📄 পর্দা না করার পরিণতি
পর্দা না করার পরিণতি ভয়াবহ। দুনিয়া ও আখেরাতে উভয় স্থানেই এর পরিণাম খারাপ।
📄 দুনিয়া
আমাদের এই যাপিত জীবনে যত অশান্তি, তার সাড়ে পনের আনাই বেপর্দা থেকে সৃষ্টি। কত সোনার সংসারকে এই বেপর্দার বিষবাষ্পে ছারখার হতে দেখেছি। এই বেপর্দা থেকেই সৃষ্টি হয় পরকীয়া। আমাদের সমাজে বেপর্দার কারণে সৃষ্ট দাম্পত্য জীবনের অশান্তি যে কি পরিমাণে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে, তা আর আমাকে উদাহরণ দিতে হবে না- যারা আমার লেখাটা পড়বেন তাদের কাছেই এর ভুরি ভুরি প্রমাণ আছে।
📄 আখেরাত
আখেরাত : আখেরাতে বেপর্দা নারী-পুরুষের অশান্তির কি সীমা পরিসীমা আছে? রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, তিন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না। মদ্যপায়ী পিতামাতার অবাধ্য সন্তান এবং দাইয়ুস। (নাসায়ী, সহীহ বুখারী) আর দাইয়ুস বলে ওই পুরুষটিকে যে নিজের পরিবারে অশ্লীলতা ও পাপাচারের প্রশ্রয় দেয়। যার ভেতরে অশ্লীলতার প্রতি ঘৃণা বর্তমান নেই এবং স্ত্রীও সন্তানদেরকে ইসলামী বিধান বিশেষত পর্দা মেনে চলতে বাধ্য করে না তার ইহকাল ও পরকালে কোনো কল্যাণ নেই। তারাই দাইয়ুস বলে গণ্য।
মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেন, “হে ঈমানদার লোকেরা, তোমরা নিজেদেরকে এবং নিজেদের পরিবার ও সন্তান-সন্ততিকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো। যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। সেখানে রূঢ় স্বভাব ও কঠোর হৃদয় ফেরেশতারা নিয়োজিত থাকবে যারা কখনো আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে না এবং তাদেরকে সে নির্দেশ দেয়া হয় তাই পালন করে। (সূরা আত-তাহরিম : ৬)
📄 একটি দরজা খোলা
আগেই বলেছি, আমাদের সমাজে অনেক মুসলমান আছে, যারা নামাজ-রোজা, হজ্ব-যাকাত ইত্যাদি করে, কিন্তু পর্দার ব্যাপারে উদাসীন। তাদের উদাহরণ হলো, শত্রুর ভয়ে আপনি একটা মজবুত গৃহে আশ্রয় নিলেন। ঘরটি মজবুত ঠিকই, কিন্তু ঘরের পিছনের একটা দরজায় পাল্লা নেই। এই পাল্লাবিহীন দরজা দিয়ে অবলীলায় যেভাবে শত্রু ঢুকতে পারবে, তেমনি নামাজ-রোজা, হজ্ব-যাকাত দিয়ে চতুর্দিকে জাহান্নামের আগুনকে ঠেকালেও পিছন দিক থেকে পর্দার দরজা পাল্লাবিহীন থেকে যাবে। সেই দরজা পথে জাহান্নামের আগুন ঢুকবেই।