📄 বে-আলেম পুরুষ
উপরে গেল আলেম পুরুষদের কথা, তারা নিজেরা পর্দা না করলেও স্ত্রী কন্যাদের পর্দা করায়, এতেই হয়ত আত্মতৃপ্তি পায়।
ভাবে পর্দার আদেশের হক ঠিক মতোই পালন করলাম, দাইয়ুস তো আর হতে হবে না।
তারা কি সূরা সফের এই আয়াত পড়েনি? “হে ঈমানদার বান্দাগণ! তোমরা এমন কথা কেন বল, যা নিজেরা করো না? আল্লাহ্র কাছে খুবই ক্রোধ উদ্রেককারী ব্যাপার হলো যা অন্যকে করতে বলো, কার্যত নিজেরা তা করো না।”
এইবার আসা যাক বে-আলেম পুরুষদের ব্যাপারে। তারা নিজেরা পর্দা করে না, স্ত্রী কন্যাকেও করতে দেয় না।
আমার নিকটতম প্রতিবেশী খুবই বেপর্দায় চলাফেরা করেন। ভদ্র মহিলা উচ্চ শিক্ষিতা। স্মার্ট এবং সুন্দরী। যা হোক একদিন তার ব্যালকনীতে লম্বা জুব্বা আর টুপি পরিহিত এক বুযুর্গকে দেখে অবাক হলাম। তার বাসায় গেলাম। এক পর্যায়ে বুজর্গকে দেখিয়ে বললাম “ইনি কে?”
ভদ্রমহিলা বললেন “আমার আব্বা।” বললাম "এই বাপের মেয়ে এমন হয় কিভাবে?”
আমার প্রশ্নের উত্তরে মহিলা যা বললেন তার মূলকথা হলো বিয়ের আগে তিনিও পর্দা করতেন। বোরকা না পরলেও বড় ওড়না পরে স্কুল-কলেজে যেতেন। কিন্তু বিয়ের পরে তাকে সব ছাড়তে হয়েছে, কারণ তার স্বামী এসব পর্দা-টর্দা পছন্দ করেন না। এই ধরনের অনেক মহিলা আমাদের সমাজে আছেন, যাদের বাবা যখন পর্দা করে চলতে বলেছেন তখন তারা পর্দা করেছে আবার স্বামী যখন পর্দা ছাড়তে বলেছে তখন ছেড়ে দিয়েছেন। জানি না এরা নিজেদেরকে পুতুল মনে করেন কি-না। এদের কি নিজেদের কোনো পছন্দ-অপছন্দ, ইচ্ছা-অনিচ্ছা নেই? অথচ আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন, 'নারী যা অর্জন করেছে তা-ই সে পাবে-পুরুষ যা অর্জন করেছে তাই সে পাবে। কারো পাপের বোঝা কেউ বহন করবে না। মহিলারা যদি ভাবেন, আমার কি দোষ, আমার স্বামী আমাকে পর্দা করতে দেয় না, তাই করি না। এতে পাপ যদি কিছু হয় তা সব স্বামীর-ই হবে-আমার কি?
আসলে হিসেবটা এত সোজা নয়। পাপ. আপনারও হবে, আপনার স্বামীরও হবে। যেমন যে খুন করে তারও ফাঁসি হয়, আর যে হুকুম করে তারও ফাঁসি হয়।
📄 পর্দা না করার পরিণতি
পর্দা না করার পরিণতি ভয়াবহ। দুনিয়া ও আখেরাতে উভয় স্থানেই এর পরিণাম খারাপ।
📄 দুনিয়া
আমাদের এই যাপিত জীবনে যত অশান্তি, তার সাড়ে পনের আনাই বেপর্দা থেকে সৃষ্টি। কত সোনার সংসারকে এই বেপর্দার বিষবাষ্পে ছারখার হতে দেখেছি। এই বেপর্দা থেকেই সৃষ্টি হয় পরকীয়া। আমাদের সমাজে বেপর্দার কারণে সৃষ্ট দাম্পত্য জীবনের অশান্তি যে কি পরিমাণে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে, তা আর আমাকে উদাহরণ দিতে হবে না- যারা আমার লেখাটা পড়বেন তাদের কাছেই এর ভুরি ভুরি প্রমাণ আছে।
📄 আখেরাত
আখেরাত : আখেরাতে বেপর্দা নারী-পুরুষের অশান্তির কি সীমা পরিসীমা আছে? রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, তিন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না। মদ্যপায়ী পিতামাতার অবাধ্য সন্তান এবং দাইয়ুস। (নাসায়ী, সহীহ বুখারী) আর দাইয়ুস বলে ওই পুরুষটিকে যে নিজের পরিবারে অশ্লীলতা ও পাপাচারের প্রশ্রয় দেয়। যার ভেতরে অশ্লীলতার প্রতি ঘৃণা বর্তমান নেই এবং স্ত্রীও সন্তানদেরকে ইসলামী বিধান বিশেষত পর্দা মেনে চলতে বাধ্য করে না তার ইহকাল ও পরকালে কোনো কল্যাণ নেই। তারাই দাইয়ুস বলে গণ্য।
মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেন, “হে ঈমানদার লোকেরা, তোমরা নিজেদেরকে এবং নিজেদের পরিবার ও সন্তান-সন্ততিকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো। যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। সেখানে রূঢ় স্বভাব ও কঠোর হৃদয় ফেরেশতারা নিয়োজিত থাকবে যারা কখনো আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে না এবং তাদেরকে সে নির্দেশ দেয়া হয় তাই পালন করে। (সূরা আত-তাহরিম : ৬)