করে দায়ে পড়ে। কেউ করে পরিবার তথা সমাজের চাপে। কেউ করে নিজের গরজে- স্বেচ্ছায়, ভালোবেসে। প্রথম দুই শ্রেণীর ইবাদাতকারী ইবাদাতের মজাই পায় না। দায়সারাভাবে করে।
তৃতীয় ব্যক্তি ইবাদাতে মজা পায়। ইবাদাতে মজা একটা ভিন্ন ব্যাপার। বেপর্দা নারী পুরুষ তা কোনোদিন পাবে না। আল্লাহ্র হুকুমে আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বেচ্ছায় পর্দা করুন। দেখবেন ইবাদাতের স্বাদ পরিবর্তন হয়ে যাবে। একটা অপার্থিব মজা পাবেন। তবে সে পর্দা হতে হবে একান্তই নিজের প্রচেষ্টায়।

📘 দাউস কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না > 📄 অনিচ্ছায় পর্দা আর ইচ্ছায় পর্দা

📄 অনিচ্ছায় পর্দা আর ইচ্ছায় পর্দা


অল্পবয়সী বিবাহিতা সায়মা। বিয়ের পর বিএ ভর্তি হয়েছে। কলেজে যায়। বিয়ের আগে বরপক্ষকে জানানো হয়েছে যে, মেয়েটি পর্দা করে। বরপক্ষ পর্দা করা পছন্দ করে। যা হোক, বিয়ের পর দেখা গেলো মেয়েটি ঘরোয়া পর্দা বলতে কিছুই বোঝে না, তবে বাড়ির বাইরে গেলে পোশাকের উপর একটা পোশাক দেয়। অর্থাৎ নামকাওয়াস্তে একটা বোরকা পরে যদিও মাথার ওড়না ঠিকমত মাথায় থাকে না। স্বামী মহোদয় এতেই খুশি। কারণ সে নিজেই তো ইসলাম ঠিক মতো মানে না। কিন্তু মেয়েটি মাঝে মাঝে বোরকা খুলে রেখে কলেজে যায়। স্বামী যখন বাসায় থাকে না তখনই সে এই কাজটি করে। যথারীতি স্বামীর কাছে মেয়েটি একদিন ধরা পড়ে যায়। স্বামী অবাক হয়। “তুমি এইভাবে বেপর্দায় বাইরে গ্যাছ?” মেয়েটি সংকুচিত হয়ে থতমত কণ্ঠে বলে, “আজকেই গেছি। যেয়ে আমার কাছেও খুব খারাপ লেগেছে। ছেলেটি আমার কাছে অভিযোগ করে বলে, "আনা ও এতো বড় ভণ্ড, তা তো আমার জানা ছিল না।”
বললাম “ও মোটেও ভণ্ড না-ও ছোট মানুষ। আর পর্দা কেন করতে হবে তাই তো ও জানে না। ওর মাকে আমি দেখেছি, সেও এমনি পর্দা করে। আর তাছাড়া ও তো আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য পর্দা করে না। ও পর্দা করে তোমাকে সন্তুষ্ট করার জন্য। অর্থাৎ তুমি যখন সামনে নেই তখন ও পর্দার প্রয়োজন বোধ করেনি। কিন্তু সায়মা যদি আল্লাহর ভয়ে কিংবা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পর্দা করত তাহলে কখনো বেপর্দায় বাইরে যেতে পারত না। এই সায়মার বয়স ১৮/১৯ বছর হবে।
আমি এবার বলব সায়মার চেয়েও ছোট একটি মেয়ের কথা। নাম মাহমুদা। মাহমুদার আম্মা নালিশের সুরে বললেন, “কী করি বলো তো এই মেয়ে নিয়ে? আজ চারদিন হলো স্কুলে যাচ্ছে না।
কেনো?
উত্তরে ভদ্র মহিলা যা বললেন, তার সারমর্ম হলো- মেয়ে বলছে সে বড় হয়ে গেছে। ক্লাস নাইনে পড়ে। তার জন্য সব ইবাদাত ফরয হয়ে গেছে। নামাজ, রোজা, এমনকি পর্দাও করাও। অতএব তাকে বোরকা তৈরি করে না দিলে সে স্কুলে যাবে না।”
বললাম “ও তো খুব ভালো প্রস্তাব করেছে। আজই ওকে বোরকা কিনে দেন। আপনি তো ভাগ্যবতী মা। এ ধরনের মেয়ে কয়জনার আছে?
মাহমুদার কিশোরী বয়স থেকে দেখে আসছি, কী অবিচল সে তার হিজাবের ব্যাপারে। কতো ঝড় ঝাপটা তার উপর দিয়ে যেতে দেখেছি; কিন্তু পর্দার শিথিলতা দেখিনি।
সায়মা পর্দা করেছিল অভিভাবকদের চাপে, তাই তার মধ্যে আন্তরিকতার অভাব ছিল। যেহেতু পর্দাটা অন্তর থেকে ছিল না। আর মাহমুদার পর্দা করা ছিল অন্তর থেকে আল্লাহর ভয়ে। এখানে বয়স কোনো বিষয় না-বিষয় হলো ঈমান।

📘 দাউস কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না > 📄 আল কোরআনের সবটুকুই মানতে হবে

📄 আল কোরআনের সবটুকুই মানতে হবে


আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন, “হে ঈমানদারগণ তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে দাখিল হও। এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।”
অন্যত্র বলেছেন, “তোমরা কি কুরআনের কিছু কথা মানবে আর কিছু অমান্য করবে?”
আল কুরআন আমাদের জীবন ব্যবস্থা-জান্নাতে যাওয়ার সহজ সরল পথ। দুনিয়া ও আখেরাতের মুক্তির পরোয়ানা।
আল্লাহ পাকের ভাষায়- “এই কিতাব আল্লাহর কিতাব। এতে কোনো প্রকার সন্দেহ নেই। এটি মুত্তাকীনদের জন্য পথনির্দেশক। আর মুত্তাকীন তো ওই লোক, যে গায়েবে বিশ্বাস করে।' সালাত কায়েম করে, আল্লাহ দেওয়া রিজিক থেকে খরচ করে। যারা এই কিতাব এবং পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ বিশ্বাস করে এবং আখেরাতের উপর যাদের রয়েছে দৃঢ় বিশ্বাস।” (সূরা বাকারাহ : ২-৫)
এই কিতাবের উপর বিশ্বাস মানে কি? এই কিতাবে আল কুরআনে যা কিছু আছে তা সত্য এবং তার সবটুকুই আমাকে মানতে হবে। মুসলিম বলে দাবিদার প্রত্যেককেই মানতে হবে। মুসলিম মানেই তো আনুগত্যকারী। কুরআনে আল্লাহ পাক যা কিছু নাযিল করেছেন, আদেশ করেছেন, নিষেধ করেছেন তা অমান্য করে কেউ মুসলিম হতে পারে না। সে নারী হোক কিংবা পুরুষ।
আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে পরিপূর্ণ মুসলিম হয়ে বাঁচার ও মরার তাওফিক দান করুন। আমীন!

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00