📄 পর্দা করা কোনো কঠিন কাজ নয়
পর্দা করা আসলেই কোনো কঠিন কাজ নয়। এটা শুধু ইচ্ছা আর ঈমানের ব্যাপার। আল্লাহ্র উপর, তাঁর কুরআনের উপর আর আখেরাতের উপর যদি বিশ্বাস থাকে তাহলে পর্দা করা এমনি এমনিই হয়ে যাবে।
📄 দুনিয়াই আখেরাতের শষ্যক্ষেত্র
এই পৃথিবীটাই আখেরাতের শস্যক্ষেত্র। এখানে যে যেমন আমল বা কাজ করবে আখেরাতে আল্লাহ পাক তাকে তেমন প্রতিদানই দিবেন। কারণ তিনি 'মালিকি ইয়াও মিদ্দীন'-প্রতিদান দিবসের মালিক। সেই মালিকের নির্দেশ, বাড়ির বাইরে গেলে "যে পোশাক পরে আছ, তার উপর আরো একটি পোশাক দাও। এটা তোমার জন্য উত্তম।” ব্যস এরপর তো আর কথা নেই। মুসলমান তো সে-ই ব্যক্তি, যে বলে 'সামিয়না ওয়া আতা'না'। আমি শুনলাম এবং মেনে নিলাম। আল্লাহ্র আদেশ অমান্য করার পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ্ সুবহানাহু তা'য়ালা বলেন, “যদি নির্ভরযোগ্য ইলমের ভিত্তিতে (তোমাদের চাল-চলনের কুফল সম্পর্কে) জানতে পারতে তাহলে এভাবে চলতে পারতে না। তোমরা অবশ্যই জাহান্নাম দেখতে পাবে। আবার (শোন) তোমরা একেবারে স্থির নিশ্চিতভাবে তা দেখবেই।” (সূরা তাকাসুর : ১-৬-৭)
ইসলাম শব্দের অর্থ আনুগত্য বা আত্মসমর্পণ। আর মুসলিম বা মুসলমান শব্দের অর্থ আনুগত্যকারী বা আত্মসমর্পণকারী। যখনই একজন মানুষ নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করবে তখনই মহান আল্লাহর বাণী আল কুরআনের প্রত্যেকটি আদেশ-নিষেধ মানা তার জন্য ফরয হয়ে যায়।
আল্লাহ পাক বলেন, “জীবনের সকল সমস্যার সমাধান নিতে হবে আল কুরআন থেকে।”
📄 বিধর্মীদের মতো দেখতে
একই ক্লাসে পড়ে দুটি মেয়ে। মিতা আর রিতা। না, দুই বোন না। ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ওরা। ওদের পছন্দ-অপছন্দের মধ্যে খুব মিল। চলা ফেরা উঠাবসা সব পোশাক-পরিচ্ছদ সব প্রায় একই রকম। এরা একজন হিন্দু বাবা মায়ের সন্তান, আর একজন মুসলিম বাবা মায়ের ঘরে জন্ম নিয়েছে। অথচ এদের আচার-আচরণ, জ্ঞান, শিক্ষা, বিশ্বাস, অবিশ্বাস, কথাবার্তা সব-সবই একরকম। এদের দেখে কিংবা এদের সাথে কথা বলে বোঝার কোনো উপায় নেই যে, এদের একজন মুসলমান।
দুনিয়াতেই যখন আলাদা করে চেনা যায় না, আখেরাতে কি করে এরা আলাদা প্রতিদান পাবে? আসল ব্যাপারটা হয়েছে-মুসলমান মেয়েরা কিছু ছেড়েছে, আর হিন্দুরা কিছু ধরেছে। এখন সবাই এক হয়ে গেছে। যেমন আগে মুসলমান মেয়েরা সালোয়ার কামিজের সাথে ওড়না পরত। আর হিন্দু মেয়েরা ওড়না তো পরতই না, সালোয়ারও পরত না। বড় মেয়েরাও হাফপ্যান্ট পরত। এখন হিন্দু মেয়েরা সালোয়ার ধরেছে আর মুসলমান মেয়েরা ওড়না ছেড়েছে। এখন তারা সবাই বাঙালি (?) হয়ে গেছে!
জিজ্ঞেস না করে বোঝার উপায় নেই মেয়েটি হিন্দু না মুসলমান। মুসলিম মেয়েরা পাশ্চাত্যের অনুকরণে আধুনিক সাজতে চায়। অর্থাৎ যে যতো স্বল্প পোশাক ব্যবহার করবে, সেই যেন বেশি আধুনিক। অবাক হই, ইবলিশ কি কৌশলে বিধানটি একেবারে উল্টে দিল। পুরুষেরা ফুলপ্যান্ট ফুলসার্ট পরে গোটা শরীর ঢেকে রাখে, আর মেয়েরা দেহের অর্ধেকেরও বেশি বের করে রাখে।
📄 কঠিন শাস্তি
একবার এক স্কুলে স্থানীয় কয়েকজন ইসলামপ্রিয় মহিলারা একটি সাধারণ সভার আয়োজন করেছিলেন। সেখানে কথা বলতে যেয়ে এক পর্যায়ে বলেছিলাম, “মহিলাদের চেয়ে পুরুষের লজ্জা বেশি।”
কথাটা শেষ করতে না করতেই একজন ভদ্রমহিলা উঠে দাঁড়ালেন।
প্রতিবাদের সুরে বললেন, 'আপা, আপনার এই কথাটা মানতে পারলাম না। পুরুষ মানুষের আবার লজ্জা দেখলেন কোথায়? ওরা তো বেশরম-বেলাজ -----।”
আমি বক্তৃতা থামিয়ে বললাম “আপা, আপনি কী করেন?
: এই স্কুলে শিক্ষকতা করি। বললাম, কয়জন পুরুষ আর কয়জন মহিলা শিক্ষক আছেন এই স্কুলে?
: "আমরা সমান সমান। চারজন পুরুষ, চারজন মহিলা।” হাসি মুখে উত্তর দিলেন ভদ্র মহিলা। বললাম আপা আপনি কি কোনো দিন আপনার পুরুষ সহকর্মীদের পেট-পিঠ দেখেছেন?”
ভদ্রমহিলা ভ্রূ কুঁচকে তাকালেন আমার দিকে। বললেন তার মানে?"
বললাম “দেহ প্রদর্শন করা নির্লজ্জতা। কিন্তু এই কাজটা সাধারণত পুরুষেরা করে না। আপনার যদি কখনো ইচ্ছে হয়, আপনার কোনো পুরুষ সহকর্মীর পেট কিংবা পিঠ দেখবেন। তাহলে তাকে ডেকে বলতে হবে ভাই আপনার সার্ট কিংবা পাঞ্জাবিটা একটু উপরে তুলুন তো, আমি আপনার পিঠ কিংবা পেটটা একটু দেখব। সেই ভাই তখন নির্ঘাত আপনাকে পাগল মনে করবে। আর আপনার পেট-পিঠ কতোভাবে কতো এ্যাংগেলে কতো শতো পুরুষ-মহিলা দেখছে, তার কি কোনো হিসাব আছে?
পুরুষেরা পেট-পিঠ বের করা পোশাক পরে বাইরে কিংবা অফিস-আদালতে যাবে না, এটা তাদের স্বাভাবিক লজ্জা। যা থাকা উচিত ছিল মেয়েদের। অথচ মেয়েরা কিভাবে গলাটা আর একটু বড় করে কাঁধ এবং বুকের উপরি অংশ বের করা যাবে, কিভাবে জামার হাতার উপরি অংশ কেটে মাসেল দেখানো যাবে- সেই চেষ্টা করে। লজ্জাহীনতা মেয়েদের অস্থিমজ্জায় এমনভাবে ঢুকে গেছে যে, এ বিষয়টাকে তারা লজ্জার বিষয় বলে মনেই করে না। এখানেই ইবলীসের কৃতিত্ব। সে আল্লাহর সাথে চ্যালেঞ্জ করে বলেছিল, “আমি তোমার বান্দাদের থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ নিয়েই ছাড়ব। আমি তাদেরকে পথভ্রষ্ট করবই। তাদেরকে আশার ছলনায় বিভ্রান্ত করবই।” (সূরা নিসা-১১৮-১১৯)
মানুষের জন্মলগ্নেই শত্রুর উৎপত্তি। আল্লাহ্ হুকুম উপেক্ষা করে সে যখন আদম (আঃ) কে সিজদা করতে অস্বীকৃতি জানাল, তখন আল্লাহ্ জিজ্ঞেস করলেন, 'হে ইবলিস তোর কি হলো, তুই সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হলি না? সে জবাব দিল, 'এমন একজন মানুষকে সিজদা করা আমার মনঃপূত নয়, যাকে তুমি শুকনো ঠনঠনে পচা মাটি থেকে সৃষ্টি করেছো।' আল্লাহ্ বললেন তবে তুই বের হয়ে যা এখান থেকে। কেননা তুই ধিকৃত। আর এখন কর্মফল দিবস পর্যন্ত তোর উপর অভিসম্পাত। সে আরজ করলো, “হে আমার রব! তাই যদি হয় তাহলে সেই দিন পর্যন্ত আমাকে অবকাশ দিন, যে দিন সকল মানুষকে পুনর্বার উঠানো হবে। আল্লাহ বললেন, “ঠিক আছে তোকে অবকাশ দেওয়া হলো সেদিন পর্যন্ত, যার সময় আমার জানা আছে।”
সে বললো, হে আমার রব! আপনি যেমন আমাকে বিপথগামী করলেন, ঠিক তেমনিভাবে আমি পৃথিবীতে এদের জন্য প্রলোভন সৃষ্টি করে এদের সবাইকে বিপথগামী করবো।” (সূরা হিজর : ৩২-৩৯)
তার প্রিয়তম সৃষ্টি মানুষকে শয়তানের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন, “হে ঈমানদারগণ। শয়তানের পদাংক অনুসরণ করে চলো না। (সূরা বাক্বারা : ১৬৯, সূরা আন নূর: ২১-২৫ সূরা আরাফ : ২০-২৭, মু'মিনুন : ৯৭)
যে কেউ তার অনুসরণ করবে তাকে সে অশ্লীলতা ও খারাপ কাজ করার হুকুম দেবে।” (সূরা আন নূর: ২১)
“----তারপর তাদের লজ্জাস্থান, যা তাদের পরস্পর থেকে গোপন রাখা হয়েছিল, তাদের সামনে উন্মুক্ত করে দেবার জন্য শয়তান তাদেরকে কুমন্ত্রণা দিল।" (সূরা আরাফ : ২০)
হে বনী আদম! তোমাদের শরীরের লজ্জাস্থানগুলো ঢাকার এবং তোমাদের দেহের সংরক্ষণ ও সৌন্দর্য বিধানের উদ্দেশ্যে আমি তোমাদের জন্য পোশাক নাযিল করেছি। আর তাকওয়ার পোশাক-ই সর্বোত্তম। এটি আল্লাহর নিদর্শনগুলোর অন্যতম। সম্ভবত লোকেরা এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে। হে বনী আদম! শয়তান যেন তোমাদেরকে আবার ঠিক তেমনিভাবে বিভ্রান্তির মধ্যে নিক্ষেপ না করে, যেমনভাবে সে তোমাদের পিতা মাতাকে জান্নাত থেকে বের করেছিল এবং তাদের লজ্জাস্থান পরস্পরের কাছে উন্মুক্ত করে দেবার জন্য তাদেরকে বিবস্ত্র করেছিল। সে ও তার সাথীরা তোমাদেরকে এমন জায়গা থেকে দেখে যেখান থেকে তোমরা তাদেরকে দেখতে পাওনা। আমি এ শয়তানদের যারা ঈমান আনে না তাদের অভিভাবক করে দিয়েছি।” (সূরা আরাফ-২৭)
এই যে পেট, পিঠ, মাথা এবং সৌন্দর্য প্রদর্শন করে যারা চলে, তারা আল্লাহ রাব্বুল "আলামীনের নির্দেশ অমান্যকারী সীমালঙ্ঘনকারী, আল কুরআনের ভাষায় এরা ফাসিক, মুনাফিক, এরা যালিম। এদের স্থান হবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে।”
এরা তো জান্নাতে প্রবেশ করবেই না, এদের বাবা এবং জীবন-সাথীরাও কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। কারণ তাদের বাবা এবং জীবন সাথীদের দায়িত্ব ছিল তাদের পর্দায় রাখা। তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেনি। রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন-জ্বলন্ত উৎক্ষিপ্ত জাহান্নামে এদের নিক্ষেপ করে বলা হবে, “এ হলো সেই জায়গা, যা তোমাদের বিশ্বাস হতো না----।”
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর থেকে বর্ণিত-“তোমরা প্রত্যেকেই রাখাল এবং তাকে তার অধীনস্থ লোকদের সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে শাসক ও রাখাল তাকে তার অধীনস্থ লোকদের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে। নারী তার বাড়ি এবং সন্তান-সন্ততির তত্ত্বাবধায়িকা তাকে তাদের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে। আর পুরুষ তার গোটা পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক। তাকে পুরো পরিবারের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে। (সহীহ আল বুখারী)