📄 আখেরাত
আখেরাত : আখেরাতে বেপর্দা নারী-পুরুষের অশান্তির কি সীমা পরিসীমা আছে? রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, তিন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না। মদ্যপায়ী পিতামাতার অবাধ্য সন্তান এবং দাইয়ুস। (নাসায়ী, সহীহ বুখারী) আর দাইয়ুস বলে ওই পুরুষটিকে যে নিজের পরিবারে অশ্লীলতা ও পাপাচারের প্রশ্রয় দেয়। যার ভেতরে অশ্লীলতার প্রতি ঘৃণা বর্তমান নেই এবং স্ত্রীও সন্তানদেরকে ইসলামী বিধান বিশেষত পর্দা মেনে চলতে বাধ্য করে না তার ইহকাল ও পরকালে কোনো কল্যাণ নেই। তারাই দাইয়ুস বলে গণ্য।
মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেন, “হে ঈমানদার লোকেরা, তোমরা নিজেদেরকে এবং নিজেদের পরিবার ও সন্তান-সন্ততিকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো। যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। সেখানে রূঢ় স্বভাব ও কঠোর হৃদয় ফেরেশতারা নিয়োজিত থাকবে যারা কখনো আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে না এবং তাদেরকে সে নির্দেশ দেয়া হয় তাই পালন করে। (সূরা আত-তাহরিম : ৬)
📄 একটি দরজা খোলা
আগেই বলেছি, আমাদের সমাজে অনেক মুসলমান আছে, যারা নামাজ-রোজা, হজ্ব-যাকাত ইত্যাদি করে, কিন্তু পর্দার ব্যাপারে উদাসীন। তাদের উদাহরণ হলো, শত্রুর ভয়ে আপনি একটা মজবুত গৃহে আশ্রয় নিলেন। ঘরটি মজবুত ঠিকই, কিন্তু ঘরের পিছনের একটা দরজায় পাল্লা নেই। এই পাল্লাবিহীন দরজা দিয়ে অবলীলায় যেভাবে শত্রু ঢুকতে পারবে, তেমনি নামাজ-রোজা, হজ্ব-যাকাত দিয়ে চতুর্দিকে জাহান্নামের আগুনকে ঠেকালেও পিছন দিক থেকে পর্দার দরজা পাল্লাবিহীন থেকে যাবে। সেই দরজা পথে জাহান্নামের আগুন ঢুকবেই।
📄 পর্দা করা কোনো কঠিন কাজ নয়
পর্দা করা আসলেই কোনো কঠিন কাজ নয়। এটা শুধু ইচ্ছা আর ঈমানের ব্যাপার। আল্লাহ্র উপর, তাঁর কুরআনের উপর আর আখেরাতের উপর যদি বিশ্বাস থাকে তাহলে পর্দা করা এমনি এমনিই হয়ে যাবে।
📄 দুনিয়াই আখেরাতের শষ্যক্ষেত্র
এই পৃথিবীটাই আখেরাতের শস্যক্ষেত্র। এখানে যে যেমন আমল বা কাজ করবে আখেরাতে আল্লাহ পাক তাকে তেমন প্রতিদানই দিবেন। কারণ তিনি 'মালিকি ইয়াও মিদ্দীন'-প্রতিদান দিবসের মালিক। সেই মালিকের নির্দেশ, বাড়ির বাইরে গেলে "যে পোশাক পরে আছ, তার উপর আরো একটি পোশাক দাও। এটা তোমার জন্য উত্তম।” ব্যস এরপর তো আর কথা নেই। মুসলমান তো সে-ই ব্যক্তি, যে বলে 'সামিয়না ওয়া আতা'না'। আমি শুনলাম এবং মেনে নিলাম। আল্লাহ্র আদেশ অমান্য করার পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ্ সুবহানাহু তা'য়ালা বলেন, “যদি নির্ভরযোগ্য ইলমের ভিত্তিতে (তোমাদের চাল-চলনের কুফল সম্পর্কে) জানতে পারতে তাহলে এভাবে চলতে পারতে না। তোমরা অবশ্যই জাহান্নাম দেখতে পাবে। আবার (শোন) তোমরা একেবারে স্থির নিশ্চিতভাবে তা দেখবেই।” (সূরা তাকাসুর : ১-৬-৭)
ইসলাম শব্দের অর্থ আনুগত্য বা আত্মসমর্পণ। আর মুসলিম বা মুসলমান শব্দের অর্থ আনুগত্যকারী বা আত্মসমর্পণকারী। যখনই একজন মানুষ নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করবে তখনই মহান আল্লাহর বাণী আল কুরআনের প্রত্যেকটি আদেশ-নিষেধ মানা তার জন্য ফরয হয়ে যায়।
আল্লাহ পাক বলেন, “জীবনের সকল সমস্যার সমাধান নিতে হবে আল কুরআন থেকে।”