📘 দাউস কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না > 📄 নিজেদের ব্যাপারে উদাসীন

📄 নিজেদের ব্যাপারে উদাসীন


আমার মুসলিম ভাইয়েরা উপযুক্ত হাদীসের এবং আল কোরআনের শিক্ষাটুকু যদি বাস্তবায়িত করতেন তাহলে আমাদের অত কষ্ট হতো না।

কারণ মহিলাদের পর্দা আরো ব্যাপক। তাদেরকেও দৃষ্টি সংযত করা এবং লজ্জাস্থানের হিফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারপরও মহিলাদের জন্য অতিরিক্ত কিছু নির্দেশ আছে। যেমন :
১. তারা যেন বড় ওড়না বা চাদর দিয়ে নিজেদের দেহ পুরাপুরি ঢেকে রাখে।
২. সাজসজ্জা এবং রূপ সৌন্দর্য পর পুরুষকে না দেখায়।

কোনো প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে গেলেই ইসলামের নির্দেশ মোতাবেক মহিলাদের সাজসজ্জা এবং রূপ সৌন্দর্য ঢাকতে হলে মুখ মণ্ডলও ঢেকে রাখতে হয়, যাতে পর পুরুষে না দেখে। এটা কিন্তু বেশ কষ্টকর একটা ব্যাপার। পুরুষেরা যদি আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক তাদের দৃষ্টি অবনমিত রাখত তাহলে কিন্তু মহিলাদের এত কষ্ট করতে হতো না। অত্যন্ত দুঃখের ব্যাপার হলো আমাদের অনেক আলেম এবং ওয়ায়েজীন আছেন যারা নিজেদের পর্দা করার কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে শুধু মহিলাদের ওয়াজ-নসিহত করেন। এমন অনেক লেখকও আছেন, যাদের লিখিত বড় বড় কিতাবে শুধু মেয়েদের ই উপদেশ খয়রাত করা হয়েছে। মেয়েদেরই হাম্বিতাম্বি করা হয়েছে। অথচ পর্দার হুকুম যে তাদের উপরও নাযিল হয়েছে একথা যেন তারা জানেই না। নিজেদের ব্যাপারে তারা একেবারে উদাসীন।

📘 দাউস কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না > 📄 বে-আলেম পুরুষ

📄 বে-আলেম পুরুষ


উপরে গেল আলেম পুরুষদের কথা, তারা নিজেরা পর্দা না করলেও স্ত্রী কন্যাদের পর্দা করায়, এতেই হয়ত আত্মতৃপ্তি পায়।
ভাবে পর্দার আদেশের হক ঠিক মতোই পালন করলাম, দাইয়ুস তো আর হতে হবে না।
তারা কি সূরা সফের এই আয়াত পড়েনি? “হে ঈমানদার বান্দাগণ! তোমরা এমন কথা কেন বল, যা নিজেরা করো না? আল্লাহ্র কাছে খুবই ক্রোধ উদ্রেককারী ব্যাপার হলো যা অন্যকে করতে বলো, কার্যত নিজেরা তা করো না।”
এইবার আসা যাক বে-আলেম পুরুষদের ব্যাপারে। তারা নিজেরা পর্দা করে না, স্ত্রী কন্যাকেও করতে দেয় না।
আমার নিকটতম প্রতিবেশী খুবই বেপর্দায় চলাফেরা করেন। ভদ্র মহিলা উচ্চ শিক্ষিতা। স্মার্ট এবং সুন্দরী। যা হোক একদিন তার ব্যালকনীতে লম্বা জুব্বা আর টুপি পরিহিত এক বুযুর্গকে দেখে অবাক হলাম। তার বাসায় গেলাম। এক পর্যায়ে বুজর্গকে দেখিয়ে বললাম “ইনি কে?”
ভদ্রমহিলা বললেন “আমার আব্বা।” বললাম "এই বাপের মেয়ে এমন হয় কিভাবে?”
আমার প্রশ্নের উত্তরে মহিলা যা বললেন তার মূলকথা হলো বিয়ের আগে তিনিও পর্দা করতেন। বোরকা না পরলেও বড় ওড়না পরে স্কুল-কলেজে যেতেন। কিন্তু বিয়ের পরে তাকে সব ছাড়তে হয়েছে, কারণ তার স্বামী এসব পর্দা-টর্দা পছন্দ করেন না। এই ধরনের অনেক মহিলা আমাদের সমাজে আছেন, যাদের বাবা যখন পর্দা করে চলতে বলেছেন তখন তারা পর্দা করেছে আবার স্বামী যখন পর্দা ছাড়তে বলেছে তখন ছেড়ে দিয়েছেন। জানি না এরা নিজেদেরকে পুতুল মনে করেন কি-না। এদের কি নিজেদের কোনো পছন্দ-অপছন্দ, ইচ্ছা-অনিচ্ছা নেই? অথচ আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন, 'নারী যা অর্জন করেছে তা-ই সে পাবে-পুরুষ যা অর্জন করেছে তাই সে পাবে। কারো পাপের বোঝা কেউ বহন করবে না। মহিলারা যদি ভাবেন, আমার কি দোষ, আমার স্বামী আমাকে পর্দা করতে দেয় না, তাই করি না। এতে পাপ যদি কিছু হয় তা সব স্বামীর-ই হবে-আমার কি?
আসলে হিসেবটা এত সোজা নয়। পাপ. আপনারও হবে, আপনার স্বামীরও হবে। যেমন যে খুন করে তারও ফাঁসি হয়, আর যে হুকুম করে তারও ফাঁসি হয়।

📘 দাউস কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না > 📄 পর্দা না করার পরিণতি

📄 পর্দা না করার পরিণতি


পর্দা না করার পরিণতি ভয়াবহ। দুনিয়া ও আখেরাতে উভয় স্থানেই এর পরিণাম খারাপ।

📘 দাউস কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না > 📄 দুনিয়া

📄 দুনিয়া


আমাদের এই যাপিত জীবনে যত অশান্তি, তার সাড়ে পনের আনাই বেপর্দা থেকে সৃষ্টি। কত সোনার সংসারকে এই বেপর্দার বিষবাষ্পে ছারখার হতে দেখেছি। এই বেপর্দা থেকেই সৃষ্টি হয় পরকীয়া। আমাদের সমাজে বেপর্দার কারণে সৃষ্ট দাম্পত্য জীবনের অশান্তি যে কি পরিমাণে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে, তা আর আমাকে উদাহরণ দিতে হবে না- যারা আমার লেখাটা পড়বেন তাদের কাছেই এর ভুরি ভুরি প্রমাণ আছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00